রাজধানী

সালাহ উদ্দিন রিগ্যান ঢাকার বিচারিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের জন্য রিট দাখিল করেছেন।
ঢাকার বিচারিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের জন্য রিট দাখিল

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সালাহ উদ্দিন রিগ্যান ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ এলাকার জন্য আলাদা বিচারিক ব্যবস্থা তৈরির জন্য হাইকোর্টে রিট দাখিল করেছেন।তিনি মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কাছে এই আইনি আদর্শ সম্পর্কে তথ্য জানিয়েছেন। ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি আইন সংক্রান্ত মন্ত্রী, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নোটিশ পাঠিয়েছিলেন।নোটিশের কোনো সাড়া না পাওয়ায় তিনি হাইকোর্টে এই রিট দাখিল করেন। নোটিশে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ অংশে জেলা ও মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।নোটিশে রাজধানীর প্রায় আড়াই কোটি জনসংখ্যা, বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকা এবং ক্রমবর্ধমান মামলার ভার বিবেচনায় বিচারিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়। বর্তমান বিচারিক ব্যবস্থায় বিপুলসংখ্যক মামলা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমাগমের কারণে বিচারিক প্রশাসনের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে।এর ফলে আদালতে বিচারপ্রার্থীদের যাতায়াত, মামলা পরিচালনা এবং দ্রুত বিচার সম্পন্নির ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হয়েছে।

Desk Reporter নভেম্বর ৪, ২০২৬ 0
ধানমন্ডিতে ১৪ তলা ভবনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।
ধানমন্ডিতে ১৪ তলা ভবনে আগুন, হতাহতের ঘটনা নেই

০৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে ধানমন্ডির ২৭ নম্বর বাসায় আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস।বিকেল ৩টা ৪২ মিনিটে মোহাম্মদপুর ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে।ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের চেষ্টায় ৪টা ১৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।এ ঘটনার কোনো হতাহত ঘটনা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। আনোয়ারুল ইসলাম জানান, পলাশী ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট সহায়তার জন্য পাঠানো হয়েছিল।ইনবাসিত ইউনিট দুটি ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

Desk Reporter নভেম্বর ৪, ২০২৬ 0
রাজধানীর আগারগাঁও মেট্রো স্টেশনে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
রাজধানীর আগারগাঁও মেট্রো স্টেশনে বিস্ফোরণ

রাজধানীর আগারগাঁও মেট্রো স্টেশনে সোমবার রাত ৯:১৫ টায় একটি বিস্ফোরণ ঘটে।শের-এ-বাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে একটি পুলিশ টিম পাঠানো হয়েছে।তবে, তিনি জানাননি যে, বিস্ফোরণে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কিনা। এখন পর্যন্ত কোনো আহত বা নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।

Desk Reporter নভেম্বর ৩, ২০২৬ 0
রাউজানে বিএনপির দুই নেতার লড়াইয়ে দুই বছরে ৩৫ খুন
রাউজানে বিএনপির দুই নেতার লড়াইয়ে দুই বছরে ৩৫ খুন

