তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই চূড়ান্ত করা হবে এবং আগামী জানুয়ারি মাস থেকে শ্রমিকেরা বর্ধিত হারে বেতন পাবেন। নিম্নতর মজুরি বোর্ডের প্রথম সভায় মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মজুরি বোর্ড কার্যালয়ে বোর্ডের প্রথম সভা শুরু হয়। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চলা সভা শেষে সাংবাদিকদের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। নিম্নতর মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং পিরোজপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দ আজাদ সুবহানী জানান, আমাদের চিন্তাভাবনা শ্রমিকদের পক্ষেই। শ্রমজীবীদের পক্ষেই আলোচনা হচ্ছে এবং অচিরেই তাদের জন্য সুখবর মিলবে। আগামী সপ্তাহে বোর্ডের দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে শ্রমিকদের দাবি করা নতুন মজুরির পক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন ও বিশ্লেষণ করা হবে। প্রথম সভা শেষে মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধি—উভয় পক্ষই আন্দোলনরত শ্রমিকদের কাজে ফেরার ও রাজপথের আন্দোলন প্রত্যাহারের আহবান জানিয়েছেন। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি এ বি এম শামসুদ্দিন বলেন, যারা রাস্তায় আন্দোলন করছেন, তাদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই আলোচনা চলছে। তাই আন্দোলন ছেড়ে কাজে ফেরা উচিত। অন্যদিকে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার জানান, বিভিন্ন কারখানায় এখনও বকেয়া বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ কাজ করছে। এই কারণে পুরো পোশাকখাতেই যেন নতুন মজুরি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, সে বিষয়ে বোর্ডে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানান তিনি। তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের চলমান অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে গত এক নভেম্বর ছয় সদস্যের নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। আজ নতুন বোর্ডের প্রথম সভাতেই ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি চূড়ান্ত করার এই সিদ্ধান্ত এলো।
তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা চলছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বোর্ডের কার্যালয়ে এ সভা শুরু হয়। সভাটি বুধবার বিকেল ৩টায় হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে সময় পরিবর্তন করা হয়। গত ১ নভেম্বর তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে ৬ সদস্যের ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ গঠন করে সরকার। সেদিন সকালে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন মজুরি বোর্ডের ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। প্রথমে মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) করা হয়েছিল শেখ আশফাকুর রহমান। আজ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) পদে বদলি করা হয়। একই আদেশে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান করা হয়েছে জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ আজাদ সুবহানীকে। তবে আশফাকুর রহমানকে সরানোর কোনো কারণ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি। বোর্ডের বাকি সদস্যরা হলেন, মালিকপক্ষের প্রতিনিধি বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামছুদ্দিন ও বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব। অন্যদিকে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের (বিজিআইডাব্লিউএফ) সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার। এ ছাড়া বোর্ডে নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। এই বোর্ড সব পদে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির সুপারিশ করবে। বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা ও গেজেট হিসেবে প্রকাশ করবে সরকার। শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের মজুরি বৃদ্ধির দাবি এবং সাম্প্রতিক আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এ বোর্ড গঠন করা হয়। বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকেরা মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও কর্মবিরতি পালন করছেন। ঢাকা, গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এতে কয়েকটি কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত ও কারখানা বন্ধ রাখার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে পোশাকশ্রমিকদের সর্বশেষ নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। ২০২৩ সালের নভেম্বরে এই মজুরি নির্ধারণ করা হয়, যা ওই বছরের ডিসেম্বরে কার্যকর হয়। সংশোধিত শ্রম আইন অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর পরপর মজুরি বোর্ড গঠনের বিধান রয়েছে।
