:
রোগীর কল্যাণের কথা বলে জাকাত সংগ্রহ করে আহছানিয়া মিশন ক্যানসার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল। এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তির থেকে প্রতি বছর বড় অঙ্কের অনুদান পায় হাসপাতালটি। কিন্তু সেই টাকা রোগীর পেছনে খরচ না করে জমা রাখছে ব্যাংকে। তাতে মিলছে বড় অঙ্কের সুদ। পাশাপাশি নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে করা হচ্ছে বিনিয়োগ। অন্যদিকে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে বেসরকারি শীর্ষ হাসপাতালগুলোর মতো চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে হচ্ছে রোগীদের। অথচ কথা ছিল, জাকাত ও অনুদানের টাকায় রোগীরা বিনামূল্যে থেকে শুরু করে একেবারে কমমূল্যে চিকিৎসাসেবা পাবেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একসময়ে ক্যানসার চিকিৎসায় দেশের অনন্য প্রতিষ্ঠান ছিল এ হাসপাতাল। কিন্তু অব্যবস্থাপনা, আহছানিয়া মিশনের মুনাফার দিকে গুরুত্বের ফলে ডুবতে বসেছে হাসপাতালটি। ক্যানসার থেকে এখন সাধারণ অন্যান্য রোগের চিকিৎসায় জোর দেওয়া হচ্ছে। সীমিত হয়ে আসছে ক্যানসার চিকিৎসার পরিধি।
মাসে হাসপাতাল থেকে আয় ৩০ কোটি
২০০১ সালে ‘আহছানিয়া মিশন ক্যানসার ডিটেকশন অ্যান্ড ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ নামে যাত্রা শুরু হয় প্রতিষ্ঠানটির। ২০১৪ সালে ক্যানসার আহছানিয়া মিশন ক্যানসার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল হিসেবে যাত্রা শুরু করে। সে সময় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এককালীন হিসেবে ৭৪ কোটি টাকা এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ৩৯ কোটি টাকা অনুদান দেয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, বছর কয়েক আগে প্রতি বছর জাকাত থেকে তিন কোটি টাকার মতো। গত বছরও দুই কোটি টাকার বেশি এসেছে। তবে চলতি বছর এখন পর্যন্ত জাকাত এসেছে ৫৫ লাখ টাকা। এ ছাড়াও প্রতি বছর বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে দুই কোটি টাকার বেশি অনুদান আসে। এ ছাড়া সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয় এক থেকে দেড় কোটি। সবমিলিয়ে বিভিন্ন উৎস থেকে প্রতিষ্ঠানটির আয় ৫ থেকে পাঁচ কোটি টাকার বেশি। তবে হাসপাতালের সেবা খাত থেকে প্রতি মাসে কী পরিমাণ আয় জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন হাসপাতালটি।
হাসপাতালের মাসিক আয় জানতে সাবেক পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের। এশিয়া পোস্টকে তারা জানিয়েছেন, হাসপাতালে ওষুধ বিক্রি, রোগ নির্ণয় ফি, শয্যা ভাড়াসহ হাসপাতালের সামগ্রিক আয় ৩০ কোটি টাকার মতো; বছরে যা দাঁড়ায় ৩৬০ কোটি।
টেস্ট, ভর্তি ফি বেসরকারি শীর্ষ হাসপাতালের মতোই
লিভার ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ নিয়ে গত ৫ জুন সালেহা বেগমকে (৬৫) ভর্তি করা হয় উত্তরার আহছানিয়া মিশন ক্যানসার ও জেনারেল হাসপাতালে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও সংস্থার অর্থায়নে চলে বলে অনেকটা সরকারি খরচে চিকিৎসা মিলবে এমন আশা থেকে এ হাসপাতালে মাকে ভর্তি করান তাসলিমা জাহান।
ভর্তির তিন দিনে শুধু রোগ নির্ণয়েই গুনতে হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। এ ছাড়া দৈনিক শয্যা ভাড়া দুই হাজার ২০০ টাকা, ডাক্তার ফি এক হাজার টাকাসহ দুজন মানুষের খাওয়া ও অন্যান্য খরচ মিলে পাঁচ দিনে প্রায় ৫০ হাজার টাকা গেছে। তখনও শুরু হয়নি সালেহার পূর্ণ চিকিৎসা।
