নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিরাপত্তা জোরদারে আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্বাচন ভবনের সুরক্ষায় বসানো শতাধিক আধুনিক সিসি ক্যামেরা মূলত কোনো কাজেই আসছে না। সিটি করপোরেশনের লাগানো গাছের কারণে ঢাকা পড়েছে ক্যামেরাগুলোর ‘রেঞ্জ’।
ফলে গাছের আড়াল থেকে ককটেল বা বোমা ছুড়ে কোনো অপরাধী পালিয়ে গেলেও তাকে শনাক্ত করার কোনো উপায় নেই। ইসির এই বিপুল অর্থের খরচকে এখন খোদ কর্মকর্তারাই দেখছেন ‘উচ্চাভিলাষী অপচয়’ হিসেবে।
এখন সিটি করপোরেশনের লাগানো গাছ কাটার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়ার চিন্তা করছে ইসি। তবে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা সাংবিধানিক সংস্থা ইসির অদক্ষতা। অর্থ লুটপাটের জন্য এ প্রকল্প নিয়েছে। এখন যিনি বা যারা গাছ অপসারণের জন্য চিঠি পাঠাবেন, তাকে পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকর্তা হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। ইসির নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ আমার দেশকে বলেন, নির্বাচন ভবনের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। যদি ক্যামেরা মুভমেন্টে কোনো প্রতিবন্ধতা থাকে, তা নিজেদের উদ্যোগে অপসারণের চেষ্টা করা হবে। যদি সেটা সম্ভব না হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে বিষয়টির সুরাহা করার অনুরোধ জানানো হবে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয় ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোটগ্রহণ পর্যন্ত নির্বাচন ভবন এবং এর সামনের এলাকায় মিছিল, স্লোগান, অনশন, বিক্ষোভ, হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের একাধিক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা সক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই সময় সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনা, হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের স্থিরচিত্র ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করছে বর্তমান কমিশন। এসব তথ্যউপাত্তের ভিত্তিতে নির্বাচন ভবনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পরিকল্পনাও রয়েছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন শতাধিক গোপন ক্যামেরার কার্যকারিতা শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে। নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ও নির্বাচন ভবনের বাইরের সড়কের ডিভাইডারে সিটি করপোরেশনের লাগানো বড় বড় গাছ ক্যামেরার দৃষ্টিসীমা আড়ালে পড়ায় এ জটিলতায় পড়েছে ইসি। শঙ্কা দেখা দিয়েছে, এ স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ কিংবা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটলে জড়িতদের শনাক্ত করা যাবে না। তাই ঢাকঢোল পিটিয়ে নিরাপত্তা জোরদারের নামে নির্বাচন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষায় নেওয়া এ উদ্যোগই উল্টো প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় গাছ অপসারণের জন্য নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) শাখা। কমিশন সম্মতি দিলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের আগারগাঁও এলাকায় নির্বাচন ভবনের আশপাশের গাছ কর্তন বা অপসারণে সিটি করপোরেশনকে চিঠি দেওয়া হতে পারে।
আইসিটি শাখার একাধিক কর্মকর্তা জানান, ইসির আইডিয়া প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক নির্বাচন ভবন ও নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে দুই ধাপে মোট পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছিলেন। এর মধ্যে প্রথম ধাপে আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে ১২০টি নতুন সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। হিক নামের একটি প্রতিষ্ঠান তিন বছরের ওয়ারেন্টি-গ্যারান্টিসহ এসব ক্যামেরা স্থাপনের কাজ করে। এই ভবনের তৃতীয় তলায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও সচিবের কার্যালয় এবং চতুর্থ তলায় চার নির্বাচন কমিশনারের দপ্তরকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা হয়েছে। শুধু এই দুই তলায়ই ১৮-২০টি করে ক্যামেরা বসানো হয়েছে। নির্বাচন ভবনের চার কোনায় চারটি, নির্বাচন ভবন ও ইটিআই ভবনের মাঝামাঝি এলাকায় দুটি, লেকের পাড়ে একটি এবং ইটিআই ভবনের সামনে একটি পোল স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া সিঁড়ি ও লিফট এলাকা বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত অন্ধকার বা ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি ফ্লোরে গড়ে আটটি করে ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পুরো এলাকাকে নজরদারির আওতায় আনতে উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিম দিকে আটটি ওয়াচ টাওয়ারও স্থাপন করা হয়েছে।
