খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) কাজী মো. সাবিরুল আলমসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) খুলনা দুদকের উপ পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেন। খবর বাসস। এর আগে গত সোমবার কমিশন থেকে মামলা করার অনুমতি দেওয়া হয়। মামলায় অভিযুক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাবিরুল আলম ছাড়া অন্যরা হলেন— খান লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের লিড পার্টনার মো. আতাউর রহমান, ঠিকাদারি কোম্পানি মাহাবুব ব্রাদার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রকল্পের পার্টনার শেখ মাহাবুব রহমান এবং কেডিএ’র সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামীম জেহাদ, নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রকল্প) মো. আরমান হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মুনতাসির মামুন, সহকারী প্রকৌশলী বাসুদেব কুমার বিশ্বাস ও উপ সহকারী প্রকৌশলী শরীফ ওয়াহিদুজ্জামান। দুদকের অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় ঠিকাদার মাহাবুব ব্রাদার্স লিমিটেডকে খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কার্যাদেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী সড়কটি নির্মাণ না করে সরকারের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে-যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি একনেকের সভায় ঐ সড়ক নির্মাণে দীর্ঘ ১৩ বছরের নজিরবিহীন বিলম্বের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে তিনি এর সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। খুলনা দুদকের উপ পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী বলেন, কমিশন মামলা করার জন্য অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু এখন মামলা হয়নি। শিগগিরই মামলা দায়ের করা হবে।
এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু) নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পেয়েছিল তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি। দায়িত্ব নেওয়ার পর এক বছর পূর্তির দ্বারপ্রান্তে এসে নিজেদের প্রতিশ্রুতি ও কাজের হিসাব তুলে ধরছেন রাকসু নেতারা। নানা উদ্যোগের পাশাপাশি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে—তা নিয়েও রয়েছে নানা আলোচনা–সমালোচনা ও প্রশ্ন। দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা, অর্জন, সীমাবদ্ধতা ও অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি নিয়ে মুখোমুখি হয়েছেন রাকসু সহ–সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, কোন জনপ্রিয় নেতা হওয়ার জন্য না, আমি অনেক বড় নেতা হব; এমন উদ্দেশ্যও না। আমার উদ্দেশ্য হচ্ছে অনেক শিক্ষার্থী না খেয়ে থাকে এই ক্যাম্পাাসে, অনেক শিক্ষার্থী আবাসন সমস্যায় আছে তাদের সমস্যাগুলো সমাধান করতে না পারা পর্যন্ত আমার শান্তি হচ্ছে না এবং আমি যেন এই বাকি সময়ের মধ্যে এই সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারি। অনেক শিক্ষার্থী এসে কান্নাকাটি করে তাদের সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারলে আরও বেশি ভালো লাগতো। তিনি বলেন, রাকসুকে শতভাগ সফল করার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। আমরা আমাদের ইশতেহারের ৭৩ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ করতে পেরেছি আরও কিছু কাজ চলমান আছে। কিছু কাজ প্রশাসনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সেজন্য অল্প কিছু কাজ বাস্তবায়ন করা হয়তো সম্ভব হবে না। তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যাটা আমার কাছে অনুভব হয়েছে সেটা হলো শিক্ষার্থীদের অনাবাসিক ভাতা এবং আবাসন সমস্যা, এই চ্যালেঞ্জটা দূর করতে কোটি কোটি টাকার ব্যাপার। আর একটা হলো বাংলাদেশের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী আমাদের বাহিরে থাকে। প্রায় ২০ হাজারের মতো শিক্ষার্থী বাইরে থাকে। ‘এই ২০ হাজার স্টুডেন্টকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং মনে হয় যে এই সমস্যাটা কীভাবে সমাধান করা যায়। চাইলে হল তৈরি করাও সম্ভব না, হল করতেও কয়েকবছর সময় লাগবে। এই কয়েকবছর কীভাবে চলবে। এই সমস্যাটা সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং। প্রতিমাসে যদি ভাতাও দেওয়া যায় ১ হাজার করে। তবে দিলেও কয়েক কোটি টাকা লাগে, ওইটাও সরকার কোন ফান্ড থেকে দেবে? কীভাবে দেবে আমরা যোগাযোগ করছি। এই সমস্যাটাই সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং মনে হচ্ছে।’
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের আমন্ত্রণে খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে তেহরান যাচ্ছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে অংশ নিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছেন দেশটির স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। বাংলাদেশের স্পিকার তেহরান যাবেন, তিনি খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অংশ নেবেন। খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে কয়েকদিনের আয়োজন করছে ইরান। তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শুরু হবে আগামী ৪ জুলাই। ওইদিন হবে তার প্রথম জানাজা। এরপর রাজধানীর উপকণ্ঠের কোম শহরে ৭ জুলাই হবে দ্বিতীয় জানাজা। সবশেষ ৯ জুলাই আরেকবার জানাজা শেষে তাকে দক্ষিণপূর্বাঞ্চলের মাশহাদে দাফন করা হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালায়। ওই হামলার শুরুতেই পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ প্রাণ হারান ৮৬ বছর বয়সী আলি খামেনি। নিহত হওয়ার আগে তিনি দীর্ঘ ৩৬ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন
জুন ৩০, ২০২৬
খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) কাজী মো. সাবিরুল আলমসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) খুলনা দুদকের উপ পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেন। খবর বাসস। এর আগে গত সোমবার কমিশন থেকে মামলা করার অনুমতি দেওয়া হয়। মামলায় অভিযুক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাবিরুল আলম ছাড়া অন্যরা হলেন— খান লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের লিড পার্টনার মো. আতাউর রহমান, ঠিকাদারি কোম্পানি মাহাবুব ব্রাদার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রকল্পের পার্টনার শেখ মাহাবুব রহমান এবং কেডিএ’র সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামীম জেহাদ, নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রকল্প) মো. আরমান হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মুনতাসির মামুন, সহকারী প্রকৌশলী বাসুদেব কুমার বিশ্বাস ও উপ সহকারী প্রকৌশলী শরীফ ওয়াহিদুজ্জামান। দুদকের অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় ঠিকাদার মাহাবুব ব্রাদার্স লিমিটেডকে খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কার্যাদেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী সড়কটি নির্মাণ না করে সরকারের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে-যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি একনেকের সভায় ঐ সড়ক নির্মাণে দীর্ঘ ১৩ বছরের নজিরবিহীন বিলম্বের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে তিনি এর সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। খুলনা দুদকের উপ পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী বলেন, কমিশন মামলা করার জন্য অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু এখন মামলা হয়নি। শিগগিরই মামলা দায়ের করা হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও প্রশাসন থেকে ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী ও বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পুনর্বাসন থামছে না। এর একটি জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছেন মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়ানোর অভিযোগ থাকলেও, পটপরিবর্তনের পর খোলস পাল্টে তিনি এখন বাগিয়ে নিয়েছেন সচিব পদ। সাম্প্রতিক সময়ে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) পদে মাত্র তিন মাসের দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে রেকর্ড পরিমাণ চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। আর সেই অবৈধ অর্থের জোরেই তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিবের পদ বাগিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিতর্কিত অতীত ও ছাত্রলীগী রাজনীতির অনুসারী: চাকরিজীবনের শুরু থেকেই বেপরোয়া দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর। ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে তাঁর ব্যাচমেটদের অনেকেই বারবার বদলি, পদায়ন ও নানা হয়রানির শিকার হয়েছেন। এমনকি সিনিয়র সহকারী সচিব পদেই চাকরি শেষ করতে হয়েছে অনেকের। অথচ আবুল হাছানাতরা কারণে-অকারণে দলবেঁধে টুঙ্গীপাড়ায় গিয়ে শেখ মুজিবের মাজারে হাজিরা দিয়েছেন এবং শেখ হাসিনাকে খুশি রেখে দফায় দফায় পদোন্নতি ও আকর্ষণীয় পদায়ন ভোগ করেছেন। বিরোধীদল দমনের বিভিন্ন কলাকৌশল প্রয়োগ করে ফ্যাসিবাদের শিকড় মজবুত করতে তারা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। খাদ্য অধিদপ্তর ও পরিবহন পুলে হরিলুট: ৫ আগস্টের পর রাতারাতি নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় বদলে নতুন সরকারের প্রভাবশালী মহলে ভিড়ে যান এই কর্মকর্তারা। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আবুল হাছানাত প্রথম পদায়ন পান খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে। সেখানে ১১ মাসের মেয়াদে তিনি প্রায় শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তখনকার সরকারের এক প্রভাবশালী উপদেষ্টার ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে তাকে আখ্যায়িত করা হতো। চার হাজার কোটি টাকার মডার্ন ফুড স্টোরেজ প্রকল্পের লুটপাটেও তার নাম আসে। তদন্তে প্রমাণিত হয় যে, ডিপিপি সংশোধন না করেই মহেশ্বরপাশা সাইলোর ব্যয় ভেরিয়েশনের অবৈধ প্রস্তাব অনুমোদনে তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন। অনিয়ম ফাঁস হওয়ার পর বড় অঙ্কের টাকা খরচ করে তিনি বিএমইটিতে বদলি হন। এর আগে ২০২২ সাল থেকে তিনি সরকারি পরিবহন পুলের কমিশনারের দায়িত্বেও ছিলেন। সেখানেও কেনাকাটার নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ভূমি রেকর্ড ও জরিপে তিন মাসের বেপরোয়া চাঁদাবাজি: খাদ্য অধিদপ্তর ও বিএমইটির পর গত ১৬ জুলাই মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে যোগ দেন। সেখানে মাত্র তিন মাস দায়িত্ব পালনকালেই তিনি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যান। অধিদপ্তরে গুঞ্জন ছিল, ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ হুমায়ুন কবীর অচিরেই সচিব হবেন। এই লক্ষ্য পূরণে তিনি দেশজুড়ে বিশ্বস্ত দালাল চক্র গড়ে তোলেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় পদায়নের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি দেওয়া হতো যে, চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলে শাস্তিমূলক বদলি করা হবে এবং বেনামী অভিযোগ তৈরি করে দুদকে মামলা দেওয়া হবে। এই চাঁদাবাজির অর্জিত অর্থ দিয়েই সচিব পদটি তিনি ‘কিনে নিয়েছেন’ বলে প্রশাসনের অন্দরে তীব্র আলোচনা চলছে। বঞ্চিতদের দীর্ঘশ্বাস ও প্রশাসনের অভ্যন্তরে ক্ষোভ: ১৫তম ব্যাচের এই কর্মকর্তাকে সচিব করার মতো স্বাভাবিক যোগ্যতা বা জ্যেষ্ঠতা কোনোটিই এখন ছিল না, যেখানে ১৮তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের তালিকাও শেষের পথে। অতীতে তার গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগের কারণে সচিব পদের প্রস্তাব বারবার ফেরত এলেও শেষ পর্যন্ত সবাইকে অবাক করে দিয়ে তিনি পদটি দখল করেছেন। এদিকে ১৭ বছর ধরে বঞ্চিত, নির্যাতিত এবং জিয়া-খালেদা জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তারা যখন এই দৃশ্য দেখছেন, তখন তারা কেবল দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে প্রশাসনকে বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হতে হবে। নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি: অভিজ্ঞমহলের মতে, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীরসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অতীত কর্মজীবন ও রাজনৈতিক পরিচয়ের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন জরুরি। পরিবহন কমিশনারের কেনাকাটা, খাদ্য অধিদপ্তর, বিএমইটি এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরে তাঁর তিন মাসের কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়া। কিন্তু পুরোনো ব্যবস্থার সুবিধাভোগীরা যদি নতুন পরিচয়ে অর্থের বিনিময়ে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে প্রভাব ধরে রাখেন, তবে পরিবর্তনের প্রত্যাশা ব্যর্থ হতে বাধ্য। তাই অবিলম্বে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জোর দাবি উঠেছে।