তাসলিমার ভাষ্য, বেসরকারি আরদশটা করপোরেট হাসপাতাল নাকি চ্যারিটেবল কোনো প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নিচ্ছি সেটি পার্থক্য করা যাচ্ছে না। যে প্রতিষ্ঠান মানুষের দান ও অনুদানের টাকায় চলে, সেখানে এত বেশি খরচ কেন হবে? একেকটা টেস্টের দাম প্রথম সারির বেসরকারি ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের মতোই।
সম্পূর্ণ অনুদানের হাসপাতালে এমন চড়া দামে চিকিৎসা কেনার অভিজ্ঞতা শুধু এ পরিবারের নয়, চিকিৎসা নিতে আসা হাজার হাজার রোগীর।
সম্প্রতি সরেজমিন হাসপাতালে গেলে, ঢুকতেই চোখে পড়ে প্রতিষ্ঠানটিতে কী কী রোগ নির্ণয় হয় এবং কত টাকায় করা হয় সেই তালিকা। এতে দেখা যায়, রক্তে কোলেস্টরেল ও চর্বির পরিমাণ জানতে সর্বাধুনিক পরীক্ষা লিপিড প্রোফাইল করাতে গুনতে হয় এক হাজার ২০০ টাকা, যা দেশের যে কোনো বেসরকারি শীর্ষপর্যায়ের ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের পপুলারের মতো প্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি বা কিছুটা বেশি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেসরকারি ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে এই টেস্টের দাম এক হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত।
প্রথম সারির বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্রেইনের সিটি স্ক্যানে গুনতে হয় পাঁচ হাজার টাকা। অনুদানের হাসপাতাল হলেও সমপরিমাণ টাকা দিতে হয় আহছানিয়া হাসপাতালে। অথচ এই পরীক্ষা চার হাজার টাকায়ও করা যায় বেসরকারি ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে।
শুধু এ দুই পরীক্ষা নয়, শরীরে আয়রনের মাত্রা জানতে করা এস আয়রন প্রোফাইল টেস্ট করাতে লাগে তিন হাজার, বুকে ব্যথা বা হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ দেখা দিলে করা ট্রপোনিন আই এক হাজার ২০০ টাকা, গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি, গঠন দেখার জন্য আল্ট্রাসনোগ্রাফি অব প্রেগন্যান্সি প্রোফাইল এক হাজার ২০০ টাকা, সিটি স্ক্যান (চেস্ট) ছয় হাজার টাকা, চেষ্টের এমআরআই সাত হাজার টাকা- যা দেশের শীর্ষ বেসরকারি ডায়াগনোস্টিক সেন্টারগুলোর দামের সমান বা কাছাকাছি।
প্রতিষ্ঠানটির একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্টের সঙ্গে কথা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এশিয়া পোস্টকে তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষার দাম বছর কয়েক আগেও সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে সেটি বাড়ানো হয়েছে। এখানে দূর-দূরান্ত থেকে রোগীরা আসেন, শুধু কম দামে ভালোমানের চিকিৎসা পেতে। কিন্তু এখন সবকিছুই ব্যবসা হয়ে গেছে।’
কম দামে ওষুধ কিনে বাজারদরে বিক্রি
জটিল ও মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসায় শিরায় ইনজেকশন হিসেবে ব্যবহৃত হয় অ্যান্টিবায়োটিক মেরোপেনেম (এক গ্রাম)। বাজারে এ অ্যান্টিবায়োটিকের দাম এক হাজার ২৩৫ টাকা। চ্যারিটেবল প্রতিষ্ঠান হওয়ায় আহছানিয়া হাসপাতালকে ওষুধ প্রস্তুতকারী একটি কোম্পানি ট্রেড প্রাইস বা নির্দিষ্ট দাম ৭০০ টাকায় দিয়ে থাকে। উদ্দেশ্য, রোগীদের সুলভমূল্যে দেওয়া।
কিন্তু হাসপাতালটির ফার্মেসি বিভাগে গিয়ে খোঁজ নিলে দেখা যায়, রোগীদের কাছে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য এক হাজার ২৩৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। একই ঘটনা ঘটেছে ক্রিটিক্যাল কেয়ারে বা গুরুতর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত আরেক অ্যান্টিবায়োটিক নিউপেনেমও। এটিও ৭০০ টাকায় কেনা হলেও রোগীদের কিনতে হচ্ছে এক হাজার ২৮৩ টাকায়।
