স্বাস্থ্য

মজুত থাকলেও রোগীকে দেওয়া হয়নি স্যালাইন, কিনে দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
মজুত থাকলেও রোগীকে দেওয়া হয়নি স্যালাইন, কিনে দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

  ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় পরিদর্শনে গিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার, ফার্মেসি ও রান্নাঘর ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। মজুত থাকা সত্ত্বেও রোগীকে বাইরে থেকে স্যালাইন কিনতে বলায় এক নার্সের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। ওই সময় ওই রোগীকে বাইরে থেকে স্যালাইন কেনার টাকা ফেরত দেন তিনি।  টানা এক ঘণ্টা পরিদর্শন শেষে তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয়ে গিয়ে অনুপস্থিত চিকিৎসকদের মোবাইলফোন নম্বরে কল করে তাদের কাছে ব্যাখ্যা চান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।  পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে অনিয়ম পাওয়া গেছে। এখানে স্যালাইন মজুত থাকার পরও রোগীকে দেওয়া হচ্ছিল না। এছাড়া একজন চিকিৎসককে অনুপস্থিত পাওয়া গেছে। এসব বিষয় নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে।  স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। খুব শিগগিরই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শয্যাসহ সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে। এদিকে নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ধলু, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম, ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রত পালসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন

News আগস্ট ২৩, ২০২৬ 0
অনুদানের হাসপাতালে করপোরেট ব্যবসা  আহছানিয়া মিশন হাসপাতাল
অনুদানের হাসপাতালে করপোরেট ব্যবসা  আহছানিয়া মিশন হাসপাতাল

