সিরাজগঞ্জে আত্মসমর্পণকারী তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১২ (এসআরবি)। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুর ১২ টার দিকে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত ডিআইজি ও এসআরবি-১২'র অধিনায়ক আতিকুর রহমান মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন। উদ্ধার অস্ত্র ও গোলাবারুদের মধ্যে রয়েছে, ১০৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১ হাজার ১৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৫টি ম্যাগাজিন ও ৯৫টি দেশীয় অস্ত্রসহ ৮টি ওয়াকিটকি। অধিনায়ক আতিকুর রহমান বলেন, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, উল্লাপাড়া, সলঙ্গা ও পাবনা জেলার সাথিয়া এবং আতাইকুলা থেকে এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এই অস্ত্র ও গোলাবারুদগুলো আত্মসমর্পনকারী চরমপন্থিদের হেফাজতে ছিল। তারা গত ১ নভেম্বর সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলের উপস্থিতিতে এসআরবির কাছে আত্মসমর্পণ করেন। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
স্টাফ রিপোর্টার: নারায়ণগঞ্জে একাধিক ভবনে নকশা লঙ্ঘন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ; ঘুষ বাণিজ্য, বিদেশ ভ্রমণ, সম্পদ অর্জন ও পদোন্নতি নিয়ে উঠেছে নানা অভিযোগ নারায়ণগঞ্জে নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৮-এর একাধিক কর্মকর্তা ও ভবনমালিকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে এসব অনিয়ম দেখেও না দেখার ভান করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এতে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জে অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও জননিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ছে। অন্যদিকে রাজউক জোন-৮-এর পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) রাজিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরির শুরুতে যথাযথ অনুমতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ, চাকরির পরীক্ষায় নিজের বোনকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের পরও তাঁর পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়া নিয়ে রাজউকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে। রাজউকের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর দাবি, জোন-৮-এ রাজিয়া সুলতানার প্রভাব এতটাই বেশি যে তাঁকে সংস্থাটির ‘একাই একশো’ ক্ষমতাবান কর্মকর্তা বলেও অভিহিত করা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রাজিয়া সুলতানার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণে বাড়ছে ঝুঁকি নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ভবন নির্মাণে অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়াশফি ডেভেলপার লিমিটেড, সুফিয়া কমপ্লেক্স, সেন্ট্রাল প্লাজা, আছিয়া ম্যানশন, টিপিএল টাওয়ার ও কেএমএস টাওয়ারসহ একাধিক ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাড়ির মালিকদের অভিযোগ, রাজউক জোন-৮ কার্যালয়ে প্রাথমিক ছাড়পত্র থেকে শুরু করে ভবনের নকশা অনুমোদন পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, আগে এসব অনিয়ম কিছুটা গোপনে হলেও বর্তমানে তা প্রকাশ্য আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভবন নির্মাণের নিয়মনীতি অনেক ক্ষেত্রে কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। অনিয়ম প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা, নিয়মিত তদারকিও হচ্ছে না। নয় তলার নকশায় ১০ তলা সুফিয়া কমপ্লেক্স নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ার ৬৯ নম্বর প্লটে সুফিয়া কমপ্লেক্সের বিরুদ্ধে অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নয়তলা ভবনের অনুমোদন নিয়ে সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে ১০ তলা। একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে সেন্ট্রাল প্লাজার বিরুদ্ধেও। অনুসন্ধানে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, ভবনটির গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় গোডাউন তৈরি করে দোকান ভাড়া দেওয়া হয়েছে। ভবনটিতে অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া ভবনের মূল অংশ থেকে নির্ধারিত দূরত্বে রাস্তা রাখার নিয়মও মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ভবনগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা, ট্রান্সফরমার, জেনারেটর ও বিদ্যুতের সাবস্টেশন স্থাপনের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ সত্য হলে ভবনগুলোর বাসিন্দা ও ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়। টিপিএল ও কেএমএস টাওয়ার ঘিরে অভিযোগ নারায়ণগঞ্জে রাজউক জোন-৮-এর কার্যালয়ও টিপিএল টাওয়ারে অবস্থিত। ভবনটিতে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। রাজউক একাধিকবার জরিমানা করলেও ভবনটির অনিয়ম সংশোধন করাতে পারেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। টিপিএল টাওয়ারের পাশেই অবস্থিত কেএমএস টাওয়ারের বিরুদ্ধেও ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সেন্ট্রাল প্লাজার মালিকের সঙ্গে কর্মকর্তাদের সম্পর্কের অভিযোগ সেন্ট্রাল প্লাজার মালিক আলমগীরের সঙ্গে রাজউক জোন-৮-এর কয়েকজন কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংস্থাটির এক কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে ভবনমালিককে নকশাবহির্ভূত নির্মাণকাজের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ওই কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, একই ধরনের অনিয়মে আরও দুটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তবে ভবনগুলোর নাম, অনুমোদিত নকশা ও সংশ্লিষ্ট নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। চাকরির শুরুতে বিদেশ ভ্রমণ নিয়ে প্রশ্ন রাজিয়া সুলতানা ২০১১ সালের ২৪ মার্চ রাজউকে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। অভিযোগ রয়েছে, চাকরিতে যোগদানের পরপরই যথাযথ ছুটি ও সরকারি আদেশ (জিও) ছাড়াই তিনি বিদেশ ভ্রমণ করেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১৭ মে তিনি যুক্তরাজ্যে যান। এ ভ্রমণের অনুমোদন ও ছুটিসংক্রান্ত নথি যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজিয়া সুলতানার ধারাবাহিক বিদেশ ভ্রমণ নিয়েও রাজউকের অভ্যন্তরে আলোচনা রয়েছে বলে জানা গেছে। মালয়েশিয়া, দুবাই, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর ভ্রমণের তথ্য উল্লেখ করেছেন কয়েকটি সূত্র। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র দাবি করেছে, দেশের বাইরে রাজিয়া সুলতানার একাধিক ব্যবসায় বিনিয়োগ রয়েছে। তবে এসব বিনিয়োগের কোনো নির্ভরযোগ্য নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বিদেশ ভ্রমণের নথি পর্যালোচনা করলে বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে বলে ওই সূত্রের দাবি। সম্পদ অর্জন ও পূর্বাচলের প্লট নিয়ে অভিযোগ রাজিয়া সুলতানার নামে ও বেনামে বিপুল সম্পদের অভিযোগ নিয়েও অনুসন্ধান চলছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি পূর্বাচলে বিশেষ ব্যবস্থায় একটি প্লট পেয়েছেন। এ ছাড়া হাজী ক্যাম্পের বিপরীতে দক্ষিণখানে তাঁর পাঁচতলা বাড়ি রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পূর্বাচলের প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সাধারণ ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাটাগরিতে বরাদ্দ পাওয়া একটি প্লট কৌশলে নিজের নামে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে এসব সম্পদ ও প্লট বরাদ্দের বিষয়ে দলিল, বরাদ্দপত্র, আয়কর নথি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নথিপত্র পর্যালোচনা প্রয়োজন। বোনকে চাকরির পরীক্ষায় সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রাজউকের প্রশাসন বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে নিজের বোনকে সংস্থাটির চাকরির পরীক্ষায় অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন রাজিয়া সুলতানা—এমন অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এ ঘটনায় তৎকালীন পরিচালক (প্রশাসন) মুহম্মদ কামরুজ্জামান জড়িয়ে পড়েন এবং বিষয়টি নিয়ে সে সময় রাজউকে আলোচনা তৈরি হয়। বর্তমানে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মুহম্মদ কামরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টি অনেক দিন আগের; তাঁর ঠিক মনে নেই। তবে ওই ঘটনায় কোনো বিভাগীয় তদন্ত, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কিংবা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পদোন্নতি ও চলতি দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন রাজিয়া সুলতানার পদোন্নতি ও চলতি দায়িত্ব পাওয়া নিয়েও রাজউকের অভ্যন্তরে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানা গেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজউকে উপপরিচালক (প্রশাসন) পদে অনুমোদিত পদের সংখ্যা ১১টি। এর মধ্যে আটটি পদ পূরণ করা হয়েছে এবং তিনটি পদ শূন্য ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ওই শূন্য পদের বিপরীতে রাজিয়া সুলতানাকে গুরুত্বপূর্ণ জোন-৮-এর পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) পদে অনুমোদিত ১২টি পদই শূন্য রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, এসব শূন্য পদে দায়িত্ব প্রদানের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন রাজিয়া সুলতানাকে জোন-৮-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হলো? তবে পদসংখ্যা, পদোন্নতি ও চলতি দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধিমালা এবং সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ যাচাই করা প্রয়োজন। দায়িত্ব প্রদানের সিদ্ধান্তে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য এসব নথি গুরুত্বপূর্ণ। পরিচালকের নীরবতা, জবাবদিহি কোথায়? নারায়ণগঞ্জে নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ, অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি এবং রাজউক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে জোন-৮-এর পরিচালক রাজিয়া সুলতানার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে রাজিয়া সুলতানার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাঁকে ক্ষুদে বার্তাও পাঠানো হয়। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, চাকরির শুরুতে বিদেশ ভ্রমণ, সম্পদ অর্জন, চাকরির পরীক্ষায় অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা এবং পদোন্নতি নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে রাজউক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে ভবন নির্মাণের অনুমোদন, নির্মাণকাজের তদারকি এবং অগ্নিনিরাপত্তা বিধিমালা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা জরুরি। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের মতো শিল্পাঞ্চলে এসব ক্ষেত্রে অবহেলা জননিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা।
স্টাফ রিপোর্টার,হবিগঞ্জ। হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের সহকারী কমিশনার( ভূমি ) মেহরাব হোসেন প্রায় ৭ মাস পূর্বে বানিয়াচংয়ে যোগদান করেন। এসিল্যান্ডের পদ শূণ্য থাকায় দীর্ঘদিন ইউএনও দায়িত্ব থাকলে ও অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। তিনি যোগদান করার পর অফিসের সেবায় পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগে। ৭ মাসের মাথায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহরাব হোসাইনের বদলিতে হতাশ সাধারণ মানুষ। বানিয়াচং উপজেলা ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালনকালে পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা ও জনবান্ধব প্রশাসনিক সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছেন ভূমি কর্মকর্তা মেহরাব হোসাইন।বানিয়াচং উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি ভূমি অফিস সহ বানিয়াচং উপজেলা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, সেবার মান উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেন। বৃহৎ জনগোষ্ঠীর এই উপজেলার মানুষের আচার-আচরণ, সামাজিক বাস্তবতা ও স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করেন তিনি।স্থানীয় সেবাগ্রহীতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর আন্তরিক আচরণ, সহজে কথা বলার সুযোগ এবং প্রশাসনিক সেবা প্রদানে মনোযোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি অনেকের কাছে একজন জনবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।তবে মাত্র ৭ মাস দায়িত্ব পালনের পর হঠাৎ তাঁর বদলির খবরে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড়। সবার একই কথা জনস্বার্থে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর বদলীর আদেশ বাতিল করা হোক। অনেকের প্রত্যাশা ছিল, তিনি আরও কিছুদিন বানিয়াচং উপজেলায় দায়িত্ব পালন করবেন এবং ভূমি সেবার ক্ষেত্রে আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হতেন।সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, বানিয়াচংয়ের মতো বৃহৎ জনগোষ্ঠীর উপজেলায় ভূমি প্রশাসনের সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে মেহরাব হোসাইনের মতো জনবান্ধব ও সেবামুখী কর্মকর্তাকে আরও কিছুদিন দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হোক।সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা একটাই—প্রশাসনিক সেবা যেন সহজ, স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব হয়। সাধারণ বেশে চলাফেরা করা সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তার বদলী বাতিল করতে ফেসবুকে আকুল আবেদন জানিয়েছেন স্হানীয়রা। উপজেলা নাগরিক কমিটি বদলী বাতিলের দাবীতে জেলা প্রশাসক হবিগঞ্জকে স্মারক লিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এবং স্মারক লিপির কপি মাননীয় সংসদ সদস্য গরীবের ডাক্তার সাখাওয়াত হাসান জীবন ও বিভাগীয় কমিশনার সিলেটকে দেওয়ার হবে বলে জানা গেছে।
র মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক মন্ত্রী এবং অবিভক্ত ঢাকার সবশেষ মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। প্রয়াত এই নেতার স্মরণে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে। বুধবার সকালে সাদেক হোসেন খোকার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন তার সন্তান, ঢাকা ৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। এসময় তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা তার সাথে ছিলেন। এসময় ইশরাক হোসেন বলেন, মৃত্যুর আগে তার বাবাকে দেশে আসতে দেয়া হয়নি। এ জন্য আমৃত্যু তিনি আক্ষেপ করেছেন, এলাকার মানুষের জন্য ভেবেছেন। তিনি বলেন, তার বাবা রাজনৈতিক নীতি, আদর্শ এবং অন্যায়ের সাথে আপোষ করেননি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির আদর্শের প্রতি অবিচল ছিলেন। তিনিও সেই আদর্শে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে কাজ করে যাবেন বলে জানান ইশরাক হোসেন। এদিকে, সাবেক মেয়রের মৃত্যুবার্ষিকীতে কুরআন খতম, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন।
তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই চূড়ান্ত করা হবে এবং আগামী জানুয়ারি মাস থেকে শ্রমিকেরা বর্ধিত হারে বেতন পাবেন। নিম্নতর মজুরি বোর্ডের প্রথম সভায় মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মজুরি বোর্ড কার্যালয়ে বোর্ডের প্রথম সভা শুরু হয়। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চলা সভা শেষে সাংবাদিকদের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। নিম্নতর মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং পিরোজপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দ আজাদ সুবহানী জানান, আমাদের চিন্তাভাবনা শ্রমিকদের পক্ষেই। শ্রমজীবীদের পক্ষেই আলোচনা হচ্ছে এবং অচিরেই তাদের জন্য সুখবর মিলবে। আগামী সপ্তাহে বোর্ডের দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে শ্রমিকদের দাবি করা নতুন মজুরির পক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন ও বিশ্লেষণ করা হবে। প্রথম সভা শেষে মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধি—উভয় পক্ষই আন্দোলনরত শ্রমিকদের কাজে ফেরার ও রাজপথের আন্দোলন প্রত্যাহারের আহবান জানিয়েছেন। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি এ বি এম শামসুদ্দিন বলেন, যারা রাস্তায় আন্দোলন করছেন, তাদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই আলোচনা চলছে। তাই আন্দোলন ছেড়ে কাজে ফেরা উচিত। অন্যদিকে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার জানান, বিভিন্ন কারখানায় এখনও বকেয়া বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ কাজ করছে। এই কারণে পুরো পোশাকখাতেই যেন নতুন মজুরি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, সে বিষয়ে বোর্ডে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানান তিনি। তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের চলমান অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে গত এক নভেম্বর ছয় সদস্যের নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। আজ নতুন বোর্ডের প্রথম সভাতেই ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি চূড়ান্ত করার এই সিদ্ধান্ত এলো।
রাজধানীর আজিমপুরে দাঁড়িয়ে রয়েছে পাকিস্তান আমলে নির্মিত এক ব্যতিক্রমী ভবন। বাইরে থেকে সাধারণ দোতলা স্থাপনা মনে হলেও ভেতরে ঢুকলেই চোখে পড়ে একের পর এক বিস্ময়। প্রতিটি কক্ষের ভেতরে রয়েছে সিঁড়ি, আর সেই সিঁড়ি বেয়ে উঠলেই মেলে আরেকটি শোয়ার ঘর। অদ্ভুত এই নির্মাণশৈলীর কারণেই ভবনটির নাম হয়েছে ‘আজব ভবন’। সময়ের পরিক্রমায় হারিয়ে যেতে বসা এই স্থাপনাটি এবার ফিরছে নতুন রূপে। সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি ভবনটিকে হেরিটেজ হিসেবে সংরক্ষণেরও পরিকল্পনা করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। জানা গেছে, ভবনটি ১৯৫৪ সালে নির্মিত। পাকিস্তান আমলে এটি ‘এমএলএ হাউস’ নামে পরিচিত ছিল। বুধবার (৪ নভেম্বর) সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, দুই তলা এ ভবনটির প্রতিটি শোয়ার কক্ষে ঢুকতেই চোখে পড়ে একটি করে সিঁড়ি। কক্ষে রয়েছে ওয়াশরুম ও রান্নাঘর। সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠলে দেখা যায়, নিচের কক্ষের ছাদের ওপর তৈরি করা হয়েছে আরেকটি শোয়ার ঘর। সেই ঘরেও রয়েছে আলাদা ওয়াশরুম ও রান্নাঘর। ভবনটির এমন ব্যতিক্রমী নির্মাণশৈলীর কারণে লোকমুখে এর নাম ‘আজব ভবন’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। আজিমপুর সরকারি অফিসার্স কলোনির এ ব্লকে ২০টি কক্ষের এই ভবনের তিনটি কক্ষে থাকেন তিনজন নিরাপত্তাকর্মী। অন্য একটি কক্ষ ব্যবহার করা হচ্ছে কলোনির নিরাপত্তা ইনচার্জের কার্যালয় হিসেবে। ভবনটির বিভিন্ন অংশে চলছে রং করার কাজ। কেউ ব্যস্ত আঙিনা পরিষ্কারে, আবার কেউ ভবনের আশপাশের অংশ গোছানোর কাজে নিয়োজিত। সংস্কার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজের কারণে ভবনটিতে এখন দেখা যাচ্ছে নতুন রূপ। গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ব্যতিক্রমী নির্মাণশৈলীর এই ভবনটিকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য (ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ) তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে। ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও স্থাপত্যশৈলী বিবেচনায় ভবনটিকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আজিমপুরের স্থানীয় বাসিন্দা হৃদয় হাসান বলেন, এই ভবনটা অনেক আগে থেকেই দেখে আসছি। ভবনটা দেখতে অন্যগুলোর মতো নয়। এর প্রতিটি ঘরের ভেতরে সিঁড়ি। ওপরেও আলাদা ঘর রয়েছে। সব মিলিয়ে একটু ব্যতিক্রম। এ কারণে এটাকে আজব ভবন বলে চিনি। এখন রং করার পর দেখতে বেশ সুন্দর লাগছে। আগে এটা যারা দেখেননি, তারা ভবনটির গঠন দেখে অবাক হবেন। আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগ-১-এর ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট মোহাম্মদ কায়েস মিয়া বলেন, আশপাশের ভবনগুলোর তুলনায় এটি কিছুটা অপরিচ্ছন্ন দেখায়। তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য বজায় রাখতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে ভবনটির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা হচ্ছে। তবে ভবনটি পরিত্যক্ত। শুনেছি ব্রিটিশ আমলে উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তারা এখানে বসবাস করতেন। এবিষয়ে আজিমপুর গণপূর্ত উপবিভাগ-১-এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সৌরভ বিশ্বাস বলেন, এই ভবনটি প্রায় ৮০ বছর পুরোনো। এটাকে হেরিটেজ হিসেবে সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। আপাতত ভবনটির বাইরের অংশের রং ও মেরামতের কাজ করে সৌন্দর্যবর্ধন করা হচ্ছে। পাশের ভবনগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এটিকে দৃষ্টিনন্দন করা হবে। ভবনটির ভেতরে আপাতত কোনো কাজের পরিকল্পনা নেই। ভবিষ্যতে জাদুঘর বা অন্য কোনো কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নকশা ও নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমানকে তার পদ থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে তাকে ন্যস্ত করা হয়েছে।৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে, মন্ত্রী তারেক রহমানের স্লোগান ‘হাদিস’ সাথে তুলনা করার কারণে এই ঘটনা ঘটে।জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে মঙ্গলবার রাতে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।প্রজ্ঞাপনে মসিউর রহমানকে দায়িত্ব থেকে সরানোর কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধি, কালো তালিকাভুক্তি বন্ধসহ ৩ দফা দাবি আদায়ে ২ ঘণ্টা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধের পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে বিক্ষুব্ধ পোশাকশ্রমিকেরা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দিয়েছেন। এ ঘটনায় সাংবাদিক ও পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে সাভারের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। পরে বেলা ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। সরেজমিনে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের হেমায়েতপুর এলাকা ঘুরে জানা যায়, সকালে পদ্মার মোড় এলাকায় বিক্ষুব্ধ পোশাকশ্রমিকেরা জড়ো হয়ে সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় পুলিশ ও বিজিবি তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। তখন আন্দোলনরত শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে। সাড়ে ১০টার দিকে হেমায়েতপুর-সিংগাইর সড়কে আন্দোলনরত শ্রমিকেরা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। এর কিছুক্ষণ পর স্টার টেলিভিশনের সাংবাদিক সোহন সিরাজী, ৭১ টিভির সাংবাদিক রায়হান বিন ও ক্যামেরাম্যান উজ্জ্বল হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরে শ্রমিক-পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় অন্তত ১০ জন আহত হন। এদিকে, আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় কয়েকটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কর্মবিরতি পালন করেন। পরে কারখানাগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলে শ্রমিকেরা সড়কে বেরিয়ে আসেন। এরপর পোশাকশ্রমিকেরা বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। বর্তমানে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর ও সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বেলা ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পোশাকশ্রমিকদের ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ বিষয়ে সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান নূর জানান, শ্রমিকেরা ৩ দফা দাবি নিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যানচলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা চলছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বোর্ডের কার্যালয়ে এ সভা শুরু হয়। সভাটি বুধবার বিকেল ৩টায় হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে সময় পরিবর্তন করা হয়। গত ১ নভেম্বর তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে ৬ সদস্যের ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ গঠন করে সরকার। সেদিন সকালে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন মজুরি বোর্ডের ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। প্রথমে মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) করা হয়েছিল শেখ আশফাকুর রহমান। আজ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) পদে বদলি করা হয়। একই আদেশে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান করা হয়েছে জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ আজাদ সুবহানীকে। তবে আশফাকুর রহমানকে সরানোর কোনো কারণ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি। বোর্ডের বাকি সদস্যরা হলেন, মালিকপক্ষের প্রতিনিধি বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামছুদ্দিন ও বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব। অন্যদিকে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের (বিজিআইডাব্লিউএফ) সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার। এ ছাড়া বোর্ডে নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। এই বোর্ড সব পদে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির সুপারিশ করবে। বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা ও গেজেট হিসেবে প্রকাশ করবে সরকার। শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের মজুরি বৃদ্ধির দাবি এবং সাম্প্রতিক আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এ বোর্ড গঠন করা হয়। বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকেরা মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও কর্মবিরতি পালন করছেন। ঢাকা, গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এতে কয়েকটি কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত ও কারখানা বন্ধ রাখার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে পোশাকশ্রমিকদের সর্বশেষ নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। ২০২৩ সালের নভেম্বরে এই মজুরি নির্ধারণ করা হয়, যা ওই বছরের ডিসেম্বরে কার্যকর হয়। সংশোধিত শ্রম আইন অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর পরপর মজুরি বোর্ড গঠনের বিধান রয়েছে।
বুধবার সকালে হেমায়েতপুর ও উলাইল এলাকায় পোশাকশ্রমিকরা ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে বিক্ষোভ করেন।বিক্ষোভের সময় পদ্মার মোড় এলাকায় স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের সামনে এবং উলাইল এলাকায় আল-মুসলিম গ্রুপের সামনে সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় পুলিশ গাড়িতে আগুন দেন এবং টিয়ার গ্যাসের শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ছোড়ে।পুলিশ, সাংবাদিক ও শ্রমিকদের মতে, এ সংঘর্ষে ৫০ জন আহত হয়। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তিন প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়।সকাল সাড়ে নয়টার দিকে সাহবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, শ্রমিকরা সড়ক বন্ধ করেছে। দুই ঘণ্টা পর বিক্ষোভকারীরা তাদের আন্দোলন বন্ধ করে।পুলিশ ১১টার পর শ্রমিকদের মহাসঙ্কা সরিয়ে দেয় এবং তিন ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। পদ্মার মোয়া বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।