শুধু এ দুই অ্যান্টিবায়োটিক নয়, আরও বেশকিছু ওষুধে ফার্মাসিউটিক্যালসগুলো রোগীদের স্বার্থে বিশেষ ছাড় দিলেও তার সুফল পাচ্ছেন না রোগীরা। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
আইসিইউতে নষ্ট অধিকাংশ ভেন্টিলেটর, ফেরত যেতে হয় রোগীদের
৩৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে ১৫টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে। প্রত্যেকটিতে রয়েছে একটি করে ভেন্টিলেটর বা জীবনরক্ষাকারী শ্বাসযন্ত্র। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছয় মাস ধরে অধিকাংশ ভেন্টিলেটর বিকল হয়ে পড়ে আছে। এর মধ্যে কয়েকটি ঠিক করা হলেও বাকিগুলো বিকল। এ অবস্থায় একদিকে অনেক সংকটাপন্ন রোগী আসলেও ফেরত যেতে হচ্ছে, আবার যারা চিকিৎসাধীন, তাদেরও সুস্থ হতে বেশি সময় লাগছে, এমনকি ভেন্টিলেটর সমস্যা একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, ভেন্টিলেটর রোগীর জীবন-মৃত্যুর সমস্যা। এটি বিকল হলে রোগীর শরীরে তাৎক্ষণিকভাবে অক্সিজেনের মারাত্মক অভাব (হাইপোক্সিয়া) দেখা দেয় এবং মস্তিষ্ক ও শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অকার্যকর হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
আইসিইউ ইনচার্জ ডা. জাকারিয়া এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘সমস্যার বিষয়টি কর্তৃপক্ষ জানে। আমি চিকিৎসক, কর্তৃপক্ষ যে ধরনের ফ্যাসিলিটিজ (সুযোগ-সুবিধা) দিয়েছে, সেখান থেকেই আমাকে চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে।’ এর বেশিকিছু বলতে রাজি হোননি তিনি।
রেডিওথেরাপির সিরিয়াল পেতে মাস পর
বছর খানেক আগে স্তন ক্যানসার শনাক্ত হয় ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ফাতেমা বেগমের (৪৮)। নিজ বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষায় শনাক্ত হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় রাজধানীর মহাখালীর জাতীয় ক্যানসার হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে। তবে সেখানে তিন মাসেও চিকিৎসা শুরু করতে না পেরে ধানমন্ডির বেসরকারি একটি হাসপাতালে মাস ছয়েক চিকিৎসা নিলেও খরচ মেটাতে না পেরে আসেন আহছানিয়া ক্যানসার হাসপাতালে।
স্বামী বয়স্ক হওয়ায় নানা জটিলতা নিয়ে বিছানায়। একমাত্র ছেলে রিকশাচালক তিনিও পরিবার নিয়ে থাকেন আলাদা বাসায়। ধারদেনা করে এ হাসপাতালে রেডিওথেরাপি নিতে এসেছেন ফাতেমা বেগম। গত ১৬ জুন হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, অত্যন্ত বিমূর্ষ ফাতেমা বেগম রেডিওথেরাপির সিরিয়াল পেতে কখনও তথ্য কেন্দ্রে যাচ্ছেন, কখনও বা হাসপাতালের স্টাফদের কাছে অনুরোধ করছেন।
ফাতেমা বেগম জানান, স্বামী কাজ করতে পারেন না, নিজেই অসুস্থ। ছেলে কিছু টাকা দিয়েছে আর মানুষের কাছে ধারদেনা করে কিছুদিন চিকিৎসা নিয়েছি। বেসরকারিতে চিকিৎসা করার মতো টাকা নেই, সরকারিতে ভর্তি নেয় নাই। এ হাসপাতালে আসছি তিন দিন ধরে ঘুরছি, কিন্তু এক মাসের মধ্যে সিরিয়াল দিচ্ছে না।