  বাড়ির সামনে, বাজারের দোকানে কিংবা ব্যস্ত সড়কে—চট্টগ্রামের রাউজানে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটছে প্রকাশ্যে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে চলতি বছরের ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপজেলায় নিহত হয়েছেন ৩৫ জন। তাদের মধ্যে ২০ জন রাজনৈতিক বিরোধের শিকার বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।  জানা গেছে, বিএনপির দুই নেতা সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারীদের বিরোধের পাশাপাশি এসব হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে বালু-মাটির ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বের অভিযোগ। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আর সংঘাতের কারণে থামছে না রক্তপাত। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্টের পর রাউজানে রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। এ পর্যন্ত নিহতদের মধ্যে রয়েছে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী ১০ জন এবং গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারী পাঁচজন। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ নিয়ে অনুসন্ধান করেছে আমার দেশ। এতে রাজনৈতিক আধিপত্যের পাশাপাশি বালু-মাটির ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের নিয়ন্ত্রণের তথ্য পাওয়া গেছে। উপজেলায় এখন দুটি সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয়। একটি শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারী রায়হান আলম গ্রুপ, অন্যটি আজিজ বসের অনুসারী ডাকাত আলম গ্রুপ। দুটি গ্রুপই রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছে বলে অভিযোগ। এছাড়া জানে আলম গ্রুপ, মেজর ইকবাল গ্রুপও এলাকায় সক্রিয়। স্থানীয়রা জানান, মূলত মেজর ইকবাল গ্রুপটি নিয়ন্ত্রণ করেন গোলাম আকবর খন্দকার। আর রায়হান গ্রুপটি নিয়ন্ত্রণ করেন গিয়াস কাদের চৌধুরী। তবে দুজনই এসব গ্রুপ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট শ্রমিক লীগ নেতা আবদুল মান্নান হত্যার মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট-পরবর্তী ধারাবাহিক প্রাণহানির সূচনা হয়। রাউজান পৌরসভার চারা বটতল বাজারে তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ওই বছরের ২৯ অক্টোবর নিখোঁজের চার দিন পর উরকিরচরের মইশকরম এলাকায় আজম খানের লাশ পাওয়া যায়। ১১ নভেম্বর নিখোঁজের তিন দিনের মাথায় উদ্ধার করা হয় হাফেজ মাওলানা আবু তাহেরের রক্তাক্ত লাশ। ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি জুমার নামাজে যাওয়ার পথে গুলিতে নিহত হন নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম। ১৯ ফেব্রুয়ারি ঘর থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় যুবলীগ কর্মী মুহাম্মদ হাসানকে। ১৫ মার্চ হলদিয়া ইউনিয়নের আমিরহাট বাজারে ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ে ব্যানার সরানো নিয়ে বিরোধের জেরে মারধর ও ছুরিকাঘাতে নিহত হন গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত যুবদল কর্মী কমর উদ্দিন (জিতু)। এরপর ২১ মার্চ পূর্ব গুজরায় রুবেল, ৪ এপ্রিল হলদিয়ায় নূর আলম বকুল, ১৯ এপ্রিল বাগোয়ানে প্রবাসফেরত যুবদল কর্মী মানিক আবদুল্লাহ এবং ২২ এপ্রিল গাজীপাড়ায় যুবদল কর্মী মুহাম্মদ ইব্রাহিম খুন হন। ইব্রাহিমকে চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় তিনটি অটোরিকশায় আসা একদল যুবক গুলি করে হত্যা করে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ৬ জুলাই কদলপুরের ঈশান ভট্টের হাটে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় যুবদলের সদস্যসচিব মো. সেলিমকে। হামলাকারীদের পালিয়ে যাওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে রায়হানের নাম আলোচনায় আসে। এর দুদিন পর তার বন্ধু দিদারুল আলমের লাশ উদ্ধার করা হয় রাঙামাটির কাউখালীর পাহাড়ি এলাকা থেকে। ব্যবসার নিয়ন্ত্রণেও বিরোধ ২০২৫ সালের ৭ অক্টোবর হাটহাজারীর মদুনাঘাট সেতুর কাছে গুলিতে নিহত হন ব্যবসায়ী আবদুল হাকিম। তার পরিবারের দাবি, তিনি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন। কর্ণফুলীকেন্দ্রিক বালুমহাল ও নির্মাণসামগ্রীর ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের কথাও সামনে আসে। এ ঘটনায় হাজি মুহাম্মদ জসিমের নাম আলোচনায় আসার পর তিনি দেশ ছাড়েন। ২৫ অক্টোবর চারা বটতল এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় যুবদল কর্মী আলমগীর আলমকে। ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি পূর্ব গুজরায় খুন হন যুবদলের সাবেক নেতা জানে আলম সিকদার। ২৫ ফেব্রুয়ারি অলিমিয়াহাট বাজারে নিহত হন যুবদল কর্মী মুহাম্মদ আবদুল মজিদ। ২৬ এপ্রিল একই এলাকায় খুন হন যুবদল কর্মী নাসির উদ্দিন। পরে চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় নাসির হত্যা মামলার আসামি মোহাম্মদ হাসান ওরফে রাজুও গুলিতে নিহত হন। ১৩ জুন পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুল হক চৌধুরীকে। পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের ধারণা, রাজনৈতিক আধিপত্যের পাশাপাশি বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধও এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকতে পারে। সর্বশেষ ৩ সেপ্টেম্বর উরকিরচরের কেরানীহাট বাজারে খুন হন মোহাম্মদ করিম। দুই নেতার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ স্থানীয়দের মতে, রাউজানে রাজনৈতিক আধিপত্যের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। ২০০৯ সালের পর আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর প্রভাব বাড়ে। তার বিরুদ্ধে বিরোধী নেতা-কর্মীদের কোণঠাসা করা এবং রাজনীতি ও ব্যবসায় একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগ ছিল। সরকার পতনের পর সেই নিয়ন্ত্রণ ভেঙে গেলে স্থানীয় রাজনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের কর্তৃত্ব নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়।  সাংগঠনিক পদ-পদবি, স্থানীয় নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ নির্বাচনি রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার নিয়েও দুই নেতার অনুসারীদের বিরোধের কথা বলছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অভিযোগ, গোলাম আকবর খন্দকারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাকর্মীরা সক্রিয় থেকে তার অনুসারীদের ওপর হামলা চালাচ্ছেন। তবে গোলাম আকবর খন্দকার এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, বালু-মাটির ব্যবসা, খালের বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ, ইটভাটা, ঠিকাদারি কাজের কমিশন ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে বিরোধ তৈরি হচ্ছে। আমার দেশকে তিনি বলেন, অপরাধী (গিয়াস কাদের) কখনো অপরাধ স্বীকার করে না। কোনো দাগি অপরাধীকে অপরাধ স্বীকার করতে দেখা যায় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সংঘর্ষের পর কমিটি বিলুপ্ত, পদ স্থগিত গত বছরের ২৯ জুলাই সত্তারহাটে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হন। গোলাম আকবরের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগও ওঠে এবং তিনি নিজেও ছররা গুলিতে আহত হন। ঘটনার পর বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে এবং গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দলীয় পদ স্থগিত করে। আরো কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ব্যাপারে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবর রহমান শামিম বলেন, দলে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের স্থান নেই। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, পুলিশের কাছে অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচ্য নয়। সব হত্যাকাণ্ডের আসামি গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলছে। রায়হানসহ অন্যদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