আধুনিক, সমন্বিত ও প্রযুক্তিভিত্তিক নিরাপদ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা সুসংহত করতে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকায় হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের মেঘনা হলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ইমিগ্রেশন ও বর্ডার গভর্নেন্স সংক্রান্ত আইওএম কৌশলগত রূপরেখা (২০২৭-২০৩১)’ শীর্ষক ব্রিফিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বহির্বিশ্বের সঙ্গে যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সংযুক্ত। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক যাতায়াত ও বাণিজ্য সহজতর করার পাশাপাশি সীমান্ত অতিক্রমকারী ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সীমান্ত পরিচালনায় জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈধ ভ্রমণ ও বাণিজ্যকে গতিশীল করতে হবে। সরকার গৃহীত জাতীয় সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কৌশল ২০২৬-২০৩১ এবং পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন রূপরেখা ২০২৬-২০৩১-এর কথা তিনি জানিয়েছেন। তিনি জানান, ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার, কাগজবিহীন প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সরকারি সেবাগুলোর মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা বৃদ্ধিই বর্তমান সরকারের মূল অগ্রাধিকার। ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নীতি ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে আমাদের বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্টগুলোর কার্যক্রমগত সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে কেবল প্রযুক্তিনির্ভর না করে মানবিক অধিকার ও সুরক্ষার প্রতি সংবেদনশীল এবং পেশাদার মানদণ্ডে উন্নীত করতে হবে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের কথা উল্লখে করে তিনি বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কোনো একক সংস্থার দায়িত্ব নয়; এর জন্য সব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দফতর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ প্রয়াস প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইওএম-এর প্রস্তাবিত ২০২৭–২০৩১ মেয়াদের কৌশলগত রূপরেখাকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের সীমান্ত কাঠামো গঠনে তাদের সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। ব্রিফিং অনুষ্ঠানে আইওএম বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ড. লরা টম বন্ডে বলেন, অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ এরইমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ভবিষ্যতে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কারিগরি দক্ষতা ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে আইওএম সহযোগিতা করতে আগ্রহী। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসান এবং উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং এবং ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোসহ বিভিন্ন অংশীদার সংস্থার প্রতিনিধিরা আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
বহিরাগতরা বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার আশুলিয়ার সরকার মার্কেটে নেক্সট কালেকশন লিমিটেড পোশাক কারখানায় হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে।এই হামলার সময় কয়েকজন বহিরাগত মুখোশ ও হেলমেট পরে হাতে লাঠি নিয়ে কারখানার ভেতরে প্রবেশ করে। তারা কারখানার ভাঙচুর চালায় এবং এক নিরাপত্তাকর্মীর মাথায় আঘাত করে।হামলায় আহত নিরাপত্তাকর্মীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। কারখানার নির্বাহী পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন জানান, হামলার পর শ্রমিকরা কারখানা ছুটি ঘোষণার পর বের হয়ে যান।তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।