হাসপাতালটিতে রেডিওথেরাপি পেতে এমন দীর্ঘ অপেক্ষার গল্প ফাতেমার মতো শত শত ক্যানসার রোগীর। সক্ষমতার তুলনায় রোগীর চাপ যেমন বেশি, একই সঙ্গে যন্ত্রগুলোর মেয়াদ শেষ হওয়ায় পর্যাপ্ত সেবা দিতে পারছে না। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১০০-১২০ জন রেডিওথেরাপি পেলেও অন্যদের ফেরত যেতে হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালটিতে চারটি রেডিওথেরাপির যন্ত্র রয়েছে। ২০১৪ সালে এসব যন্ত্র স্থাপন করা হয়। এর মধ্যে একাধিক যন্ত্রের মেয়াদ শেষের পথে। ফলে ঠিকমতো রেডিয়েশন পড়ে কি না সেই সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
জানতে চাইলে রেডিওলোজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. অরুপ এশিয়া পোস্টকে বলেন, বর্তমানে চারটি রেডিওথেরাপি ও দুটি বেকিথেরাপি যন্ত্র রয়েছে এ হাসপাতালে। এর বাইরে নষ্ট ও মেয়াদোত্তীর্ণ এমন পাঁচটি যন্ত্রের মধ্যে কয়েকটি ব্যবহারের অনুপযোগী ঘোষণা করা হয়েছে, বাকিগুলো প্রক্রিয়াধীন।
তিনি বলেন, রোগীর তুলনায় যন্ত্রের যথেষ্ট অভাব। পুরো বাংলাদেশেই রেডিওথেরাপি মেশিন মাত্র ৩৫টির মতো। যেখানে দরকার ২৮০টি। এত অল্প যন্ত্র দিয়ে বিপুল পরিমাণ মানুষের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়৷ ফলে সিরিয়াল পেতে রোগীদের বিলম্ব হয়। আর মেশিনেরও ধারণক্ষমতা রয়েছে। দৈনিক ৫০ থেকে ৬০টির মতো থেরাপি দেওয়ার কথা, সেখানে করা হচ্ছে দ্বিগুণ। নতুন যন্ত্র না কিনলে চাপ কমবে না।
অদক্ষ নার্স দিয়ে চলে সেবা
হাসপাতালটিতে দুই শতাধিক নার্স কর্মরত। এর মধ্যে বড় একটি অংশ অদক্ষ বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে রোগীর ক্যানুলা করতেও গোলমাল পাকিয়ে ফেলেন এখানকার কিছু কিছু নার্স।
বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. আবদুল্লাহ্-আল-মামুন বলেন, ‘আমি যোগদানের আগে কী হয়েছে জানি না। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দক্ষ নার্সদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ক্যানুলা শুধু নার্সরা দেয় না, ডাক্তাররাও অনেক দেন। ক্যানুলা দিতে গিয়ে নার্সদের অদক্ষতা ও বিভিন্ন কারণে জটিলতা দেখা দিতে পারে। এ জন্য নার্সদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।’
হাসপাতালের অর্থে ফ্যাশন হাউস ও হজ এজেন্সিতে ব্যবহারের অভিযোগ
বিপুল পরিমাণ এ আয়ে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ মানের হওয়ার কথা। দরিদ্ররা বিনামূল্যে আর অন্যান্য শ্রেণির মানুষ একেবারে কমমূল্যে চিকিৎসাসেবা কিনতে পারবেন এটাই হওয়ার কথা। কিন্তু আহছানিয়া ক্যানসার ও জেনারেল হাসপাতালে ঘটেছে এর বিপরীত।
সরেজমিন অনুসন্ধানে হাসপাতালের অর্থ সরিয়ে নেওয়ার তথ্য পাওয়া বেরিয়ে এসেছে। বিশেষ করে জাকাত ও অনুদানের অর্থ সরাসরি রোগীদের চিকিৎসায় ব্যয়ের বাধ্যবাধকতা থাকলেও আহছানিয়া মিশন তা ব্যবসায় ঘাটাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আহছানিয়া মিশন ক্যানসার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বর্তমান প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি জানিয়েছেন।
কর্মকর্তাদের বক্তব্যে উঠে আসে, রোগীদের চিকিৎসার জন্য দেওয়া অর্থ মিশন ব্যাংকে এফডিআর করে প্রতি বছর মুনাফা তুলছে। পাশাপাশি সেই অর্থ দিয়ে রাজধানীর বসুন্ধরা শপিংমলে ‘নগরদোলা’ নামে একটি ফ্যাশন হাউস গড়া হয়েছে।
