অপরাধ

ইন্টারনেট প্রতারণা বেড়েছে ৬৫%: টার্গেটে তরুণরা

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
ইন্টারনেট প্রতারণা বেড়েছে ৬৫%: টার্গেটে তরুণরা
ইন্টারনেট প্রতারণা বেড়েছে ৬৫%: টার্গেটে তরুণরা

ইন্টারনেট প্রতারণা বেড়েছে ৬৫%: টার্গেটে তরুণরা

ডিজিটাল যুগে বসবাস আমাদের জীবনকে যেমন সহজ করে তুলেছে, তেমনি নতুন এক ধরনের অপরাধও নিয়ে এসেছে—ইন্টারনেটভিত্তিক প্রতারণা। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশে গত এক বছরে অনলাইন প্রতারণার হার বেড়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই প্রতারণার মূল লক্ষ্য এখন দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী

সাধারণত ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণরাই বেশি অনলাইন অ্যাকটিভ। তারা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক থেকে শুরু করে ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন শপিং, ওয়ার্ক ফ্রম হোম—বিভিন্ন কাজে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। আর এই সুযোগটিই নিচ্ছে প্রতারক চক্র।

প্রতারণার ধরন

বর্তমানে সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে ফেক অফার ও চাকরির বিজ্ঞাপন। “বাড়িতে বসে আয় করুন”, “বিনা মূল্যে আইফোন জিতুন” বা “মাত্র ৫০০ টাকায় বিদেশে চাকরি”—এমন প্রলোভনমূলক বিজ্ঞাপন দিয়ে অনেক তরুণকে ফাঁদে ফেলা হচ্ছে।

এছাড়া ভুয়া ওয়েবসাইট বা ফিশিং লিংক পাঠিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হচ্ছে। কেউ নিজের পরিচয় লুকিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে, পরে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায় করছে।

সবচেয়ে বেশি ভয়ংকর হচ্ছে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) ভিত্তিক প্রতারণা। অপরিচিত নম্বর থেকে “আপনার বিকাশ নম্বরে টাকা এসেছে”, “OTP বলুন”, বা “আপনার অ্যাকাউন্ট ব্লক হয়ে গেছে”—এই ধরনের মেসেজের মাধ্যমে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র।

কেন তরুণরাই টার্গেট?

তরুণরা প্রযুক্তিতে সক্রিয় হলেও অনেকেই নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন নয়। বিশ্বাস করে দ্রুত ফলাফল বা আয় পাওয়ার প্রতিশ্রুতি। অনেকে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি, ব্যাংক ডিটেইলস সহজেই শেয়ার করে ফেলে। ফলে সহজেই প্রতারণার শিকার হন।

তাছাড়া, তারা অনেক সময় প্রতারিত হলেও সামাজিকভাবে অপমানের ভয় বা আইনি ঝামেলার কারণে বিষয়টি গোপন রাখেন। এতে প্রতারকরা বারবার একই কৌশলে অন্যদেরও টার্গেট করে।

কী করা উচিত?

অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে এখনই সচেতন হওয়া জরুরি।

  • অপরিচিত লিংকে ক্লিক নয়

  • OTP বা পাসওয়ার্ড কাউকে বলা যাবে না

  • দ্বৈত যাচাইকরণ (Two-Factor Authentication) চালু রাখা

  • যেকোনো আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করা

  • ভুয়া অফারে ক্লিক না করে সন্দেহজনক পোস্ট রিপোর্ট করা

পাশাপাশি, সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচিত সাইবার অপরাধ নিয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া। অনলাইন প্রতারণার ঘটনা দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

সচেতনতা বাড়াতে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সাইবার সিকিউরিটি’ বিষয়ক ওয়ার্কশপ ও প্রশিক্ষণের আয়োজনও সময়ের দাবি।


সবশেষে বলা যায়, ইন্টারনেট আমাদের দরজা খুলে দিয়েছে এক নতুন সম্ভাবনার জগতে। কিন্তু সেই দরজা দিয়ে যেন প্রতারকরা ঢুকে না পড়ে, সে দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে। বিশেষ করে তরুণদের হতে হবে আরও বেশি সতর্ক, সচেতন এবং প্রযুক্তি বিষয়ে অভিজ্ঞ। কারণ সচেতন ব্যবহারকারীর প্রতারণার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কম।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