তবে ভবনের ভেতরে আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকলেও বাইরের পরিস্থিতি ঠিক উল্টো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ভেতরে নিরাপত্তাব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত করা হলেও বাইরের ক্যামেরাগুলোর সামনে গাছের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অংশ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে, নির্বাচন কমিশনের বিদ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থার চিত্রও খুব আশাব্যঞ্জক নয়। নির্বাচন ভবন ও ইটিআই ভবনে আগে থেকেই ১৫২টি সিসি ক্যামেরা আছে। এর মধ্যে সচল আছে ১১২টি এবং অচল বা অকেজো অবস্থায় রয়েছে ৪০টি। এগুলো তদারকি বা সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হওয়ার পথে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকি না হলে নতুন স্থাপিত ক্যামেরাগুলোর অবস্থাও পুরোনোগুলোর মতো হতে পারে। সেক্ষেত্রে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত নিরাপত্তা অবকাঠামো শুধু আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি বজায় রাখবে, অপরাধী শনাক্তে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে না।
ইসির সিস্টেম ম্যানেজার প্রকৌশলী রফিকুল হক নতুন সিসি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করে আমার দেশকে বলেন, এটি আইডিয়া প্রকল্পের একটি প্রস্তাব ছিল। ওই প্রস্তাবের আলোকে আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে শতাধিক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।
পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ এবং ওয়াটারকিপার অ্যালায়েন্সের নির্বাহী পরিষদের সদস্য শরীফ জামিল আমার দেশকে বলেন, সিটি করপোরেশনের গাছের কারণে ইসির বসানো ক্যামেরায় বাইরে দৃশ্য ধারণে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে বলে যে আওয়াজ তোলা হচ্ছে, তা সংরক্ষিত গাছ কেটে বিক্রির ধান্ধা। দুর্নীতির নতুন ফন্দি।
ইসির উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, প্রকল্প রিভাইজ না করে ইসির যিনি বা যে কর্মকর্তা গাছ কেটে নেওয়ার জন্য সিটি করপোরেশনকে চিঠি দেবেন, ওই কর্মকর্তাকে পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকর্তা হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে ওষুধের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির (বাপি) মহাসচিব হালিমুজ্জামান। তিনি বলেছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে কারখানায় জেনারেটর ও বড় ইউপিএস চালাতে হচ্ছে। গ্যাসের সংকট থাকায় জেনারেটরের জন্য নির্ভর করতে হচ্ছে ডিজেলের ওপর। এতে উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়ছে। এভাবে জ্বালানি ব্যয় বাড়তে থাকলে একপর্যায়ে উৎপাদন খরচ সমন্বয়ে ওষুধের দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় থাকবে না। আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাপি কার্যালয়ে মালিক সমিতি ও স্বাস্থ্য বিটের সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএইচআরএফ) আয়োজনে ‘ওষুধ শিল্পের অগ্রগতি: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। হালিমুজ্জামান বলেন, ওষুধশিল্পের জন্য জ্বালানি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমানে বিদ্যুৎ ও ডিজেল দুই ক্ষেত্রেই শিল্পটি সমস্যায় পড়ছে। কারখানা চালানোর সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে যাচ্ছে। ১৫ টাকা ছিল বিদ্যুতের সরকারি রেট, আমার ফ্যাক্টরির হিসাবে এখন আসছে ৪২ টাকা। অর্থাৎ ১৫ টাকার জায়গায় ৪২ টাকা হচ্ছে। ওষুধশিল্পের সঙ্গে অন্যান্য শিল্পের বড় পার্থক্য রয়েছে উল্লেখ করে বাপি মহাসচিব বলেন, ওষুধের উৎপাদনপ্রক্রিয়া একবার শুরু হলে তা মাঝপথে বন্ধ করা যায় না। বিদ্যুৎ চলে গেলে উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে কারখানাগুলোকে ব্যাকআপ হিসেবে জেনারেটর ও বড় ইউপিএস চালাতে হয়। গ্যাসের সংকট থাকায় জেনারেটর চালাতেও ডিজেলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের ডিজেল মজুতের সক্ষমতাও পর্যাপ্ত নয়। ফলে ট্যাংক শেষ হয়ে গেলে দ্রুত ডিজেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়। ওষুধের দাম নির্ধারণে শুধু জ্বালানি খরচ নয়, কাঁচামাল, মান নিয়ন্ত্রণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সংরক্ষণ এবং গবেষণা ও উন্নয়নসহ (আরঅ্যান্ডডি) বিভিন্ন খরচ যুক্ত রয়েছে বলে জানান হালিমুজ্জামান। তিনি বলেন, ২০ বছর আগে গুডস স্ট্যান্ডার্ড প্র্যাকটিস (জিএসপি) অনুযায়ী পাঁচটি পরীক্ষা করতে হতো। এখন পরীক্ষার সংখ্যা বেড়ে আটটি হয়েছে। আগে অনেক ধরনের ইমপিউরিটি বা অমেধ্য সম্পর্কে জানা ছিল না। এখন কোনো কোনো ওষুধে ১৮ থেকে ২০ ধরনের ইমপিউরিটি শনাক্ত করতে