হাসপাতালটির সাবেক একজন পরিচালক এশিয়া পোস্টকে বলেন, প্রতি বছর শুধু জাকাত থেকে দেড় থেকে তিন কোটি টাকা আসে। কিন্তু সেই অর্থ দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালে চিকিৎসায় ব্যয় না করে ৮ কোটি টাকা আহছানিয়া মিশন ব্যাংকে এফডিআর করে ব্যাংকে রেখেছে। বারবার চিঠি দেওয়ার পরও তারা ফেরত দেয়নি। প্রতি মাসে বড় অঙ্কের মুনাফা আসে সেখান থেকে। অথচ শুধু রোগীদের চিকিৎসার জন্য মানুষ এই টাকা জাকাত দিয়েছে। গভর্নিং বডির অনুমতি ছাড়াই এসব টাকা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, হাসপাতালের টাকা দিয়ে তারা ফ্যাশন হাউস খুলেছে। অথচ নিয়ম অনুযায়ী দেশের দরিদ্র ক্যানসার রোগীরা ভর্তি থেকে শুরু করে চিকিৎসা, ওষুধ, খাবারসহ সবকিছুই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়ার কথা। কিন্তু সেটি হচ্ছে না। আগে জাকাত মানুষ সরাসরি হাসপাতালে দিয়ে যেত। এমনকি কোনো কোনো ব্যবসায়ী ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত দিয়েছে। একপর্যায়ে জাকাতের টাকা ঠিকমতো ব্যবহার হচ্ছে কি না অনেক দাতারা জানতে চান। ফলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেরাই সরাসরি রোগীদের চিকিৎসায় ব্যয় করত। কিন্তু মিশন অফিস তাতে বাধা দিত। তারা জানায়, হাসপাতালে নয়, এই অর্থ মিশনের অফিসে জমা দিতে হবে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, শুধু জাকাত নয়, মেডিকেল কলেজের তিন কোটি টাকাও নিয়েছে। অনেক চেষ্টার দুই কিস্তিতে প্রায় দুই কোটি টাকা ফেরত দিলেও বাকিটা এখনও বাকি। ক্যানসার চিকিৎসায় দেশের সেরা একটি হাসপাতাল ছিল এটি। সেখানে এখন মেডিকেল কলেজ হয়েছে, ফলে জেনারেল হাসপাতাল রূপে নিয়েছে। মেডিকেল কলেজ তো লাভজনক প্রতিষ্ঠান। হাসপাতালের জায়গায় করায় ক্যানসার চিকিৎসায় প্রতিনিয়ত সীমিত হয়ে আসছে।
হাসপাতালের টাকা সরানোর ব্যাপারে জানতে আহছানিয়া মিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. গোলাম রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে কথা বলেছেন, মিশনের কোষাধ্যক্ষ হলেন ড. এম এ জলিল। এশিয়া পোস্টকে তিনি বলেন, জাকাতের টাকা সরানোর বিষয়টি সত্য নয়। এফডিআর করা থাকলে সেটি অনুদানের টাকা হতে পারে। ফ্যাশন হাউস ও হজ এজেন্সি আছে। তবে এখানকার অর্থ দিয়ে করা হয়েছি বিষয়টি সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি।
যা বলছে কর্তৃপক্ষ
উচ্চমূল্যে চিকিৎসাসেবা, রোগীদের ভোগান্তি ও নানা অব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা হয় আহছানিয়া মিশন ক্যানসার ও জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. আবদুল্লাহ্-আল-মামুনের সঙ্গে।
এশিয়া পোস্টকে তিনি বলেন, চ্যারিটেবল প্রতিষ্ঠান হলেও এটাকে সাসটেইন (টিকিয়ে রাখা) করতে হবে। ১০০ টাকা ব্যয় করে সমানসংখ্যক টাকা আয় করতে না পারলে প্রতিষ্ঠান চলবে কীভাবে? চিকিৎসক, নার্সসহ ৮ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে এ হাসপাতালে। তাদের বেতন অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি মেরামতেও তো খরচ রয়েছে। এগুলোর জন্য অর্থ দরকার। আমরা অন্য বেসরকারি হাসপাতালের চেয়ে অনেক কম খরচে চিকিৎসা দেই, আবার কেউ সহযোগিতা চাইলে সেটাও করা হয়।
আইসিইউতে ভেন্টিলেটর বিকলের বিষয়ে আবদুল্লাহ্-আল-মামুন বলেন, আইসিইউতে তিনটি ভেন্টিলেটর নষ্ট রয়েছে। এ ছাড়া কিছুটা জটিলতা রয়েছে। তাই জরুরি যেসব সংকটাপন্ন রোগী আসে তাদের ভর্তি নেওয়া হয় না। আইসিইউতে নিয়ে যদি ভেন্টিলেটর দিতে না পারি, তাহলে ভর্তি করে কী করব।
পরিচালক বলেন, টেস্টের খরচের উচ্চমূল্যে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে ওষুধ বিক্রিতে বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে কি না সেটিও তদন্ত করা হবে।