অপরাধ

View more
নিজস্ব প্রতিবেদক  জনশক্তি কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মাসুদ রানার বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, বিদেশগামী শ্রমিকদের হয়রানি, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।   তার বিরুদ্ধে
বিএমইটির মাসুদ রানার অবৈধ সম্পদের পাহাড়

  নিজস্ব প্রতিবেদক জনশক্তি কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মাসুদ রানার বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, বিদেশগামী শ্রমিকদের হয়রানি, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে নানা কৌশলে সরকারী টাকা আত্মসাৎ করারও অভিযোগও রয়েছে। আওয়ামী সরকারের সময়ে সহকর্মীদের ল্যাং করে পরিচালক পদ বাগিয়ে কিভাবে শত শত কোটি টাকার মালিক বনেছেন তা নিয়ে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যই গুজ্ঞন চলছে এটা কিভাবে সম্ভব? এসব অজানা তথ্য জানতে ভহক্তভোগীরা পরিচালক মাসুদ রানার অবৈধ টাকা কামাইয়ের রহস্য জানতে প্রশাসনের কাছে দিচ্ছেন একের পর এক অভিযোগ। সর্বশেষ গত ১২ মে জনপ্রশাসন ও প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের সচিবের কাছে একটি অভিযোগ জমা পড়েছে। ওই লিখিত অভিযোগটি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ মো. মন্টু মিয়া নামের ব্যক্তি । তিনি তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, মো. মাসুদ রানা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশগামী শ্রমিকদের কাছ থেকে নানা কৌশলে ফাইল আটকিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন। যদিও তিনি প্রশাসনের দায়িত্বে রয়েছেন। অভিযোগকারীর দাবি, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিদেশগামী কর্মীদের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে হয়রানি করে অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। একই সাথে সারাদেশে যত টিটিসি রয়েছে সেগুলোর অধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঢাকায় তলব করে তার রুমে ডেকে এনে বৈঠক করেন। এরপর তাদেরকে ইচ্ছামতো বদলী করেন। এসব বৈঠকের বেশীরভাগ সময় তার রুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকে। খোজ নিয়ে ও অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো-এর পরিচালক মো. মাসুদ রানা নেত্রকোনা জেলার মহনগঞ্জ উপজেলার চানপুর গ্রামের মোহাম্মদ মফিজ উদ্দিনের ছেলে। তার জাতীয় পরিচয় পত্র নং ৭৩৪১ ৬৫৫১৯৪ টিআইএন নং-৬৫৫১৫০৪৫৬৮১৯, কর সার্কেল-৮৮, কর অঞ্চল-০৪, ঢাকা। বর্তমান বাসার ঠিকানা: বাসা-৬৫/৩, পশ্চিম আগারগাও। তার স্ত্রী উম্মে ছালমা শেখ। তার পিতার নাম-আফতাব উদ্দিন শেখ। তার জাতীয় পরিচয় পত্র নং ৭৭৮৯ ৮২ ১১ ০০ , টিআইএন নং-৪২০৫৭১৭৯১৪১৯, কর সার্কেল-২০৭, কর অঞ্চল-১০, ঢাকা, ঠিকানা. একই। মোহাম্মদ ঝন্টু মিয়ার ছেলে অভিযোগকারী মো. মন্টু মিয়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে মাসুদ রানার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে তিনি নিয়োগ বাণিজ্য ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে পুনরায় কর্মস্থলে বহাল আছেন। বিগত সরকারের আমলে ফ্যাসিষ্ট মন্ত্রী ,এমপি ও প্রভাবশালী নেতাদের সহযোগিতায় একের পর এক ঘুষ- দুর্নীতিসহ বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম চালিয়েছেন। যা এখনো চলছে। সবাই তাকে বিএমইটিতে অঘোষিত’ ডিজি’ হিসাবে মনে করেন। নতুন ডিজি যিনি আসেন তাকেই তিনি তার মতো করে পরিচালনা করেন। আর এসবই তিনি অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করেন থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মাসুদ রানার অবৈধভাবে গড়া বিত্ত বৈভবের বিষয়ে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, তার এবং তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে রাজধানীর ধানমন্ডি, গুলশান নিকেতন ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া উত্তরা এলাকায় দুটি বাড়ি, সাভারে প্রায় কয়েক বিঘা জমি এবং গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনায় বিলাসবহুল বাড়ি, জমি থাকার তথ্য রয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা রয়েছে। মো. মাসুদ রানা মালয়েশিয়াতে মালয়েশিয়া মাই সেকেন্ড রয়েছে। শুধু তাই নয় দুবাইতে জনৈক রিক্রুটিং এজেন্সীর মালিকের সাথে জনশক্তি ব্যবসা রয়েছে। পাশাপাশি দুবাইয়ে ভিলা ও গোল্ড ব্যবসা রয়েছে বলে নানা সুত্র থেকে অভিযোগ রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন এবং একাধিক দামি গাড়ি ব্যবহার করেন। তার বিরুদ্ধে সঠিকভাবে তদন্ত শুরু হলে তার অবৈধ অঢেল সম্পদ অর্জন ও দুর্নীতির আরও বিস্তর তথ্য বেরিয়ে আসবে। তিনি সরাসরি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। এখন ভোল পাল্টানোর চেষ্টা করছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে আজ পরিচালক মো. মাসুদ রানার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি প্রতিবারই ফোন কেটে দিচ্ছেন। ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি জবাব দেননি। মন্ত্রনালয়ে দেয়া অভিযোগকারীর দাবি সুষ্ঠ তদন্ত করা হলে মাসুদ রানা যে ৪ থেকে ৫  