: রোগীর কল্যাণের কথা বলে জাকাত সংগ্রহ করে আহছানিয়া মিশন ক্যানসার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল। এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তির থেকে প্রতি বছর বড় অঙ্কের অনুদান পায় হাসপাতালটি। কিন্তু সেই টাকা রোগীর পেছনে খরচ না করে জমা রাখছে ব্যাংকে। তাতে মিলছে বড় অঙ্কের সুদ। পাশাপাশি নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে করা হচ্ছে বিনিয়োগ। অন্যদিকে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে বেসরকারি শীর্ষ হাসপাতালগুলোর মতো চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে হচ্ছে রোগীদের। অথচ কথা ছিল, জাকাত ও অনুদানের টাকায় রোগীরা বিনামূল্যে থেকে শুরু করে একেবারে কমমূল্যে চিকিৎসাসেবা পাবেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একসময়ে ক্যানসার চিকিৎসায় দেশের অনন্য প্রতিষ্ঠান ছিল এ হাসপাতাল। কিন্তু অব্যবস্থাপনা, আহছানিয়া মিশনের মুনাফার দিকে গুরুত্বের ফলে ডুবতে বসেছে হাসপাতালটি। ক্যানসার থেকে এখন সাধারণ অন্যান্য রোগের চিকিৎসায় জোর দেওয়া হচ্ছে। সীমিত হয়ে আসছে ক্যানসার চিকিৎসার পরিধি। মাসে হাসপাতাল থেকে আয় ৩০ কোটি ২০০১ সালে ‘আহছানিয়া মিশন ক্যানসার ডিটেকশন অ্যান্ড ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ নামে যাত্রা শুরু হয় প্রতিষ্ঠানটির। ২০১৪ সালে ক্যানসার আহছানিয়া মিশন ক্যানসার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল হিসেবে যাত্রা শুরু করে। সে সময় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এককালীন হিসেবে ৭৪ কোটি টাকা এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ৩৯ কোটি টাকা অনুদান দেয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, বছর কয়েক আগে প্রতি বছর জাকাত থেকে তিন কোটি টাকার মতো। গত বছরও দুই কোটি টাকার বেশি এসেছে। তবে চলতি বছর এখন পর্যন্ত জাকাত এসেছে ৫৫ লাখ টাকা। এ ছাড়াও প্রতি বছর বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে দুই কোটি টাকার বেশি অনুদান আসে। এ ছাড়া সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয় এক থেকে দেড় কোটি। সবমিলিয়ে বিভিন্ন উৎস থেকে প্রতিষ্ঠানটির আয় ৫ থেকে পাঁচ কোটি টাকার বেশি। তবে হাসপাতালের সেবা খাত থেকে প্রতি মাসে কী পরিমাণ আয় জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন হাসপাতালটি। হাসপাতালের মাসিক আয় জানতে সাবেক পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের। এশিয়া পোস্টকে তারা জানিয়েছেন, হাসপাতালে ওষুধ বিক্রি, রোগ নির্ণয় ফি, শয্যা ভাড়াসহ হাসপাতালের সামগ্রিক আয় ৩০ কোটি টাকার মতো; বছরে যা দাঁড়ায় ৩৬০ কোটি। টেস্ট, ভর্তি ফি বেসরকারি শীর্ষ হাসপাতালের মতোই লিভার ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ নিয়ে গত ৫ জুন সালেহা বেগমকে (৬৫) ভর্তি করা হয় উত্তরার আহছানিয়া মিশন ক্যানসার ও জেনারেল হাসপাতালে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও সংস্থার অর্থায়নে চলে বলে অনেকটা সরকারি খরচে চিকিৎসা মিলবে এমন আশা থেকে এ হাসপাতালে মাকে ভর্তি করান তাসলিমা জাহান। ভর্তির তিন দিনে শুধু রোগ নির্ণয়েই গুনতে হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। এ ছাড়া দৈনিক শয্যা ভাড়া দুই হাজার ২০০ টাকা, ডাক্তার ফি এক হাজার টাকাসহ দুজন মানুষের খাওয়া ও অন্যান্য খরচ মিলে পাঁচ দিনে প্রায় ৫০ হাজার টাকা গেছে। তখনও শুরু হয়নি সালেহার পূর্ণ চিকিৎসা। তাসলিমার ভাষ্য, বেসরকারি আরদশটা করপোরেট হাসপাতাল নাকি চ্যারিটেবল কোনো প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নিচ্ছি সেটি পার্থক্য করা যাচ্ছে না। যে প্রতিষ্ঠান মানুষের দান ও অনুদানের টাকায় চলে, সেখানে এত বেশি খরচ কেন হবে? একেকটা টেস্টের দাম প্রথম সারির বেসরকারি ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের মতোই। সম্পূর্ণ অনুদানের হাসপাতালে এমন চড়া দামে চিকিৎসা কেনার অভিজ্ঞতা শুধু এ পরিবারের নয়, চিকিৎসা নিতে আসা হাজার হাজার রোগীর। সম্প্রতি সরেজমিন হাসপাতালে গেলে, ঢুকতেই চোখে পড়ে প্রতিষ্ঠানটিতে কী কী রোগ নির্ণয় হয় এবং কত টাকায় করা হয় সেই তালিকা। এতে দেখা যায়, রক্তে কোলেস্টরেল ও চর্বির পরিমাণ জানতে সর্বাধুনিক পরীক্ষা লিপিড প্রোফাইল করাতে গুনতে হয় এক হাজার ২০০ টাকা, যা দেশের যে কোনো বেসরকারি শীর্ষপর্যায়ের ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের পপুলারের মতো প্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি বা কিছুটা বেশি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেসরকারি ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে এই টেস্টের দাম এক হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত। প্রথম সারির বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্রেইনের সিটি স্ক্যানে গুনতে হয় পাঁচ হাজার টাকা। অনুদানের হাসপাতাল হলেও সমপরিমাণ টাকা দিতে হয় আহছানিয়া হাসপাতালে। অথচ এই পরীক্ষা চার হাজার টাকায়ও করা যায় বেসরকারি ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে। শুধু এ দুই পরীক্ষা নয়, শরীরে আয়রনের মাত্রা জানতে করা এস আয়রন প্রোফাইল টেস্ট করাতে লাগে তিন হাজার, বুকে ব্যথা বা হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ দেখা দিলে করা ট্রপোনিন আই এক হাজার ২০০ টাকা, গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি, গঠন দেখার জন্য আল্ট্রাসনোগ্রাফি অব প্রেগন্যান্সি প্রোফাইল এক হাজার ২০০ টাকা, সিটি স্ক্যান (চেস্ট) ছয় হাজার টাকা, চেষ্টের এমআরআই সাত হাজার টাকা- যা দেশের শীর্ষ বেসরকারি ডায়াগনোস্টিক সেন্টারগুলোর দামের সমান বা কাছাকাছি। প্রতিষ্ঠানটির একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্টের সঙ্গে কথা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এশিয়া পোস্টকে তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষার দাম বছর কয়েক আগেও সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে সেটি বাড়ানো হয়েছে। এখানে দূর-দূরান্ত থেকে রোগীরা আসেন, শুধু কম দামে ভালোমানের চিকিৎসা পেতে। কিন্তু এখন সবকিছুই ব্যবসা হয়ে গেছে।’ কম দামে ওষুধ কিনে বাজারদরে বিক্রি জটিল ও মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসায় শিরায় ইনজেকশন হিসেবে ব্যবহৃত হয় অ্যান্টিবায়োটিক মেরোপেনেম (এক গ্রাম)। বাজারে এ অ্যান্টিবায়োটিকের দাম এক হাজার ২৩৫ টাকা। চ্যারিটেবল প্রতিষ্ঠান হওয়ায় আহছানিয়া হাসপাতালকে ওষুধ প্রস্তুতকারী একটি কোম্পানি ট্রেড প্রাইস বা নির্দিষ্ট দাম ৭০০ টাকায় দিয়ে থাকে। উদ্দেশ্য, রোগীদের সুলভমূল্যে দেওয়া। কিন্তু হাসপাতালটির ফার্মেসি বিভাগে গিয়ে খোঁজ নিলে দেখা যায়, রোগীদের কাছে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য এক হাজার ২৩৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। একই ঘটনা ঘটেছে ক্রিটিক্যাল কেয়ারে বা গুরুতর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত আরেক অ্যান্টিবায়োটিক নিউপেনেমও। এটিও ৭০০ টাকায় কেনা হলেও রোগীদের কিনতে হচ্ছে এক হাজার ২৮৩ টাকায়।  শুধু এ দুই অ্যান্টিবায়োটিক নয়, আরও বেশকিছু ওষুধে ফার্মাসিউটিক্যালসগুলো রোগীদের স্বার্থে বিশেষ ছাড় দিলেও তার সুফল পাচ্ছেন না রোগীরা। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে রাজি হননি। আইসিইউতে নষ্ট অধিকাংশ ভেন্টিলেটর, ফেরত যেতে হয় রোগীদের ৩৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে ১৫টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে। প্রত্যেকটিতে রয়েছে একটি করে ভেন্টিলেটর বা জীবনরক্ষাকারী শ্বাসযন্ত্র। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছয় মাস ধরে অধিকাংশ ভেন্টিলেটর বিকল হয়ে পড়ে আছে। এর মধ্যে কয়েকটি ঠিক করা হলেও বাকিগুলো বিকল। এ অবস্থায় একদিকে অনেক সংকটাপন্ন রোগী আসলেও ফেরত যেতে হচ্ছে, আবার যারা চিকিৎসাধীন, তাদেরও সুস্থ হতে বেশি সময় লাগছে, এমনকি ভেন্টিলেটর সমস্যা একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। চিকিৎসকরা বলছেন, ভেন্টিলেটর রোগীর জীবন-মৃত্যুর সমস্যা। এটি বিকল হলে রোগীর শরীরে তাৎক্ষণিকভাবে অক্সিজেনের মারাত্মক অভাব (হাইপোক্সিয়া) দেখা দেয় এবং মস্তিষ্ক ও শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অকার্যকর হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। আইসিইউ ইনচার্জ ডা. জাকারিয়া এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘সমস্যার বিষয়টি কর্তৃপক্ষ জানে। আমি চিকিৎসক, কর্তৃপক্ষ যে ধরনের ফ্যাসিলিটিজ (সুযোগ-সুবিধা) দিয়েছে, সেখান থেকেই আমাকে চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে।’ এর বেশিকিছু বলতে রাজি হোননি তিনি। রেডিওথেরাপির সিরিয়াল পেতে মাস পর বছর খানেক আগে স্তন ক্যানসার শনাক্ত হয় ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ফাতেমা বেগমের (৪৮)। নিজ বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষায় শনাক্ত হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় রাজধানীর মহাখালীর জাতীয় ক্যানসার হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে। তবে সেখানে তিন মাসেও চিকিৎসা শুরু করতে না পেরে ধানমন্ডির বেসরকারি একটি হাসপাতালে মাস ছয়েক চিকিৎসা নিলেও খরচ মেটাতে না পেরে আসেন আহছানিয়া ক্যানসার হাসপাতালে।  স্বামী বয়স্ক হওয়ায় নানা জটিলতা নিয়ে বিছানায়। একমাত্র ছেলে রিকশাচালক তিনিও পরিবার নিয়ে থাকেন আলাদা বাসায়। ধারদেনা করে এ হাসপাতালে রেডিওথেরাপি নিতে এসেছেন ফাতেমা বেগম। গত ১৬ জুন হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, অত্যন্ত বিমূর্ষ ফাতেমা বেগম রেডিওথেরাপির সিরিয়াল পেতে কখনও তথ্য কেন্দ্রে যাচ্ছেন, কখনও বা হাসপাতালের স্টাফদের কাছে অনুরোধ করছেন। ফাতেমা বেগম জানান, স্বামী কাজ করতে পারেন না, নিজেই অসুস্থ। ছেলে কিছু টাকা দিয়েছে আর মানুষের কাছে ধারদেনা করে কিছুদিন চিকিৎসা নিয়েছি। বেসরকারিতে চিকিৎসা করার মতো টাকা নেই, সরকারিতে ভর্তি নেয় নাই। এ হাসপাতালে আসছি তিন দিন ধরে ঘুরছি, কিন্তু এক মাসের মধ্যে সিরিয়াল দিচ্ছে না। হাসপাতালটিতে রেডিওথেরাপি পেতে এমন দীর্ঘ অপেক্ষার গল্প ফাতেমার মতো শত শত ক্যানসার রোগীর। সক্ষমতার তুলনায় রোগীর চাপ যেমন বেশি, একই সঙ্গে যন্ত্রগুলোর মেয়াদ শেষ হওয়ায় পর্যাপ্ত সেবা দিতে পারছে না। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১০০-১২০ জন রেডিওথেরাপি পেলেও অন্যদের ফেরত যেতে হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালটিতে চারটি রেডিওথেরাপির যন্ত্র রয়েছে। ২০১৪ সালে এসব যন্ত্র স্থাপন করা হয়। এর মধ্যে একাধিক যন্ত্রের মেয়াদ শেষের পথে। ফলে ঠিকমতো রেডিয়েশন পড়ে কি না সেই সন্দেহ তৈরি হয়েছে। জানতে চাইলে রেডিওলোজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. অরুপ এশিয়া পোস্টকে বলেন, বর্তমানে চারটি রেডিওথেরাপি ও দুটি বেকিথেরাপি যন্ত্র রয়েছে এ হাসপাতালে। এর বাইরে নষ্ট ও মেয়াদোত্তীর্ণ এমন পাঁচটি যন্ত্রের মধ্যে কয়েকটি ব্যবহারের অনুপযোগী ঘোষণা করা হয়েছে, বাকিগুলো প্রক্রিয়াধীন। তিনি বলেন, রোগীর তুলনায় যন্ত্রের যথেষ্ট অভাব। পুরো বাংলাদেশেই রেডিওথেরাপি মেশিন মাত্র ৩৫টির মতো। যেখানে দরকার ২৮০টি। এত অল্প যন্ত্র দিয়ে বিপুল পরিমাণ মানুষের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়৷ ফলে সিরিয়াল পেতে রোগীদের বিলম্ব হয়। আর মেশিনেরও ধারণক্ষমতা রয়েছে। দৈনিক ৫০ থেকে ৬০টির মতো থেরাপি দেওয়ার কথা, সেখানে করা হচ্ছে দ্বিগুণ। নতুন যন্ত্র না কিনলে চাপ কমবে না। অদক্ষ নার্স দিয়ে চলে সেবা হাসপাতালটিতে দুই শতাধিক নার্স কর্মরত। এর মধ্যে বড় একটি অংশ অদক্ষ বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে রোগীর ক্যানুলা করতেও গোলমাল পাকিয়ে ফেলেন এখানকার কিছু কিছু নার্স। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. আবদুল্লাহ্-আল-মামুন বলেন, ‘আমি যোগদানের আগে কী হয়েছে জানি না। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দক্ষ নার্সদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ক্যানুলা শুধু নার্সরা দেয় না, ডাক্তাররাও অনেক দেন। ক্যানুলা দিতে গিয়ে নার্সদের অদক্ষতা ও বিভিন্ন কারণে জটিলতা দেখা দিতে পারে। এ জন্য নার্সদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।’ হাসপাতালের অর্থে ফ্যাশন হাউস ও হজ এজেন্সিতে ব্যবহারের অভিযোগ বিপুল পরিমাণ এ আয়ে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ মানের হওয়ার কথা। দরিদ্ররা বিনামূল্যে আর অন্যান্য শ্রেণির মানুষ একেবারে কমমূল্যে চিকিৎসাসেবা কিনতে পারবেন এটাই হওয়ার কথা। কিন্তু আহছানিয়া ক্যানসার ও জেনারেল হাসপাতালে ঘটেছে এর বিপরীত। সরেজমিন অনুসন্ধানে হাসপাতালের অর্থ সরিয়ে নেওয়ার তথ্য পাওয়া বেরিয়ে এসেছে। বিশেষ করে জাকাত ও অনুদানের অর্থ সরাসরি রোগীদের চিকিৎসায় ব্যয়ের বাধ্যবাধকতা থাকলেও আহছানিয়া মিশন তা ব্যবসায় ঘাটাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আহছানিয়া মিশন ক্যানসার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বর্তমান প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি জানিয়েছেন। কর্মকর্তাদের বক্তব্যে উঠে আসে, রোগীদের চিকিৎসার জন্য দেওয়া অর্থ মিশন ব্যাংকে এফডিআর করে প্রতি বছর মুনাফা তুলছে। পাশাপাশি সেই অর্থ দিয়ে রাজধানীর বসুন্ধরা শপিংমলে ‘নগরদোলা’ নামে একটি ফ্যাশন হাউস গড়া হয়েছে। হাসপাতালটির সাবেক একজন পরিচালক এশিয়া পোস্টকে বলেন, প্রতি বছর শুধু জাকাত থেকে দেড় থেকে তিন কোটি টাকা আসে। কিন্তু সেই অর্থ দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালে চিকিৎসায় ব্যয় না করে ৮ কোটি টাকা আহছানিয়া মিশন ব্যাংকে এফডিআর করে ব্যাংকে রেখেছে। বারবার চিঠি দেওয়ার পরও তারা ফেরত দেয়নি। প্রতি মাসে বড় অঙ্কের মুনাফা আসে সেখান থেকে। অথচ শুধু রোগীদের চিকিৎসার জন্য মানুষ এই টাকা জাকাত দিয়েছে। গভর্নিং বডির অনুমতি ছাড়াই এসব টাকা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, হাসপাতালের টাকা দিয়ে তারা ফ্যাশন হাউস খুলেছে। অথচ নিয়ম অনুযায়ী দেশের দরিদ্র ক্যানসার রোগীরা ভর্তি থেকে শুরু করে চিকিৎসা, ওষুধ, খাবারসহ সবকিছুই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়ার কথা। কিন্তু সেটি হচ্ছে না। আগে জাকাত মানুষ সরাসরি হাসপাতালে দিয়ে যেত। এমনকি কোনো কোনো ব্যবসায়ী ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত দিয়েছে। একপর্যায়ে জাকাতের টাকা ঠিকমতো ব্যবহার হচ্ছে কি না অনেক দাতারা জানতে চান। ফলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেরাই সরাসরি রোগীদের চিকিৎসায় ব্যয় করত। কিন্তু মিশন অফিস তাতে বাধা দিত। তারা জানায়, হাসপাতালে নয়, এই অর্থ মিশনের অফিসে জমা দিতে হবে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, শুধু জাকাত নয়, মেডিকেল কলেজের তিন কোটি টাকাও নিয়েছে। অনেক চেষ্টার দুই কিস্তিতে প্রায় দুই কোটি টাকা ফেরত দিলেও বাকিটা এখনও বাকি। ক্যানসার চিকিৎসায় দেশের সেরা একটি হাসপাতাল ছিল এটি। সেখানে এখন মেডিকেল কলেজ হয়েছে, ফলে জেনারেল হাসপাতাল রূপে নিয়েছে। মেডিকেল কলেজ তো লাভজনক প্রতিষ্ঠান। হাসপাতালের জায়গায় করায় ক্যানসার চিকিৎসায় প্রতিনিয়ত সীমিত হয়ে আসছে।  হাসপাতালের টাকা সরানোর ব্যাপারে জানতে আহছানিয়া মিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. গোলাম রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে কথা বলেছেন, মিশনের কোষাধ্যক্ষ হলেন ড. এম এ জলিল। এশিয়া পোস্টকে তিনি বলেন, জাকাতের টাকা সরানোর বিষয়টি সত্য নয়। এফডিআর করা থাকলে সেটি অনুদানের টাকা হতে পারে। ফ্যাশন হাউস ও হজ এজেন্সি আছে। তবে এখানকার অর্থ দিয়ে করা হয়েছি বিষয়টি সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি। যা বলছে কর্তৃপক্ষ উচ্চমূল্যে চিকিৎসাসেবা, রোগীদের ভোগান্তি ও নানা অব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা হয় আহছানিয়া মিশন ক্যানসার ও জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. আবদুল্লাহ্-আল-মামুনের সঙ্গে। এশিয়া পোস্টকে তিনি বলেন, চ্যারিটেবল প্রতিষ্ঠান হলেও এটাকে সাসটেইন (টিকিয়ে রাখা) করতে হবে। ১০০ টাকা ব্যয় করে সমানসংখ্যক টাকা আয় করতে না পারলে প্রতিষ্ঠান চলবে কীভাবে? চিকিৎসক, নার্সসহ ৮ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে এ হাসপাতালে। তাদের বেতন অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি মেরামতেও তো খরচ রয়েছে। এগুলোর জন্য অর্থ দরকার। আমরা অন্য বেসরকারি হাসপাতালের চেয়ে অনেক কম খরচে চিকিৎসা দেই, আবার কেউ সহযোগিতা চাইলে সেটাও করা হয়। আইসিইউতে ভেন্টিলেটর বিকলের বিষয়ে আবদুল্লাহ্-আল-মামুন বলেন, আইসিইউতে তিনটি ভেন্টিলেটর নষ্ট রয়েছে। এ ছাড়া কিছুটা জটিলতা রয়েছে। তাই জরুরি যেসব সংকটাপন্ন রোগী আসে তাদের ভর্তি নেওয়া হয় না। আইসিইউতে নিয়ে যদি ভেন্টিলেটর দিতে না পারি, তাহলে ভর্তি করে কী করব। পরিচালক বলেন, টেস্টের খরচের উচ্চমূল্যে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে ওষুধ বিক্রিতে বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে কি না সেটিও তদন্ত করা হবে। জানতে চাইলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব (বেসরকারি হাসপাতাল) মো. মহসীন এশিয়া পোস্টকে বলেন, সবকিছু আমাদের নখদর্পণে নেই। বোর্ডে সদস্য হলেও যাওয়া হয় না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিষয়গুলো দেখার কথা। তারপরও যেহেতু তদারকির দায়িত্ব আমাদের, বিষয়টি অবশ্যই দেখা হবে।  