জানতে চাইলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব (বেসরকারি হাসপাতাল) মো. মহসীন এশিয়া পোস্টকে বলেন, সবকিছু আমাদের নখদর্পণে নেই। বোর্ডে সদস্য হলেও যাওয়া হয় না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিষয়গুলো দেখার কথা। তারপরও যেহেতু তদারকির দায়িত্ব আমাদের, বিষয়টি অবশ্যই দেখা হবে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় পরিদর্শনে গিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার, ফার্মেসি ও রান্নাঘর ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। মজুত থাকা সত্ত্বেও রোগীকে বাইরে থেকে স্যালাইন কিনতে বলায় এক নার্সের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। ওই সময় ওই রোগীকে বাইরে থেকে স্যালাইন কেনার টাকা ফেরত দেন তিনি। টানা এক ঘণ্টা পরিদর্শন শেষে তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয়ে গিয়ে অনুপস্থিত চিকিৎসকদের মোবাইলফোন নম্বরে কল করে তাদের কাছে ব্যাখ্যা চান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে অনিয়ম পাওয়া গেছে। এখানে স্যালাইন মজুত থাকার পরও রোগীকে দেওয়া হচ্ছিল না। এছাড়া একজন চিকিৎসককে অনুপস্থিত পাওয়া গেছে। এসব বিষয় নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। খুব শিগগিরই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শয্যাসহ সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে। এদিকে নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ধলু, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম, ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রত পালসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন
শরীয়তপুর জেলার অন্যতম একটি উপজেলা গোসাইরহাট। যার জেলা শহর থেকে দূরত্ব অন্যান্য উপজেলার চাইতে অনেক বেশি। তবে এই উপজেলার থেকে বেশি নাজুক অবস্থা এখানকার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়া হাসপাতালটিতে ২২ জন চিকিৎসকের বিপরীতে রয়েছে মাত্র ১১ জন। যার মধ্যে নেই গুরুত্বপূর্ণ সার্জারি, গাইনি ও অ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসক। ফলে চালুর পর থেকেই বন্ধ আছে গুরুত্বপূর্ণ সব অপারেশন। আর এই সুযোগটি নিয়ে রোগীদের গলা কাটছে আশপাশে গড়ে ওঠা নামে-বেনামের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক ও ক্লিনিকগুলো। স্থানীয় ও সরেজমিনে জানা যায়, ১৯৫৮ সালে প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র হিসেবে যাত্রা শুরু হয় গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির। ১৯৮৩ সালে এটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হিসেবে রূপান্তরিত করা হয়। সবশেষ ২০১৮ সালে এটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। একটি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নের অন্তত দুই লাখ মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসা সেবার ভরসা এই ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে দীর্ঘদিনের জনবল সংকট, চিকিৎসক ঘাটতি, নষ্ট যন্ত্রপাতি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে এখান থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, হাসপাতালটিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তাসহ মোট ২২টি পদ রয়েছে। এরমধ্যে শুধু চিকিৎসক রয়েছেন ১১ জন। এছাড়া বাকি ১১টি পদ শূন্য। গুরুত্বপূর্ণ জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেসথেশিয়া) চিকিৎসকের পদগুলো