News অক্টোবর ২৯, ২০২৬ 0
অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রির অভিযোগে ইউপিএলের বিক্রয়কেন্দ্রে তালা, দুই কর্মীকে আটকের পর মুক্তি
অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রির অভিযোগে ইউপিএলের বিক্রয়কেন্দ্রে তালা, দুই কর্মীকে আটকের পর মুক্তি

  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা বই ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রির অভিযোগে প্রকাশনা সংস্থা দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বিক্রয়কেন্দ্রের দুই কর্মী আমিনুল ইসলাম ও হুমায়ূন কবীরকে তুলে নিয়ে আটকে রাখা হয়। পরে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ আর বিক্রি না করার শর্তে পুলিশের সমঝোতায় ওই দুই কর্মীকে ছেড়ে দেয়। দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে দুই যুবক বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে এসে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ কিনতে চান। বইটি বের করে দেওয়ার পর তারা এটি বিক্রি করা নিয়ে আপত্তি জানান এবং বইটি নিষিদ্ধ বলে দাবি করেন। একপর্যায়ে আশপাশের আরও কয়েকজনকে জড়ো করে তারা বিক্রয়কেন্দ্রের শাটার নামিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। একই সময় বিক্রয়কেন্দ্রের দুই কর্মী আমিনুল ইসলাম ও হুমায়ূন কবীরকে আটক করা হয়। সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন , তুলে নেওয়া দুই কর্মীকে থানায় আনা হয়নি। তাদের ফরিদাবাদ পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখান থেকেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ওসি আরও বলেন, ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ২০২৪ সালের পর আর ছাপানো হয়নি। তাই বইটি আর বিক্রি না করার শর্তে পুলিশ ফাঁড়ি থেকেই দুই কর্মীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ জানানো হয়নি। এদিকে ইউপিএলের সম্পাদকমণ্ডলীর পরিচালক ফিরোজ আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে আমরা বই সরিয়ে নিতে বাধ্য হবো। কিন্তু সরকার এমন কোনও পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত আমরা নিজেরা কোনও বই বাজার থেকে সরাব না।’ তিনি বলেন, ‘শুধু অসমাপ্ত আত্মজীবনী নয়, আগেও বিভিন্ন বই নিয়ে চাপ এসেছে। কিন্তু আমরা কোনও বই বাজার থেকে সরাইনি। কারণ, বই প্রকাশের পেছনে আমাদের শ্রম ও বিনিয়োগ রয়েছে। সরকার আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ করলে অবশ্যই আমরা তা সরিয়ে নেবো।’  

News সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ 0
শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও রূপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে প্রেরণ
শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও রূপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে প্রেরণ

  জুলাই বিপ্লবে গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্যের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের নতুন মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তারা হলেন— শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপা। সোমবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন— বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবির। এদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে প্রসিকিউটর মইনুল করিম ট্রাইব্যুনালকে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত টকশো বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপা। এ ঘটনায় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্তে এরই মধ্যে এই তিন সাংবাদিকের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে তদন্ত সংস্থা। এজন্য তাদেরকে এ গ্রেপ্তারের আবেদন জানাচ্ছি। শুনানি শেষে আবেদন মঞ্জুর করে আসামিদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য জন্য ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়। এর আগে গত ১৭ আগস্ট এই তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে আজকের দিনে হাজিরের নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। আজ সকালে তাদেরকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শাপলা চত্বর গণহত্যা মামলায় বাবু-ফারজানা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া জুলাই বিপ্লবে হত্যাকাণ্ডের একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন শ্যামল দত্ত।

News আগস্ট ২৪, ২০২৬ 0
ওসমানীনগরে ত্রাসের রাজত্ব ইউএনও মুনমুনের.
ওসমানীনগরে ত্রাসের রাজত্ব ইউএনও মুনমুনের.