News আগস্ট ১৯, ২০২৬ 0
আড়াই শতাধিক অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিক বন্ধ করল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
আড়াই শতাধিক অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিক বন্ধ করল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

  রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা হাসপাতাল, ব্লাড ব্যাংক, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। ইতোমধ্যে অভিযান চালিয়ে বিগত পাঁচ মাসে সারা দেশে ২৫০ টির বেশি অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে চলতি বছরের ২৯ মার্চ থেকে নিয়মিত অভিযান চালানো শুরু করে স্বাস্থ্য বিভাগ। বেশ কিছু অভিযানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন নিজেও উপস্থিত ছিলেন।  স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. মো. নূরুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে সারা দেশে প্রায় ৫ হাজার অবৈধ ও মানহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক, ব্লাড ব্যাংক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অভিযান চালানো হয়েছে। ২৫০ টির বেশি অবৈধ ক্লিনিক বন্ধ করা হয়েছে। ২০০টি ক্লিনিককে সংশোধনের সময় দেওয়া হয়েছে। যেসব ক্লিনিকের লাইসেন্সের মেয়াদ নেই, তাদের সময় দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৬ হাজার ক্লিনিক তাদের লাইসেন্স নবায়ন করেছে। আরও ২ থেকে ৩ হাজার আবেদন জমা পড়েছে, সেগুলো যাচাই বাছাই করে অনুমোদন করা হবে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, মানুষের আস্থা বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে দেশজুড়ে অবৈধ ও মানহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, লাইসেন্সবিহীন কার্যক্রম এবং নিম্নমানের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারা দেশে ১ হাজার ২৮৫টি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার অবৈধভাবে চলছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪১৫টি অবৈধ প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিভাগে। এরপর রংপুরে ১১১, ময়মনসিংহে ২৫২, রাজশাহীতে ৫৫, চট্টগ্রামে ২৪০, বরিশালে ৪৮, খুলনায় ১৫৬ এবং সিলেটে রয়েছে ৮টি। জানা গেছে, গত কয়েক মাস অভিযান চালিয়ে রাজধানীর প্রায় ২৫টি অবৈধ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও তদন্তকারী দল এসব প্রতিষ্ঠানে গুরুতর অনিয়ম শনাক্ত করেন এবং তাদের মধ্য অনেক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা, আবার অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং কিছু প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এছাড়াও ফরিদপুরে চারটি বেসরকারি হাসপাতাল ও একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, টাঙ্গাইলে অনুমোদনহীন ৬টি ক্লিনিক, শরীয়তপুরে ২টি ক্লিনিক, নরসিংদীতে ২টি, পাবনায় ২টি ক্লিনিক, মানিকগঞ্জে ২টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডে ১টি, রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ১টি ক্লিনিকস দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা মিলিয়ে প্রায় ২ শতাধিক অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক ও ব্লড ব্যাংক বন্ধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, যেকোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিক ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবার মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে কোনো আপস করা হবে না। তিনি বলেন, রাজধানী থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান ধাপে ধাপে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে। একই সঙ্গে যারা অবৈধভাবে হাসপাতাল বা ক্লিনিক পরিচালনা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বাসস’কে বলেন, সারা দেশে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে বিভিন্ন হাসপাতালের অনিয়ম দূরীকরণ এবং স্বাস্থ্যখাতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা হবে।  অভিযানের অংশ হিসেবে লাইসেন্স যাচাই, চিকিৎসা সরঞ্জামের মান পরীক্ষা, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং চিকিৎসকদের বৈধ সনদপত্র যাচাই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যেখানে অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা, সিলগালা বা কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে ভুয়া ডাক্তার, নার্স ও মেডিকেল টেকনিশিয়ানদের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। 

News আগস্ট ১৮, ২০২৬ 0
সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরো দুই শিশুর মৃত্যু
সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরো দুই শিশুর মৃত্যু

  সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে আরো দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া দুই শিশু হলো তাসমিন ও তামিম। তাদের বয়স যথাক্রমে ৬ মাস ও ৯ মাস। এ নিয়ে সিলেট বিভাগে হাম উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৮ জনে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এদিকে, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন মোট ৩২১ জন রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ৯ জন। একই সময়ে ১১৫ জন সন্দেহভাজন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আজ ১৮ আগস্ট পর্যন্ত বিভাগে মোট ৯৮৮ জন ল্যাব-নিশ্চিত (কনফার্মড) হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ৬ জন নিশ্চিত হামের রোগী ছিলেন সেটি নিশ্চিত করা গেছে। এদিকে, রবিবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে গত ১৫ মার্চ থেকে রবিবার (১৬ আগস্ট) পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৮০৯ শিশু। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরো ৯৯ শিশুর। সব মিলিয়ে এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯০৮ জনে।

News আগস্ট ১৮, ২০২৬ 0
সংকটে অকেজো প্রায় গোসাইরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
সংকটে অকেজো প্রায় গোসাইরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

  শরীয়তপুর জেলার অন্যতম একটি উপজেলা গোসাইরহাট। যার জেলা শহর থেকে দূরত্ব অন্যান্য উপজেলার চাইতে অনেক বেশি। তবে এই উপজেলার থেকে বেশি নাজুক অবস্থা এখানকার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়া হাসপাতালটিতে ২২ জন চিকিৎসকের বিপরীতে রয়েছে মাত্র ১১ জন। যার মধ্যে নেই গুরুত্বপূর্ণ সার্জারি, গাইনি ও অ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসক। ফলে চালুর পর থেকেই বন্ধ আছে গুরুত্বপূর্ণ সব অপারেশন। আর এই সুযোগটি নিয়ে রোগীদের গলা কাটছে আশপাশে গড়ে ওঠা নামে-বেনামের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক ও ক্লিনিকগুলো। স্থানীয় ও সরেজমিনে জানা যায়, ১৯৫৮ সালে প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র হিসেবে যাত্রা শুরু হয় গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির। ১৯৮৩ সালে এটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হিসেবে রূপান্তরিত করা হয়। সবশেষ ২০১৮ সালে এটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। একটি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নের অন্তত দুই লাখ মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসা সেবার ভরসা এই ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে দীর্ঘদিনের জনবল সংকট, চিকিৎসক ঘাটতি, নষ্ট যন্ত্রপাতি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে এখান থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, হাসপাতালটিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তাসহ মোট ২২টি পদ রয়েছে। এরমধ্যে শুধু চিকিৎসক রয়েছেন ১১ জন। এছাড়া বাকি ১১টি পদ শূন্য। গুরুত্বপূর্ণ জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেসথেশিয়া) চিকিৎসকের পদগুলো সম্পূর্ণ শূন্য পড়ে আছে। ফলে বন্ধ আছে সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন। এছাড়াও হাসপাতালের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) পদটিও শূন্য। অপরদিকে দুইজন মেডিকেল অফিসারের বিপরীতে রয়েছে একজন, ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসারের ৪টি পদের বিপরীতে রয়েছে ২টি। এছাড়াও সহকারী সার্জন ৭টি পদের বিপরীতে রয়েছে মাত্র দুই জন। অর্থাৎ এখানে পাঁচটি পদই ফাঁকা। . রয়েছে জনবল সংকটও। সিনিয়র স্টাফ নার্স, মেডিকেল টেকনিশিয়ান (ল্যাব), উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ (রেজিওলজি ও ইমাজিং) মোট ৩৭টি পদ সম্পূর্ণ ফাঁকা রয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসক সংকটের এমন ভঙ্গুর দশায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় লোকজন ও রোগীরা। সরেজমিনে দেখা যায়, অপারেশন না হওয়ায় ওটি কক্ষটি বন্ধ রয়েছে। একজন কর্মচারীর মাধ্যমে কক্ষটির তালা খোলা হলে ভেতরে দেখা যায় দীর্ঘদিন ধরে অপারেশন ব্যবস্থা চালু না থাকায় যন্ত্রপাতিগুলো প্রায় অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। এছাড়াও প্রায় নষ্ট হওয়ার পথে আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, এক্স-রে মেশিন, ইসিজি মেশিন, সেন্ট্রিফিউজ মেশিন, মাইক্রোপিপেট, মাইক্রোস্কোপ মেশিনসহ গুরুত্বপূর্ণ অধিকাংশ মেশিন। যদিও এসব যন্ত্রপাতি দেওয়ার বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে। কুচাইপট্টি এলাকার ষাটোর্ধ্ব নজরুল ঢালী সম্প্রতি নারিকেল গাছ থেকে পড়ে গিয়ে একটি পা ভেঙে গেছে। আর্থিকভাবে সচ্ছল না হওয়ায় প্রথমেই শরণাপন্ন হন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। পরবর্তীতে জানতে পারেন এখানে পা ভাঙার অপারেশন হয় না। পরবর্তীতে তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে মোটা অংকের টাকা খরচ করে অপারেশনটি সম্পন্ন করেন। উপজেলা হাসপাতালে গুরুত্বপূর্ণ এমন চিকিৎসা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা চরের মানুষ। কামলা দিয়া খাই। পড়শীর নারিকেল পাড়তে উঠে গাছ থেকে পড়ে পা ভেঙে যায়। পোলারে নিয়া হাসপাতালে আইছিলাম চিকিৎসা করাতে। পোলায় খোঁজ নিয়া কইলো এইখানে অপারেশনের ডাক্তার নাই। পরে একটা ক্লিনিক থেকে বেশি টাকা দিয়া অপারেশন করাইছি। আমরা গরিব মানুষ, চাইলেও দূরে যাইতে পারি না। যদি আমাদের এই হাসপাতালে সব ধরনের ডাক্তার থাকতো আমরা চরের মানুষজন ভালোভাবে চিকিৎসা নিতে পারতাম। স্থানীয় বাসিন্দা সৈকত টেপার ক্ষোভও হাসপাতালে চিকিৎসক না থাকা নিয়ে। তিনি বলেন, আমাদের গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনেক রোগের চিকিৎসক নেই। বিশেষ করে গাইনি চিকিৎসক না থাকায় গর্ভবতী মা ও শিশুর মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে গেছে। কয়েকদিন আগেও হাসপাতালে সিজার না হওয়ায় বাইরের একটি ক্লিনিক থেকে সিজারের সময় বাচ্চাটা মারা গেছে। মায়ের অবস্থা খারাপ হওয়ায় সদর হাসপাতালে পাঠাতে হয়েছে। আমাদের এই উপজেলা থেকে জেলা শহরের দূরত্ব অন্যান্য উপজেলার চাইতে বেশি। তাই চাইলেই সব সময় রোগী শহরে নেওয়া সম্ভব হয় না। আমরা চাই এই উপজেলাটিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা সেবা চালু করা হোক। সেফালী বেগম নামের এক রোগী বলেন, আমার বাচ্চাকে কুকুরের কামড় দিয়েছে, তাই এখানে নিয়ে এসেছি। এসে জানতে পারি এখানে কোনো কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন নেই। তারা আমাকে সদরে নিয়ে যেতে বললো। সদরে যেতে আমাকে বেশি টাকা খরচ করতে হবে। আমরা চাই এখানে কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করা হোক। এ ব্যাপারে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমান মিঞা বলেন, আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট রয়েছে। হাসপাতালে অন্যান্য স্টাফের পদ শূন্য থাকায় এখানে চিকিৎসাসেবায় ব্যাঘাতও ঘটছে। গাইনি চিকিৎসক, সার্জারি চিকিৎসক ও অ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসক না থাকায় অপারেশন বন্ধ রয়েছে। তাছাড়া কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিনও এখানে সরবরাহ করা হয় না। আমরা চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি চেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। আমি মনে করি খুব দ্রুত এই শূন্য পদগুলো পূরণ করা খুবই জরুরি।