সম্পূর্ণ শূন্য পড়ে আছে। ফলে বন্ধ আছে সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন। এছাড়াও হাসপাতালের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) পদটিও শূন্য। অপরদিকে দুইজন মেডিকেল অফিসারের বিপরীতে রয়েছে একজন, ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসারের ৪টি পদের বিপরীতে রয়েছে ২টি। এছাড়াও সহকারী সার্জন ৭টি পদের বিপরীতে রয়েছে মাত্র দুই জন। অর্থাৎ এখানে পাঁচটি পদই ফাঁকা। . রয়েছে জনবল সংকটও। সিনিয়র স্টাফ নার্স, মেডিকেল টেকনিশিয়ান (ল্যাব), উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ (রেজিওলজি ও ইমাজিং) মোট ৩৭টি পদ সম্পূর্ণ ফাঁকা রয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসক সংকটের এমন ভঙ্গুর দশায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় লোকজন ও রোগীরা। সরেজমিনে দেখা যায়, অপারেশন না হওয়ায় ওটি কক্ষটি বন্ধ রয়েছে। একজন কর্মচারীর মাধ্যমে কক্ষটির তালা খোলা হলে ভেতরে দেখা যায় দীর্ঘদিন ধরে অপারেশন ব্যবস্থা চালু না থাকায় যন্ত্রপাতিগুলো প্রায় অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। এছাড়াও প্রায় নষ্ট হওয়ার পথে আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, এক্স-রে মেশিন, ইসিজি মেশিন, সেন্ট্রিফিউজ মেশিন, মাইক্রোপিপেট, মাইক্রোস্কোপ মেশিনসহ গুরুত্বপূর্ণ অধিকাংশ মেশিন। যদিও এসব যন্ত্রপাতি দেওয়ার বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে। কুচাইপট্টি এলাকার ষাটোর্ধ্ব নজরুল ঢালী সম্প্রতি নারিকেল গাছ থেকে পড়ে গিয়ে একটি পা ভেঙে গেছে। আর্থিকভাবে সচ্ছল না হওয়ায় প্রথমেই শরণাপন্ন হন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। পরবর্তীতে জানতে পারেন এখানে পা ভাঙার অপারেশন হয় না। পরবর্তীতে তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে মোটা অংকের টাকা খরচ করে অপারেশনটি সম্পন্ন করেন। উপজেলা হাসপাতালে গুরুত্বপূর্ণ এমন চিকিৎসা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা চরের মানুষ। কামলা দিয়া খাই। পড়শীর নারিকেল পাড়তে উঠে গাছ থেকে পড়ে পা ভেঙে যায়। পোলারে নিয়া হাসপাতালে আইছিলাম চিকিৎসা করাতে। পোলায় খোঁজ নিয়া কইলো এইখানে অপারেশনের ডাক্তার নাই। পরে একটা ক্লিনিক থেকে বেশি টাকা দিয়া অপারেশন করাইছি। আমরা গরিব মানুষ, চাইলেও দূরে যাইতে পারি না। যদি আমাদের এই হাসপাতালে সব ধরনের ডাক্তার থাকতো আমরা চরের মানুষজন ভালোভাবে চিকিৎসা নিতে পারতাম। স্থানীয় বাসিন্দা সৈকত টেপার ক্ষোভও হাসপাতালে চিকিৎসক না থাকা নিয়ে। তিনি বলেন, আমাদের গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনেক রোগের চিকিৎসক নেই। বিশেষ করে গাইনি চিকিৎসক না থাকায় গর্ভবতী মা ও শিশুর মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে গেছে। কয়েকদিন আগেও হাসপাতালে সিজার না হওয়ায় বাইরের একটি ক্লিনিক থেকে সিজারের সময় বাচ্চাটা মারা গেছে। মায়ের অবস্থা খারাপ হওয়ায় সদর হাসপাতালে পাঠাতে হয়েছে। আমাদের এই উপজেলা থেকে জেলা শহরের দূরত্ব অন্যান্য উপজেলার চাইতে বেশি। তাই চাইলেই সব সময় রোগী শহরে নেওয়া সম্ভব হয় না। আমরা চাই এই উপজেলাটিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা সেবা চালু করা হোক। সেফালী বেগম নামের এক রোগী বলেন, আমার বাচ্চাকে কুকুরের কামড় দিয়েছে, তাই এখানে নিয়ে এসেছি। এসে জানতে পারি এখানে কোনো কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন নেই। তারা আমাকে সদরে নিয়ে যেতে বললো। সদরে যেতে আমাকে বেশি টাকা খরচ করতে হবে। আমরা চাই এখানে কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করা হোক। এ ব্যাপারে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমান মিঞা বলেন, আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট রয়েছে। হাসপাতালে অন্যান্য স্টাফের পদ শূন্য থাকায় এখানে চিকিৎসাসেবায় ব্যাঘাতও ঘটছে। গাইনি চিকিৎসক, সার্জারি চিকিৎসক ও অ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসক না থাকায় অপারেশন বন্ধ রয়েছে। তাছাড়া কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিনও এখানে সরবরাহ করা হয় না। আমরা চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি চেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। আমি মনে করি খুব দ্রুত এই শূন্য পদগুলো পূরণ করা খুবই জরুরি।
সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীদের প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার (২৯ জুলাই) ‘বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ঘাটতি নিরসন: সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার উপযোগী সেবা নিশ্চিত করতে ব্যয়দক্ষতার একটি দ্রুত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীদের প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার (২৯ জুলাই) ‘বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ঘাটতি নিরসন: সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার উপযোগী সেবা নিশ্চিত করতে ব্যয়দক্ষতার একটি দ্রুত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। গবেষণাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট। মন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করে বাইরে ব্যক্তিগত ক্লিনিকে রোগী পাঠানো, কমিশনের বিনিময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো এবং সরকারি দায়িত্বে অবহেলার মতো অনিয়ম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এসব কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির আওতায় আনা হবে। স্বাস্থ্য খাতে সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, অতীতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ছাড়াই ব্যয়বহুল চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হয়েছে, যার অনেকগুলো এখন অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। টেন্ডার প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে অনেক সময় অযৌক্তিক শর্ত যুক্ত করা হয়, যা প্রতিযোগিতা সীমিত করে। এ ধরনের অনিয়ম দূর করতে সরকার কাজ করছে। মন্ত্রী আরও জানান, দেশের শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আরও এক লাখের বেশি শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনা হয়েছে। ডায়ালাইসিস সেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তা আর নবায়ন করা হবে না। সরকার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ডায়ালাইসিস মেশিন সংগ্রহ করবে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি কম খরচে সাধারণ মানুষ ডায়ালাইসিস সেবা পাবেন। একই সঙ্গে প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যার এবং প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. এনামুল হকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।