কারখানাটিতে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। সিসি ক্যামেরা ও একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিশেষ স্মারক ডাক টিকেট অবমুক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে প্রধানমন্ত্রী এই স্মারক ডাক টিকেট অবমুক্ত করেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি। তিনি বলেন, ‘ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাক টিকেট ও একটি উদ্বোধনী খাম অবমুক্ত করেন।’ এ সময়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, সচিব মো. কামরুজ্জামান ও ডাক অধিদফতরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও প্রধানমন্ত্রীর সহকারি একান্ত সচিব-২ মেহেদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং। বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দেন লিউ হাইশিং। জবাবে প্রধানমন্ত্রীও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও দেশটির প্রিমিয়ার (প্রধানমন্ত্রী) লি ছিয়াংকে শুভেচ্ছা জানান। লিউ হাইশিং বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরের সময় দুই দেশের ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি নতুন যুগের যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেই ঘোষণার আলোকে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। লিউ হাইশিং বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের প্রতি চীনের অঙ্গীকার অপরিবর্তিত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের সম্ভাবনার প্রতিও আস্থা প্রকাশ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের জনগণের হৃদয়ে এ সম্পর্কের বিশেষ স্থান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ঐতিহাসিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা এগিয়ে নেওয়া এখন তাঁদের দায়িত্ব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন প্রজন্মের হাত ধরে দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার এ ঐতিহ্য আরও এগিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়, যা পরবর্তী সময়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। কৃষির উন্নয়ন অবদান রাখে। বর্তমান সরকারও ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে, যা কৃষক ও সাধারণ মানুষের উপকারে আসবে সেই সাথে জীববৈচিত্র ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে৷ চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও বিএনপির মধ্যে দলীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন উভয় পক্ষ। লিউ হাইশিং বলেন, দুই দলের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে চীন আগ্রহী। এ সময় তিনি বিএনপির মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান। বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি Regional Comprehensive Economic Partnership—(RCEP) এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রতি চীনের সমর্থনের কথা জানান লিউ হাইশিং। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৩ লাখ রোহিঙ্গার দীর্ঘদিনের উপস্থিতির কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি, সমাজ, জনমিতি ও পরিবেশের ওপর সৃষ্ট চাপের বিষয়টি তুলে ধরেন। এ সংকট সমাধানে চীনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। জবাবে লিউ হাইশিং বলেন, চীন রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কে অবগত রয়েছে। তিনি এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগের কথা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে অবহিত করবেন। বৈঠকে চীনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দুই দেশের রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। সাক্ষাৎকালে বিএনপির বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান,ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, এমপি এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ২ শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউয়িন, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক পেং শিউবিন এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের পরাজয়ের দায়িত্ব দলের ভেতরের কিছু সদস্য এবং ফক্স নিউজের ওপর আরোপ করেছেন। তিনি ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে বেশ কিছু পোস্টের মাধ্যমে নির্বাচনে প্রার্থীদের বিজয় ও পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।