News আগস্ট ২৪, ২০২৬ 0
মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে ২৫ বাংলাদেশি এজেন্সির তালিকা প্রকাশ

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে ২৫ বাংলাদেশি এজেন্সির তালিকা প্রকাশ

ফ্যাসিবাদের দোসর অভিযোগের পর অভিযোগ, তবু থামেনি পদোন্নতির তদবির—গণপূর্তের  গণপূর্তের তৈমুর আলম: প্রকৌশলী না ঠিকাদার?

ফ্যাসিবাদের দোসর অভিযোগের পর অভিযোগ, তবু থামেনি পদোন্নতির তদবির—গণপূর্তের  গণপূর্তের তৈমুর আলম: প্রকৌশলী না ঠিকাদার?

অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়েই পদোন্নতির দৌড়ে গণপূর্তের বদরুল আলম খান

অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়েই পদোন্নতির দৌড়ে গণপূর্তের বদরুল আলম খান

বিএমইটির মাসুদ রানার অবৈধ সম্পদের পাহাড়
বিএমইটির মাসুদ রানার অবৈধ সম্পদের পাহাড়

  নিজস্ব প্রতিবেদক জনশক্তি কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মাসুদ রানার বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, বিদেশগামী শ্রমিকদের হয়রানি, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে নানা কৌশলে সরকারী টাকা আত্মসাৎ করারও অভিযোগও রয়েছে। আওয়ামী সরকারের সময়ে সহকর্মীদের ল্যাং করে পরিচালক পদ বাগিয়ে কিভাবে শত শত কোটি টাকার মালিক বনেছেন তা নিয়ে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যই গুজ্ঞন চলছে এটা কিভাবে সম্ভব? এসব অজানা তথ্য জানতে ভহক্তভোগীরা পরিচালক মাসুদ রানার অবৈধ টাকা কামাইয়ের রহস্য জানতে প্রশাসনের কাছে দিচ্ছেন একের পর এক অভিযোগ। সর্বশেষ গত ১২ মে জনপ্রশাসন ও প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের সচিবের কাছে একটি অভিযোগ জমা পড়েছে। ওই লিখিত অভিযোগটি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ মো. মন্টু মিয়া নামের ব্যক্তি । তিনি তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, মো. মাসুদ রানা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশগামী শ্রমিকদের কাছ থেকে নানা কৌশলে ফাইল আটকিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন।   যদিও তিনি প্রশাসনের দায়িত্বে রয়েছেন। অভিযোগকারীর দাবি, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিদেশগামী কর্মীদের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে হয়রানি করে অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। একই সাথে সারাদেশে যত টিটিসি রয়েছে সেগুলোর অধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঢাকায় তলব করে তার রুমে ডেকে এনে বৈঠক করেন। এরপর তাদেরকে ইচ্ছামতো বদলী করেন। এসব বৈঠকের বেশীরভাগ সময় তার রুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকে। খোজ নিয়ে ও অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো-এর পরিচালক মো. মাসুদ রানা নেত্রকোনা জেলার মহনগঞ্জ উপজেলার চানপুর গ্রামের মোহাম্মদ মফিজ উদ্দিনের ছেলে। তার