  সিলেটের ওসমানীনগরে রীতিমতো ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা। তার একের পর এক বিতর্কিত ও বেপরোয়া কর্মকাণ্ড জনমনে ত্রাস সৃষ্টি করেছে। ‘আপা’ সম্বোধন করায় জরিমানা করাসহ ক্ষমতার অপব্যবহার, জোরপূর্বক স্বাক্ষর গ্রহণ, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গত বছরের ৮ ডিসেম্বর ওসমানীনগরে যোগদানের পর থেকেই ৩৬তম বিসিএসের এই কর্মকর্তার একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। বছরজুড়ে আলোচিত ইউএনও মুনমুনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দাপ্তরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মনোমালিন্যের বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ‘আপা’ সম্বোধন করায় খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বনফুল অ্যান্ড কোংয়ের ওসমানীনগর শাখার এক কর্মচারীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে আলোচনায় আসেন ইউএনও মুনমুন। এ ঘটনার পর তার কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে। ভুক্তভোগী কর্মচারী আব্দুল মান্নানের দাবি, ইউএনও মুনমুনকে ‘আপা’ সম্বোধন করায় ভয় দেখিয়ে ওই জরিমানায় স্বাক্ষর করানো হয়। এ ঘটনা নিয়ে গত বুধবার আমার দেশ অনলাইনে ‘ইউএনওকে আপা সম্বোধন করায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। এরপর থেকে ঘটনাটি আড়াল করতে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিতে শুরু করেন ইউএনও মুনমুন। গত বৃহস্পতিবার সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রম চলাকালে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন ইউএনও মুনমুন। নিজের অবস্থান তুলে ধরতে গিয়ে তিনি অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করেন। সংবাদ সম্মেলনে বনফুলের কর্মচারীকে জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের করা গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান তিনি। অভিযানে নিজের ছয় বছরের শিশু কন্যাকে সঙ্গে নেওয়ার বৈধতা, বনফুলের শাখা ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কর্মচারীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে কর্মচারীর স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি ইউএনও মুনমুন। ইউএনও মুনমুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্পকের অধীন উপজেলার ৫৪ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ২০ কেন্দ্রে ছয়টি করে ক্যামেরা স্থাপনের জন্য নির্বাচন কমিশন ছয় লাখ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় । কিন্তু ওই টাকা বণ্টন না করে আত্মসাৎ করেন ইউএনও মুনমুন। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের এক শতাংশ বরাদ্দ খাত থেকে ৪৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ফান্ড থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং ভোটকেন্দ্রে ব্যবহৃত বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। অথচ প্রকৃত সরকারি প্রাক্কলন অনুযায়ী ব্যয় হওয়ার কথা ছিল মাত্র ১৭ লাখ ৭১ হাজার টাকা। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচন কমিশনের বরাদ্দ গোপন রেখে ১০ ফেব্রুয়ারি উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে অগ্রিম বিল উত্তোলন করা হয়। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে দ্রুত বিভিন্ন বাজার ও জনবহুল স্থানে ক্যামেরা স্থাপন শুরু করা হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি তাজপুর বাজারে একটি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ইউএনওর স্বামীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স সাইফুল এন্টারপ্রাইজ’-এর সম্পৃক্ততার অভিযোগও ওঠে। সিসিটিভি প্রকল্পে অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান ও গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার ফলে উচ্চ আদালতে চলমান রিট মামলা থাকা অবস্থায় তাজপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কবির আহমদকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিভাগ রুল জারি করে। একইসঙ্গে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং ওসমানীনগর থানার ওসিসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ নিয়োগকে বেআইনি এবং বিদ্যমান আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থী দাবি করে কবির আহমদ গত ১২ মে পুনরায় হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। ইউএনও মুনমুনের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ রয়েছে, তিনি উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও সহকারী কমিশনারের দায়িত্ব পালনকালে পরিষদের রাজস্ব খাতে একাধিক প্রকল্পে অনিয়ম করেন। গত বছরের ডিসেম্বরে সরকারি গাড়ি মেরামতের নামে ৯৬ হাজার টাকা, উপজেলা পরিষদ ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরা ক্রয় ও মেরামতের নামে ৭৩ হাজার টাকা, বাংলোর পানির পাম্প মেরামত ও স্থাপনে ৭২ হাজার টাকা এবং ওয়াটার পিউরিফিকেশন প্লান্ট সংযোজন বাবদ এক লাখ ৫০ হাজার টাকার প্রকল্প অনুমোদনের তথ্য পাওয়া যায়। এসব প্রকল্পে আংশিক কাজ বা কোনো কাজ ছাড়াই বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এদিকে, গত ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় উপজেলার তাজপুর বাজারে অবস্থিত ‘আয়ান এন্ড ইয়াকুব বিরিয়ানি হাউজে’ সরকারি চাল মজুত রয়েছে—এমন অভিযোগে স্থানীয়রা প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রিপন রায় প্রাথমিকভাবে চালগুলো জব্দ করেন। পরদিন ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় ওই প্রতিষ্ঠানে ইউএনও মুনমুন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। সরকারি ১২০ বস্তা চাল জব্দের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আল মাছুম আবির ‘কাজের বিনিময়ে খাদ্য’ (কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় চাল ক্রয়ের বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করেন। আদালত যাচাই-বাছাই শেষে চালের বৈধতা স্বীকার করে দ্রুত বাজারজাত করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, চাল বৈধ ঘোষণা করার পরও ফুডগ্রেইন (খাদ্যশস্য) সনদ না থাকার অভিযোগে প্রায় এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। আল মাছুম আবির অভিযোগ করেন, ইউএনওর দুর্নীতির বিরুদ্ধে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেওয়ার কারণেই তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জরিমানা করা হয়। রায় ঘোষণার পর গত ২৮ এপ্রিল স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে আল মাছুম আবির ইউএনওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রায় পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। এ সময় ইউএনও তার বিরুদ্ধে আগের মানববন্ধনের প্রসঙ্গ তুলে রায় পরিবর্তনের সুযোগ নেই বলে জানান। এর আগে হাইকোর্টের আপিল বিভাগে একটি রিট মামলা চলমান থাকাবস্থায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্পে ইউএনওর বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার পর একই ধরনের প্রক্রিয়ায় তাজপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কবির আহমদকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে ইউএনওর বিরুদ্ধে আন্দালন করে কোনো লাভ হয়নি। এদিকে, গত ৩ এপ্রিল রাতে উপজেলার তাজপুর বাজারে বারণী মেলার নামে অবৈধভাবে র‌্যাফেল ড্র বিক্রির অভিযোগে ভাড়ায় কাজ করা লিপন আহমদ নামে একজনকে তিন দিনের কারাদণ্ড দেন ইউএনও মুনমুন। একই সঙ্গে প্রচারকাজে ব্যবহৃত ব্যাটারিচালিত টমটম ও মাইক জব্দ করা হয়। অথচ পরদিন ৪ এপ্রিল তাজপুর বাজারে জনসম্মুখে ওই লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতে জব্দ করা টমটম, মাইক ও টিকিট বই পরদিন আয়োজকরা ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছাড়িয়ে নেন। আয়োজকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ভাড়ায় কাজ করা ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়ায় ইউএনওর রায় নিয়ে তুমুল সমালোচনা হয়। এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে বিভাগীয় কমিশনার অতিরিক্ত সচিব মশিউর রহমানের মোবাইল ফোনে অনেকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