News আগস্ট ১৭, ২০২৬ 0
জীবননগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবলসংকট, স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত
জীবননগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবলসংকট, স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

  চরম জনবল সংকটের মুখে পড়েছে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৩১ শয্যার এই হাসপাতালটি ২০১২ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও গত এক যুগেও ৫০ শয্যার নতুন ভবনটি উদ্বোধন করা হয়নি। পাশাপাশি বাড়ানো হয়নি প্রয়োজনীয় জনবলও। এর মধ্যেই আবার হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৩১ জন চিকিৎসকের স্থলে বর্তমানে ১৩ জন চিকিৎসক কর্মরত থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে চিকিৎসকের মারাত্মক সংকট রয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদ—জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি) ও জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন)—এর দুই চিকিৎসক দীর্ঘ দিন ধরে প্রেষণে (ডেপুটেশনে) পছন্দের হাসপাতাল ঢাকায় কর্মরত রয়েছেন। ফলে জীবননগর হাসপাতালের অপারেশন কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। শুধু চিকিৎসকরাই নন, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরাও প্রেষণে অন্য হাসপাতালে চলে গেছেন। ২১ জন কর্মচারীর মধ্যে ৮ জনই প্রেষণ নিয়েছেন। ফলে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাসহ স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে। চিকিৎসক ও কর্মচারীরা প্রেষণে অন্যত্রে কর্মরত থাকলেও খাতা-কলমে তাঁদের জীবননগর হাসপাতালেই পদায়ন দেখানো হচ্ছে। এ কারণে এসব শূন্য পদে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জীবননগর ও মহেশপুর উপজেলার একটি বৃহৎ অংশের প্রায় ৩ লক্ষাধিক মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে চরমভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অভিযোগ, সামান্য সমস্যা নিয়ে এলেই বলা হয় ‘ডাক্তার নেই’। এই অজুহাতে রোগীদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল অথবা যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। হাসপাতালে তীব্র শয্যাসংকট থাকায় অনেক রোগীকে বাধ্য হয়ে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এর ওপর হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন ও প্রথম অ্যাম্বুলেন্সটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। ফলে দরিদ্র রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে বাইরে থেকে এক্স-রে ও অন্যান্য পরীক্ষা করাতে হচ্ছে, যা তাঁদের জন্য বড় আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা হাজী আশাবুল হক বলেন, “মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ডেপুটেশন বাতিল করে দ্রুত সব শূন্যপদে চিকিৎসক ও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হোক। একই সঙ্গে ওটিসহ বিকল এক্স-রে মেশিনটি সচল করে হাসপাতালের নতুন ভবন দ্রুত চালু করা প্রয়োজন।” এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. ফাহমিদা সুলতানা রুনা বলেন, “আমি সম্প্রতি এই হাসপাতালে যোগদান করেছি। হাসপাতালের সব সমস্যার সমাধানের জন্য ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

News আগস্ট ১৬, ২০২৬ 0
সরকারি হাসপাতালে ৫২% রোগনির্ণয় যন্ত্র থেকেও নেই
সরকারি হাসপাতালে ৫২% রোগনির্ণয় যন্ত্র থেকেও নেই