ট্রাম্প টেক্সাস রাজ্যের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের সমালোচনা করেছেন। তার দাবি, গ্রেগ অ্যাবট তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শেষ ছয় মাসে ‘আরআইএনও’ না হলে পরাজিত হতেন না। ‘আরআইএনও’ শব্দটির পূর্ণরূপ হলো ‘রিপাবলিকান ইন নেম অনলি’।”তিনি ‘ভেটো’ শব্দ লেখা একটি লাল টুপির ছবি শেয়ার করেছেন, যা ইঙ্গিত দেয় যে ডেমোক্র্যাটদের কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ থাকলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করা যেতে পারে।ট্রাম্প ফক্স নিউজের সমালোচনা করেছেন এবং নিউইয়র্কের সাবেক ডেমোক্র্যাট মেয়র বিল ডি ব্লাসিওকে তাদের রাজনৈতিক বিশ্লেষক দলে রাখার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার অভিযোগ, ফক্স নিউজ ডেমোক্র্যাটদের বিরোধিতা করে এবং বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে নির্বাচনের পরাজয়ের জন্য দায়ী।নির্বাচনের পর ট্রাম্পের এই মন্তব্য দলের অভ্যন্তরীণ মতবৈচিত্র্য এবং মিডিয়ার সাথে তার সম্পর্কের বিষয়ে আলোচনা জাগিয়ে তুলেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার সকালে সচিবালয়ে তার দপ্তরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে একটি স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেছেন।এই স্মারক ডাকটিকিটের মূল্য ১০ টাকা। এছাড়াও, একটি উদ্বোধনী খামও উন্মোচন করা হয়েছে।অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, ডাক, টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, সচিব মো. কামরুজ্জামান, ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ মেহেদুল ইসলামও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জমিতে ইঁদুর মেরার জন্য বিদ্যুতিক ফাঁদে জড়িয়ে ৬৫ বছরের সায়দুর রহমান মৃত্যুবরণ করেছেন। সোমবার সকালে শিমুলকান্দি ইউনিয়নের ভূঁইয়া বাড়ি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।সায়দুর রহমান শিমুলকান্দি ইউনিয়নের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের স্বামী। তিনি মফিজুল ইসলামের ছেলে এবং তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।জানা গেছে, সায়দুর রহমান জমিতে ইঁদুর উপদ্রব সহ্য করতে না পেরে নিজেই বিদ্যুতিক ফাঁদ গুঢ়িয়েছিলেন। সকালে সেই ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনি আহত হন।পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটি কিছুক্ষণ পরে বুঝতে পারেন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।শিমুলকান্দি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, সায়দুর রহমান ভোরে জমিতে গিয়ে ইঁদুর মারার জন্য ফাঁদ গুঢ়িয়েছিলেন।ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং নিহতের পরিবারের সঙ্গে আইনগত প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
২০২৬ সালের ৪ নভেম্বর, সকাল ৭টা ৩৮ মিনিটে কল্যাণপুরে, দিয়াবাড়ী মিরপুর বেড়িবাঁধে একটি যাত্রীবাহী বাস এবং সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।এই দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে দুজন পুরুষ এবং দুজন নারী রয়েছে।ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে ৭টা ৩৮ মিনিটে পৌঁছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত মরদেহ শাহ আলী থানার উপপরিদর্শক আরিফুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।ঘটনার বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অক্টোবর ২০২৬ সালে বাংলাদেশে অন্তত ৭০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে ১২ জনের মৃত্যু এবং ৩৩৪ জন আহত হয়েছে।বিএনপির মধ্যে ৩৫টি অভ্যন্তরীণ ঘটনার ফলে ৯ জনের মৃত্যু এবং ১৮৫ জন আহত হয়েছে। এছাড়াও, ৩৩টি গণপিটুনির ঘটনায় ২২ জনের মৃত্যু এবং ২০ জন আহত হয়েছে।এছাড়া, নির্বাচন সংক্রান্ত সহিংসতার ৬টি ঘটনা ৩৫ জনকে আহত করেছে এবং ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।সেপ্টেম্বর মাসে ৬৮টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যু এবং ৫২৭ জন আহত হয়েছে।এই সময়ে, ২৫,১৬৫ জনকে আটক করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৮৪ জন আওয়ামী লীগ, ৮১ জন বিএনপি, ২৭ জন জামায়াত-ই-ইসলামি এবং ১৮ জন উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য রয়েছেন।নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হয়েছে, এবং ১৯ জন বন্দী কারাগারে মারা গেছে।প্রতিবেদনটিতে সাংবাদিকদের উপর ২৮টি নির্যাতনের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, যার ফলে ৪৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছেন।