News জুন ৭, ২০২৬ 0
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সম্ভাবনার নতুন শ্রমবাজার সার্বিয়া

মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের প্রত্যাশা, সরকার উদ্যোগী হলে দেশটিতে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি ফোরাম (বিআরএএফ)। সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কাজে লাগাতে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের প্রত্যাশা সার্বিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রত্যাশা, দেশটিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তাঁদের মতে, বিদেশে কাজের সুযোগ যেন স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং চাকরিপ্রত্যাশীরা যেন প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও অনিশ্চয়তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নিয়োগকর্তার পরিচয়, কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন, চাকরির চুক্তি এবং ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সার্বিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করা হবে। এতে বাংলাদেশের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন দেশে কী ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন, কী কী নথি জমা দিতে হবে এবং ছাড়পত্র পেতে কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। তাঁদের প্রত্যাশা, বিএমইটি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা কমবে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত চাকরির শর্ত যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমন্বয়ই পারে বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকে আরও গতিশীল করতে। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার দাবি সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি সার্বীয় দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, শ্রমবাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের সহায়তা এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বাস্তব চাহিদা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ সংশ্লিষ্টদের সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের সম্ভাবনা যাচাই, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেবেন। একই সঙ্গে সার্বিয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন নতুন দেশে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধান, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য শ্রমিকের চাহিদা যাচাই, নিয়োগকর্তার সক্ষমতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি অনুমোদনের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার, বিএমইটি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বশীল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই—এই বিষয়গুলোতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ও জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের। মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক  

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডস হকি ফাইনালে আজ মুখোমুখি

আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত।   আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে।   অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।”   বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।   মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।   বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে।   মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।   বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

Top week

ধর্মঘট প্রত্যাহার করলেন এলপিজি ব্যবসায়ীরা
অর্থনীতি

ধর্মঘট প্রত্যাহার করলেন এলপিজি ব্যবসায়ীরা

News অক্টোবর ২৮, ২০২৬ 0