  সরকারি হাসপাতালে এক্স-রে, আলট্রাসনোগ্রামের মতো রোগনির্ণয়ের (রেডিও ইমেজিং) যন্ত্র থাকলেও সেগুলো নিয়মিত সেবা দিতে পারছে না। জেলা হাসপাতালগুলোতে এমন সেবার প্রাপ্যতা ৮৫ শতাংশ হলেও এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত এক বছরে নিয়মিত সেবা চালু ছিল মাত্র ৩৩ শতাংশ। জেলা, উপজেলা ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মিলিয়ে ২২টি সরকারি স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানের চিত্র বলছে, রোগনির্ণয় যন্ত্রের ৫২ শতাংশই গত এক বছরে ব্যবহৃতই হয়নি। অন্যদিকে এসব হাসপাতালে জরুরি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের মজুতও কম থাকে। গবেষণাটি করেছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি)। গতকাল বুধবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য-ব্যবস্থার ঘাটতি নিরসন: সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার উপযোগী সেবা নিশ্চিত করতে ব্যয়দক্ষতার একটি দ্রুত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক ওই গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। সাত সদস্যের গবেষক দলের নেতৃত্ব দেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান। এই গবেষণায় অর্থায়ন করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট। ২০৩০ সালের মধ্যে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনের লক্ষ্য বাংলাদেশের। এই প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের অর্থ কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং কোথায় কী সমস্যা রয়েছে, তা জানতে গবেষণাটি করা হয়। ৯ মাসব্যাপী দেশের আট বিভাগের ২২টি সরকারি স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানে জরিপ, সাক্ষাৎকার ও নথি পর্যালোচনার মাধ্যমে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। এতে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে প্রাইমারি, জেলা হাসপাতালগুলোকে সেকেন্ডারি এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে টারশিয়ারি লেভেলে ধরা হয়েছে। টারশিয়ারি লেভেলের মধ্যে একটি বিশেষায়িত হাসপাতালও আছে। নমুনা কম হওয়ায় গবেষণার সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেছেন গবেষকেরা। স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতির একটি বড় জায়গা চিকিৎসা যন্ত্রপাতি কেনা ও ব্যবহার। অনেক সময় প্রয়োজন না থাকলেও যন্ত্র কেনা হয়। আবার যন্ত্র নষ্ট হলে নানা অজুহাতে ঠিক সময়ে সেগুলো মেরামত করা হয় না। বিভিন্ন সময়ে করা সরকারের স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান জরিপে সারা দেশের সর্বস্তরের হাসপাতালে অকেজো ও নষ্ট যন্ত্রপাতির একটি চিত্র পাওয়া যায়। তার সঙ্গে পিপিআরসির এই গবেষণার কিছুটা মিল আছে। পিপিআরসির গবেষণায় বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য খাতের সাফল্য শুধু বাজেট বরাদ্দ দিয়ে মূল্যায়ন করলে চলবে না; বরং প্রতিষ্ঠানগুলো তা প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয় করতে পারছে কি না এবং সেই ব্যয় নাগরিকদের জন্য ওষুধ, রোগনির্ণয় সেবা, সচল যন্ত্রপাতি, দক্ষ জনবল ও নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাসেবায় রূপান্তরিত হচ্ছে কি না, সেটিই হওয়া উচিত মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, পরিকল্পনার অভাবে অনেক দামি চিকিৎসা যন্ত্রপাতি বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে আছে। অনেক হাসপাতালে এক্স-রে ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি থাকলেও সেগুলো চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় টেকনোলজিস্ট নেই। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের কেনাকাটায় দুর্নীতির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পরিকল্পনা ছাড়া কেনাকাটা এবং দুর্বল বাস্তবায়নের কারণে জনগণের অর্থের অপচয় হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের সমস্যার সমাধানে শুধু নীতিমালা বা গবেষণার সুপারিশ যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন না করে চিকিৎসকেরা যদি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার করেন, রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সেখানে পাঠান এবং কমিশন নেন, তাহলে যত গবেষণা বা পরামর্শই দেওয়া হোক, মানুষের জন্য ভালো স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হবে। যন্ত্র আছে, সেবা নেই গবেষণাকালে দেখা গেছে, সব পর্যায়ের হাসপাতালে রোগনির্ণয় যন্ত্রের সেবা পাওয়ার হার ৬৫ শতাংশ। তবে বাস্তবে গত এক বছরে নিয়মিত এমন সেবা পাওয়া গেছে ২৫ শতাংশ। জেলা হাসপাতালগুলোতে কাগজে-কলমে এমন সেবার প্রাপ্যতা সবচেয়ে বেশি, ৮৫ শতাংশ। কিন্তু গত এক বছরে মানুষ নিয়মিত সেবা পেয়েছে ৩৩ শতাংশ। গবেষণার সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগনির্ণয় যন্ত্রের সেবার প্রাপ্যতা ৪৬ শতাংশ হলেও এক বছরে মানুষ নিয়মিত সেবা পেয়েছে ১৭ শতাংশ। একই সময়ের হিসাবে মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালে এমন সেবার প্রাপ্যতা ছিল ৫৪ শতাংশ। এক বছরের হিসাবে ছিল ২৫ শতাংশ। সেবা না পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান কারণ হিসেবে গবেষণায় উঠে এসেছে যন্ত্রপাতি অকেজো থাকা। এসব হাসপাতালের ৭৯ শতাংশ ক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি অকেজো ছিল। এ ছাড়া অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে ১৪ শতাংশ এবং প্রশিক্ষিত টেকনোলজিস্টের অনুপস্থিতির কারণে ৭ শতাংশ সেবা ব্যাহত হচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের অনুমোদিত ৬ হাজার ৪০৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩ হাজার ৮৯২ জন। অর্থাৎ প্রায় ৪০ শতাংশ পদ শূন্য। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শূন্য পদের হার ২৭ শতাংশ, জেলা হাসপাতালে ১২ শতাংশ এবং মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালে ৩৬ শতাংশ। ফলে অনেক হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলেও সেগুলো পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মী নেই। অকেজো বা নষ্ট যন্ত্রপাতি নিয়ে মাঝেমধ্যে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হয়। ২০২৩ সালে ২২ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনে ঢাকার তিনটি প্রধান হাসপাতালের নষ্ট যন্ত্রপাতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। তাতে বলা হয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল এবং স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে ২৩৮টি যন্ত্র নষ্ট ছিল, যেগুলোর আনুমানিক মূল্য ছিল প্রায় ১০০ কোটি টাকা। একই বছর ১৪ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোর আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছোট-বড় ৫৩৭টি যন্ত্র নষ্ট। সরকারি হাসপাতালে যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকার কারণে মানুষ সেবাবঞ্চিত হয়। এতে কষ্ট বাড়ে দরিদ্র মানুষের। গবেষণায় বলা হয়েছে, সরকারি হাসপাতালগুলোতে সরবরাহ হওয়া বেশির ভাগ ওষুধ আসে সরকারি প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) থেকে। তবে প্রয়োজন মেটাতে ৩৩ শতাংশ ওষুধ ইডিসিএলের বাইরে অন্য উৎস থেকে কিনতে হচ্ছে। জরুরি ওষুধের ঘাটতি গবেষণায় দেখা গেছে, সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় ওষুধের বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে। সেখানে প্রয়োজনের তুলনায় ওষুধের মজুত মাত্র ১২ শতাংশ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ হার ২৩ শতাংশ এবং জেলা হাসপাতালে ২৪ শতাংশ। গত এক বছরের হিসাবেও প্রায় একই চিত্র দেখা গেছে। সব মিলিয়ে সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রাপ্যতা গড়ে ২২ শতাংশ। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, সরকারি হাসপাতালগুলোতে সরবরাহ হওয়া বেশির ভাগ ওষুধ আসে সরকারি প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) থেকে। তবে প্রয়োজন মেটাতে ৩৩ শতাংশ ওষুধ ইডিসিএলের বাইরে অন্য উৎস থেকে কিনতে হচ্ছে। আরও ৫ শতাংশ ওষুধ আসে অন্যান্য উৎস থেকে। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় সরবরাহে ঘাটতি থাকায় হাসপাতালগুলোকে নিয়মিত বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অন্যদিকে গজ, তুলা, সিরিঞ্জ ও গ্লাভসের মতো নিয়মিত ব্যবহারের সরঞ্জাম বেশির ভাগ হাসপাতালেই রয়েছে। তবে জরুরি চিকিৎসার অনেক গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম নেই। প্রায় ৬৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে টুর্নিকেট, ৫৫ শতাংশে ব্যাগ-ভাল্‌ভ-মাস্ক (রিসাসিটেটর) এবং ৪১ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে নবজাতকের নাভির ক্ল্যাম্প পাওয়া যায়নি। গবেষকেরা বলছেন, এসব সরঞ্জাম জরুরি ও নবজাতকের চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ল্যাব পরীক্ষার সেবায় বৈষম্য গবেষণায় দেখা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা হাসপাতালগুলোতে ল্যাব পরীক্ষার সেবা তুলনামূলক ভালো। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় ল্যাব পরীক্ষার ৮৩ শতাংশ এবং জেলা হাসপাতালে ৯১ শতাংশ সেবা পাওয়া যায়। গত এক বছরেও এসব প্রতিষ্ঠানে ৮১ থেকে ৮৯ শতাংশ সেবা নিয়মিত চালু ছিল। তবে মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে চিত্র ভিন্ন। সেখানে ল্যাব পরীক্ষার প্রাপ্যতা এবং সারা বছর সেবা চালু থাকার হার নেমে এসেছে ৪৩ থেকে ৪৫ শতাংশে। গবেষণায় বলা হয়েছে, রিএজেন্টের ঘাটতি, যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকা এবং প্রশিক্ষিত মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের অভাবে অনেক পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। ৪৩ শতাংশ ক্ষেত্রে রিএজেন্টের ঘাটতির কারণে সেবা ব্যাহত হচ্ছে। ৩৪ শতাংশের কারণ অকেজো যন্ত্রপাতি এবং ১৯ শতাংশের কারণ দক্ষ জনবলের অভাব। বাজেট পুরোটা খরচ করতে পারছে না গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জরিপে অন্তর্ভুক্ত সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মোট বাজেটের ৮৫ শতাংশ ব্যয় করেছে। এর মধ্যে জেলা হাসপাতালগুলোতে বাজেট ব্যয়ের হার সবচেয়ে কম, ৭৮ শতাংশ। অর্থবছর শেষে ৯৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের বাজেটের কিছু অর্থ অব্যয়িত থেকে গেছে। তবে মাত্র ১১ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এটিকে আর্থিক অব্যবস্থাপনার সমস্যা বলে মনে করেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, সাধারণ সরঞ্জাম কেনার জন্য বরাদ্দ অর্থের মাত্র ২৭ শতাংশ খরচ হয়েছে। ভ্রমণ ও স্থানান্তর খাতে ব্যয়ের হার ছিল ৬৮ শতাংশ এবং পেশাগত সেবা ও সম্মানী খাতে ৫৯ শতাংশ। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, স্বাস্থ্য খাতের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকলেও এর কার্যকর ব্যবহার কম। গত দুই বছরে ৮৪ দশমিক ২ শতাংশ কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। তাঁদের মাত্র ৪০ শতাংশ অর্জিত জ্ঞান কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করছেন। সুপারিশ অনুষ্ঠানে গবেষণার ফল তুলে ধরে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নয়; বরং বরাদ্দের অর্থকে কার্যকর স্বাস্থ্যসেবায় রূপান্তর করার সক্ষমতা গড়ে তোলাই জরুরি। তিনি বলেন, এ জন্য স্বল্প মেয়াদে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ, বাজেট ব্যয়ের খাতভিত্তিক বিশ্লেষণ বাধ্যতামূলক করা, বাজেট ও সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থা চালু এবং সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়া আরও সহজ ও নমনীয় করা প্রয়োজন। মধ্য মেয়াদে হাসপাতাল পরিচালনায় পেশাদার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলা এবং আর্থিক ক্ষমতা আরও বিকেন্দ্রীকরণের সুপারিশ করেন হোসেন জিল্লুর রহমান। আর দীর্ঘ মেয়াদে এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) আধুনিকায়ন, কাঁচামালের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং কেন্দ্রীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাগারের (সিএমএসডি) বিতরণব্যবস্থা আরও কার্যকর করার পরামর্শ দেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক মো. এনামুল হক। এতে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের পরিচালক মোহাম্মদ কবির উদ্দীন প্রমুখ।

News জুলাই ৩০, ২০২৬ 0
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা না বাড়াতে পারলে জাতিকে বাঁচানো সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা না বাড়াতে পারলে জাতিকে বাঁচানো সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

  রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে না পারলে জাতিকে সুস্থ রাখা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেছেন, চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান—নিপসমের অডিটোরিয়ামে গবেষণা কার্যক্রমের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গবেষণা শুধু কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। গবেষণার ফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে মানুষের রোগ শনাক্ত ও প্রতিরোধে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, শিশুদের অপুষ্টির কারণে নানা ধরনের রোগ বাড়ছে। অনেক শিশু পর্যাপ্ত মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি ফাস্টফুডের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা পুষ্টিহীন প্রজন্ম তৈরির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। চিকিৎসা পেশাকে অত্যন্ত সম্মানজনক উল্লেখ করে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল চিকিৎসকদের প্রতি রোগীদের প্রতি আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে মানবিক সেবা নিশ্চিত করাই একজন চিকিৎসকের প্রধান দায়িত্ব। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, স্বাস্থ্য খাতের বাজেট প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে এবং গবেষণা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে।

News জুলাই ৩০, ২০২৬ 0
হাসপাতালে দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
হাসপাতালে দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

  সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীদের প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার (২৯ জুলাই) ‘বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ঘাটতি নিরসন: সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার উপযোগী সেবা নিশ্চিত করতে ব্যয়দক্ষতার একটি দ্রুত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীদের প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার (২৯ জুলাই) ‘বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ঘাটতি নিরসন: সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার উপযোগী সেবা নিশ্চিত করতে ব্যয়দক্ষতার একটি দ্রুত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। গবেষণাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট। মন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করে বাইরে ব্যক্তিগত ক্লিনিকে রোগী পাঠানো, কমিশনের বিনিময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো এবং সরকারি দায়িত্বে অবহেলার মতো অনিয়ম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এসব কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির আওতায় আনা হবে। স্বাস্থ্য খাতে সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, অতীতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ছাড়াই ব্যয়বহুল চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হয়েছে, যার অনেকগুলো এখন অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। টেন্ডার প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে অনেক সময় অযৌক্তিক শর্ত যুক্ত করা হয়, যা প্রতিযোগিতা সীমিত করে। এ ধরনের অনিয়ম দূর করতে সরকার কাজ করছে। মন্ত্রী আরও জানান, দেশের শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আরও এক লাখের বেশি শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনা হয়েছে। ডায়ালাইসিস সেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তা আর নবায়ন করা হবে না। সরকার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ডায়ালাইসিস মেশিন সংগ্রহ করবে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি কম খরচে সাধারণ মানুষ ডায়ালাইসিস সেবা পাবেন। একই সঙ্গে প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যার এবং প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. এনামুল হকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

News জুলাই ২৯, ২০২৬ 0
২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সন্ধান, তদন্তের দাবিতে হাইকোর্টে রিট
২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সন্ধান, তদন্তের দাবিতে হাইকোর্টে রিট