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে কোটি কোটি টাকার অনিয়মের এন্তার অভিযোগ, ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার মতো বিতর্কের মধ্যেই ২১ কোটি টাকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রশিক্ষণ প্রকল্পের কার্যাদেশ পেয়েছে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুদ আলমের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করা, কমিশন-বাণিজ্য এবং ভুয়া প্রশিক্ষণার্থী দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট সাবেক ও বর্তমান আমলাদের একটি অংশের তদবিরে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে তার প্রভাব এখনো অটুট রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, গত ১৯ জুলাই যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ‘তথ্য-প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন’ প্রকল্পের প্যাকেজ ১ ও ৩-এর কার্যাদেশ পায় ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড। ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের এসব কাজের পাশাপাশি প্রকল্পটির লিড এজেন্সি হিসেবেও দায়িত্ব পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে প্রকল্পটি ঘিরে শুরু থেকেই অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কমিশন-বাণিজ্য এবং আওয়ামী লীগপন্থী সাবেক ও বর্তমান আমলাদের একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ বাগিয়ে নিচ্ছেন মাসুদ আলম। ভুয়া প্রশিক্ষণার্থী দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সূত্র বলছে, এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন। তবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে শেষ পর্যন্ত সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার কাজ পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে মাসুদ আলমের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। সে সময় থেকেই প্রতিষ্ঠানটির যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। মাসুদ আলমের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। ওই সময়ে মন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকটি প্রকল্প সরাসরি পেয়েছিল তাঁর প্রতিষ্ঠান। বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে মাসুদ আলম বলেছিলেন, ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তাঁদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাঁর বাবা আজাহার উদ্দিন আওয়ামী লীগ করতেন বলে তখন তাঁকে পালিয়ে থাকতে হয়েছিল। ওই সময় তিনি সংসারের দায়িত্ব নেন। ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়াশোনাও শেষ করতে পারেননি। ২০২৩ সালে জাতীয় যুব কাউন্সিলের সভাপতি নির্বাচিত হন মাসুদ আলম। ওই নির্বাচনে তাঁর প্যানেলের ব্যবহৃত পোস্টার ও ব্যানারে শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয় এবং তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের ছবি যুক্ত করা হয়। প্যানেলটি ছিল আওয়ামী লীগ-সমর্থিত। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিলেন মাসুদ আলম। ওই নির্বাচনের পোস্টারে শরীয়তপুরের আওয়ামী লীগদলীয় সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাকের ছবি যুক্ত ছিল। নির্বাচনকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংবাদে মাসুদ আলমের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে বলা হয়েছিল, তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত একজন কর্মী এবং পদ-পদবির পেছনে না ছুটে আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করেছেন। জাতীয় নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রীর নামে ‘শেখ হাসিনাতেই আস্থা’ শীর্ষক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি পেজ—এমএসপিএম—সামরিক সচিব ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পরিচালনা করার কথাও তাঁর পরিচিতিতে উল্লেখ করা হয়েছিল। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মাসুদ আলম বিভিন্ন পুরস্কার পাওয়ার তথ্যও ওই পরিচিতিতে উল্লেখ ছিল। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় পর্যায়ে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ড’ ২০২৩, ‘শেখ হাসিনা ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড’ ২০২২ এবং ‘জাতীয় যুব পুরস্কার ২০২৩’। এ ছাড়া যুবসমাজের মধ্যে উদ্যোক্তা তৈরিতে অবদানের জন্য ২০২২ সালে ঢাকা বিভাগে ‘শ্রেষ্ঠ আত্মকর্মী’ হিসেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পুরস্কার পান। ওই পরিচিতিতে আরো বলা হয়েছিল, মাসুদ আলমের বাবা আজাহার উদ্দিন আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন এবং তাঁর ছোট ভাই রাসেল আলম বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মী। গোসাইরহাট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাকের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছিলেন মাসুদ আলম। গাড়িতে দেড় কোটি টাকা, পরে হস্তান্তর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৭ আগস্ট রাজধানীর উত্তরার হাউস বিল্ডিং এলাকায় একটি প্রাইভেট কার আটক করেন ছাত্র-জনতা। গাড়িটির নম্বর ছিল ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৫-১৫৮১। গাড়িতে প্রায় দেড় কোটি টাকা ভর্তি একটি বস্তা পাওয়া যায়। সে সময় শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল, গাজীপুরের সাবেক মন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের লোকজনকে দেওয়ার জন্য টাকাগুলো নেওয়া হচ্ছিল। এ অভিযোগের ভিত্তিতে তারা গাড়িটি আটক করেছিল। পরে জানা যায়, গাড়িটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার ছিল। সেদিন গাড়িতে মাসুদ আলম নিজেও ছিলেন। তিনি নিজেকে ‘প্রমিজ গ্রুপ’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে পরিচয় দেন। পরে তাঁকে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবে ওই সময় মাসুদ আলম দাবি করেছিলেন, টাকাগুলো তাঁর অফিসের কর্মীদের বেতনের জন্য রাখা হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৬ জেলায় কর্মীদের প্রত্যেককে ছয় লাখ টাকা করে দিতে হয় এবং অফিস ভাড়া বাবদ মাসে ৩২ লাখ টাকা খরচ হয়। ব্যাংক হিসাব ও বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা টাকাসহ আটকের ঘটনার পর মাসুদ আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানের বিষয়টি সামনে আসে। দুদক সূত্রে জানা যায়, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের হিসাবসহ তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবগুলো জব্দ করা হয়। মাসুদ আলম ও তাঁর স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকার বিদেশ ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দেনদরবারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির শত কোটি টাকার ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলেও মাসুদ আলমের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব এখনো জব্দ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের এমডি মাসুদ আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সব মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে এবং ছড়ানো হচ্ছে। উদ্যোক্তা হওয়াটাই আমার ভুল হয়েছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে থাকা ছবি ছড়িয়ে আমাকে ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে। এসব বিষয়ে আর কিছু বলার নেই।’ এ বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি নতুন দায়িত্ব পেয়েছি। এই বিষয়ে আমার আসলে জানা নেই। জানলে হয়তো বলতে পারতাম।’
স্টাফ রিপোর্টার: নারায়ণগঞ্জে একাধিক ভবনে নকশা লঙ্ঘন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ; ঘুষ বাণিজ্য, বিদেশ ভ্রমণ, সম্পদ অর্জন ও পদোন্নতি নিয়ে উঠেছে নানা অভিযোগ নারায়ণগঞ্জে নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৮-এর একাধিক কর্মকর্তা ও ভবনমালিকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে এসব অনিয়ম দেখেও না দেখার ভান করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এতে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জে অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও জননিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ছে। অন্যদিকে রাজউক জোন-৮-এর পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) রাজিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরির শুরুতে যথাযথ অনুমতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ, চাকরির পরীক্ষায় নিজের বোনকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের পরও তাঁর পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়া নিয়ে রাজউকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে। রাজউকের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর দাবি, জোন-৮-এ রাজিয়া সুলতানার প্রভাব এতটাই বেশি যে তাঁকে সংস্থাটির ‘একাই একশো’ ক্ষমতাবান কর্মকর্তা বলেও অভিহিত করা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রাজিয়া সুলতানার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণে বাড়ছে ঝুঁকি নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ভবন নির্মাণে অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়াশফি ডেভেলপার লিমিটেড, সুফিয়া কমপ্লেক্স, সেন্ট্রাল প্লাজা, আছিয়া ম্যানশন, টিপিএল টাওয়ার ও কেএমএস টাওয়ারসহ একাধিক ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাড়ির মালিকদের অভিযোগ, রাজউক জোন-৮ কার্যালয়ে প্রাথমিক ছাড়পত্র থেকে শুরু করে ভবনের নকশা অনুমোদন পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, আগে এসব অনিয়ম কিছুটা গোপনে হলেও বর্তমানে তা প্রকাশ্য আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভবন নির্মাণের নিয়মনীতি অনেক ক্ষেত্রে কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। অনিয়ম প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা, নিয়মিত তদারকিও হচ্ছে না। নয় তলার নকশায় ১০ তলা সুফিয়া কমপ্লেক্স নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ার ৬৯ নম্বর প্লটে সুফিয়া কমপ্লেক্সের বিরুদ্ধে অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নয়তলা ভবনের অনুমোদন নিয়ে সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে ১০ তলা। একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে সেন্ট্রাল প্লাজার বিরুদ্ধেও। অনুসন্ধানে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, ভবনটির গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় গোডাউন তৈরি করে দোকান ভাড়া দেওয়া হয়েছে। ভবনটিতে অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া ভবনের মূল অংশ থেকে নির্ধারিত দূরত্বে রাস্তা রাখার নিয়মও মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ভবনগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা, ট্রান্সফরমার, জেনারেটর ও বিদ্যুতের সাবস্টেশন স্থাপনের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ সত্য হলে ভবনগুলোর বাসিন্দা ও ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়। টিপিএল ও কেএমএস টাওয়ার ঘিরে অভিযোগ নারায়ণগঞ্জে রাজউক জোন-৮-এর কার্যালয়ও টিপিএল টাওয়ারে অবস্থিত। ভবনটিতে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। রাজউক একাধিকবার জরিমানা করলেও ভবনটির অনিয়ম সংশোধন করাতে পারেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। টিপিএল টাওয়ারের পাশেই অবস্থিত কেএমএস টাওয়ারের বিরুদ্ধেও ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সেন্ট্রাল প্লাজার মালিকের সঙ্গে কর্মকর্তাদের সম্পর্কের অভিযোগ সেন্ট্রাল প্লাজার মালিক আলমগীরের সঙ্গে রাজউক জোন-৮-এর কয়েকজন কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংস্থাটির এক কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে ভবনমালিককে নকশাবহির্ভূত নির্মাণকাজের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ওই কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, একই ধরনের অনিয়মে আরও দুটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তবে ভবনগুলোর নাম, অনুমোদিত নকশা ও সংশ্লিষ্ট নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। চাকরির শুরুতে বিদেশ ভ্রমণ নিয়ে প্রশ্ন রাজিয়া সুলতানা ২০১১ সালের ২৪ মার্চ রাজউকে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। অভিযোগ রয়েছে, চাকরিতে যোগদানের পরপরই যথাযথ ছুটি ও সরকারি আদেশ (জিও) ছাড়াই তিনি বিদেশ ভ্রমণ করেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১৭ মে তিনি যুক্তরাজ্যে যান। এ ভ্রমণের অনুমোদন ও ছুটিসংক্রান্ত নথি যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজিয়া সুলতানার ধারাবাহিক বিদেশ ভ্রমণ নিয়েও রাজউকের অভ্যন্তরে আলোচনা রয়েছে বলে জানা গেছে। মালয়েশিয়া, দুবাই, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর ভ্রমণের তথ্য উল্লেখ করেছেন কয়েকটি সূত্র। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র দাবি করেছে, দেশের বাইরে রাজিয়া সুলতানার একাধিক ব্যবসায় বিনিয়োগ রয়েছে। তবে এসব বিনিয়োগের কোনো নির্ভরযোগ্য নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বিদেশ ভ্রমণের নথি পর্যালোচনা করলে বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে বলে ওই সূত্রের দাবি। সম্পদ অর্জন ও পূর্বাচলের প্লট নিয়ে অভিযোগ রাজিয়া সুলতানার নামে ও বেনামে বিপুল সম্পদের অভিযোগ নিয়েও অনুসন্ধান চলছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি পূর্বাচলে বিশেষ ব্যবস্থায় একটি প্লট পেয়েছেন। এ ছাড়া হাজী ক্যাম্পের বিপরীতে দক্ষিণখানে তাঁর পাঁচতলা বাড়ি রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পূর্বাচলের প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সাধারণ ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাটাগরিতে বরাদ্দ পাওয়া একটি প্লট কৌশলে নিজের নামে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে এসব সম্পদ ও প্লট বরাদ্দের বিষয়ে দলিল, বরাদ্দপত্র, আয়কর নথি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নথিপত্র পর্যালোচনা প্রয়োজন। বোনকে চাকরির পরীক্ষায় সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রাজউকের প্রশাসন বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে নিজের বোনকে সংস্থাটির চাকরির পরীক্ষায় অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন রাজিয়া সুলতানা—এমন অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এ ঘটনায় তৎকালীন পরিচালক (প্রশাসন) মুহম্মদ কামরুজ্জামান জড়িয়ে পড়েন এবং বিষয়টি নিয়ে সে সময় রাজউকে আলোচনা তৈরি হয়। বর্তমানে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মুহম্মদ কামরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টি অনেক দিন আগের; তাঁর ঠিক মনে নেই। তবে ওই ঘটনায় কোনো বিভাগীয় তদন্ত, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কিংবা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পদোন্নতি ও চলতি দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন রাজিয়া সুলতানার পদোন্নতি ও চলতি দায়িত্ব পাওয়া নিয়েও রাজউকের অভ্যন্তরে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানা গেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজউকে উপপরিচালক (প্রশাসন) পদে অনুমোদিত পদের সংখ্যা ১১টি। এর মধ্যে আটটি পদ পূরণ করা হয়েছে এবং তিনটি পদ শূন্য ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ওই শূন্য পদের বিপরীতে রাজিয়া সুলতানাকে গুরুত্বপূর্ণ জোন-৮-এর পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) পদে অনুমোদিত ১২টি পদই শূন্য রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, এসব শূন্য পদে দায়িত্ব প্রদানের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন রাজিয়া সুলতানাকে জোন-৮-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হলো? তবে পদসংখ্যা, পদোন্নতি ও চলতি দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধিমালা এবং সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ যাচাই করা প্রয়োজন। দায়িত্ব প্রদানের সিদ্ধান্তে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য এসব নথি গুরুত্বপূর্ণ। পরিচালকের নীরবতা, জবাবদিহি কোথায়? নারায়ণগঞ্জে নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ, অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি এবং রাজউক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে জোন-৮-এর পরিচালক রাজিয়া সুলতানার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে রাজিয়া সুলতানার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাঁকে ক্ষুদে বার্তাও পাঠানো হয়। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, চাকরির শুরুতে বিদেশ ভ্রমণ, সম্পদ অর্জন, চাকরির পরীক্ষায় অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা এবং পদোন্নতি নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে রাজউক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে ভবন নির্মাণের অনুমোদন, নির্মাণকাজের তদারকি এবং অগ্নিনিরাপত্তা বিধিমালা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা জরুরি। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের মতো শিল্পাঞ্চলে এসব ক্ষেত্রে অবহেলা জননিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা।
ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।
বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।
প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবার দেশের স্কুল পর্যায়ে রোবটিক্স শিক্ষা চালু করতে উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের শতাধিক স্কুলে এ পাঠ্যক্রম চালু করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষায় “ভূমিকা ভিত্তিক রোবটিক্স” শীর্ষক একটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করা হয়েছে। এতে থাকবে সহজ প্রোগ্রামিং, সেন্সর ব্যবহার, অটোমেশন ধারণা, এবং ছোটখাটো রোবট তৈরি ও পরিচালনার হাতে-কলমে শিক্ষা। ভবিষ্যতের কর্মদক্ষতা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক হাফিজুর রহমান বলেন, “বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রযুক্তি-ভিত্তিক দক্ষতা সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন। আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্যই এই প্রস্তুতি।” তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে যাতে তারা ক্লাসে রোবটিক্স বিষয়টি সহজভাবে তুলে ধরতে পারেন। শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে ইতোমধ্যে কিছু বেসরকারি স্কুল পরীক্ষামূলকভাবে রোবটিক্স ক্লাব পরিচালনা করছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। রাজধানীর একটি স্কুলের শিক্ষার্থী সানজিদা রহমান জানায়, “আমরা নিজেরাই ছোট একটি রোবট বানিয়েছি, সেটি চলতে পারে এবং নির্দেশ মানতে পারে—এটা ভীষণ রোমাঞ্চকর।” কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে দেশীয় স্টার্টআপ এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে একাধিক দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। ‘টেকল্যাবস বাংলাদেশ’ নামের একটি স্টার্টআপ ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্কুলে লো-কোস্ট রোবটিক্স কিট সরবরাহ শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মত প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রাথমিক স্তরে রোবটিক্স শিক্ষা ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেকাট্রনিক্স এবং অটোমেশন সেক্টরে দক্ষ কর্মশক্তি গড়ার ভিত্তি তৈরি করবে।
শহুরে জীবনে গ্রিন লাইফস্টাইল: চাইলেই কি সম্ভব? শহর মানেই ব্যস্ততা, কংক্রিটের জঙ্গল, দূষিত বাতাস, এবং অনিয়ন্ত্রিত শব্দ। এই যান্ত্রিক পরিবেশে বসবাস করা মানুষ প্রতিদিন একটু সবুজ, একটু প্রশান্তি খোঁজে। তাই ‘গ্রিন লাইফস্টাইল’ বা পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের ধারণা শহরের মানুষদের মাঝেও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই শহুরে বাস্তবতায় আমরা কি সত্যিই গ্রিন লাইফস্টাইল মেনে চলতে পারি? গ্রিন লাইফস্টাইল মানে শুধু গাছ লাগানো নয়। এটি একটি সামগ্রিক জীবনধারা, যেখানে প্রকৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে সহাবস্থানের চেষ্টা থাকে। যেমন—প্লাস্টিক ব্যবহার না করা, পুনর্ব্যবহারযোগ্য জিনিস ব্যবহার করা, গাছ লাগানো, অর্গানিক খাবার খাওয়া, কম দূষণ হয় এমন বাহনে চলাচল করা, বিদ্যুৎ ও পানি সাশ্রয় করা, এমনকি নিজস্ব ছাদে সবজি চাষ করাও এর অংশ হতে পারে। কিন্তু শহরে এই সবকিছু কি সহজে করা যায়? উত্তরটা একদম সরল নয়। শহরের বাসিন্দাদের জন্য অনেক সময় জায়গার অভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফ্ল্যাটে থাকলে ছাদে বাগান করা যায় না, রান্নার সময় প্লাস্টিক প্যাকেট এড়ানোও কঠিন হয়ে পড়ে কারণ বাজারে সহজলভ্য জিনিসপত্রের বেশিরভাগই প্লাস্টিক মোড়ানো। তাছাড়া, ব্যস্ত জীবনযাপনের কারণে সময় বের করাও কঠিন হয়ে পড়ে। তবে আশার কথা হলো, ইচ্ছা থাকলে উপায় বের করা যায়। শহুরে জীবনে কিছু ছোট ছোট অভ্যাস বদলেই শুরু করা যায় সবুজ যাত্রা। যেমন ধরুন, কেউ যদি বাজারের ব্যাগ হিসেবে কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করেন, বা পানির বোতল বারবার রিফিল করেন, তবুও তিনি পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখছেন। অফিসে যাওয়ার সময় যদি বাস বা সাইকেল ব্যবহার করা যায়, তাহলেও কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমে। অনেক শহরেই এখন কমিউনিটি গার্ডেন, ছাদ কৃষি, সোলার প্যানেল স্থাপন, কিংবা জিরো ওয়েস্ট মুভমেন্ট জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। মানুষ নিজেরাই উদ্যোগ নিচ্ছে। ঢাকার মতো ব্যস্ত শহরেও অনেকে নিজেদের ব্যালকনিতে টব বসিয়ে ছোট পরিসরে সবজি ফলাচ্ছেন, কেউ আবার সোলার লাইট ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করছেন। তবে এই চর্চা টেকসই করতে হলে প্রয়োজন নীতিনির্ধারকদের সহায়তা। শহরের পরিকল্পনায় আরও বেশি সবুজ এলাকা, হাঁটার রাস্তা, বাইসাইকেল লেন, এবং রিসাইক্লিং ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তি জরুরি। সরকার যদি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে ভর্তুকি দেয় বা সচেতনতা বাড়ায়, তাহলে মানুষ আরও সহজে গ্রিন লাইফস্টাইল গ্রহণ করতে পারবে। শহুরে জীবন যতই ব্যস্ত হোক না কেন, যদি সচেতনতা থাকে এবং ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে ‘গ্রিন লাইফস্টাইল’ একেবারেই অসম্ভব নয়। বরং, এটি হতে পারে একটি শান্ত, স্বাস্থ্যকর এবং টেকসই জীবনের সূচনা। আমাদের সবারই উচিত নিজ নিজ জায়গা থেকে যতটুকু সম্ভব, পরিবেশবান্ধব পন্থায় জীবনযাপন করার চেষ্টা করা। কারণ প্রকৃতি বাঁচলেই আমরা বাঁচব—এই সত্যটা আজ আরও বাস্তব হয়ে উঠেছে।
সময় বদলেছে, বদলে গেছে আমাদের খাবারের অভ্যাসও। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে এখন খাবার মানেই যেন ফাস্টফুড—বার্গার, পিজ্জা, ফ্রাইড চিকেন, নুডলস বা কার্বনেটেড সফট ড্রিংকস। হেঁসেলে মায়ের রান্না করা ভাত-ডাল-সবজি কিংবা ফলমূলের প্রতি আগ্রহ অনেক কমে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের মূল কারণ প্রযুক্তি ও জীবনের গতি। স্মার্টফোনে স্ক্রল করতে করতে খাবারের অর্ডার দেওয়াটা এখন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস কিংবা বন্ধুদের আড্ডা—সবখানেই ফাস্টফুড এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। ফাস্টফুডের কড়চা ফাস্টফুড খেতে যতটা আকর্ষণীয়, এর স্বাস্থ্যঝুঁকি ততটাই ভয়ের বিষয়। অতিরিক্ত তেল, চিনি ও প্রিজারভেটিভ থাকায় এসব খাবার নিয়মিত খেলে ওবেসিটি, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। নিউট্রিশনিস্ট ডা. সাদিয়া রহমান বলেন, “নতুন প্রজন্মকে শুধু ফাস্টফুড থেকে বিরত রাখতে বললে হবে না, তাদেরকে স্বাস্থ্যকর খাবার সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। খাবার যে শুধু পেট ভরানোর জন্য নয়, বরং সুস্থ থাকার জন্য—এই বার্তাটা পৌঁছাতে হবে।” পুষ্টিকর খাবার কি হার মানছে? দেশি ফলমূল, ডাল, শাকসবজি, ডিম, দুধ—এসবই আমাদের খাবারের ঐতিহ্য। কিন্তু অনেক তরুণ এখন এসবকে 'বোরিং' মনে করেন। অথচ ঠিকমতো রান্না বা পরিবেশন করলে পুষ্টিকর খাবারও হতে পারে সুস্বাদু ও আকর্ষণীয়। শিশুদের খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে অভিভাবকদের ভূমিকাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার সংস্কৃতি তৈরি না হলে শিশুরাও সহজেই ফাস্টফুডের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। সমাধান কী হতে পারে? ১. স্কুলে পুষ্টি শিক্ষা চালু করা। ২. মিডিয়ায় সচেতনতামূলক প্রচার। ৩. হোমমেড ফাস্টফুডের বিকল্প শেখানো। ৪. পরিবারে নিয়মিত ফল ও সবজি রাখা। ৫. সাপ্তাহিক ফাস্টফুড 'ডে' নির্ধারণ করে মাত্রা বজায় রাখা। খাদ্য শুধু স্বাদের জন্য নয়, বরং শরীর ও মনের বিকাশের জন্য। নতুন প্রজন্ম যদি এখনই নিজেদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে সচেতন না হয়, তাহলে আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ হবে আরও ঝুঁকিপূর্ণ।