আধুনিক, সমন্বিত ও প্রযুক্তিভিত্তিক নিরাপদ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা সুসংহত করতে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকায় হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের মেঘনা হলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ইমিগ্রেশন ও বর্ডার গভর্নেন্স সংক্রান্ত আইওএম কৌশলগত রূপরেখা (২০২৭-২০৩১)’ শীর্ষক ব্রিফিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বহির্বিশ্বের সঙ্গে যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সংযুক্ত। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক যাতায়াত ও বাণিজ্য সহজতর করার পাশাপাশি সীমান্ত অতিক্রমকারী ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সীমান্ত পরিচালনায় জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈধ ভ্রমণ ও বাণিজ্যকে গতিশীল করতে হবে। সরকার গৃহীত জাতীয় সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কৌশল ২০২৬-২০৩১ এবং পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন রূপরেখা ২০২৬-২০৩১-এর কথা তিনি জানিয়েছেন। তিনি জানান, ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার, কাগজবিহীন প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সরকারি সেবাগুলোর মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা বৃদ্ধিই বর্তমান সরকারের মূল অগ্রাধিকার। ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নীতি ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে আমাদের বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্টগুলোর কার্যক্রমগত সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে কেবল প্রযুক্তিনির্ভর না করে মানবিক অধিকার ও সুরক্ষার প্রতি সংবেদনশীল এবং পেশাদার মানদণ্ডে উন্নীত করতে হবে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের কথা উল্লখে করে তিনি বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কোনো একক সংস্থার দায়িত্ব নয়; এর জন্য সব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দফতর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ প্রয়াস প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইওএম-এর প্রস্তাবিত ২০২৭–২০৩১ মেয়াদের কৌশলগত রূপরেখাকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের সীমান্ত কাঠামো গঠনে তাদের সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। ব্রিফিং অনুষ্ঠানে আইওএম বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ড. লরা টম বন্ডে বলেন, অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ এরইমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ভবিষ্যতে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কারিগরি দক্ষতা ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে আইওএম সহযোগিতা করতে আগ্রহী। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসান এবং উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং এবং ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোসহ বিভিন্ন অংশীদার সংস্থার প্রতিনিধিরা আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সোমবার রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের ২১০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সনদ বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।মন্ত্রী বলেন, প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা নিয়োগের পর চার-পাঁচ মাস প্রশিক্ষণ নিয়ে কর্মস্থলে যোগ দেন, অথচ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের কোনো ওরিয়েন্টেশন ছাড়াই সরাসরি শিক্ষকতায় পাঠানো হয়।তিনি অভিযোগ করেন, বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা যথাযথ প্রশিক্ষণ পান না। সেনাবাহিনী, পুলিশ, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনীসহ বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের পর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেও শিক্ষা ক্যাডারে তা নেই।মন্ত্রী জানান, শিক্ষা ক্যাডারে পদায়নের ক্ষেত্রে তদবির গ্রহণ করা হবে না এবং পদায়ন ও মূল্যায়ন যোগ্যতার ভিত্তিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, শ্রেণিকক্ষে যারা ভালো পড়াবেন, তারাই পুরস্কৃত হবেন।শিক্ষা কমিশন গঠনেও অনাগ্রহ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি ও সময়ের সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি এবং ডিগ্রি, অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং নায়েমের প্রশিক্ষণ ও বাস্তবায়ন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক প্রিম রিজভী বিশেষ অতিথি ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন নায়েমের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. ওয়াসীম মো. মেজবাহুল হক এবং স্বাগত বক্তব্য দেন প্রশিক্ষণ কোর্সের পরিচালক অধ্যাপক ড. নাসিমা খান।
রাজধানীর মৌচাক মার্কেটের ব্যবসায়ীরা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধ করতে গিয়ে বিক্রি কমেছে বলে জানান। তাঁদের দাবি, দোকান খোলা রাখার সময় বাড়িয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত করার প্রয়োজন রয়েছে।গতকাল সোমবার মৌচাক মার্কেট বণিক সমিতির উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, দোকান খোলা রাখার সময়সীমা কমিয়ে দেওয়া এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ব্যবসায়ীদের বিক্রি কমেছে।মো. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী লিখিত বক্তব্যে জানান, কয়েক বছর আগে মৌচাক মার্কেটকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের নিয়মিত ভ্যাট ট্যাক্স দিতে হবে; প্রান্তিক পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।এদিকে, ইতোমধ্যে তিনটি মার্কেট বন্ধ হয়ে গেছে এবং অন্যান্য মার্কেটগুলোও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলো। ব্যবসায়ীরা দোকান খোলা ও বন্ধের সময় নির্ধারণে বাধ্যবাধকতা তুলে নিজেদের সুবিধামতো সময় নির্ধারণের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ঢাকায় স্ত্রী ও বোনের নামে পাঁচ ফ্ল্যাট # হবিগঞ্জ ও কুড়িগ্রামে পেট্রোল পাম্প # যুক্তরাষ্ট্রে গড়েছেন অঢেল সম্পদ গণপূর্ত অধিদপ্তরের (পিডব্লিউডি) ডিপ্লোমা প্রকৌশলী মো. রফিকুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়নকাজে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে শতকোটি টাকা আত্মসাৎ এবং দেশে-বিদেশে বিপুল অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকার অভিজাত এলাকা বসুন্ধরায় স্ত্রী ও বোনের নামে পাঁচটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, হবিগঞ্জ ও কুড়িগ্রামে দুটি পেট্রোল পাম্প এবং যুক্তরাষ্ট্রে বোনের নামে ফ্ল্যাটসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। পিডব্লিউডি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির (বাপিডিপ্রকৌস) ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রফিকুজ্জামানের বিরুদ্ধে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) এসব অভিযোগ জমা দিয়েছেন একই প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মচারী। গত ২৬ অক্টোবর দুদকে দেওয়া অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, কাজের ব্যয় বাড়িয়ে বিল উত্তোলন এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, ঢাকায় সর্বশেষ কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে মুগদা হাসপাতালের ভবন নির্মাণ ও সংস্কার, বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কার এবং পুলিশের বিভিন্ন ভবন নির্মাণকাজে অনিয়মের মাধ্যমে অন্তত ১১৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এসব প্রকল্পে কাজের মান, ব্যয় নির্ধারণ, দরপত্র ও বিল পরিশোধের বিষয়গুলো তদন্ত করা হলে অনিয়মের চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে ভেরিয়েশন বা কাজের পরিমাণ ও ব্যয় পরিবর্তনের সময় কয়েক গুণ বেশি দর দেখিয়ে সরকারের ২০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় একপর্যায়ে তদন্ত শুরু হলেও প্রভাব ও উৎকোচের মাধ্যমে তা ধামাচাপা দেওয়া হয়। তবে এ অভিযোগের পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। দেশে-বিদেশে সম্পদের পাহাড়ের অভিযোগ: অভিযোগে রফিকুজ্জামানের সম্পদের যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। অভিযোগকারীর দাবি, ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় স্ত্রী ও বোনের নামে পাঁচটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন তিনি। এ ছাড়া নিজের জন্মস্থান হবিগঞ্জ এবং কুড়িগ্রামে দুটি পেট্রোল পাম্পের মালিকানার সঙ্গেও তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের একটি বড় অংশ হুন্ডির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তাঁর বোনের নামে একটি ফ্ল্যাট কেনা হয়েছে বলেও অভিযোগকারীর দাবি। এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, অর্থের উৎস এবং বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী। পদায়ন যেখানে, দুর্নীতির অভিযোগও সেখানে: অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, রফিকুজ্জামান পিডব্লিউডির বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি নির্মাণ ও সংস্কারকাজে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সম্প্রতি তাঁকে হবিগঞ্জে বদলি করা হয়েছে। তাঁর দায়িত্ব পালনকালে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর দরপত্র, কার্যাদেশ, প্রকল্প ব্যয়, ভেরিয়েশন, বিল-ভাউচার ও কাজের বাস্তব অগ্রগতি যাচাই করা হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরূপণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দুদকে অভিযোগ, চলছে যাচাই-বাছাই: দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগের বিষয়ে সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। শিগগিরই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ডেকে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য ও ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বাধীন তদন্ত, কথিত সম্পদের প্রকৃত মালিকানা যাচাই এবং সরকারি প্রকল্পের নথিপত্র পরীক্ষা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে ১১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, সড়ক প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানোর বিষয় এবং দেশে-বিদেশে কথিত সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে দুদকের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে প্রকৌশলী মো. রফিকুজ্জামানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পাঠানো খুদে বার্তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
বহিরাগতরা বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার আশুলিয়ার সরকার মার্কেটে নেক্সট কালেকশন লিমিটেড পোশাক কারখানায় হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে।এই হামলার সময় কয়েকজন বহিরাগত মুখোশ ও হেলমেট পরে হাতে লাঠি নিয়ে কারখানার ভেতরে প্রবেশ করে। তারা কারখানার ভাঙচুর চালায় এবং এক নিরাপত্তাকর্মীর মাথায় আঘাত করে।হামলায় আহত নিরাপত্তাকর্মীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। কারখানার নির্বাহী পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন জানান, হামলার পর শ্রমিকরা কারখানা ছুটি ঘোষণার পর বের হয়ে যান।তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।কারখানাটিতে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। সিসি ক্যামেরা ও একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিশেষ স্মারক ডাক টিকেট অবমুক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে প্রধানমন্ত্রী এই স্মারক ডাক টিকেট অবমুক্ত করেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি। তিনি বলেন, ‘ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাক টিকেট ও একটি উদ্বোধনী খাম অবমুক্ত করেন।’ এ সময়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, সচিব মো. কামরুজ্জামান ও ডাক অধিদফতরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও প্রধানমন্ত্রীর সহকারি একান্ত সচিব-২ মেহেদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
চ্যানেল আইয়ে আগামী ৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে 'ইনস্টাগ্রাম' নামের নাটকটি সম্প্রচারিত হবে। নাটকটি পরিচালনা করেছেন মুহাম্মাদ মোস্তফা কামাল রাজ।নাটকে খায়রুল বাসার ও নাজনীন নীহা মূল চরিত্রে অভিনয় করছেন। তারা এই নাটকে প্রথমবার জুটি বেঁধে কাজ করছেন।নাটকের কাহিনী গ্রাম্য মানুষের ঘটনা ও সামাজিক মাধ্যমকে কেন্দ্র করে। হাস্য রসের মাধ্যমে নাটকটি একটি বার্তা প্রদান করবে।নাটকে অতিরিক্ত অভিনেতা হিসেবে রয়েছেন রোজী সিদ্দিকী, ড. এজাজুল ইসলাম, ফারুক আহমেদ, মাহমুদুল ইসলাম মিঠু ও রাজু প্রমুখ।আগামী মাসে আরও নাটক প্রচারিত হবে বলে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং। বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দেন লিউ হাইশিং। জবাবে প্রধানমন্ত্রীও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও দেশটির প্রিমিয়ার (প্রধানমন্ত্রী) লি ছিয়াংকে শুভেচ্ছা জানান। লিউ হাইশিং বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরের সময় দুই দেশের ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি নতুন যুগের যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেই ঘোষণার আলোকে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। লিউ হাইশিং বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের প্রতি চীনের অঙ্গীকার অপরিবর্তিত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের সম্ভাবনার প্রতিও আস্থা প্রকাশ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের জনগণের হৃদয়ে এ সম্পর্কের বিশেষ স্থান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ঐতিহাসিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা এগিয়ে নেওয়া এখন তাঁদের দায়িত্ব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন প্রজন্মের হাত ধরে দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার এ ঐতিহ্য আরও এগিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়, যা পরবর্তী সময়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। কৃষির উন্নয়ন অবদান রাখে। বর্তমান সরকারও ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে, যা কৃষক ও সাধারণ মানুষের উপকারে আসবে সেই সাথে জীববৈচিত্র ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে৷ চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও বিএনপির মধ্যে দলীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন উভয় পক্ষ। লিউ হাইশিং বলেন, দুই দলের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে চীন আগ্রহী। এ সময় তিনি বিএনপির মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান। বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি Regional Comprehensive Economic Partnership—(RCEP) এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রতি চীনের সমর্থনের কথা জানান লিউ হাইশিং। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৩ লাখ রোহিঙ্গার দীর্ঘদিনের উপস্থিতির কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি, সমাজ, জনমিতি ও পরিবেশের ওপর সৃষ্ট চাপের বিষয়টি তুলে ধরেন। এ সংকট সমাধানে চীনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। জবাবে লিউ হাইশিং বলেন, চীন রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কে অবগত রয়েছে। তিনি এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগের কথা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে অবহিত করবেন। বৈঠকে চীনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দুই দেশের রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। সাক্ষাৎকালে বিএনপির বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান,ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, এমপি এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ২ শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউয়িন, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক পেং শিউবিন এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
৩৫ হাজার টাকা শুল্ক-কর নির্ধারণে খালাস, পরে ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদ্ঘাটন **শ্রমিকের এনআইডি ব্যবহার করে পাঁচ দিনে ৪০টি বিল অব এন্ট্রি খালাসের অভিযোগ কাস্টম হাউস ঢাকার কুরিয়ার ইউনিটে দায়িত্ব পালনকালে সুবিধা নিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য চালান খালাস করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সহকারী কমিশনার সাকিব আনাম খানের বিরুদ্ধে। বিসিএস ৪০তম ব্যাচের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যাচাই-বাছাই ছাড়াই পণ্য চালান খালাস, সরকারের রাজস্ব ক্ষতি এবং ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে পণ্য ছাড়ের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ একটি চালানে মাত্র ৩৫ হাজার টাকা শুল্ক-কর নির্ধারণ করে পণ্য খালাসের পর কাস্টম হাউসের তদন্তে প্রায় ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি উঠে এসেছে। এ ছাড়া একজন শ্রমিকের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে পাঁচ দিনে প্রায় ৪০টি বিল অব এন্ট্রির পণ্য খালাসের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ঢাকা কাস্টম হাউস ও তাঁর সাবেক কর্মস্থল রাজশাহী ভ্যাট কমিশনারেটের বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে এসব অভিযোগের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। সূত্র জানায়, গত ২৩ আগস্ট ঢাকা কাস্টম হাউসের কুরিয়ার ইউনিট দিয়ে ফুলএভার বিডি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান পণ্য চালান আমদানি করে। চালানটির বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-৯৯২৬২৩। প্রতিষ্ঠানটি কাগজ ঘোষণা দিয়ে আরএফ লেভেল খালাস করে নিয়ে যায়। এ চালানে মাত্র ৩৫ হাজার টাকা শুল্ক-কর নির্ধারণ করে পণ্য খালাসের অনুমতি দেন কুরিয়ার ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার সাকিব আনাম খান। বিষয়টি কাস্টম হাউসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে এলে তাঁরা তদন্ত শুরু করেন। তদন্তে বেরিয়ে আসে, প্রতিষ্ঠানটি কাগজের আড়ালে আরএফ লেভেল নিয়ে গেছে। এতে সরকারের প্রায় ৭৬ লাখ টাকার শুল্ক-কর ফাঁকি হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করেছে ঢাকা কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ। তবে পণ্য চালানটি সাকিব আনাম খান খালাস করে দেওয়ার পর মামলা হওয়ায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে কোনো শুল্ক-কর আদায় করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া কুরিয়ারের আরও ৩১টি চালানে লক দিয়েছে প্রিভেন্টিভ টিম। সার্বিক অনিয়মের বিষয়ে কাস্টম হাউস ঢাকা অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে। কাস্টম হাউসের কুরিয়ার ইউনিট মূলত নমুনা পণ্য আমদানির জন্য নির্ধারিত। অর্থাৎ ঋণপত্র (এলসি) ছাড়া যেসব নমুনা পণ্য আমদানি করা হয়, সেগুলো কুরিয়ারের মাধ্যমে খালাস করার নিয়ম রয়েছে। এ ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি বছরে প্রায় পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করতে পারেন। কিন্তু সাকিব আনাম খান দায়িত্ব নেওয়ার পর কুরিয়ার ইউনিট বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের পণ্য খালাসের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে ফ্রেইটের তুলনায় কুরিয়ার ইউনিটে বেশি বিল অব এন্ট্রি দাখিল হচ্ছে। অথচ বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের পণ্য সাধারণত ফ্রেইটের মাধ্যমে আমদানির কথা। সুবিধার বিনিময়ে পণ্য চালান খালাসের সুযোগ থাকায় বিভিন্ন ধরনের পণ্য কুরিয়ার দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কাস্টম হাউসের কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাস্টম হাউস ঢাকার কমিশনার রইচ উদ্দিন খান কালবেলাকে বলেন, কুরিয়ার ইউনিটে একজন আমদানিকারক মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য চালান খালাস করেছেন। পরে কাস্টম হাউসের তদন্তে সেখানে আরএফ লেভেল পাওয়া গেছে। এতে সরকারের প্রায় ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পরবর্তী পণ্য চালান পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সূত্র আরও জানায়, শুধু ফুলএভার বিডির চালান নয়, সাকিব আনাম খানের বিরুদ্ধে কুরিয়ার ইউনিটে দায়িত্ব পালনকালে নিয়মিত এ ধরনের পণ্য চালান খালাসের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে পাঁচ দিনে প্রায় ৪০টি পণ্য চালান খালাসের অভিযোগ উঠেছে। ডেল্টা কার্গো মিডিয়ার নামে এসব পণ্য চালান খালাস করা হয়। ভুয়া এনআইডি ব্যবহারের অভিযোগ ওঠা চালানগুলোর বিল অব এন্ট্রি নম্বর হলো—১০৯৯৬৯৫, ১০৯৯৭৫৬, ১০৯৯৭৪৫, ১০৮৮৭৩০, ১০৮৮৭৩০, ১০৮৮৭০২, ১০৮৮৭১২, ১০৮৪৬৪২, ১০৮৪৫৪৮, ১০৮৩৩৪৫, ১০৮৩৩৩৯, ১০৮৩৩৫৪, ১০৮৩৩৫১, ১০৭৯৬৯২, ১০৮০৯৩৭, ১০৭৮৭১৮, ১০৮০৯৮২ ও ১০৭৯৪৭৮সহ প্রায় ৪০টি বিল অব এন্ট্রি। এসব অনিয়মের অভিযোগের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার সাকিব আনাম খানকে ঢাকা কাস্টম হাউসের অন্য একটি শাখায় বদলি করা হয়েছে। সূত্রের দাবি, তিনি কুরিয়ার ইউনিটে দায়িত্ব নেওয়ার পর সেখানে দুটি সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে। এসব সিন্ডিকেট বিভিন্ন সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স ভাড়া নিয়ে তাঁর মাধ্যমে পণ্য চালান খালাস করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বন্ডের ফেব্রিকস থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক পণ্য পর্যন্ত মিথ্যা ঘোষণায় কুরিয়ার ইউনিট দিয়ে খালাসের বিষয়টি ঢাকা কাস্টম হাউসে ওপেন সিক্রেট বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। কুরিয়ার ইউনিটে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে পণ্য খালাসের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। এর আগে এক প্রতিষ্ঠানমালিকের নামে কুরিয়ারের মাধ্যমে নকল সিগারেটের ব্যান্ডরোল আমদানি করা হয়। ব্যান্ডরোল আটকের পর পরিচয়পত্রের তথ্যের ভিত্তিতে শুল্ক ফাঁকির মামলা করে কাস্টম হাউস। পরে দেখা যায়, যাঁর নামে ব্যান্ডরোল আমদানি করা হয়েছে, তিনি প্রকৃতপক্ষে পণ্যটি আমদানি করেননি। তাঁর পরিচয়পত্র ব্যবহার করে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। পরে নিজের পরিচয় ব্যবহার করে অনিয়মের ঘটনায় ওই প্রতিষ্ঠানমালিক থানায় মামলাও করেন। এ ছাড়া কুরিয়ার ইউনিটের আগে অ্যাসেসমেন্ট গ্রুপে দায়িত্ব পালনকালে সুবিধা না পেলে প্রতিষ্ঠানের ফাইল আটকে রেখে হয়রানি করার অভিযোগও রয়েছে সাকিব আনাম খানের বিরুদ্ধে। এর আগে রাজশাহী ভ্যাট কমিশনারেটে দায়িত্ব পালনকালে তাঁকে ঈশ্বরদী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) পদায়ন করা হয়েছিল। সেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে হয়রানি করে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর দুই মাসের মাথায় তৎকালীন রাজশাহী ভ্যাট কমিশনার তাঁকে ওই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন বলে সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার সাকিব আনাম খান ফুলএভার বিডিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি কালবেলাকে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি কম মূল্য ঘোষণা দিয়েছে। এ কারণে শুল্ক ফাঁকির মামলা হয়েছে। তবে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, পণ্য চালানে এত টাকা শুল্ক-কর আদায়যোগ্য হওয়ার পরও কীভাবে মাত্র ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করে খালাস দেওয়া হলো? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের পরাজয়ের দায়িত্ব দলের ভেতরের কিছু সদস্য এবং ফক্স নিউজের ওপর আরোপ করেছেন। তিনি ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে বেশ কিছু পোস্টের মাধ্যমে নির্বাচনে প্রার্থীদের বিজয় ও পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।ট্রাম্প টেক্সাস রাজ্যের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের সমালোচনা করেছেন। তার দাবি, গ্রেগ অ্যাবট তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শেষ ছয় মাসে ‘আরআইএনও’ না হলে পরাজিত হতেন না। ‘আরআইএনও’ শব্দটির পূর্ণরূপ হলো ‘রিপাবলিকান ইন নেম অনলি’।”তিনি ‘ভেটো’ শব্দ লেখা একটি লাল টুপির ছবি শেয়ার করেছেন, যা ইঙ্গিত দেয় যে ডেমোক্র্যাটদের কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ থাকলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করা যেতে পারে।ট্রাম্প ফক্স নিউজের সমালোচনা করেছেন এবং নিউইয়র্কের সাবেক ডেমোক্র্যাট মেয়র বিল ডি ব্লাসিওকে তাদের রাজনৈতিক বিশ্লেষক দলে রাখার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার অভিযোগ, ফক্স নিউজ ডেমোক্র্যাটদের বিরোধিতা করে এবং বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে নির্বাচনের পরাজয়ের জন্য দায়ী।নির্বাচনের পর ট্রাম্পের এই মন্তব্য দলের অভ্যন্তরীণ মতবৈচিত্র্য এবং মিডিয়ার সাথে তার সম্পর্কের বিষয়ে আলোচনা জাগিয়ে তুলেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার সকালে সচিবালয়ে তার দপ্তরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে একটি স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেছেন।এই স্মারক ডাকটিকিটের মূল্য ১০ টাকা। এছাড়াও, একটি উদ্বোধনী খামও উন্মোচন করা হয়েছে।অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, ডাক, টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, সচিব মো. কামরুজ্জামান, ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ মেহেদুল ইসলামও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের প্রত্যাশা, সরকার উদ্যোগী হলে দেশটিতে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি ফোরাম (বিআরএএফ)। সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কাজে লাগাতে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের প্রত্যাশা সার্বিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রত্যাশা, দেশটিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তাঁদের মতে, বিদেশে কাজের সুযোগ যেন স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং চাকরিপ্রত্যাশীরা যেন প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও অনিশ্চয়তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নিয়োগকর্তার পরিচয়, কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন, চাকরির চুক্তি এবং ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সার্বিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করা হবে। এতে বাংলাদেশের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন দেশে কী ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন, কী কী নথি জমা দিতে হবে এবং ছাড়পত্র পেতে কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। তাঁদের প্রত্যাশা, বিএমইটি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা কমবে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত চাকরির শর্ত যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমন্বয়ই পারে বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকে আরও গতিশীল করতে। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার দাবি সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি সার্বীয় দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, শ্রমবাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের সহায়তা এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বাস্তব চাহিদা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ সংশ্লিষ্টদের সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের সম্ভাবনা যাচাই, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেবেন। একই সঙ্গে সার্বিয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন নতুন দেশে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধান, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য শ্রমিকের চাহিদা যাচাই, নিয়োগকর্তার সক্ষমতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি অনুমোদনের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার, বিএমইটি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বশীল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই—এই বিষয়গুলোতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ও জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের। মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।