জাতীয় পরিচয় পত্র নং ৭৩৪১ ৬৫৫১৯৪ টিআইএন নং-৬৫৫১৫০৪৫৬৮১৯, কর সার্কেল-৮৮, কর অঞ্চল-০৪, ঢাকা। বর্তমান বাসার ঠিকানা: বাসা-৬৫/৩, পশ্চিম আগারগাও। তার স্ত্রী উম্মে ছালমা শেখ। তার পিতার নাম-আফতাব উদ্দিন শেখ। তার জাতীয় পরিচয় পত্র নং ৭৭৮৯ ৮২ ১১ ০০ , টিআইএন নং-৪২০৫৭১৭৯১৪১৯, কর সার্কেল-২০৭, কর অঞ্চল-১০, ঢাকা, ঠিকানা. একই। মোহাম্মদ ঝন্টু মিয়ার ছেলে অভিযোগকারী মো. মন্টু মিয়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে মাসুদ রানার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে তিনি নিয়োগ বাণিজ্য ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে পুনরায় কর্মস্থলে বহাল আছেন। বিগত সরকারের আমলে ফ্যাসিষ্ট মন্ত্রী ,এমপি ও প্রভাবশালী নেতাদের সহযোগিতায় একের পর এক ঘুষ- দুর্নীতিসহ বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম চালিয়েছেন। যা এখনো চলছে। সবাই তাকে বিএমইটিতে অঘোষিত’ ডিজি’ হিসাবে মনে করেন। নতুন ডিজি যিনি আসেন তাকেই তিনি তার মতো করে পরিচালনা করেন। আর এসবই তিনি অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করেন থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মাসুদ রানার অবৈধভাবে গড়া বিত্ত বৈভবের বিষয়ে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, তার এবং তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে রাজধানীর ধানমন্ডি, গুলশান নিকেতন ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া উত্তরা এলাকায় দুটি বাড়ি, সাভারে প্রায় কয়েক বিঘা জমি এবং গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনায় বিলাসবহুল বাড়ি, জমি থাকার তথ্য রয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা রয়েছে।   মো. মাসুদ রানা মালয়েশিয়াতে মালয়েশিয়া মাই সেকেন্ড রয়েছে। শুধু তাই নয় দুবাইতে জনৈক রিক্রুটিং এজেন্সীর মালিকের সাথে জনশক্তি ব্যবসা রয়েছে। পাশাপাশি দুবাইয়ে ভিলা ও গোল্ড ব্যবসা রয়েছে বলে নানা সুত্র থেকে অভিযোগ রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন এবং একাধিক দামি গাড়ি ব্যবহার করেন। তার বিরুদ্ধে সঠিকভাবে তদন্ত শুরু হলে তার অবৈধ অঢেল সম্পদ অর্জন ও দুর্নীতির আরও বিস্তর তথ্য বেরিয়ে আসবে। তিনি সরাসরি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। এখন ভোল পাল্টানোর চেষ্টা করছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে আজ পরিচালক মো. মাসুদ রানার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি প্রতিবারই ফোন কেটে দিচ্ছেন। ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি জবাব দেননি। মন্ত্রনালয়ে দেয়া অভিযোগকারীর দাবি সুষ্ঠ তদন্ত করা হলে মাসুদ রানা যে ৪ থেকে ৫

News আগস্ট ২৩, ২০২৬ 0
গণপূর্তের লটারি শুধু নামেই? আগেই ঠিক হয়ে গিয়েছিল ৪১ প্রকৌশলীর ভাগ্য!

গণপূর্তের লটারি শুধু নামেই? আগেই ঠিক হয়ে গিয়েছিল ৪১ প্রকৌশলীর ভাগ্য!