ফিলিস্তিনি-আমেরিকান রাজনীতিক রাশিদা তালিব যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের পঞ্চম মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি মিশিগানের টুয়েলভথ কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হন। রাশিদা তালিব রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী জেমস হুপার এবং গ্রিন পার্টির প্রার্থী ব্রেন্ডা স্যান্ডার্সকে পরাজিত করেছেন। তিনি ইতিহাসে প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নারী কংগ্রেস সদস্যদের একজন। রাশিদা তালিব ২০১৮ সালে ইলহান ওমরের সঙ্গে প্রথমবার কংগ্রেসে নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে একমাত্র ফিলিস্তিনি-আমেরিকান সদস্য। রাশিদা তালিবের জন্ম ১৯৭৬ সালের ২৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটে। তার মা-বাবা ফিলিস্তিনি অভিবাসী ছিলেন। তিনি ১৪ ভাইবোনের মধ্যে সবার বড়। তিনি ডেট্রয়েটের ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০০৮ সালে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় নির্বাচিত হয়ে মিশিগান আইনসভার প্রথম মুসলিম নারী সদস্য হন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট পার্টি প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ডেমোক্র্যাটরা অন্তত ২১৮টি আসন জয়ী হতে যাচ্ছে, যেখানে রিপাবলিকানরা ১৬০টি আসন পেতে পারে।সোমবার স্থানীয় সময়ে নির্বাচনের ফলাফল ও মিডিয়া পূর্বাভাস প্রকাশিত হলে দেখা যায়, ডেমোক্র্যাটরা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। চার বছরের অনুপস্থিতির পর তারা আবারও প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে চলেছে।প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণের জন্য ২১৮টি আসন প্রয়োজন। CBS নিউজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা এই সীমা পূরণ করতে সক্ষম হচ্ছে।এদিকে, সেনেটের নিয়ন্ত্রণ এখনও অনিশ্চিত। ডেমোক্র্যাটদের অন্তত চারটি অতিরিক্ত আসন জয়ী হতে হবে। রিপাবলিকানরা পূর্বে ৫৩টি আসন এবং ডেমোক্র্যাট ও স্বাধীনরা ৪৭টি আসন ধরে রেখেছিল।ডেমোক্র্যাটরা উত্তর ও দক্ষিণ ক্যারোলিনায় দুইটি গুরুত্বপূর্ণ সেনেট আসন জয় করেছে। উত্তর ক্যারোলিনায় প্রাক্তন গভর্নর রয় কুপার রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল ওয়াটলিকে পরাজিত করেছেন। দক্ষিণ ক্যারোলিনায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ তার প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছেন।নির্বাচনের মূল বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতি, জীবনযাত্রার খরচ, জ্বালানির দাম এবং ইরান সংঘাতের প্রভাব। প্রায় অর্ধেক ভোটার জানিয়েছেন, তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশের জন্য ভোট দিয়েছেন।সর্বমোট, ডেমোক্র্যাটদের এই অগ্রগতি ট্রাম্পের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে পূর্ণ কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণ এখনও বাকি সেনেট নির্বাচনের ফলাফলের উপর নির্ভর করছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিভিন্ন রাজ্যে ভোট গ্রহণ শেষে গণনা চলছে। ভোটের ফলাফল আসতে শুরু হয়েছে।প্রাথমিক ফলাফলের মতাবিক, ডেমোক্র্যাটিক পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যে অগ্রগতি করছে। কংগ্রেসের দুটি কক্ষ- প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট- উভয় কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের অগ্রগতি দেখাচ্ছে।সিনেটে ৩৫ আসনে ভোটের আসন হচ্ছে,其中 ২টি আসন শূন্য। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টা পর্যন্ত সর্বশেষ ফলাফলের মধ্যে দুটি আসনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি জয় পেয়েছে।প্রতিনিধি পরিষদে ৫ আসনে ডেমোক্র্যাটরা জয় পেয়েছে। এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির কোনো আসনে জয়লাভের খবর পাওয়া যায়নি।সিবিএস নিউজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাচ্ছে। পূর্বাভাসে ডেমোক্র্যাটরা অন্তত ২১৮টি এবং রিপাবলিকানরা অন্তত ১৬০টি আসন জয়ী হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে প্রাথমিক ভোট গণনা অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ বর্তমানে এগিয়ে আছেন। তিনি গণনা করা ভোটের ৫৪.৩ শতাংশ অর্জন করেছেন।রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। এতক্ষণে ১০ লাখ ৭২ হাজার ৬৪২টি ভোট গণনা হয়েছে, যা মোট ভোটের ২১.৭ শতাংশ।