  দেশে বিক্রি হওয়া প্রতি চারটি টুথপেস্টের মধ্যে তিনটিতেই মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (এসডো) বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে রিট দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে এই আইনজীবী বলেন, প্রাথমিকভাবে এই ঘটনার তদন্ত চান তিনি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে পণ্যগুলো বাজার থেকে প্রত্যাহারের আবেদন করবেন। এর আগে রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর লালমাটিয়ায় এসডোর প্রধান কার্যালয়ে দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ১৯ ব্র্যান্ডের ৩৪ টুথপেস্ট নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী একটি সমন্বিত গবেষণা পরিচালনা করে এই সংস্থা। গবেষণায় ভোক্তা জরিপ, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা এবং নিয়ন্ত্রক ও বৈজ্ঞানিক বিশেষজ্ঞদের সাক্ষাৎকার অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেন বাস্তব পরিস্থিতি ও নীতিগত চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে মূল্যায়ন করা যায়। মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বড় উদ্বেগের বিষয়। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি প্রমাণিত হয়েছে। তবে বাংলাদেশে এ ধরনের বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন এই প্রথম, যা ভবিষ্যতে নিরাপদ টুথপেস্ট নিশ্চিত করতে মানদণ্ড নির্ধারণ, নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। টুথপেস্ট ব্যবহারের অভ্যাস এবং মাইক্রোপ্লাস্টিক সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা জানতে এই গবেষণায় দেশের বিভিন্ন এলাকার ২ হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার ওপর জরিপ চালানো হয়। পাশাপাশি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ‘এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি (ইএইচই)’ ল্যাবরেটরিতে ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি স্টিরিওমাইক্রোস্কোপি ও ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কোপি ব্যবহার করে পরীক্ষা করা হয়। গবেষণায় পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। বাকি ৮টিতে কোনও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষা করা টুথপেস্টগুলো বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত। চারটি দেশের উৎপাদিত টুথপেস্টেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতে, ভারতের ৫টির মধ্যে একটিতে, থাইল্যান্ডের ২টির মধ্যে একটিতে এবং ভিয়েতনামের ২টির দুটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। একটি টুথপেস্টে প্রতি ১০০ গ্রামে সর্বোচ্চ ৩২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা মিলেছে।বাংলাদেশ সংবাদ দেশে তৈরি ও আমদানি করা উভয় ধরনের টুথপেস্টেই মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলেছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, শিশুদের জন্য বিক্রি হওয়া ৬টি টুথপেস্টের মধ্যে ৪টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এসব টুথপেস্টে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ১৪০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। বাকি ২টি নমুনায় কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, পরীক্ষা করা কোনও টুথপেস্টের মোড়ক বা লেবেলে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা কৃত্রিম পলিমার ব্যবহারের তথ্য উল্লেখ ছিল না। ফলে ভোক্তারা যেমন জানতে পারছেন না তারা কী ব্যবহার করছেন, তেমনই নিয়ন্ত্রক সংস্থার জন্যও এসব পণ্য কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।  

News জুলাই ২৭, ২০২৬ 0
হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য ভুগছেন নিরাপত্তাহীনতায়
হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য ভুগছেন নিরাপত্তাহীনতায়

  নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এক আনসার সদস্য। উপজেলার একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের এক নারী হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের স্বামীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডার জেরে বারবার প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি।  ভুক্তভোগী আনসার সদস্য সোহানুর ইসলাম গত ১ জুলাই থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। জানা গেছে, গত রোববার (১২ জুলাই) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহিঃবিভাগে দায়িত্ব পালনকালে রোগী ও যানবাহনের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে গেটের সামনে রাখা মোটরসাইকেল নির্ধারিত স্থানে সরিয়ে রাখতে বলেন সোহানুর ইসলাম। এ সময় বজরাপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার জাহানারা খাতুনের স্বামী মো. আলাউদ্দিন নিজেকে হাসপাতালের স্টাফ পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে তিনি আনসার সদস্যকে মারতে উদ্যত হলে উপস্থিত হাসপাতাল কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সোহানুর ইসলামের অভিযোগ করে বলেন, ওই দিন বিকেলে আলাউদ্দিন হাসপাতালে এসে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধরের হুমকি দেন। বিষয়টি তিনি প্লাটুন কমান্ডার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান। সোমবার সকালে ফের হাসপাতালে ঢুকে আলাউদ্দিন আনসার সদস্য সোহানকে মারধরের হুমকি দেন। মঙ্গলবার দুই সহযোগীকে নিয়ে আনসার ক্যাম্পে গিয়ে তাকে আবারও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং হাসপাতালের বাইরে ডেকে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সোহানুর ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। দায়িত্ব পালন ছাড়া ক্যাম্প থেকে বের হচ্ছি না। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। সমাধানের আশ্বাস পেলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা হয়নি। বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আনসার প্লাটুন কমান্ডার আনিসুর রহমান বলেন, রোববার এক আনসার সদস্যের সঙ্গে একজনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। পরে ওই ব্যক্তি বারবার হুমকি দেওয়ায় বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বাগাতিপাড়া উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, আনসার সদস্য সোহানুর ইসলাম বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। বিষয়টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও জেলা কমান্ডারকে জানানো হয়েছে। হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেলা পর্যায়ের সভায় থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বজরাপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার জাহানারা খাতুনের স্বামী মো. আলাউদ্দিন। তিনি বলেন, সাবাই গেটের সামনে গাড়ি রাখলেও আমাকে ওই আনসার সদস্য বাধা দেয়। পরে আমাকে বেয়াদব বলে। দুপুরে আমি গিয়ে দেখি আবারও ওখানে অনেক গাড়ি রাখা। মঙ্গলবার সকালে আমার এক বন্ধুর সঙ্গে হাসপাতালে গিয়ে ভেতরে ঢুকে দেখি আনসার ক্যাম্প। তবে রোববারের পর ওই আনসার সদস্যের সঙ্গে আর কোনো কথা হয়নি। আমাকে ট্র্যাপে ফেলতে সে আমার নামে অপপ্রচার করছে। বজরাপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ্ কেয়ার প্রোভাইডার জাহানারা খাতুন বলেন, আনসার সদস্যই প্রথমে আমার স্বামীর সঙ্গে বেয়াদবি করেন। পরে আমার স্বামীও উত্তেজিত হয়ে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈকত মো. রেজওয়ানুল হক দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আজকে বসার কথা রয়েছে। আমি একটি মিটিংয়ে আছি। বের হয়ে এবিষয়ে কথা বলব। নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

News জুলাই ১৫, ২০২৬ 0
১ আগস্ট থেকে দেওয়া হবে টাইফয়েডের টিকা, পাবে যারা
১ আগস্ট থেকে দেওয়া হবে টাইফয়েডের টিকা, পাবে যারা

  দেশের শিশুদের টাইফয়েড জ্বরের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জাতীয় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) ১৫ মাস বয়সী শিশুদের জন্য এক ডোজ টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। আগামী ১ আগস্ট থেকে এই টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে।  এ লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়ে দেশের সব বিভাগীয় পরিচালক, সিভিল সার্জন, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের কাছে নির্দেশনা পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) শাখা থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় সোমবার (১৩ জুলাই) এ তথ্য জানানো হয়। নির্দেশনায় বলা হয়, ২০২৫ সালে জাতীয় টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়নের পর জাতীয় টিকাদান কারিগরি পরামর্শক কমিটির সুপারিশ এবং আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে এই টিকা অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৫ মাস বয়সী সব শিশুকে ইপিআইয়ের স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে এক ডোজ টিসিভি প্রদান করা হবে। একই সেশনে এমআর-২ (গজ-২) টিকার সঙ্গে এই টিকা একযোগে দেওয়া যাবে। মাঠকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে লক্ষ্যমাত্রাভুক্ত শিশু শনাক্ত, টিকার চাহিদা নির্ধারণ এবং নির্ধারিত সেশনে টিকাদান নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিশুদের ভ্যাক্স : ইপিআই অ্যাপে নিবন্ধন, টিকা কার্ড ডাউনলোড এবং টিকা প্রদানের পর স্মার্ট হেলথ্ বিডি/ই ট্র্যাকার অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য হালনাগাদের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের সমন্বয় সভার মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন সহজীকরণের ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনায় নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়মিত কর্মসূচিতে ৫ ডোজের ভায়াল ব্যবহার করা হবে এবং ভ্যাকসিন ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ ও পরিবহন করতে হবে। মাল্টিডোজ ভায়াল নীতিমালা অনুসরণ করে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে খোলা ভায়াল পরবর্তী সেশনেও ব্যবহার করা যাবে, যাতে ভ্যাকসিনের অপচয় কমানো সম্ভব হয়। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, ধর্মীয় ও কমিউনিটি নেতাদের সম্পৃক্ত করে বাড়ি বাড়ি যোগাযোগ, মাইকিং, উঠান বৈঠক এবং আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগ কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে অভিভাবকদের মধ্যে টাইফয়েড টিকা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, দেশের শিশুদের টাইফয়েড জ্বর থেকে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।

News জুলাই ১৪, ২০২৬ 0
দেশের ১৯২ নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে সেবা সম্প্রসারণ হবে: মন্ত্রী
দেশের ১৯২ নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে সেবা সম্প্রসারণ হবে: মন্ত্রী

  প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সরকার দেশের ১৯২টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ফাইল ছবি বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে নগর এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ তথ্য জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা না করেই নগরবাসী যেন সহজে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পায় সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এতে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া আরও সহজ হবে।   দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা চালু করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ৫০ শয্যা ও জেলা হাসপাতালগুলোতেও ডায়ালাইসিস সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।   তিনি বলেন, নতুন অবকাঠামো, ভবন ও বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে যাতে দেশের কোনো গ্রাম চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না থাকে। চিকিৎসার অভাবে যেন কোনো মানুষের প্রাণহানি না ঘটে, সে লক্ষ্যেই স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।  

News জুলাই ৯, ২০২৬ 0
আমাদের দেশে উৎপাদিত ওষুধ উচ্চমানের: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আমাদের দেশে উৎপাদিত ওষুধ উচ্চমানের: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

  স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আমাদের দেশে উৎপাদিত ওষুধের মান কোনো অংশেই কম নয়। বেশিরভাগ ওষুধই অত্যন্ত উচ্চমানের এবং এগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। সেখানকার রোগীরা এসব ওষুধ ব্যবহার করে সন্তুষ্ট। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে উদ্যোক্তা হওয়ার পথ’ শীর্ষক আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরে গ্রামপর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার। আর এটিই প্রধানমন্ত্রীর মূল স্লোগান। আমরা শুধু মুখে বলছি না, এটি বাস্তবায়নও করতে যাচ্ছি। তিনি বলেন, চলতি মাস থেকে নতুন বাজেট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এ কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই এটির পর্যবেক্ষণ করছেন। একই অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সরকার উৎসাহিত করছে, এবারের বাজেটেও আমরা তাদের চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ করার জন্য প্রচুর সুযোগ–সুবিধা ও প্রণোদনা দিয়েছি। বাংলাদেশে দক্ষ উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে। উপযুক্ত পরিবেশ আর সঠিক নীতিমালা পেলে তারাও বিশ্বে অন্যতম সেরাটা দেখাতে পারেন। এই সবকিছুর পেছনে দিনশেষে নেতৃত্বই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলেও জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, আমাদের একজন নেতা আছেন, যিনি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন আমাদের পথ দেখাচ্ছেন। আমরা এখন সপ্তাহের সাত দিনই কাজ করছি। আমরা জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি এবং তা পূরণ করবে সরকার।