হয়। এসব পরীক্ষা করতে প্রয়োজনীয় রেফারেন্স স্ট্যান্ডার্ডের খরচও অনেক বেশি। ফলে ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণে ব্যয় বাড়ছে। ওষুধ উৎপাদনের পরও দীর্ঘ সময় ধরে নমুনা সংরক্ষণ ও নিয়মিত পরীক্ষা করতে হয় জানিয়ে হালিমুজ্জামান বলেন, কোনো ওষুধ বাজারে চাহিদা হারালেও নির্ধারিত শেলফ লাইফ পর্যন্ত এর নমুনা সংরক্ষণ করতে হয়। এমনকি মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নমুনা রেখে নিয়মিত পরীক্ষা করতে হয়। এসবের পেছনেও ব্যয় হয়। আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ উৎপাদনে গবেষণা ও উন্নয়ন খাতেও আগের তুলনায় বেশি ব্যয় হচ্ছে বলে জানান বাপি মহাসচিব। আধুনিক ওষুধ উৎপাদনে এখন আরও বেশি বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন হচ্ছে। সব মিলিয়ে জ্বালানি, কাঁচামাল, মান নিয়ন্ত্রণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সংরক্ষণ এবং গবেষণা ও উন্নয়ন প্রতিটি খাতেই ব্যয় বাড়ছে। এর মধ্যে জ্বালানি ব্যয় দ্রুত বাড়ায় তা সরাসরি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মুনাফায় চাপ তৈরি করছে। হালিমুজ্জামান বলেন, এই সবগুলিই আসলে ওষুধের উৎপাদন খরচ। তবে এটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এর মধ্যে জ্বালানির খরচও যদি এভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে তা অবশ্যই আমাদের মুনাফার ওপর প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, জ্বালানির বাড়তি ব্যয় দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকলে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে তা নিজেদের মুনাফা থেকে বহন করা কঠিন হবে। তখন উৎপাদন খরচ সমন্বয় করতে ওষুধের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের সফট ওপেনিং আগামী ১৬ ডিসেম্বর করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। তবে কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজন হলে সময় আরও দুই-এক মাস বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন সদ্য মন্ত্রী পদে পদোন্নতি পাওয়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। সফট ওপেনিংয়ের পর সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে টার্মিনালটি পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি। রোববার সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, ‘থার্ড টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে সফট ওপেনিং হলেও করব। সেটার কাজ চলমান। আমাদের বিড বোধহয় এ মাসের মধ্যেই হবে। ২৫ তারিখে জাপানিরা বিড সাবমিট করবে এবং এটা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ইভ্যালুয়েশন করে হোপফুলি সেপ্টেম্বরের মধ্যে আমরা কন্ট্রাক্ট সাইন করতে পারব।’ তিনি বলেন, ‘তারপর আমাদের হাতে থাকবে সাড়ে তিন মাস। সাড়ে তিন মাসে আমরা চেষ্টা করব যে একটা যদি সফট ওপেনিংও করতে পারি, আমরা করলাম। আর যদি মনে করি যে একটু সময় লেগে ভালো হবে, তাহলে দুই-এক মাস সময় বাড়াতেও পারি।’ ‘কিন্তু এখনও আমরা ১৬ ডিসেম্বরেই সফট ওপেনিং করব, এটাতেই আমরা এখনও স্টিক রয়েছি,’ বলেন প্রতিমন্ত্রী থেকে সদ্য মন্ত্রী পদে পদোন্নতি পাওয়া এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
রোহিঙ্গা সঙ্কট মূলত মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা এবং এর স্থায়ী সমাধানের মূল উদ্যোগ সে দেশের সরকারকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘নীতি গবেষণা কেন্দ্র’ আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সংকট: বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট মিয়ানমারের নিজস্ব বিষয় হলেও বাংলাদেশ সম্পূর্ণ মানবিক মূল্যবোধের জায়গা থেকে লাখ লাখ নির্যাতিত রোহিঙ্গাকে সাময়িক আশ্রয় দিয়েছে। তবে এই সঙ্কটের চিরস্থায়ী সমাধানের দায়িত্ব মিয়ানমার সরকারকেই পালন করতে হবে। দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় ভূখণ্ড রক্ষা করা সরকারের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক দায়িত্ব। বর্তমান সরকার দেশের সার্বিক নিরাপত্তা এবং জনগণের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগের বিষয়ে তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার এই ইস্যুতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যে পদক্ষেপ বা সিদ্ধান্ত নিতে চায়, তাতে দেশের সাধারণ জনগণের পূর্ণ সমর্থন ও আস্থা রয়েছে। মন্ত্রী বলেন, দেশের ভূখণ্ডতা রক্ষা করা সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার রক্ষা করাও আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমরা হস্তক্ষেপে রাজি না। রোহিঙ্গারা নৃ-তাত্বিকভাবে মিয়ানমারের জনগোষ্ঠী। সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে এই সমস্যা সমাধানে আমরা আগ্রহী।