ভোট গণনা এখনো সমাপ্ত হয়নি, তাই কোনো বিজয়ী ঘোষণা করা হয়নি। প্রায় ৩৮ লাখ ৬২ হাজার ভোট এখনো গণনা বাকি রয়েছে।প্রাথমিক ফলাফলে আবদুল এল-সাইয়েদ ৫ লাখ ৮২ হাজার ৭৪৬ ভোট পেয়েছেন, এবং মাইক রজার্স ৪ লাখ ৭১ হাজার ৬৩৪ ভোট অর্জন করেছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী লিডিয়া ক্রিস্টেনসেন ৯ হাজার ৮৯১ ভোট পেয়েছেন।বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এল-সাইয়েদকে হারাতে মাইক রজার্সকে বাকি ভোটের কমপক্ষে ৫০.৬ শতাংশ প্রয়োজন।এই নির্বাচনে ৪৩৫টি প্রতিনিধি সভা আসন এবং ১০০টি সিনেট আসনের মধ্যে ৩৫টি আসনে ভোটদান হয়েছে। কংগ্রেসের দুটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ এই আসনগুলির ফলাফলে নির্ভর করবে।বর্তমানে প্রতিনিধি সভা এবং সিনেট দুটোই রিপাবলিকানদের অধীনে রয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা কমপক্ষে একটি কক্ষে অধিকাংশ আসন জয় করতে চান।ভোট গণনা শুরু হওয়ার সাথে সাথে প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ পাচ্ছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকায় গত এক বছরে বিভিন্ন যানবাহনে কমপক্ষে ২১টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১৭টি ডাকাতি উপজেলার পিরোজপুর এলাকায় মোজাফফর আলী ফাউন্ডেশনের পরিত্যক্ত এতিমখানার ৫০০ গজের মধ্যে ঘটেছে।স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রায় এক যুগ ধরে মহাসড়কের পাশের পরিত্যক্ত ভবনটি অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় ডাকাতির সরদারসহ প্রায় ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারির পর মহাসড়কে ডাকাতির সংখ্যা এবং পরিত্যক্ত ভবনে বাহিরের লোকের আনা-গমি প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।তবে গত দুই মাস ধরে ফের পরিত্যক্ত ভবনে মাদকসেবীদের আড্ডা বসছে এবং গভীর রাত পর্যন্ত বাহিরের লোকের আনা-গমি বাড়ছে। এলাকাবাসীরা আশঙ্কা করছেন, এর ফলে মহাসড়কের যানবাহন ছাড়াও এলাকার বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ অপরাধ বেড়ে যাবে।এ বিষয়ে পিরোজপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান অভিযোগ করেছেন, মহাসড়কের পাশে হওয়ায় ভবনটি ঘিরে ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। তিনি পুলিশকে একাধিকবার জানিয়েছেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।সোনারগাঁও থানার ওসি মুহম্মদ আব্দুল বারিক বলেছেন, পরিত্যক্ত ভবনে মাদকসেবীদের আনা-গমির তথ্যটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। তিনি জানান, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সফরের বিভিন্ন দিক এবং দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই সফরে দু-দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব, বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে জাপানি বিনিয়োগসহ বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম সাক্ষাৎকারের তথ্য জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের অধিকাংশ রাজ্যে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে আলাস্কায় ভোটগ্রহণ চলমান রয়েছে। স্থানীয় সময় অনুযায়ী ধীরে ধীরে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে এবং ভোট গণনা চলছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে ফলাফল আসতে শুরু করেছে।কানেকটিকাট, আলাবামা, ডেলাওয়ার, ইলিনয়, মেইন, মেরিল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটস, মিশিগান, মিসৌরি, নিউ জার্সি, ওকলাহোমা, পেনসিলভানিয়া, রোড আইল্যান্ড, সাউথ ডাকোটা, টেক্সাস, ওয়াশিংটন ডিসি, মিসিসিপি, কানসাস এবং টেনেসিতে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এরপর আরকানসাস, আইওয়া, লুইজিয়ানা, মিনেসোটা, নেব্রাস্কা, নিউ মেক্সিকো, নিউ ইয়র্ক, উইসকনসিন, ওয়াইয়োমিং, কলোরাডো ও অ্যারিজোনায় কিছুক্ষণ আগে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে।টেক্সাস, মিশিগান এবং মেইন রাজ্যের দিকে সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে। টেক্সাসে গত ৩০ বছর ধরে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটে যেতে পারেনি, তবে সাবেক স্কুল শিক্ষক জেমস টালারিকো সেই ইতিহাস পরিবর্তন করতে চান। তিনি ট্রাম্প-সমর্থিত রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন।মিশিগানে ডেমোক্র্যাট আবদুল এল-সাইদ ও রিপাবলিকান মাইক রজার্সের মধ্যে লড়াই জাতীয় মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। এল-সাইদের প্রাইমারির প্রতিদ্বন্দ্বী রজার্সকে সমর্থন জানিয়েছেন। মেইন রাজ্যের বর্তমান সিনেটর সুসান কলিন্স রিপাবলিকান দলের সদস্য, যিনি ট্রাম্পের অভিশংসনের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। তিনি ডেমোক্র্যাটদের প্রভাব থাকা এই রাজ্যে নিজের আসন ধরে রাখার লড়াই করছেন।এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোটগ্রহণ হয়েছে। এ ছাড়াও ৩৬টি রাজ্যে গভর্নর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর প্রথম ফলাফল আসতে শুরু করেছে। ভার্জিনিয়া রাজ্যের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মার্ক ওয়ার্নারকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে আলাস্কা, আইওয়া, কানসাস, মেইন, মিশিগান, ওহাইও, টেক্সাসের মতো রাজ্যের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর সব আসনের ফলাফল দ্রুত জানা যাবে এমন নয়। রাজ্যানুসার ভোট গণনার পদ্ধতি ও গতি ভিন্ন। কিছু জায়গায় ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অধিকাংশ ভোট গণনা হয়ে যায়, আবার কিছু জায়গায় ডাকযোগে পাঠানো ও আগাম ভোটের ব্যালট গণনা করতে বেশি সময় লাগে।
সোমবার দুপুর ২:৩০ টায় সিলেটের দারঘা গেট এলাকার একটি হোটেলে বিএনপির জেলা শাখার উদ্যোগে এক প্রেস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।এ সময় রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন যে, দেশের সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষের পিছনে পরাজিত রাজনৈতিক শক্তিগুলি রয়েছে। তিনি বলেন, শ্রমিকদের ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে এবং তাদেরকে রাস্তায় নামানো হচ্ছে, যা ওই পরাজিত শক্তির উসকানিতে ঘটছে।তিনি উল্লেখ করেন যে, রবিবার প্রতিবাদস্থলে ১১ জন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মী আটক হয়েছেন। আটককৃতদের একজন ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে উসকানির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।রিজভী জামায়াতের আমিরের মন্তব্যের সমালোচনা করেন, যেখানে বলা হয়েছে “আরেকটি বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে”, এবং তিনি সরকারের আট মাসের ক্ষমতার মেয়াদের কথা উল্লেখ করেন।তিনি সরকারের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও ব্যবসার সম্প্রসারণের উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং জানান, প্রধানমন্ত্রী বিদেশে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করছেন।রুহুল কবির রিজভী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে বলেন, স্থানীয় নেতারা উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচন করবেন এবং নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা হওয়ার পর এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে।
গত মঙ্গলবার সকাল ৯:৩০ টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে একটি লরির ধাক্কায় মিনিবাস উল্টে পড়ে মাইশা মুশফিরাত (২১) নিহত হন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন।দুর্ঘটনায় আরও দুজন ছাত্রী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মাইশা গত শুক্রবার তার জন্মদিন পালন করেছিলেন এবং ক্লাস শেষে মিরসরাই যাওয়ার জন্য সড়কপাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন।আইআইইউসি কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে এবং মঙ্গলবারের সকল ক্লাস স্থগিত ঘোষণা করেছে। শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেন ও রেলপথ অবরোধ করে প্রয়াণ করেছেন, যার ফলে ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে।অবরোধের কারণে ঢাকামুখী মহানগর এক্সপ্রেস ভাটিয়ারায় এবং চট্টগ্রামমুখী মহানগর প্রভাতী সীতাকুণ্ডে আটকে পড়েছে। সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর বিকেল ৪:৩০ টায় শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট শফিউল ইসলাম জানিয়েছেন, লরির ধাক্কায় মিনিবাস উল্টে পড়ে মাইশার ওপর চাপা পড়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি লরি ও একটি মিনিবাস জব্দ করেছে।বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করুক এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চালককে গ্রেফতার করুক।একই দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাস চাপায় যূথী আক্তার (২২) নিহত হয়েছেন, তাঁর স্বামী ও সন্তান আহত হয়েছেন। মৌলভীবাজারে প্রাইভেট কার ধাক্কায় তানভীর আহমদ (২১) নিহত হয়েছেন এবং নড়াইলে মাছবাহী পিকআপ ধাক্কায় আনোয়ার হোসেন (৫৫) নিহত হয়েছেন।