News জুলাই ৭, ২০২৬ 0
দেশের স্বাস্থ্য খাত বছরের পর বছর অবহেলার মুখোমুখি হয়েছে : জুবাইদা রহমান
দেশের স্বাস্থ্য খাত বছরের পর বছর অবহেলার মুখোমুখি হয়েছে : জুবাইদা রহমান

  বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত বছরের পর বছর ধরে অবহেলা এবং জবাবদিহিতার অভাবের মুখোমুখি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষকে তাদের স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৭২ শতাংশ নিজেদের পকেট থেকে দিতে হয়। এর ফলে অসুস্থতা দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গুলশানের এক হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। জুবাইদা রহমান বলেন, ‘অসংক্রামক রোগ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, এর ফলে আমাদের দেশের মানুষ দ্রুত বার্ধক্যের দিকে যাচ্ছে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নতুন নতুন ঝুঁকির সৃষ্টি হচ্ছে এবং নগরায়ন মানুষের জীবনযাপন, কাজ ও সেবা গ্রহণের পদ্ধতিকে বদলে দিচ্ছে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, অর্থমন্ত্রী আমির খসরুসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

News জুলাই ৭, ২০২৬ 0
রোগীকে ১৯০ গ্রাম মাংসের জায়গায় দেওয়া হচ্ছে ৪০, হাতেনাতে ধরলেন এমপি
রোগীকে ১৯০ গ্রাম মাংসের জায়গায় দেওয়া হচ্ছে ৪০, হাতেনাতে ধরলেন এমপি

  গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের খাবার সরবরাহসহ নানা বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে গাইবান্ধা–২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম, রোগীদের জন্য পরিবেশন করা মাংসের ওজন পরীক্ষা করে গুরুতর অসঙ্গতি দেখতে পান। হাসপাতালের নির্ধারিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী, একজন রোগীর জন্য দুপুরে ১৯০ গ্রাম (ব্রয়লার) মাংস দেওয়ার কথা। কিন্তু সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে ওজন করে দেখা যায়, মাংসের পরিমাণ মাত্র ২৫ থেকে ৪০ গ্রাম। এ ঘটনায় হাসপাতালের সেবার মান ও রোগীদের খাবারের গুণগত মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। হাসপাতাল সড়কের স্থানীয় বাসিন্দা সুজন মিয়া বলেন, ‘ঠিকাদার শাহাদাৎ আওয়ামী লীগের আমলে একক আধিপত্য বিস্তার করে হাসপাতালের সব কেনাকাটা করতো। ওই সময় তিনি দুটি কাজ করতেন। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সুজন বিভিন্ন ঠিকাদারের কাজের দায়িত্বসহ ৯টি কাজ করছেন। নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করে এই ব্যক্তি এখন কোটি টাকার মালিক। গাইবান্ধাবাসী দীর্ঘদিনের এ জুলুম ও অত্যাচারের হাত থেকে নিস্তার চায়।’ এ ব্যাপারে জানতে চাইলে খাদ্য সরবরাহকারী শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘আমি ঠিকাদার না। ঠিকাদার বাহিরের।’ কোন জায়গার ঠিকাদার এবং নাম কী জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘বাহিরের ঠিকাদার, আমি জড়িত আছি। বাদ দাও তো ভাই।‘ গাইবান্ধা–২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম হাসপাতালের খাবারসহ ঠিকাদারের শাস্তির বিষয়ে বলেন, ‘রোগীদের জন্য সরকার যে বরাদ্দ দিয়েছে, তা যেন কোনোভাবেই আত্মসাৎ না হয়। রোগীদের প্রাপ্য খাবার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতাল একটি পাবলিক প্রতিষ্ঠান। এখানে কারো এককভাবে কাজ পাওয়ার সুযোগ নেই। এ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আমিও অনেক অভিযোগ শুনেছি। এসব বিষয় নিয়ে সংসদে কথা বলেছি। আর অনিয়ম যাতে না হয়, সেজন্য আমি নিয়মিত হাসপাতাল পরিদর্শনে আসবো  

News জুলাই ৬, ২০২৬ 0
শনিবারের মধ্যে সব হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারি রুম স্থাপন না করলে লাইসেন্স বাতিল
শনিবারের মধ্যে সব হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারি রুম স্থাপন না করলে লাইসেন্স বাতিল

  দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালকে আগামী শনিবারের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে নরমাল ডেলিভারি অর্থাৎ লেবার রুম স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। আজ সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীতে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। GeographicReference ‎স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের একটি শ্রেণী অতিমাত্রায় মুনাফাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। মানুষের কল্যাণ বা দেশের স্বার্থের চেয়ে অর্থ উপার্জনই তাদের প্রধান লক্ষ্য। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তিনি বলেন, একসময় দেশে অধিকাংশ সন্তান জন্ম হতো স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে। গ্রামাঞ্চলে অভিজ্ঞ দাইয়ের সহায়তায় নিরাপদে সন্তান প্রসবের দীর্ঘ ঐতিহ্য ছিল। এখন স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ঘটলেও স্বাভাবিক প্রসবের পরিবর্তে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ানের প্রবণতা বেড়েছে। মন্ত্রী বলেন, গর্ভাবস্থার শুরুতে নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অনেক ক্ষেত্রে দালালচক্র ও কিছু চিকিৎসাকেন্দ্র পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন জটিলতার ভয় দেখায়। ‘অপারেশন না করলে মা কিংবা সন্তান বাঁচবে না’ এমন আশঙ্কা তৈরি করে সিজারিয়ানের সিদ্ধান্তে বাধ্য করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই মা ও সন্তানের জীবন নিয়ে ঝুঁকি নিতে না চাওয়ায় পরিবারগুলো চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে নেয়। চিকিৎসকরা মানুষের কাছে আল্লাহর পর সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা। তাই চিকিৎসা পেশায় নৈতিকতার বিষয়টি আরও শক্তিশালীভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। ‎স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুর পুষ্টির বিষয়ে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। শিশুর জীবনের শুরু থেকেই যথাযথ পুষ্টি নিশ্চিত করা জরুরি। অপুষ্টি, অল্প বয়সে বিয়ে এবং মায়েদের দুর্বল স্বাস্থ্য শিশুদের নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অনেক শিশুই চরম অপুষ্টিতে ভুগছে। একই সঙ্গে অনেক মায়ের শরীরেও পর্যাপ্ত পুষ্টি নেই। ফলে নবজাতকের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ‎এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মিডওয়াইফদের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি এলাকায় দক্ষ মিডওয়াইফের সেবা নিশ্চিত করতে হবে। এটি শুধু কর্মসংস্থানের বিষয় নয়; বরং জাতির স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়। ‎তিনি জানান, চলতি বছর স্বাস্থ্যখাতে এক লাখ নতুন কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার নারী নিয়োগ দেওয়া হবে এবং তাদের বড় অংশই মিডওয়াইফ হিসেবে কাজ করবেন, যাতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত মাতৃস্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া যায়। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, আগামী শনিবারের মধ্যে দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিকে লেবার রুম স্থাপন করতে হবে। কোনো ক্লিনিক এ নির্দেশনা না মানলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে। সব বেসরকারি ক্লিনিকে মিডওয়াইফ নিয়োগ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে গর্ভবতী নারীরা স্থানীয় পর্যায়ে পরামর্শ পাবেন এবং স্বাভাবিক প্রসবে উৎসাহিত হবেন। ‎তিনি বলেন, ভয়ভীতি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা গ্রহণে মানুষকে বাধ্য করার সংস্কৃতি থেকে দেশকে বের করে আনতে হবে। মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুর স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা ছাড়া একটি সুস্থ, সমৃদ্ধ ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব নয়। ‎অনুষ্ঠানের শেষদিকে মিডওয়াইফদের সংগঠন গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের সংগঠন মাতৃস্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ‎কর্মশালায় জানানো হয়, ৪০টা নরমাল ডেলিভারি পরে একজন ধাত্রী রেজিষ্ট্রেশন পান। প্রতি বছর মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে ৫৮০০ ধাত্রী দক্ষ হয়ে উঠেন। কিন্তু স্বাস্থ্য খাতে তাদের কাজের সুযোগ না থাকায় এ সকল ধাত্রীদের সিংহভাগই ঝরে পড়েন। এর মধ্যে প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে বছরে শুধুমাত্র ৫০০ ধাত্রী কাজ করার সুযোগ পেলেও বাকীরা সাধারণ নার্স হিসাবে কাজ করেন। এতে শিশু জন্মের সময় দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পায়। কর্মশালায় বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটির (বিএমএস) সভাপতি রোজিনা খাতুন, সাধারণ সম্পাদক হাসনা আখতার ও বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার হালিমা আখতার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

News জুলাই ৬, ২০২৬ 0
বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের জন্য অধিদফতরের জরুরি নির্দেশনা
বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের জন্য অধিদফতরের জরুরি নির্দেশনা

  দেশের সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে জেলা পর্যায়ে কঠোর মনিটরিংয়ের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।  একই সঙ্গে প্রতি মাসে চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার সংগ্রহ, আকস্মিক পরিদর্শন এবং অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রশাসন শাখা থেকে গত বুধবার (১ জুলাই) জারি করা এক নির্দেশনায় দেশের সব সিভিল সার্জনের কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, চিকিৎসাসেবার গুণগত মান বজায় রাখতে প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে শয্যা সংখ্যার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োজিত রাখা বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ প্রতি ১০টি শয্যার বিপরীতে অন্তত একজন মেডিকেল অফিসারের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে সিভিল সার্জনদের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, প্রতি মাসে জেলার সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার সংগ্রহ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চিকিৎসকদের নাম, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)-র নিবন্ধন নম্বর ও মোবাইল নম্বরসহ তথ্য সংগ্রহ, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই এবং আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনা। এ ছাড়া কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসক উপস্থিত না থাকলে কিংবা ভুয়া বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করা হলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, জেলা পর্যায়ের মনিটরিং কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ প্রতিবেদন প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠাতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনা দেশের সব সিভিল সার্জনের কাছে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিবন্ধিত চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত হলে রোগীরা আরও নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাবেন। একই সঙ্গে কাগজে-কলমে চিকিৎসক দেখিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা বা চিকিৎসক সংকট গোপনের মতো অনিয়মও কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

News জুলাই ৫, ২০২৬ 0
ক্যানসার, কিডনিসহ ৬ ধরনের রোগীকে আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার
ক্যানসার, কিডনিসহ ৬ ধরনের রোগীকে আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার

  দেশের অবহেলিত, সুবিধাবঞ্চিত ও গুরুতর অসুস্থ জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে নতুন অর্থবছরে বড় ধরনের বিশেষ কর্মসূচি ও উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। এর অংশ হিসেবে নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, থ্যালাসেমিয়া ও হৃদরোগে আক্রান্ত—এই ৬ ধরনের মারাত্মক রোগে আক্রান্ত রোগীদের বিশেষ আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করবে সরকার।  ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ ও উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের এক আনুষ্ঠানিক বিবরণী থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এ ছাড়া সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অন্তর্গত ১২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে সরকার।  প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, দেশের সামাজিক সুরক্ষা বলয়কে আরও শক্তিশালী করতে ১২টি উল্লেখযোগ্য কার্যাবলি, প্রকল্প ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো দেশব্যাপী ‘ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি’ এবং প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য ‘বয়স্ক ভাতা কার্যক্রম’ পরিচালনা করা।  একই সঙ্গে অসহায় নারীদের সহায়তায় ‘বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা কার্যক্রম’ এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর জন্য ‘প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম’ জোরদার করা হবে। অবহেলিত শিশুদের সুরক্ষায় ‘বেসরকারি এতিমখানায় আর্থিক সহায়তা’ প্রদানের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ‘সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম’ পরিচালনা করবে সরকার।  পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য ‘অনগ্রসর জনগোষ্ঠীসমূহের জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম’ এবং বধির ও শ্রবণপ্রতিবন্ধীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট কার্যক্রম’ বাস্তবায়ন করা হবে। দেশের সকল প্রতিবন্ধী মানুষের সঠিক পরিসংখ্যান ও অধিকার নিশ্চিত করতে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র প্রদান এবং জাতীয় তথ্য ভাণ্ডার তৈরি’র বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  এর পাশাপাশি অটিজমে আক্রান্তদের কল্যাণে ‘অটিজম ও এনডিডি সেবাদান কেন্দ্র (২য় সংশোধিত) প্রকল্প’ এবং দেশের সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর আধুনিকায়নে ‘স্ট্রেন্দেনিং সোশ্যাল প্রটেকশন ফর ইম্প্রুভড রেজিলিয়েন্স ইনক্লুশন অ্যান্ড টার্গেটিং (এসএসপিআইআরআইটি) প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করা হবে।   জানা যায়, নতুন অর্থবছরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সামগ্রিক পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ৩০,৪৪২,৬৬,০০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই বরাদ্দের মধ্যে নিয়মিত পরিচালন খাতে ১৫,১৭৪,৭৬,০০ হাজার টাকা এবং সরাসরি উন্নয়ন খাতে ১৫,২৬৭,৯০,০০ হাজার টাকা ব্যয় করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

News জুন ২২, ২০২৬ 0
ভারতে এলো নতুন ইনজেকশন, মাত্র ৭ মিনিটে হবে ক্যানসার চিকিৎসা
ভারতে এলো নতুন ইনজেকশন, মাত্র ৭ মিনিটে হবে ক্যানসার চিকিৎসা

ফুসফুসের ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে ভারত। দেশটিতে প্রথমবারের মতো মাত্র সাত মিনিটে প্রয়োগযোগ্য একটি ইমিউনোথেরাপি ইনজেকশন বাজারে আনা হয়েছে, যা ক্যানসার চিকিৎসাকে আরও দ্রুত ও সহজ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্যমতে, রোশ ফার্মা ইন্ডিয়া ‘টেসেন্ট্রিক’ নামের এই নতুন ওষুধটি বাজারে এনেছে। বর্তমানে ক্যানসারের ইমিউনোথেরাপি সাধারণত শিরায় (আইভি) ইনফিউশনের মাধ্যমে দেওয়া হয়, যেখানে রোগীদের হাসপাতালে কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করতে হয়। তবে নতুন এই ইনজেকশন সরাসরি ত্বকের নিচে প্রয়োগ করা যায় এবং পুরো প্রক্রিয়ায় সময় লাগে মাত্র সাত মিনিট। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে রোগীদের ভোগান্তি যেমন কমবে, তেমনি হাসপাতালের ওপর চাপও হ্রাস পাবে। বিশেষ করে বয়স্ক রোগী এবং দূরবর্তী এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা ব্যক্তিরা এ পদ্ধতিতে বেশি সুবিধা পাবেন এই চিকিৎসা মূলত নন–স্মল সেল লাং ক্যানসার (এনএসসিএলসি) রোগীদের জন্য ব্যবহার করা হবে, যা ভারতে ফুসফুসের ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ ধরন। নতুন ইনজেকশনে ব্যবহৃত হয়েছে অ্যাটেজোলিজুমাব নামের একটি ওষুধ। এটি শরীরের ‘পিডি–এল১’ নামের একটি প্রোটিনকে ব্লক করে দেয়। সাধারণত ক্যানসার কোষ এই প্রোটিন ব্যবহার করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেয়। প্রোটিনটি নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলে শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ কোষ ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, যেসব রোগীর টিউমারে পিডি–এল১–এর মাত্রা বেশি, তাদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা সবচেয়ে কার্যকর। প্রায় অর্ধেক এনএসসিএলসি রোগী এই থেরাপির উপযুক্ত হতে পারেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রচলিত কেমোথেরাপির তুলনায় ইমিউনোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম। কারণ কেমোথেরাপি সুস্থ কোষকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে, যেখানে ইমিউনোথেরাপি শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে ক্যানসারের বিরুদ্ধে কাজ করে। তবে চিকিৎসা পদ্ধতিটি যতটা আধুনিক, এর খরচও ততটাই বেশি। ইনজেকশনটির প্রতি ডোজের মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার রুপি। একজন রোগীর সাধারণত ছয়টি ডোজ প্রয়োজন হয়, ফলে পুরো চিকিৎসার ব্যয় কয়েক লাখ রুপিতে পৌঁছাতে পারে। এ কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই চিকিৎসা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা। খরচ কমাতে রোশ ফার্মা ‘ব্লু ট্রি’ নামে একটি সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। পাশাপাশি এটি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্প কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য প্রকল্পের (সিজিএইচএস)-এর আওতায়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারপরও বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত ক্যানসার চিকিৎসা সাধারণ মানুষের নাগালে আনতে সরকারি সহায়তা ও কম খরচের বিকল্প ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি

News মে ১৮, ২০২৬ 0
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বড় রূপান্তর: ‘স্বাস্থ্য–খাত সংস্কার’ ও শরীরে ‘পাখি–ফ্লু’ আঘাত

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবাখাতে যুগান্তকারী সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, নতুন উপদ্রুত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ‘পাখি–ফ্লু’র প্রথম প্রাদুর্ভাব। একদিকে প্রতিরোধমূলক আইন নিয়ে চলেছে বড় আলোচনা, অন্যদিকে জীবাণুমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই এখন জোরদার চ্যালেঞ্জ। স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের বড় ধাপ স্বাস্থ্য ক্ষেত্র সংস্কার কমিশন একটি ঐতিহাসিক রিপোর্ট উপস্থাপন করেছে, যেখানে প্রস্তাব রাখা হয়েছে: প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ‘সবার জন্য বিনামূল্যে’ নিশ্চিত করতে সাংবিধানিক অধিকার ঘোষণার দাবি । স্বতন্ত্র ও স্থায়ী ‘বাংলাদেশ স্বাস্থ্য কমিশন’ গঠনের পরামর্শ, যা জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির পরামর্শদাতা ও মান–নিয়ন্ত্রক সংস্থা হবে । তবে, বাজেট বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের স্পষ্ট পথিকা এখনও তৈরি হয়নি—স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ও আন্তঃমন্ত্রণালয় যৌথ কমিটি জরুরি । এ ছাড়াও, কমিশন ১৫% জাতীয় বাজেট স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ, আর রোগ–নিয়ন্ত্রণ ও ঔষধ ও মানবশক্তি বিষয়ে বিশেষ পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে । পাখি–ফ্লু: দেশে ৭ বছর পর প্রথম আঘাত জেসোর জেলার একটি পোল্ট্রি খামারে ‘হাইলি প্যাথোজেনিক অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা’ (HPAI) শনাক্ত হয়েছে — ৩,৯৭৮টি মুরগির মধ্যে ১,৯০০টি মারা যায়, বাকি বাদী করা হয়েছে । এটি পড়ে আদালতকারি ভ্যাকসিনেশন, খামার পর্যবেক্ষণ ও জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি হয়েছে। পরিবেশগত এবং আর্থ–সামাজিক হুমকি দূষণজনিত রোগ: ঢাকা শহরের বায়ুমণ্ডল সাম্প্রতিক হারে “হাজার্ডাস” পর্যায়ে পৌঁছয়, যা সাধারণ মানুষ ও হাঁপানির রোগীদের জন্য বিপজ্জনক—অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আইন–সচেতনার জন্য আবেদন জানিয়েছেন । চিকিৎসা ব্যবস্থার ঝুঁকি: উঁচু রক্তচাপ ও NCD–এর কারণে মৃত্যুর হার বেড়ে ৭১%, কিন্তু তিনি শুধু ৪.২% বাজেট বরাদ্দ পাওয়া নিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ । কী বলা হলো এক নজরে? বিষয় অবস্থা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বিনামূল্যে ঘোষণা, আইনকে সাংবিধানিক অধিকার বাংলাদেশ স্বাস্থ্য কমিশন গঠন প্রস্তাব বাজেট বরাদ্দ ১৫% দাবি প্রতিষ্ঠিত রোডম্যাপ এখনও অপেক্ষায় পাখি–ফ্লু প্রথম প্রাদুর্ভাব, ১,৯০০ মুরগি মারা গিয়েছে পরিবেশমূলক স্বাস্থ্যচ্যালেঞ্জ দূষণ ভয়াবহ, NCD–সংক্রান্ত মৃত্যুহার ও উদ্বেগ বিশ্লেষণ স্বাস্থ্য খাতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের উদ্যোগ সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয়। প্রাথমিক স্বাস্থ্য সবার নাগাল নিশ্চিত না হলে বড় পরিকল্পনার সফলতা অনিশ্চিত। ‘স্বাস্থ্য–কমিশন’ গঠন ও বাজেটে বড় পরিবর্তন আনা গেলে জাতীয় স্বাস্থ্য মানে দীর্ঘমেয়াদি লাভ হবে। তবে অপরদিকে, নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব ও দূষণের মতো অপ্রত্যাশিত হুমকি মোকাবিলার জন্য দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একাধিক স্তরে প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ না দিলে জনগণের নিরাপদ–সেবা পাওয়া ঝুঁকির সম্মুখীন। বাংলাদেশ স্বাস্থ্যখাতে বড় পরিবর্তনের মুখে, তবে বাস্তবায়ন ও সময়ানুবর্তী পন্থা নিশ্চিত না হলে সব প্রচেষ্টা বৃথা। সরকারের উচিত দ্রুত রোডম্যাপ প্রকাশ করে জনগণের বিশ্বাস অর্জন করা।

Mahidujjaman Tamim জুন ২৮, ২০২৫ 0
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

Top week

জ্বালানির অভাবে দুটি জেনারেটর অচল, গরমে রোগীদের হাঁসফাঁস
রাজনীতি

জ্বালানির অভাবে দুটি জেনারেটর অচল, গরমে রোগীদের হাঁসফাঁস

News আগস্ট ১৬, ২০২৬ 0