সদরঘাটে চাঁদার ভাগ নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, নিহত ১

সদরঘাটে চাঁদার ভাগ নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, নিহত ১

দেশে দুর্নীতির পাট শেষ এখন মালদ্বীপে ব্যাংকের চেয়ারম্যান মাজেদুর

দেশে দুর্নীতির পাট শেষ এখন মালদ্বীপে ব্যাংকের চেয়ারম্যান মাজেদুর

অভিযোগের পর অভিযোগ, মামলা-চার্জশিটেও নাম; গৃহায়নে বহাল শাহীন
অভিযোগের পর অভিযোগ, মামলা-চার্জশিটেও নাম; গৃহায়নে বহাল শাহীন

   ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর ও শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত মোস্তফা কামাল শাহিনের বিরুদ্ধে ৫ আগস্টের হত্যা মামলা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চার্জশিটভুক্ত আসামি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।      এত গুরুতর অভিযোগের পরও তিনি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষে বহাল তবিয়তে কর্মরত থাকায় প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে।    এ অবস্থায় তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।    সেই নির্দেশনার পর জাগৃক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তবে অভিযোগ রয়েছে, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার দুই মাসেরও বেশি সময় পর গত ২৮ জানুয়ারি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে অফিস আদেশ জারি করা হয়। ফলে তদন্ত কমিটি গঠনেই যদি এতটা সময়ক্ষেপণ হয়, তাহলে নির্ধারিত সময়ে তদন্ত শেষ হবে কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।    সুবিধাভোগীরা অনেক সময় নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় নানা কৌশল ও চালাকির আশ্রয় নেন মন্ত্রীর এলাকার পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ অভিযোগকারীদের দাবি, মোস্তফা কামাল শাহিন অত্যন্ত কৌশলীভাবে নিজের প্রভাব বলয় তৈরি করে চলেছেন। তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীর নিজ জেলা কুমিল্লার বরুড়া এলাকার বাসিন্দা—এই পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকের কাছে তিনি নিজেকে মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচয় দেন এবং বিভিন্ন সময় সময় তিনি অনেক কে বলেন মন্ত্রী আমাকে কাজ করতে বলেছেন’—এমন বক্তব্য দেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, মন্ত্রীর এলাকার বাসিন্দা ও পরিচিতজন হওয়ার বিষয়টিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন পর্যায়ে নিজের প্রভাব দেখানোর চেষ্টা করেন। ফলে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই তার বিরুদ্ধে সরাসরি কথা বলতে বা অভিযোগ করতে দ্বিধাবোধ করেন বলে দাবি করা হচ্ছে।    প্রসঙ্গত, একের পর এক দুর্নীতি আর জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন অফিস সহকারী মোস্তফা কামাল শাহিন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে অনেক তথ্যের খোঁজও মিলেছে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে শাহিন ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুদক।     অথচ তিন বছরেও সে মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। দেয়া হয়নি অভিযোগপত্র। প্লট জালিয়াতি কিংবা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার জাল স্বাক্ষরসহ বহু অপকর্মে হাতেনাতে ধরাও পড়েছেন। তবে ক্ষমতার দাপটে বারবার তিনি ধরাছোয়ার বাইরে থেকেছেন। তার নিয়োগেও রয়েছে অনিয়মের অভিযোগ। সবচে বড় কথা, মোস্তফা কামাল শাহিন ছিলেন পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের অন্যতম সুবিধাভোগী। নিজেকে বড় আওয়ামী লীগার পরিচয় দিয়েই ১৬ বছর ক্ষমতার ছড়ি ঘুরিয়েছেন। স্বঘোষিত সিবিএ নেতা বনে দেখিয়েছেন ক্ষমতার দাপট। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলেও তার ক্ষমতায় হেরফের হয়নি। বরং কালো টাকার জোরে ঊর্ধ্বতনদের বশ করে বহাল তবিয়তে আছেন। আর এ অভিযোগ যে কোনো অতিরঞ্জিত নয়, সাম্প্রতিক ঘটনায় তার প্রমাণ মিলেছে।   মোস্তফা কামাল শাহিনের বিভিন্ন অপকর্ম নিয়ে গত জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে অনেক গুলো জাতীয় পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ হয় হয়। তবে এর আগেই মন্ত্রণালয়ে তার দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। এ প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় থেকে তার দুর্নীতি অনুসন্ধানের নির্দেশনা পেয়ে তদন্ত কমিটি করে জাগৃক।    গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ (জাগৃক) যেন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্তদের জন্য ‘সেইফ জোনে’ পরিণত হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। একের পর এক দুর্নীতি, জালিয়াতি, নথি গায়েব ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ সামনে এলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি মন্ত্রণালয় থেকে লিখিতভাবে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পরও তদন্ত কার্যক্রম দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি জাগৃকের ভূমি শাখায় কর্মরত অফিস সহকারী মোস্তফা কামাল শাহিনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি, প্লট জালিয়াতি, নথি গায়েব, ফাইল আটকে রেখে হয়রানি এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের তদন্ত নিয়েও তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ভূমি শাখায় প্রভাব বিস্তার করে শাহিন বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা ও অনুসন্ধানের বিষয়ও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল সম্পদের অভিযোগও রয়েছে।  অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মোস্তফা কামাল শাহিন ও তার স্ত্রী নাছরিন সুলতানার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকে মামলা রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, মামলার তদন্ত দীর্ঘদিন ধরে চললেও এখনো কার্যকর অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়।       প্লট ও নথি জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ শাহিনের বিরুদ্ধে ভূমি শাখার বিভিন্ন নথি নিয়ে গুরুতর অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কিছু নথি অফিসের রেকর্ডের বাইরে থেকে তৈরি করে মূল নথি হিসেবে উপস্থাপন, ডিজিটাল নম্বর ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনা, কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর ও সিল জাল এবং এসব নথির ভিত্তিতে লিজ দলিল সম্পাদনের মতো ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে মিরপুর হাউজিং এস্টেটের একটি বাড়ি ও কয়েকটি পুনর্বাসন প্লটের নথি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, এসব নথির রেকর্ডরুমের তালিকা, নথি মুভমেন্ট রেজিস্টার, ডিজিটাল নম্বর, বরাদ্দপত্র, ব্যাংক চালান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর যাচাই করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে। একই সঙ্গে লিজ দলিল সম্পাদনের আগে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, চালান ও সংশ্লিষ্ট নথির বৈধতা যাচাই করা হয়েছে কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।  শতকোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ মোস্তফা কামাল শাহিন ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্লট, ফ্ল্যাট, জমি ও অন্যান্য সম্পদের মালিকানার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বিদেশে সম্পদ ও অর্থ স্থানান্তরের কথাও বলা হয়েছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, তার চাকরিতে যোগদানের সময়কার সম্পদের বিবরণ এবং বর্তমানে অর্জিত সম্পদের তুলনামূলক হিসাব করলে বড় ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া যেতে পারে।    এ কারণে তার আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব, সম্পত্তির দলিল, ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য এবং পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের বৈধ উৎস অনুসন্ধানের দাবি জানানো হয়েছে।  সিবিএ পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মোস্তফা কামাল শাহিন কর্মচারী ইউনিয়ন বা সিবিএর পদ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করেছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিচয়ের প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি ভূমি শাখার বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করতেন। তবে তার রাজনৈতিক পরিচয় ও সিবিএ-সংক্রান্ত এসব দাবির স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।  মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তদন্ত কমিটি শাহিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের ১৭ নভেম্বরের চিঠির সূত্র উল্লেখ করে পরবর্তীতে জাগৃক তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আহসান হাবিবকে। সদস্য হিসেবে রাখা হয় উপ-পরিচালক (ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা-২) তায়েব-উর রহমান আশিক এবং সহকারী পরিচালক (অর্থ) মো. আরিফুজ্জামানকে। অফিস আদেশে শাহিন, তার স্ত্রী এবং কথিত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, ফাইল গায়েব, ফাইল আটকে হয়রানি, ডিজিটাল নম্বরবিহীন কাগজপত্র ব্যবহার করে লিজ দলিল রেজিস্ট্রেশন এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তের কথা বলা হয়। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।  নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও নেই প্রতিবেদন অভিযোগকারীদের দাবি, নির্ধারিত ১৫ কার্যদিবস পার হলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি। এর মধ্যেই তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মো. আহসান হাবিবকে অন্যত্র বদলি করা হয় বলে জানা গেছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে—আহ্বায়ক বদলি হওয়ার পর তদন্ত কমিটির কার্যক্রম কী অবস্থায় রয়েছে এবং কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে কি না। কমিটির সদস্য তায়েব-উর রহমান আশিক ও মো. আরিফুজ্জামানের কাছেও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।  এর মধ্যে সহকারী পরিচালক (অর্থ) মো. আরিফুজ্জামান কমিটি গঠনের বিষয়টি মৌখিকভাবে জানলেও লিখিত চিঠি পাননি বলে জানিয়েছেন—এমন দাবি করা হয়েছে অভিযোগে। বিষয়টি সত্য হলে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির কার্যক্রম নিয়েই নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়।  তদন্ত ধামাচাপার’ অভিযোগ অভিযোগকারীদের দাবি, তদন্ত কমিটি গঠনের পর জাগৃকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মোস্তফা কামাল শাহিনের যোগাযোগ ও যাতায়াত বেড়ে যায়।      এরপরই তদন্ত কার্যক্রম ধীরগতির হয়ে পড়ে। তদন্ত ধামাচাপা বা প্রভাবিত করার এই অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ অবশ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। তবে অভিযোগটি সত্য কি না, তা নির্ধারণে তদন্ত কমিটির কার্যবিবরণী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য, অফিস নথি এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার বাস্তবায়ন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।  নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন অভিযোগপত্রে শাহিনের নিয়োগ ও পরবর্তী পদ পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তার ব্যক্তিগত নথি, নিয়োগের সময়কার বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পদায়ন ও পদ পরিবর্তনের আদেশ যাচাই করার দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগকারীরা মনে করেন, ব্যক্তিগত নথি ও নিয়োগ-সংক্রান্ত মূল কাগজপত্র পরীক্ষা করলেই এসব অভিযোগের সত্যতা সহজেই নির্ধারণ করা সম্ভব।  আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ শাহিনের কথিত সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জাগৃকের আরও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নথি উপস্থাপন, অনুমোদন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার, ঘুষ লেনদেন ও বিভিন্ন অনিয়মে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং সরকারি তদন্তের ফলাফল এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে যাচাইযোগ্য দাবি হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।   জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির কাজ যদি নির্ধারিত সময়ে শেষ না হয়, তাহলে কেন হয়নি—তার জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে কমিটির আহ্বায়ক বদলির পর তদন্তের ধারাবাহিকতা কীভাবে বজায় রাখা হয়েছে, সেটিও প্রকাশ করা প্রয়োজন। অভিযোগকারীদের দাবি, শাহিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি তার সম্পদের হিসাব, ব্যাংক লেনদেন, ভূমি ও প্লটের নথি, লিজ দলিল, নথি মুভমেন্ট রেজিস্টার এবং নিয়োগসংক্রান্ত ব্যক্তিগত নথি পরীক্ষা করা হোক। তাদের মতে, অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে; আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে অভিযুক্তদেরও দায়মুক্তি দিতে হবে। কিন্তু তদন্ত ঝুলিয়ে রেখে বিষয়টি অনির্দিষ্টকালের জন্য চাপা রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।  এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল শাহিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।    পরে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে লিখিত বার্তা পাঠিয়ে অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। তবে সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাঁর পক্ষ থেকে কোনো প্রতিউত্তর পাওয়া যায়নি।

News আগস্ট ১৬, ২০২৬ 0
সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতাল, দুই বছরেও শুরু হয়নি চিকিৎসাসেবা

সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতাল, দুই বছরেও শুরু হয়নি চিকিৎসাসেবা

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে যন্ত্র বিকলের নামে ৪৭ লাখ টাকা লোপাট!

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে যন্ত্র বিকলের নামে ৪৭ লাখ টাকা লোপাট!

পরিবর্তন, ব্যয়বৃদ্ধি—তৃতীয় টার্মিনালে হাজার কোটি টাকার হিসাব কোথায়?

পরিবর্তন, ব্যয়বৃদ্ধি—তৃতীয় টার্মিনালে হাজার কোটি টাকার হিসাব কোথায়?

0 Comments