পুলিশ খুলনার রূপসা উপজেলার আঠারোবেকি নদীর তীর থেকে গুলিবিদ্ধ দুই যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রূপসা সরকারি কলেজের সামনের সিংহের চর এলাকা থেকে দুটি লাশ উদ্ধার করা হয়।নিহতদের পরিচয় মেহেদী হাসান সোহাগ (৩৫ বছর) ও রেজাউল করিম আলামিন (৩০ বছর) হিসেবে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা খুলনার বি কোম্পানি নামের গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন।পুলিশের অনুমান, দুজনকে গুলি করে মেরে তারপর নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। সোহাগের শরীরে চোখের পাশে এবং আলামিনের শরীরে থুতনির নিচ ও পিঠে গুলির দাগ পাওয়া গেছে।স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, সোহাগের পিতার নাম মো. আব্দুল্লাহ। আব্দুল্লাহ আগে জেলখানা ঘাটে নৌকা চালাতেন এবং পরে সোহাগ বি কোম্পানি গোষ্ঠীর সাথে জড়িত হন। আলামিনের পিতার নাম এবং বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।চশমাদর্শীদের কথা অনুযায়ী, রোববার সকালে নদীর সিংহের চর এলাকায় একটি লাশ ভাসতে দেখেন। পরে পানি কমে গেলে একই জায়গায় পাশাপাশি দুটি লাশ দেখতে পান।রূপসা থানার ওসি মাসুম খান জানিয়েছেন, দুটি লাশে একাধিক গুলির চিহ্ন আছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরো দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। সোহাগ ও আলামিনের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কিনা তদন্ত চলছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের প্রত্যাশা, সরকার উদ্যোগী হলে দেশটিতে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি ফোরাম (বিআরএএফ)। সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কাজে লাগাতে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের প্রত্যাশা সার্বিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রত্যাশা, দেশটিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তাঁদের মতে, বিদেশে কাজের সুযোগ যেন স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং চাকরিপ্রত্যাশীরা যেন প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও অনিশ্চয়তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নিয়োগকর্তার পরিচয়, কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন, চাকরির চুক্তি এবং ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সার্বিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করা হবে। এতে বাংলাদেশের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন দেশে কী ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন, কী কী নথি জমা দিতে হবে এবং ছাড়পত্র পেতে কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। তাঁদের প্রত্যাশা, বিএমইটি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা কমবে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত চাকরির শর্ত যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমন্বয়ই পারে বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকে আরও গতিশীল করতে। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার দাবি সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি সার্বীয় দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, শ্রমবাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের সহায়তা এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বাস্তব চাহিদা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ সংশ্লিষ্টদের সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের সম্ভাবনা যাচাই, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেবেন। একই সঙ্গে সার্বিয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন নতুন দেশে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধান, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য শ্রমিকের চাহিদা যাচাই, নিয়োগকর্তার সক্ষমতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি অনুমোদনের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার, বিএমইটি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বশীল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই—এই বিষয়গুলোতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ও জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের। মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।