বর্তমান যুগে স্মার্টফোন কেবল যোগাযোগের একটি মাধ্যম নয়—এটি বিনোদন, শিক্ষা, সামাজিক যোগাযোগ, এমনকি আত্মপ্রকাশের অন্যতম প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু যখন এই প্রযুক্তির ব্যবহার সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন তা হয়ে ওঠে আসক্তি, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক জীবনে। 📉 কীভাবে স্মার্টফোন আসক্তি ক্ষতি করছে কিশোরদের? ১. ঘুমের ব্যাঘাত: রাতে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম ঘুমের সময় হ্রাস করে এবং মানসিক অবসাদ তৈরি করে। ২. মনোযোগ কমে যাওয়া: পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কাজে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ৩. সামাজিক বিচ্ছিন্নতা: ভার্চুয়াল জগতে ডুবে গিয়ে বাস্তব সামাজিক সম্পর্ক দুর্বল হয়ে যায়। 4. নিজেকে নিয়ে নেতিবাচক অনুভূতি: সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের 'পারফেক্ট' জীবন দেখে হীনমন্যতা জন্ম নেয়। ৫. উদ্বেগ ও অবসাদ: প্রতি মিনিটে নোটিফিকেশন চেক করা, প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ে। ✅ কিশোর-কিশোরীদের জন্য করণীয় ১. ডিজিটাল ডিটক্স পরিকল্পনা করুন প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ফোন ছাড়া থাকার অভ্যাস গড়ে তুলুন। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, বই পড়া বা হাঁটতে যাওয়া হতে পারে বিকল্প। ২. স্ক্রিন টাইম নির্ধারণ করুন স্মার্টফোনের সেটিংসে গিয়ে দৈনিক স্ক্রিন টাইম সীমাবদ্ধ করে দেওয়া যায়। ৩. সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সচেতনতা সব কিছু শেয়ার না করা, অনলাইন নেতিবাচকতা থেকে দূরে থাকা, এবং আত্মমর্যাদা বজায় রাখা জরুরি। ৪. শখ ও সৃজনশীল কাজে মনোযোগ দিন ড্রইং, গান, লেখালেখি, খেলাধুলা বা কোনো নতুন দক্ষতা অর্জন স্মার্টফোনের বিকল্প হতে পারে। ৫. মাইন্ডফুলনেস ও মেডিটেশন অনুশীলন করুন মনের প্রশান্তি ও স্ট্রেস কমাতে ধ্যান বা মাইন্ডফুলনেস কার্যকরী ভূমিকা রাখে। ৬. অভিভাবকদের সহযোগিতা জরুরি অভিভাবকদের উচিত কিশোরদের ফোন ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করা, কিন্তু নজরদারির চেয়ে বন্ধুর মতো আচরণ করা আরও কার্যকর। 🧠 মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন কেন গুরুত্বপূর্ণ? কিশোর বয়সে মানসিক স্বাস্থ্য সবচেয়ে নাজুক থাকে। এই সময়টাই হলো আত্মপরিচয়ের গঠনকাল। স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে দিতে পারে, তৈরি করতে পারে বিচ্ছিন্নতা ও আত্মহীনতা। তাই প্রযুক্তিকে বন্ধুর মতো ব্যবহার করলেও, সেটির দাস না হওয়াই শ্রেয়। ✨ উপসংহার স্মার্টফোন আমাদের জীবন সহজ করেছে ঠিকই, কিন্তু অতিরিক্ত ব্যবহার কিশোর-কিশোরীদের ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তাই প্রয়োজন সচেতনতা, ভারসাম্য এবং বিকল্প অভ্যাস। কিশোরদের উচিত নিজেকে ভালোবাসা শেখা, বাস্তব জগতে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করা, আর স্মার্টফোনকে যেন "সহায়ক", কিন্তু "শাসক" না বানানো।
মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে গঠিত আটটি টিমের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৮ নম্বর টিম এ অভিযান পরিচালনা করে। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বালিগ্রাম, সরকার লাট সংলগ্ন , জেসামিয়া মাদ্রাসা এলাকা ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে এ কার্যক্রম চালানো হয়। অভিযানকালে রাজারামপুর এলাকায় ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশার ওষুধ ছিটানো হয়। পাশাপাশি ডেঙ্গু বহনকারী এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে লিফলেট বিতরণ ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণাও চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ৮ নম্বর টিমের লিডার ও পৌরসভার কর নির্ধারক মো. এনামুল হক। এ সময় পৌরসভার মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. নওরোজ হুদা, স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্য এবং পৌরসভার কর্মচারীরা অংশ নেন। অভিযান প্রসঙ্গে মো. এনামুল হক বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু ওষুধ ছিটালেই হবে না, পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত পাত্র ও বিভিন্ন স্থানে মশার বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়। তাই সবাইকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখতে হবে। প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ সচেতনভাবে এগিয়ে এলে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করা সম্ভব।” সংশ্লিষ্টরা জানান, ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি নগরবাসীকেও নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান তারা।
মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে গঠিত ৮টি টিম পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ রবিবার ২৮ অক্টোবর ২০২৬, বিকেলে ৮নং টিমের আওতায় পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের রাজারামপুর, হাজিপাড়া,মাদ্রাসা ও এর আশপাশের এলাকায় মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে।মশক নিধন ও লার্ভা ধ্বংস: ৭নং ওয়ার্ডের রাজারামপুর এলাকায় ফগার মেশিনের সাহায্যে মশার ওষুধ ছিটানো হয় এবং ডেঙ্গুর সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করা হয়।জনসচেতনতা বৃদ্ধি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে লিফলেট বিতরণ এবং মাইকিং করা হয়।অভিযানে নেতৃত্ব দেন টিম লিডার তথা কর নির্ধারক মো. এনামুল হক, পৌর কর্মচারী সংসদের সেক্রেটারি মোঃ আব্দুল আজিজ খাঁন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো.নওরোজ হুদা। এছাড়াও অভিযানে স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যবৃন্দ এবং পৌরসভার-কর্মচারী অন্যান্যরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা গেলেই কেবল ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করা সম্ভব। তাই নিজ নিজ বাড়ি এবং আশপাশের এলাকা সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পাঁচ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে অন্যত্র সংযুক্তিতে থাকা সাত চিকিৎসককে নিজ কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকদের উপস্থিতি, রোগীদের সেবার মান ও হাসপাতালের পরিবেশ পর্যালোচনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় রোগীদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি দুই অসহায় ব্যক্তিকে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তা দেন তিনি। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫১ জন চিকিৎসকের মধ্যে পরিদর্শনকালে ১২ জনকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে সাতজন অন্যত্র সংযুক্তিতে কর্মরত এবং পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে নিজ কর্মস্থলে অনুপস্থিত। এ ঘটনায় অনুপস্থিত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। পরিদর্শনকালে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাসপাতালে ১০টি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন, প্রসূতি মায়েদের জন্য ২০ শয্যার ওয়ার্ড, নবজাতকদের জন্য ২০ শয্যার ব্যবস্থা, পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক ফিজিওথেরাপি সেবা এবং ব্রেস্টফিডিং সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ১৫ থেকে ১৬ দিনের মধ্যে এ প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া আগামী ১ নভেম্বর নতুন করে যোগদান করতে যাওয়া ৪৪৮ জন চিকিৎসকের মধ্য থেকে মুরাদনগর হাসপাতালে চিকিৎসক পদায়নের আশ্বাস দেন তিনি। হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আগের তুলনায় উন্নতি দেখলেও বর্জ্য ও আবর্জনা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। হাসপাতালের ভেতরে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশকে স্বাস্থ্যসেবার জন্য উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখাও জরুরি। হাসপাতালসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, বর্জ্য ফেলার জন্য উপজেলায় উপযুক্ত জমির সংকট রয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উপযুক্ত ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা বিবেচনা করা হবে বলে জানান মন্ত্রী। এ ছাড়া হাসপাতালের বিকল যানবাহনগুলো কনডেমনেশন প্রক্রিয়ায় নেওয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। অ্যাম্বুলেন্স সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থবছরের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। বর্তমান সরকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, মুরাদনগর হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান আগের তুলনায় ভালো মনে হয়েছে। তবে কিছু অনিয়ম তার নজরে এসেছে। এসব বিষয়ে চিকিৎসকদের সতর্ক করা হয়েছে। চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক পদায়ন, আধুনিক চিকিৎসাসুবিধা সম্প্রসারণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের মাধ্যমে মুরাদনগরের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজ ও কার্যকর করার আশ্বাস দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
দেশে ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা) হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ২৯৫ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিভাগভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, চট্টগ্রাম ও খুলনায় ২ জন করে এবং ঢাকা ও বরিশালে ১ জন করে মারা গেছেন। এসময়ে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে একজনের। ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ১ হাজার ২৩২ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫০৪ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ২৪৮ জন রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্তের সংখ্যা ৬৩ জন (যা শুধু ঢাকা বিভাগে শনাক্ত হয়েছে)। এসময়ে হাম রোগীদের মধ্যে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১২৮ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৫৪ জন। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৬ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৮৪ জনে। এর মধ্যে মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার ৫৪১ জন। এসময়ে মোট সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১ হাজার ৩৫ জন এবং নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০৫ জনের। একই সময়ে মোট ১ লাখ ৯৯ হাজার ১২৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৯০ হাজার ৯০ জন।
মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আলোচনা সভা ও বিনামূল্যে ৬০টি মশারি বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ১১টায় বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন নেটওয়ার্কের উদ্যোগে এবং সিসিডিবি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এরিয়া অফিসের সার্বিক সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে ইউনিয়নের সাহসী, একতা ও সন্ধানী মহিলা ফোরামের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে অতিদরিদ্র, প্রতিবন্ধী এবং ফোরামের দরিদ্র সদস্যদের মধ্যে বিনামূল্যে মোট ৬০টি মশারি বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. তৌহিদুল ইসলাম। বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১ নম্বর বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. আতাউল হক কমল। সভায় সভাপতিত্ব করেন বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন নেটওয়ার্ক কমিটির সভাপতি মোছা. মাজকুরা। স্বাগত বক্তব্য দেন সিসিডিবির এরিয়া ম্যানেজার পিটার সরকার। প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ডা. মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা, ব্যক্তিগত সতর্কতা ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি। বাড়ির আশপাশে কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে। ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ ও সচেতনতাই ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. আতাউল হক কমল বলেন, ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ সম্পর্কে জানা, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আলোচনা সভা শেষে এলাকার অসহায়, দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষার লক্ষ্যে অতিথিরা তাদের হাতে মশারি তুলে দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিসিডিবির প্রোগ্রাম অফিসার লিটন বাড়ৈ। কর্মসূচির সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন সিসিডিবি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সমাজ সংগঠক সিনথিয়া বায়েন। এ সময় সংশ্লিষ্ট মহিলা ফোরামগুলোর সভানেত্রী ও সদস্যদের পাশাপাশি সিসিডিবির কর্মকর্তা গিরীশ চন্দ্র বর্মন ও রাজীব বৈদ্য উপস্থিত ছিলেন।
দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন ও ২৩টি পৌরসভার অধীন ১৯২টি আরবান প্রাইমারি হেলথকেয়ার সেন্টার পরিচালনায় ৪১ কোটি ৩৮ লাখ ৫০ হাজার ৬ টাকা বরাদ্দ চেয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিচালন ব্যয় মেটাতে এ অর্থ চাওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বাজেট-১ শাখা থেকে গত ১২ অক্টোবর অর্থ বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ বরাদ্দ চাওয়া হয়। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব সুশীল কুমার পাল। চিঠি সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন পরিচালিত ১২টি সিটি করপোরেশন ও ২৩টি পৌরসভার ১৯২টি আরবান প্রাইমারি হেলথকেয়ার সেন্টার স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে এসব কেন্দ্র বুঝে নিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর কর্মীদের বেতন-ভাতা, ওষুধ, চিকিৎসা ও শল্যচিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। এ জন্য ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত নয় মাসের সম্ভাব্য পরিচালন ব্যয়ের হিসাব করে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। চিঠিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের অনুকূলে প্রাতিষ্ঠানিক কোড সৃষ্টির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বরাদ্দ করা অর্থ সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জনদের অনুকূলে অথরাইজেশনের মাধ্যমে ন্যস্ত করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এ অবস্থায় ১৯২টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিচালন ব্যয় নির্বাহে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের জন্য অর্থ বিভাগের সচিবকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ।
’ জলবায়ু পরিবর্তন ও আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি খাত পুনরুদ্ধার, মানসম্মত বীজের সংকট দূর করা এবং কৃষকদের খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের পূর্বাঞ্চলের পাঁচ জেলায় গড়ে তোলা হচ্ছে ‘বীজ প্রযুক্তি গ্রাম’ বা ‘সীড ভিলেজ’। এ উদ্যোগের আওতায় রয়েছে কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৪০টি উপজেলা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) বাস্তবায়নাধীন ‘বাংলাদেশ সাসটেইনেবল রিকভারি, ইমার্জেন্সি প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স প্রজেক্ট (বি-স্ট্রং)–এগ্রিকালচারাল সিস্টেম রিস্টোরেশন কমপোনেন্ট’-এর মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর লক্ষ্য কৃষকদের নিজস্ব জমিতে মানসম্মত বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়ানো, স্থানীয় বীজব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং প্রয়োজনে দুর্যোগকবলিত এলাকায় দ্রুত বীজের জোগান নিশ্চিত করা। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের আশা, উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে কৃষকদের মানসম্মত বীজের সংকট কমবে। একই সঙ্গে বীজের জন্য বাইরের প্রতিষ্ঠান ও বাজারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কৃষকেরা নিজেরাই বীজ উৎপাদক ও সরবরাহকারী হিসেবে গড়ে উঠতে পারবেন। প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ও যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন ২ শতাংশ বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি অন্তত ৩০ শতাংশ নারীসহ কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং জলবায়ু-সহনশীল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় একাধিক বীজ প্রযুক্তি গ্রাম প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেসব এলাকায় বছরে দুই মৌসুমে ধান এবং অন্য মৌসুমে গম, ডাল, তেল ও মসলাজাতীয় ফসল চাষের সুযোগ রয়েছে, সেসব এলাকাকে বীজ প্রযুক্তি গ্রাম স্থাপনের জন্য নির্বাচন করা হচ্ছে। প্রতিটি উপজেলায় ধান, গম, ডাল, তেল ও মসলাজাতীয় ফসলের জন্য প্রাথমিকভাবে অন্তত তিনটি করে বীজ প্রযুক্তি গ্রাম গড়ে তোলার উদ্যোগ রয়েছে। এ কার্যক্রমে উন্নতমানের ভিত্তিবীজ বা ফাউন্ডেশন সিড এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি), বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা), বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত উন্নত জাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ধান থেকে মসলাজাতীয় ফসলের প্রদর্শনী বীজ উৎপাদনের আধুনিক প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন ফসলের ওপর প্রদর্শনী স্থাপন করা হচ্ছে। ধানের ক্ষেত্রে দুই মৌসুমে ১০ বিঘা করে মোট ২০ বিঘা জমিতে আবাদ করা হবে। এতে অংশ নেবেন পাঁচ থেকে ১০ জন কৃষক। গম, ডাল ও তেলজাতীয় ফসলের প্রতিটির জন্য তিন বিঘা করে জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি প্রদর্শনীতে অংশ নেবেন এক থেকে তিনজন কৃষক। ডালজাতীয় ফসলের মধ্যে রয়েছে মসুর, মাসকলাই, মুগ, খেসারি ও ফেলন। তেলজাতীয় ফসলের মধ্যে রয়েছে সরিষা, সূর্যমুখীসহ অন্যান্য ফসল। অন্যদিকে, পেঁয়াজ, মরিচ ও ধনিয়াসহ মসলাজাতীয় ফসলের প্রদর্শনীর জন্য এক বিঘা জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে অংশ নেবেন এক থেকে দুজন কৃষক। উৎপাদন ও সংরক্ষণে বিশেষ নজর বীজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি (এসসিএ) ও প্রকল্পের প্রতিনিধিরা যৌথভাবে মাঠ পরিদর্শন করছেন। প্রতিটি বীজ প্রযুক্তি গ্রামে অন্তত তিনবার রোগিংয়ের মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত ও ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের গাছ অপসারণের কার্যক্রম রাখা হয়েছে। এ ছাড়া সঠিক দূরত্ব বজায় রেখে চারা রোপণ, স্বাতন্ত্র্যকরণ দূরত্ব নিশ্চিত করা, আগাছা দমন এবং সুষম সার প্রয়োগের মতো প্রযুক্তিগত বিষয় অনুসরণ করা হচ্ছে। প্রকল্প কার্যালয়ের প্রাক্কলন অনুযায়ী, নির্ধারিত জমিতে অনুকূল আবহাওয়া ও যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মানসম্মত বীজ উৎপাদন সম্ভব হবে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, দুই হাজার ৪০০ বিঘা জমি থেকে এক হাজার ৪৪০ মেট্রিক টন ধানবীজ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া ৩৬০ বিঘা জমিতে ১৩৫ মেট্রিক টন গমবীজ, ৩৬০ বিঘায় ৭২ মেট্রিক টন ডালবীজ এবং ৩৬০ বিঘা জমিতে ৫৭ দশমিক ৬০ মেট্রিক টন তেলবীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে ১২০ বিঘা জমি থেকে ৪ দশমিক ৮ মেট্রিক টন মসলাজাতীয় ফসলের বীজ এবং ১২০ বিঘা জমি থেকে ১২০ মেট্রিক টন কন্দ উৎপাদনের প্রাক্কলন করা হয়েছে। উৎপাদিত বীজের গুণগত মান বজায় রাখা ও দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণের জন্য প্রতিটি বীজ প্রযুক্তি গ্রামে ময়েশ্চার মিটার, বীজ সংরক্ষণ পাত্র, ত্রিপল, বস্তা সেলাইয়ের যন্ত্র, সিলার মেশিন, ওজন পরিমাপক যন্ত্র এবং বস্তা বা প্যাকেট সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি বীজ প্রযুক্তি গ্রামে অন্তত দুই হাজার ৫০০ কেজি ধানবীজ, ৬০০ কেজি গমবীজ, ২০০ কেজি ডালবীজ, ১০০ কেজি তেলবীজ এবং দুই কেজি পেঁয়াজবীজ অথবা ২০০ কেজি পেঁয়াজের কন্দ সংরক্ষণ করবেন কৃষকেরা। বীজের লেনদেনের তথ্য থাকবে নিবন্ধনে বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে বীজের লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। কোন কৃষক কার কাছে কত পরিমাণ বীজ বিক্রি বা বিনিময় করছেন, তা নিবন্ধনে লিপিবদ্ধ করবেন সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা (এসএএও)। এসব তথ্যের প্রতিবেদন প্রতি তিন মাস পরপর প্রকল্প কার্যালয়ে পাঠানো হবে। এর ফলে কোন এলাকায় কী পরিমাণ বীজ উৎপাদিত হচ্ছে, কোথায় কত বীজ সংরক্ষিত রয়েছে এবং কৃষকদের মধ্যে কী পরিমাণ বীজ লেনদেন হচ্ছে, সে বিষয়ে তথ্যভিত্তিক ধারণা পাওয়া যাবে। ভবিষ্যতে বন্যা বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বীজের সংকট দেখা দিলে স্থানীয় পর্যায় থেকে বীজ সংগ্রহের সুযোগও তৈরি হবে। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কৃষক আবু আহম্মেদ বলেন, আমরা এখন নিজেরাই নিজেদের বীজের চাহিদা পূরণ করতে পারছি। পাশাপাশি অন্য কৃষকদেরও বীজ সরবরাহ করতে পারছি। তিনি বলেন, সীড ভিলেজের মাধ্যমে ভালো মানের বীজের ঘাটতি পূরণ হবে বলে আশা করছি। আগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে বীজ কিনে অনেক সময় প্রতারিত হতাম। বীজ প্রযুক্তি গ্রামের মাধ্যমে এ সমস্যা দূর করা সম্ভব হবে। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির খান বলেন, সদর দক্ষিণ উপজেলার অবস্থান লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে হওয়ায় এখানকার মাটি কৃষিকাজের জন্য বেশ উপযোগী। এ অঞ্চলে ফসলের নিবিড়তাও বেশি। কৃষকেরা সাধারণত একই জমিতে বছরে দুই থেকে তিনটি ফসল আবাদ করেন। তিনি বলেন, সঠিক পরামর্শ ও আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব। ভালো মানের বীজ পাওয়া সব মৌসুমেই কৃষকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কৃষকেরা নিজেদের উৎপাদিত ফসল থেকে বীজ সংরক্ষণ করতে পারলে মানসম্মত বীজের সংকট অনেকটাই দূর করা সম্ভব হবে। কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, সীড ভিলেজ (বীজগ্রাম) গড়ে তোলা হলে কৃষকেরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন। বীজের জন্য বিদেশের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে না, এমনকি বীজ উৎপাদনে কোম্পানির ওপরও নির্ভরশীল থাকতে হবে না। কৃষকেরা নিজেরাই মানসম্মত বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ করতে পারবেন। পাশাপাশি, তারা চাইলে বীজ উৎপাদন ও বিপণনের মাধ্যমে এটিকে একটি লাভজনক ব্যবসা হিসেবেও গড়ে তুলতে পারবেন। বি-স্ট্রং প্রকল্পের পরিচালক কৃষিবিদ সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, দেশের কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সব উপজেলায় (৪০) ‘সীড ভিলেজ’ গড়ে তোলা হবে। বীজ প্রযুক্তি গ্রামের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে গুণগত ও মানসম্মত বীজ উৎপাদক দল গড়ে তোলা হচ্ছে। এটি শুধু একটি সাময়িক কৃষি উদ্যোগ নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং স্থানীয় কৃষকদের নিজস্ব বীজ উৎপাদক ও বিক্রেতা হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ।
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে গত বছরের লোকসানের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশায় নতুন করে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হয়েছে এই আগাম জাতের আলু রোপণ। আমন ধান ও অন্যান্য ফসল কাটার পর জমি ফেলে না রেখে বাড়তি আয়ের আশায় আলু চাষ করছেন তারা। তবে বীজ, সার, জ্বালানি ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধিতে এবারও উৎপাদন খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকেরা। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বছরের এই সময়ে বাজারে আলুর সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় আগাম জাতের আলু ভালো দামে বিক্রির সম্ভাবনা থাকে। এই আশাতেই প্রতি বছর অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আগাম আলু চাষ শুরু করেন তারা। কিন্তু গত বছর প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় অনেক কৃষককে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হয়েছিল। সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতেই এবার নতুন উদ্যমে মাঠে নেমেছেন তারা। কৃষকরা জানান, আলু চাষে উৎপাদন খরচ প্রতি বছরই বাড়ছে। গত বছর যে বীজ ১ হাজার ২০০ টাকায় কেনা হয়েছিল, এবার তা কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। পাশাপাশি সার, ডিজেল বা জ্বালানি এবং শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে। এ ছাড়া সার সংগ্রহের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র ব্যবহারের বাধ্যবাধকতায় কিছু ভোগান্তির কথাও জানিয়েছেন তারা। ফলে ভালো ফলন হলেও বাজারে ন্যায্য দাম না পেলে আবারও লোকসানে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা। স্থানীয় কৃষক রফিকুল, গোলাম মাওলাসহ অনেকেই জানান, গত বছরের লোকসান এখনো তারা কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তবুও জমি ফেলে না রেখে আগাম আলু চাষ করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলনের আশা করছেন তারা। তবে উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আলুর দাম না পেলে সেই আশা হতাশায় পরিণত হতে পারে। এদিকে, আগাম আলু রোপণকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ শ্রমবাজারেও কর্মচাঞ্চল্য বেড়েছে। আমন ধান কাটার পর জমি প্রস্তুত, আলু রোপণ ও পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় শ্রমিকেরা। এতে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত শ্রমজীবী মানুষের সাময়িক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জসিম উদ্দীন বলেন, গত সপ্তাহ থেকে উপজেলায় আগাম জাতের আলু চাষ শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১২ হেক্টর জমিতে আলু রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। আগাম জাতের এই আলু ৫০ থেকে ৫৫ দিনের মধ্যেই উত্তোলন করা যায়। কৃষি বিভাগের যথাযথ পরামর্শ মেনে চাষাবাদ করলে কৃষকেরা ভালো ফলন পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। কৃষকদের প্রত্যাশা, ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে আলুর ন্যায্য দাম নিশ্চিত হোক। এতে গত বছরের লোকসান কাটিয়ে তারা সংসারে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারবেন। আপনার পাঠানো মূল প্রতিবেদনে তথ্য এবং বিন্যাস বেশ ভালো ছিল। সামান্য কিছু বানান ও বাক্য গঠন পরিমার্জন করে এটিকে আরও প্রমিত সংবাদ রূপ দেওয়া হয়েছে। এটি কি কোথাও প্রকাশের জন্য প্রস্তুত করছেন?
এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে খাদ্যনিরাপত্তা, পুষ্টি ও কৃষিনির্ভর মানুষের জীবিকা সুরক্ষায় নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। একই সঙ্গে এল নিনোর কারণে সৃষ্ট জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি জোরদার করতে তিমুর-লেস্তে ও ফিলিপাইনে একটি নতুন অংশীদারত্ব গড়ে তোলা হয়েছে। এ উদ্যোগের আওতায় প্রায় ৪৩ হাজার মানুষকে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এক আঞ্চলিক নীতিসংলাপে এসব বিষয় উঠে আসে। এতে বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রতিনিধি, রাষ্ট্রদূত, উন্নয়ন সহযোগী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এবারের বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ছিলÑ ‘আজ উদ্ভাবন, আগামীতে পুষ্টি’। প্রসঙ্গত, এল নিনো (El Niño) হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত প্রক্রিয়া, যা মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে ঘটে। স্বাভাবিক অবস্থায় প্রশান্ত মহাসাগরের পুবালী বায়ু উষ্ণ জলকে এশিয়ার দিকে ঠেলে নিয়ে যায় এবং দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলে নিচের ঠান্ডা জল ওপরে উঠে আসে। কিন্তু এল নিনো চলাকালীন এই বায়ুপ্রবাহ দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে উষ্ণ জল আর এশিয়ার দিকে না গিয়ে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরেই জমা হতে থাকে এবং সাগরে সঞ্চিত বিপুল পরিমাণ তাপ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে বৈশ্বিক আবহাওয়া এলোমেলো করে দেয়। উদ্ভাবনের সঙ্গে বিনিয়োগের তাগিদ এফএওর এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সহকারী মহাপরিচালক ও আঞ্চলিক প্রতিনিধি আলু দোহং বলেন, শুধু উদ্ভাবন দিয়ে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। নতুন ধারণা ও প্রযুক্তিকে কার্যকর করতে অংশীদারত্ব এবং বিনিয়োগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এমন কৃষি-খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যা হবে দক্ষ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম ও টেকসই। এর মাধ্যমে বর্তমান প্রজন্মের খাদ্যচাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক সম্পদও সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে। নীতিসংলাপে কৃষি-খাদ্যব্যবস্থার রূপান্তরের তিনটি ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়। এগুলো হলোÑ খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টিতে উদ্ভাবনের ব্যবহার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং খাদ্যনিরাপত্তা, পুষ্টি ও দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি। আলোচনায় নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী সমাধানকে বৃহত্তর পরিসরে কাজে লাগানোর জন্য সহায়ক নীতি, বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসব উদ্যোগের সুফল যেন অঞ্চলটির সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়েও জোর দেওয়া হয়। এল নিনোর ক্ষতি কমাতে নতুন অংশীদারত্ব ব্যাংককের নীতিসংলাপের অন্যতম উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হলো এল নিনোর প্রভাব মোকাবিলায় পর্যবেক্ষণ, প্রস্তুতি ও আগাম পদক্ষেপ জোরদার করা। এ উদ্যোগে এফএওর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সুইজারল্যান্ড সরকার ও সুইস উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিস ফেডারেশন এবং তিমুর-লেস্তে রেড ক্রস। উদ্যোগটির লক্ষ্য তিমুর-লেস্তে ও ফিলিপাইনের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে জলবায়ুসংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য বিপর্যয়ের আগেই প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। এর মাধ্যমে প্রায় ৪৩ হাজার মানুষের কাছে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এফএওর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোই এ অংশীদারত্বের মূল উদ্দেশ্য। এর ফলে খাদ্যনিরাপত্তা ও মানুষের জীবিকা সুরক্ষায় সহায়তা পাওয়া যাবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর সম্ভাব্য ক্ষতির মাত্রা কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ সহযোগিতা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হয়। আঞ্চলিক সহযোগিতায় জোর কৃষি-খাদ্যব্যবস্থার সমস্যাগুলো একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে নীতিসংলাপে তুলে ধরা হয়। এফএওর উপ-আঞ্চলিক প্রতিনিধি কেন শিমিজু আলোচনায় উঠে আসা বিষয়গুলো পর্যালোচনা করেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, কৃষি-খাদ্যব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিভিন্ন খাত, প্রতিষ্ঠান ও দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে হবে। ভবিষ্যতের জন্য সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অংশীদারত্ব এবং বিপর্যয়ের আগেই প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আন্দালিব ইলিয়াস, মঙ্গোলিয়ার রাষ্ট্রদূত ওইউ ভাশা, নেপালের রাষ্ট্রদূত ধন বাহাদুর ওলি এবং পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত সাদিয়া আলতাফ কাজি অংশ নেন। এ ছাড়া সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত ফ্যাব্রিস ফিলিয়েজ, থাইল্যান্ডের কৃষি ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপস্থায়ী সচিব পংথাই থাইয়োতিন এবং বিভিন্ন দেশের সরকারি ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। নীতিসংলাপের সমাপনীতে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা, টেকসই জীবিকা গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি করতে কৃষি-খাদ্যব্যবস্থার রূপান্তরে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করা হয়।
বগুড়ার বিসিক শিল্পনগরীতে জায়গা সংকটের মধ্যেও তৈরি হচ্ছে কৃষি যন্ত্রাংশ। দেশের ৮০ শতাংশ কৃষি যন্ত্রাংশ তৈরি হয় এখানে। বছরে হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হয় এখানকার ঢালাই কারখানায় বানানো যন্ত্রপাতিতে। এদিকে দুই দশক ধরে ফাইলবন্দি থাকা বগুড়ার বিসিক শিল্পপার্ক প্রকল্প এবার আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। ৪০০ একর জমিতে এই শিল্পপার্কে শতাধিক কলকারখানার পাশাপাশি সৃষ্টি হবে ব্যাপক কর্মসংস্থান। ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে ঘোষণা দেন, আগামী শীতে এই শিল্পপার্কের কাজ শুরু হতে পারে। এতে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। হাজারো শ্রমিকের মেধা আর শ্রমে জাহাজ ভাঙা লোহা থেকে তৈরি হচ্ছে কৃষির অতিজরুরি যন্ত্রাংশ। কৃষি যন্ত্রাংশ তৈরি করে নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন এ শিল্পনগরীর উদ্যোক্তারা। বগুড়ায় তৈরি এসব যন্ত্রাংশ বিক্রি হচ্ছে সারা দেশে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ শিল্পে কাজ করছেন ৩০ হাজারের বেশি শ্রমিক। বছরে লেনদেন হচ্ছে প্রায় হাজার কোটি টাকা। বিসিক শিল্পনগরী ঘুরে দেখা গেছে, এখানে তৈরি হচ্ছে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত সেচ পাম্প, লাইনার, পিস্টন, টিউবওয়েল, পাওয়ারটিলারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, লেদ মেশিন ও গাড়ির ব্রেক ড্রাম। এছাড়া করাতকল, ফ্লাওয়ার মিল, টেক্সটাইল মিল, অয়েল মিল, এমনকি ধান কাটার মেশিনসহ অন্যান্য মেশিনের যন্ত্রাংশও তৈরি করা হচ্ছে। শ্যালো ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ, যানবাহনের ছোট পার্টস, কলকারখানার প্রয়োজনীয় পার্টসসহ কৃষির প্রায় সব যন্ত্রাংশ বগুড়ায় তৈরি হয়। কৃষির জন্য পাওয়ারটিলারের লোহার চাকা, শ্যালো মেশিন দিয়ে মাটির নিচ থেকে পানি তুলতে সেন্ট্রিফিউগাল পাম্প, গজল পিন ও লাইনার হেডপিটও তৈরি হচ্ছে। এসব যন্ত্রাংশের ওপর দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের নির্ভরতা বাড়ছে। এসব যন্ত্রাংশ দেশের বিভিন্ন জেলায় ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন দামে কৃষিকাজে ব্যবহারযোগ্য এসব যন্ত্রাংশ বিক্রি হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। জাহাজ ভাঙা লোহা গলিয়ে ঢালাই কারখানায় নিয়ে এসব পণ্য বানানো হয়। ফিনিশিংয়ের জন্য রয়েছে প্রায় এক হাজার লেদমেশিন কারখানা। ব্যবসায়ীরা জানান, স্বাধীনতার আগে থেকে বগুড়ায় বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশের খুচরা পার্টস তৈরি হতে থাকে। শহরের ফুলবাড়ি এলাকায় বিসিক শিল্প ও কাটনারপাড়াসহ বেশকিছু এলাকায় এসব যন্ত্রাংশ তৈরি হতে থাকে। এক পর্যায়ে কারখানাগুলোর বিকাশ বেড়ে যাওয়ায় বগুড়া বিসিক শিল্প এলাকার প্লট শেষ হয়ে যায়। বেশকিছু প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে শহরের ফুলবাড়ি, গোহাইল রোড, রেলওয়ে মার্কেট, শাপলা মার্কেট, কাটনারপাড়া, ভবের বাজার চারমাথা, তিনমাথা ও বনানী এলাকায়। এসব কলকারখানায় তৈরি বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশ ব্যবহার হয়ে থাকে বাসাবাড়ি, কারখানা ও কৃষিকাজে। দেশের কৃষি যন্ত্রাংশের মোট চাহিদার ৮০ শতাংশের জোগানদাতা বগুড়ার ফাউন্ড্রি শিল্প। বগুড়া বিসিকের মিল্টন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের স্বত্বাধিকারী আজিজার রহমান মিল্টন জানান, আশির দশকে ব্যক্তি উদ্যোগে বগুড়াতে প্রথম ফাউন্ড্রি শিল্পকারখানা গড়ে ওঠে। উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় ঢালাইনির্ভর প্রায় ১০০ শিল্পকারখানা রয়েছে। এর মধ্যে বগুড়ার ২৭ কারখানায় অন্তত ৮০ ভাগ যন্ত্রাংশ তৈরি হয়। লোহা গলিয়ে বর্তমানে ১৬ ধরনের উন্নত যন্ত্রাংশ তৈরি হচ্ছে। বিসিক কর্মকর্তারা জানান, ১৯৬৪ সালে শহরের ফুলবাড়ি এলাকায় সাড়ে ১৪ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হয় বিসিক শিল্পনগরী। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই শেষ হয়ে যায় প্লটগুলো। উদ্যোক্তাদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৮০ সালে আরো ১৮.৬৭ একর জায়গা সম্প্রসারণ করা হয়। কিন্তু সেটির বরাদ্দও ১৯৯০ সালের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। এভাবে দুই দফায় ২৩৩ প্লটে ৮৫টি শিল্প ইউনিট গড়ে ওঠে। বিএনপি সরকার ২০০৫ সালে শিল্পোদ্যোক্তাদের আগ্রহে দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরী সম্প্রসারণে প্রকল্প গ্রহণ করে। তবে ২০০৬ সালের অক্টোবরে বিএনপি ক্ষমতা ছাড়ার পর এটি ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে। বিএনপি চলতি বছর পুনরায় সরকার গঠন করার পর ২০ বছর আগের বিসিকের পক্ষ থেকে বগুড়ায় শিল্পনগরী সম্প্রসারণের সেই প্রকল্প সামনে আনা হয়েছে। বগুড়া বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি জানান, বগুড়ায় ইঞ্জিন বাদে প্রায় সব ধরনের পার্টস তৈরি হয়। বগুড়া মোটরসের তৈরি করা এয়ার ফিল্টার, মবিল ফিল্টার ইংল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশে রপ্তানি করা হয়। এসব পার্টস দেশের প্রায় সব জেলায় কম-বেশি বিক্রি হয়। এ পেশার সঙ্গে জড়িয়ে আছেন প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক। বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, যদি বড় শিল্পপার্ক না হয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কারখানা নির্মাণ হয়, তাহলে কৃষিজমি নষ্ট হবে। পুরান বগুড়া তিনমাথা রেলগেট টু কাহালু আঞ্চলিক রাস্তার পাশে ফাঁপোর ইউনিয়নের কৈচর এলাকায় প্রস্তাবিত এই শিল্পপার্কটি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আতিকুর রহমান বাদল ও সহসভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, ইতোমধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বগুড়ায় এসে এর ঘোষণা দিয়েছেন। আমাদের প্রত্যাশা, এখানে যেন কোনো গাফিলতি না হয়। আমরা আশাবাদী, খুব তাড়াতাড়িই আলোর মুখ দেখতে পারব। শিল্পপার্ক নির্মিত হলে বগুড়াকে ঘিরে উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে।
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্যের বাজারে। দাম বাড়ার এক দিনের মধ্যেই বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ডিজেলের দাম লিটারে ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে। কেরোসিনের দাম ১৩৫ থেকে বেড়ে ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা হয়েছে। চলতি বছরে এটি জ্বালানি তেলের দামে তৃতীয় দফা বৃদ্ধি। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সবজি পরিবহনে। ঢাকার কারওয়ান বাজারে ময়মনসিংহ, জামালপুর ও টাঙ্গাইল থেকে সবজি আনা আড়তদার মো. খলিলুর রহমান বলেন, একেকটি ট্রাকে পরিবহন খরচ কয়েক হাজার টাকা বেড়েছে। তার হিসাবে, ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় একটি ট্রাকের ভাড়া ১৪ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮ হাজার ৫০০ টাকা হয়েছে। বাড়তি পরিবহন ব্যয় শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের ওপরই পড়বে বলে জানান তিনি। মানিকগঞ্জ থেকে সবজি আনা পাইকারি ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান বলেন, তার একটি পরিবহনের ভাড়া ২ হাজার ৬০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩ হাজার ৫০০ টাকা হয়েছে। বাড়তি ব্যয় নিজের পকেট থেকে বহন করা সম্ভব নয়। ফলে এই ব্যয় ক্রেতার কাছ থেকে আদায় করতে হবে। তার হিসাবে, কিছু সবজির দাম কেজিতে প্রায় ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। কেরানীগঞ্জ মডেল টাউনের খুচরা সবজি বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে এক দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। দাম আরো বাড়তে পারে। কারওয়ান বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা শাহানাজ বেগম বলেন, আগের দিনের তুলনায় মঙ্গলবার সকালে আড়তেই দাম বেড়েছে। ফলে কিছুটা লাভ রেখে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে আরও কিছুদিন পর নতুন সবজি বাজারে এলে দাম কমতে পারে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, শুধু সবজি নয়, দূরবর্তী এলাকা থেকে ঢাকাসহ বড় শহরে চাল, মাছ, মাংস, ডিম, আলু ও পেঁয়াজসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনে ডিজেলনির্ভর যানবাহন ব্যবহার করা হয়। ফলে পরিবহন খরচ বাড়লে উৎপাদনস্থল থেকে পাইকারি বাজার এবং সেখান থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে বাড়তি ব্যয় যুক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সিপিডির গবেষক গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় ভোগান্তি সাধারণ মানুষের ওপর পড়তে পারে। এর প্রভাব শুধু খাদ্যপণ্যে নয়, খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের ওপরও পড়বে। তিনি পরিবহন ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে নজরদারি জোরদারের পরামর্শ দিয়েছেন। বেনাপোল স্থলবন্দরেও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর ট্রাক ভাড়া বেড়েছে। ব্যবসায়ী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, স্থানভেদে ট্রাক ভাড়া ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে বেসরকারি কনটেইনার ডিপোগুলোতে হ্যান্ডলিং চার্জ গড়ে ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এতে আমদানি করা পণ্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছাতে বাড়তি খরচ হবে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই অতিরিক্ত ব্যয় শেষ পর্যন্ত পণ্যের বিক্রয়মূল্যে প্রতিফলিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাবও এসেছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) প্রস্তাব অনুযায়ী, দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা এবং শহরের বাসে ১৮ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি সামনে এসেছে। এরই মধ্যে কিছু রুটে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে ৮ পয়সা এবং সিটি সার্ভিসের বাসে ১০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। একই সঙ্গে লঞ্চের ভাড়া প্রতি নটিক্যাল মাইলে ৫ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এএসএম আহম্মেদ খোকন বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ায় ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে একটি বাসে শুধু জ্বালানি বাবদ প্রায় ৪ হাজার টাকা বাড়তি খরচ হচ্ছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভাড়া সমন্বয় করা হবে বলে জানান তিনি। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয়ের চাপের কথা বলছে সরকার। জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে আগস্ট সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও জাহাজভাড়া বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) বড় ধরনের লোকসান হয়েছে। বিভাগের হিসাবে, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যে ডিজেলে বিপিসির লিটারপ্রতি লোকসান প্রায় ৮৯ টাকা। নতুন দাম কার্যকর করার ফলে বার্ষিক লোকসান কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় না করলে সরকারের টিকা কর্মসূচি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও কম মূল্যে খাদ্য সরবরাহের মতো কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটতে পারত। জনগণের ওপর এর প্রভাবের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জ্বালানি তেলের দাম আবার সমন্বয় করে আগের পর্যায়ে বা তার চেয়েও কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে দেশের অর্থনীতিকেও সেই চাপ বহন করতে হয়। নিত্যপণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বাজার নজরদারি জোরদারের কথাও জানিয়েছেন তিনি। অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ানো বা অতিরিক্ত মুনাফার চেষ্টা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব শুধু পণ্যের বাজারে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরিবহন, কৃষি, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় বাড়লে পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয়ও বাড়বে। আয় একই থাকলে মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সীমিত আয়ের পরিবারগুলোতে এর প্রভাব তুলনামূলক বেশি হতে পারে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এম শামসুল আলমও মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেলে সরকার জ্বালানি খাত থেকে যে রাজস্ব বা ভর্তুকি-সংক্রান্ত সুবিধা পাওয়ার আশা করছে, তার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রথম ধাক্কা ইতোমধ্যে পরিবহন ও নিত্যপণ্যের বাজারে দেখা যাচ্ছে। এখন উৎপাদন, পরিবহন ও বিপণনের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে এই বাড়তি ব্যয় নিত্যপণ্যের খুচরা বাজারে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই বড় প্রশ্ন। বিশেষ করে দূরবর্তী এলাকা থেকে শহরের বাজারে আসা সবজি, মাছ, মাংস ও চালের ওপর দ্রুত প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, পরিবহন ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা এবং বাড়তি দামের সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা ঠেকাতে নজরদারি জোরদার করা গেলে মূল্যবৃদ্ধির চাপ কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, এখন সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কুড়িগ্রামে সার সংকট দেখা দিয়েছে। রাত ৩টায় ডিলার পয়েন্টে লাইনে দাঁড়িয়েও সার পেলেন না কৃষকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করেও সার না পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশায় বাড়ি ফিরছেন তারা। সার সংকটে আমনের ফলনে বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা করছেন তারা। মঙ্গলবার জেলার রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নে সার বিতরণের খবর পেয়ে ভোর ৩টা থেকেই শত শত কৃষক মেসার্স শাহজাহান সিরাজ ডিলার পয়েন্টে জড়ো হতে থাকেন। সকাল ৬টা পর্যন্ত পুরুষ ও নারীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। এরপর কয়েক হাজার কৃষকের সমাগমে সেখানে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে সিরিয়াল ভঙ্গ করে সার উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকেই সার না পাওয়ায় উত্তেজনা দেখা দেয়। সুরমান ও সাদেক আলী নামের দুই কৃষক বলেন, ‘আমরা রাত ৩টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও সার পাইনি। ডিলার সার বিতরণ করেছে ৫৬০ বস্তা, অথচ কৃষকের চাহিদা প্রায় ৫ হাজার বস্তা। কৃষকেরা সার না পেলে এবার ধানের আবাদ খারাপ হবে।’ চরসাজাই গ্রামের তাইছার আহমেদ বলেন, ‘সার দেওয়ার কথা শুনে ভোর ৫টায় আসি। এসে দেখি হাজার হাজার মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। প্রচণ্ড গরমে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করে সার পাইলাম না। কৃষি বিভাগ বলছে সারের সংকট নেই, তাহলে আমি সার পেলাম না কেন?’ মেসার্স শাহজাহান সিরাজ ডিলার পয়েন্টের পরিচালক ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমরা ৪৬ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ পেয়েছিলাম। এর মধ্যে কয়েক দিন আগে ১৮ টন বিতরণ করেছি এবং আজ ২৮ টন বিতরণ করলাম। এই ইউনিয়নে মাত্র দুজন ডিলার হওয়ায় কৃষকদের চাপ অনেক বেশি।’ এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘রোপা আমনের জন্য সারের কোনো ঘাটতি নেই। তবে সামনে কৃষকেরা ভুট্টা চাষ করবেন, তাই অনেকে আগে থেকেই সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন।’
ড. ফজলে রাব্বি ছাদেক আহমাদ, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের পরিবেশ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অ্যাজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি, জলবায়ু সম্মেলন ও অর্থায়ন নিয়ে একটি সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন। তিনি টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অবৈতনিক সদস্য এবং ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন-ইএসডিওর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা।সাক্ষাৎকারটি সমকালের জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক মাহফুজুর রহমান মানিক গ্রহণ করেছেন। ড. ফজলে রাব্বি জানিয়েছেন, কপ৩১ তুরস্কে অনুষ্ঠিত হবে এবং বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর সাথে একসঙ্গে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, সম্মেলনে অর্থায়ন বাড়ানো এবং জলবায়ু অর্থায়নের গুণগত মান নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়।তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলো অনুদান এবং ঋণ প্রদান করে, তবে এই অর্থায়ন প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত। উন্নত দেশগুলো ঋণ দিতে চায় এবং বাজার হারে সুদ নিয়ে মুনাফা পেতে চায়।ড. ফজলে রাব্বি আরও জানান, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুতির কারণে মানুষের জীবিকা নষ্ট হচ্ছে এবং জমি নষ্ট হচ্ছে। তিনি বলেন, বাস্তুচ্যুত মানুষের কর্মসংস্থান ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা জরুরি।এদিকে, প্রধানমন্ত্রী এবারের সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন এবং জলবায়ু অর্থায়ন প্রদানকারীদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিতে পারেন।
কেরানীগঞ্জের কালিগঞ্জ-আগানগর এলাকায় সোমবার সকালে পরিবেশ অধিদপ্তর ১০টি অবৈধ ধোয়া ও রং কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে।এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং ও আইন প্রয়োগ শাখার পরিচালক মাহবুব জামিল। অভিযানে ঢাকা জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ড, বাংলাদেশ পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ, ডিপিডিসি এবং স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।অভিযানে অংশ নেওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে কোনটিই পরিবেশ বা স্থানীয় ক্লিয়ারেন্স পায়নি। কারখানাগুলো নদীতে তরল বর্জ্য সরাসরি নিষ্কাশন করার অভিযোগ রয়েছে, যা ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) ছাড়া করা হয়েছে।এই অভিযান প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অধীনে গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়। অভিযানের প্রস্তুতি এবং সচেতনতা কার্যক্রম শ্যামপুর এলাকায় দেড় মাস আগে শুরু হয়েছিল।নভেম্বর মাস থেকে অভিযানটি তীব্র করা হয়েছে। কিছু কারখানার মালিকদের বিদ্যুৎ সংযোগ আগে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল, কিন্তু তারা নতুন বা ভিন্ন নামে আবার কার্যক্রম শুরু করেছে।অনেক কারখানা জনবহুল আবাসিক এলাকায়, স্কুল ও শিশুদের কাছে অবস্থিত, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি। বন্ধ হওয়া কারখানার মালিকদের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্রের সংখ্যা এবং মোবাইল নম্বর সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থাগুলোর কাছে পাঠানো হবে যাতে তারা আবার অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ না পায়।বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার পর যারা অবৈধভাবে কারখানা চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তর এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
বম্বে হাইকোর্ট বৃহন্মুম্বাই পৌরসভাকে নির্দেশ দিয়েছে বায়ুদূষণ রোধে উদ্যোগী হতে।এই নির্দেশনার পর পৌরসভা দিয়া মির্জাকে ভিডিও বার্তা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিল। দিয়া মির্জা বিনা পারিশ্রমিকে ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন, যেখানে তিনি বায়ুদূষণকে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।তবে বিজেপি এবং শিবসেনার আপত্তির কারণে দিয়া মির্জার ভিডিও বার্তা পৌরসভার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পৌরসভা জানিয়েছে, জনরোষের কারণে ভিডিওটি সরানো হয়েছে।বিজেপির মুম্বাই শাখার সভাপতি অমিত সাটম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিয়া মির্জার ভিডিও বার্তা নিয়ে মন্তব্য করেছেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে ক্ষতি বাড়ছে। ‘ল্যানসেট কাউন্টডাউন ২০২৬: স্বাস্থ্য ও জলবায়ু পরিবর্তন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।প্রতিবেদনটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে তীব্র গরমের কারণে বাংলাদেশে আয়ক্ষতি ১ হাজার ৭৫০ কোটি মার্কিন ডলার হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ২ লাখ ১৭ হাজার ২৬৪ কোটি টাকা।১৯৮৬ ও ২০০৫ সালের তুলনায় শিশুদের মধ্যে তাপপ্রবাহের ঝুঁকি ১৬২ শতাংশ বেড়েছে। প্রবীণদের মধ্যে এই ঝুঁকি ১৩৬ শতাংশ বেড়েছে।২০২৩ সালে মানবসৃষ্ট সূক্ষ্ম কণাদূষণের কারণে আনুমানিক ২ লাখ ৩৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেদনটি ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতির সূচক বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করেছে।গতকাল রোববার ঢাকার ব্র্যাক সেন্টারে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সি৩ইআর) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।শৌর্য দাশগুপ্ত মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত গরমের কারণে প্রতিবছর গড়ে ২৬ বিলিয়ন শ্রমঘণ্টা নষ্ট হয়েছে।
কাপ্তাই হ্রদে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষকদল এই গবেষণা পরিচালনা করেছেন।গবেষণায় কাপ্তাই হ্রদের পাঁচটি দেশীয় মাছের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। গবেষকরা মোট ৭৫টি মাছের নমুনা সংগ্রহ করেছেন।গবেষণায় দেখা গেছে, সব মাছের মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। বিশেষ করে ট্যাংরা মাছের দেহে সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।ট্যাংরা মাছে প্রতি গ্রামে গড়ে শূন্য দশমিক ৬৩টি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। মাছের মধ্যে পাওয়া প্লাস্টিক কণাগুলোর ৮৫ শতাংশ সুতা বা ফাইবার আকৃতির।রাসায়নিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৭১ শতাংশ প্লাস্টিক পলিথিন থেকে তৈরি। গবেষকরা গৃহস্থালি বর্জ্য ও পর্যটকদের ব্যবহৃত প্লাস্টিকের কারণে দূষণের কথা উল্লেখ করেছেন।এছাড়া, কাপ্তাই হ্রদের আশপাশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবের কথাও গবেষকরা তুলে ধরেছেন।
গুগল ফিনল্যান্ডের মুহোস শহরের কাছে ৩৩০ হেক্টর জমিতে একটি ডেটা সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে।এই প্রকল্পের জন্য উত্তর ফিনল্যান্ডে ২৫০,০০০ এরও বেশি গাছ কাটা হয়েছে। স্থানীয় পরিবেশবিদরা জানিয়েছেন, ওহতানমাকি এলাকায় ১,৫০,০০০ গাছ কাটা হয়েছে।দুই অঞ্চলে মোট ৪০০,০০০ এরও বেশি গাছ কাটা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবিদরা বন্যপ্রাণীর আবাস হারানোর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।ফিনিশ লাইসেন্সিং এবং সুপারভিশন অথরিটি মুহোস এবং ওহতানমাকি অঞ্চলে প্রাথমিক কাজের উপর একটি অস্থায়ী বিরতি দিয়েছে, কারণ পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন সম্পূর্ণ হয়নি।এই প্রকল্পটি ফিনল্যান্ডে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামো উন্নয়নের একটি বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। গুগল জানিয়েছে, তারা মুহোসে ১৩০ হেক্টর জমিতে নতুন গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করেছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত হার এক্সেলেন্সি লিস্টিওয়াতি (H.E. Listyowati) রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরো জোরদার করার বিষয়ে মতবিনিময় করেন। বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বাংলাদেশে ইন্দোনেশিয়ার বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় গভর্নর বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি ও বিনিয়োগ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বাংলাদেশে ইন্দোনেশিয়ার বিনিয়োগ আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ককে আরো ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমুখী করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ থেকে ইন্দোনেশিয়ায় তৈরী পোশাকসহ ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, ঔষধ, প্রভৃতি রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যকার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ওয়াহিউ রিয়াদি (Wahyu Riadi), Minister Counsellor/Head of Chancery; রবি ফিরলি হারখা (Robbi Firly Harkha), Third Secretary/Economic Affairs; এবং সাপতো রুদিয়ান্তো (Sapto Rudiyanto), Officer। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ডেপুটি গভর্নর মো. সরোয়ার হোসেন ও নির্বাহী পরিচালক মোঃ হারুন-অর-রশিদ উপস্থিত ছিলেন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সালাহ উদ্দিন রিগ্যান ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ এলাকার জন্য আলাদা বিচারিক ব্যবস্থা তৈরির জন্য হাইকোর্টে রিট দাখিল করেছেন।তিনি মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কাছে এই আইনি আদর্শ সম্পর্কে তথ্য জানিয়েছেন। ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি আইন সংক্রান্ত মন্ত্রী, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নোটিশ পাঠিয়েছিলেন।নোটিশের কোনো সাড়া না পাওয়ায় তিনি হাইকোর্টে এই রিট দাখিল করেন। নোটিশে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ অংশে জেলা ও মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।নোটিশে রাজধানীর প্রায় আড়াই কোটি জনসংখ্যা, বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকা এবং ক্রমবর্ধমান মামলার ভার বিবেচনায় বিচারিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়। বর্তমান বিচারিক ব্যবস্থায় বিপুলসংখ্যক মামলা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমাগমের কারণে বিচারিক প্রশাসনের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে।এর ফলে আদালতে বিচারপ্রার্থীদের যাতায়াত, মামলা পরিচালনা এবং দ্রুত বিচার সম্পন্নির ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হয়েছে।
০৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে ধানমন্ডির ২৭ নম্বর বাসায় আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস।বিকেল ৩টা ৪২ মিনিটে মোহাম্মদপুর ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে।ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের চেষ্টায় ৪টা ১৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।এ ঘটনার কোনো হতাহত ঘটনা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। আনোয়ারুল ইসলাম জানান, পলাশী ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট সহায়তার জন্য পাঠানো হয়েছিল।ইনবাসিত ইউনিট দুটি ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
রাজধানীর আগারগাঁও মেট্রো স্টেশনে সোমবার রাত ৯:১৫ টায় একটি বিস্ফোরণ ঘটে।শের-এ-বাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে একটি পুলিশ টিম পাঠানো হয়েছে।তবে, তিনি জানাননি যে, বিস্ফোরণে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কিনা। এখন পর্যন্ত কোনো আহত বা নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বাড়ির সামনে, বাজারের দোকানে কিংবা ব্যস্ত সড়কে—চট্টগ্রামের রাউজানে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটছে প্রকাশ্যে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে চলতি বছরের ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপজেলায় নিহত হয়েছেন ৩৫ জন। তাদের মধ্যে ২০ জন রাজনৈতিক বিরোধের শিকার বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। জানা গেছে, বিএনপির দুই নেতা সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারীদের বিরোধের পাশাপাশি এসব হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে বালু-মাটির ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বের অভিযোগ। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আর সংঘাতের কারণে থামছে না রক্তপাত। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্টের পর রাউজানে রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। এ পর্যন্ত নিহতদের মধ্যে রয়েছে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী ১০ জন এবং গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারী পাঁচজন। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ নিয়ে অনুসন্ধান করেছে আমার দেশ। এতে রাজনৈতিক আধিপত্যের পাশাপাশি বালু-মাটির ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের নিয়ন্ত্রণের তথ্য পাওয়া গেছে। উপজেলায় এখন দুটি সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয়। একটি শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারী রায়হান আলম গ্রুপ, অন্যটি আজিজ বসের অনুসারী ডাকাত আলম গ্রুপ। দুটি গ্রুপই রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছে বলে অভিযোগ। এছাড়া জানে আলম গ্রুপ, মেজর ইকবাল গ্রুপও এলাকায় সক্রিয়। স্থানীয়রা জানান, মূলত মেজর ইকবাল গ্রুপটি নিয়ন্ত্রণ করেন গোলাম আকবর খন্দকার। আর রায়হান গ্রুপটি নিয়ন্ত্রণ করেন গিয়াস কাদের চৌধুরী। তবে দুজনই এসব গ্রুপ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট শ্রমিক লীগ নেতা আবদুল মান্নান হত্যার মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট-পরবর্তী ধারাবাহিক প্রাণহানির সূচনা হয়। রাউজান পৌরসভার চারা বটতল বাজারে তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ওই বছরের ২৯ অক্টোবর নিখোঁজের চার দিন পর উরকিরচরের মইশকরম এলাকায় আজম খানের লাশ পাওয়া যায়। ১১ নভেম্বর নিখোঁজের তিন দিনের মাথায় উদ্ধার করা হয় হাফেজ মাওলানা আবু তাহেরের রক্তাক্ত লাশ। ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি জুমার নামাজে যাওয়ার পথে গুলিতে নিহত হন নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম। ১৯ ফেব্রুয়ারি ঘর থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় যুবলীগ কর্মী মুহাম্মদ হাসানকে। ১৫ মার্চ হলদিয়া ইউনিয়নের আমিরহাট বাজারে ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ে ব্যানার সরানো নিয়ে বিরোধের জেরে মারধর ও ছুরিকাঘাতে নিহত হন গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত যুবদল কর্মী কমর উদ্দিন (জিতু)। এরপর ২১ মার্চ পূর্ব গুজরায় রুবেল, ৪ এপ্রিল হলদিয়ায় নূর আলম বকুল, ১৯ এপ্রিল বাগোয়ানে প্রবাসফেরত যুবদল কর্মী মানিক আবদুল্লাহ এবং ২২ এপ্রিল গাজীপাড়ায় যুবদল কর্মী মুহাম্মদ ইব্রাহিম খুন হন। ইব্রাহিমকে চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় তিনটি অটোরিকশায় আসা একদল যুবক গুলি করে হত্যা করে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ৬ জুলাই কদলপুরের ঈশান ভট্টের হাটে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় যুবদলের সদস্যসচিব মো. সেলিমকে। হামলাকারীদের পালিয়ে যাওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে রায়হানের নাম আলোচনায় আসে। এর দুদিন পর তার বন্ধু দিদারুল আলমের লাশ উদ্ধার করা হয় রাঙামাটির কাউখালীর পাহাড়ি এলাকা থেকে। ব্যবসার নিয়ন্ত্রণেও বিরোধ ২০২৫ সালের ৭ অক্টোবর হাটহাজারীর মদুনাঘাট সেতুর কাছে গুলিতে নিহত হন ব্যবসায়ী আবদুল হাকিম। তার পরিবারের দাবি, তিনি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন। কর্ণফুলীকেন্দ্রিক বালুমহাল ও নির্মাণসামগ্রীর ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের কথাও সামনে আসে। এ ঘটনায় হাজি মুহাম্মদ জসিমের নাম আলোচনায় আসার পর তিনি দেশ ছাড়েন। ২৫ অক্টোবর চারা বটতল এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় যুবদল কর্মী আলমগীর আলমকে। ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি পূর্ব গুজরায় খুন হন যুবদলের সাবেক নেতা জানে আলম সিকদার। ২৫ ফেব্রুয়ারি অলিমিয়াহাট বাজারে নিহত হন যুবদল কর্মী মুহাম্মদ আবদুল মজিদ। ২৬ এপ্রিল একই এলাকায় খুন হন যুবদল কর্মী নাসির উদ্দিন। পরে চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় নাসির হত্যা মামলার আসামি মোহাম্মদ হাসান ওরফে রাজুও গুলিতে নিহত হন। ১৩ জুন পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুল হক চৌধুরীকে। পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের ধারণা, রাজনৈতিক আধিপত্যের পাশাপাশি বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধও এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকতে পারে। সর্বশেষ ৩ সেপ্টেম্বর উরকিরচরের কেরানীহাট বাজারে খুন হন মোহাম্মদ করিম। দুই নেতার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ স্থানীয়দের মতে, রাউজানে রাজনৈতিক আধিপত্যের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। ২০০৯ সালের পর আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর প্রভাব বাড়ে। তার বিরুদ্ধে বিরোধী নেতা-কর্মীদের কোণঠাসা করা এবং রাজনীতি ও ব্যবসায় একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগ ছিল। সরকার পতনের পর সেই নিয়ন্ত্রণ ভেঙে গেলে স্থানীয় রাজনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের কর্তৃত্ব নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়। সাংগঠনিক পদ-পদবি, স্থানীয় নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ নির্বাচনি রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার নিয়েও দুই নেতার অনুসারীদের বিরোধের কথা বলছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অভিযোগ, গোলাম আকবর খন্দকারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাকর্মীরা সক্রিয় থেকে তার অনুসারীদের ওপর হামলা চালাচ্ছেন। তবে গোলাম আকবর খন্দকার এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, বালু-মাটির ব্যবসা, খালের বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ, ইটভাটা, ঠিকাদারি কাজের কমিশন ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে বিরোধ তৈরি হচ্ছে। আমার দেশকে তিনি বলেন, অপরাধী (গিয়াস কাদের) কখনো অপরাধ স্বীকার করে না। কোনো দাগি অপরাধীকে অপরাধ স্বীকার করতে দেখা যায় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সংঘর্ষের পর কমিটি বিলুপ্ত, পদ স্থগিত গত বছরের ২৯ জুলাই সত্তারহাটে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হন। গোলাম আকবরের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগও ওঠে এবং তিনি নিজেও ছররা গুলিতে আহত হন। ঘটনার পর বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে এবং গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দলীয় পদ স্থগিত করে। আরো কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ব্যাপারে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবর রহমান শামিম বলেন, দলে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের স্থান নেই। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, পুলিশের কাছে অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচ্য নয়। সব হত্যাকাণ্ডের আসামি গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলছে। রায়হানসহ অন্যদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা বই ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রির অভিযোগে প্রকাশনা সংস্থা দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বিক্রয়কেন্দ্রের দুই কর্মী আমিনুল ইসলাম ও হুমায়ূন কবীরকে তুলে নিয়ে আটকে রাখা হয়। পরে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ আর বিক্রি না করার শর্তে পুলিশের সমঝোতায় ওই দুই কর্মীকে ছেড়ে দেয়। দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে দুই যুবক বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে এসে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ কিনতে চান। বইটি বের করে দেওয়ার পর তারা এটি বিক্রি করা নিয়ে আপত্তি জানান এবং বইটি নিষিদ্ধ বলে দাবি করেন। একপর্যায়ে আশপাশের আরও কয়েকজনকে জড়ো করে তারা বিক্রয়কেন্দ্রের শাটার নামিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। একই সময় বিক্রয়কেন্দ্রের দুই কর্মী আমিনুল ইসলাম ও হুমায়ূন কবীরকে আটক করা হয়। সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন , তুলে নেওয়া দুই কর্মীকে থানায় আনা হয়নি। তাদের ফরিদাবাদ পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখান থেকেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ওসি আরও বলেন, ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ২০২৪ সালের পর আর ছাপানো হয়নি। তাই বইটি আর বিক্রি না করার শর্তে পুলিশ ফাঁড়ি থেকেই দুই কর্মীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ জানানো হয়নি। এদিকে ইউপিএলের সম্পাদকমণ্ডলীর পরিচালক ফিরোজ আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে আমরা বই সরিয়ে নিতে বাধ্য হবো। কিন্তু সরকার এমন কোনও পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত আমরা নিজেরা কোনও বই বাজার থেকে সরাব না।’ তিনি বলেন, ‘শুধু অসমাপ্ত আত্মজীবনী নয়, আগেও বিভিন্ন বই নিয়ে চাপ এসেছে। কিন্তু আমরা কোনও বই বাজার থেকে সরাইনি। কারণ, বই প্রকাশের পেছনে আমাদের শ্রম ও বিনিয়োগ রয়েছে। সরকার আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ করলে অবশ্যই আমরা তা সরিয়ে নেবো।’
জুলাই বিপ্লবে গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্যের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের নতুন মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তারা হলেন— শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপা। সোমবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন— বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবির। এদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে প্রসিকিউটর মইনুল করিম ট্রাইব্যুনালকে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত টকশো বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপা। এ ঘটনায় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্তে এরই মধ্যে এই তিন সাংবাদিকের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে তদন্ত সংস্থা। এজন্য তাদেরকে এ গ্রেপ্তারের আবেদন জানাচ্ছি। শুনানি শেষে আবেদন মঞ্জুর করে আসামিদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য জন্য ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়। এর আগে গত ১৭ আগস্ট এই তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে আজকের দিনে হাজিরের নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। আজ সকালে তাদেরকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শাপলা চত্বর গণহত্যা মামলায় বাবু-ফারজানা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া জুলাই বিপ্লবে হত্যাকাণ্ডের একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন শ্যামল দত্ত।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সোমবার রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের ২১০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সনদ বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।মন্ত্রী বলেন, প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা নিয়োগের পর চার-পাঁচ মাস প্রশিক্ষণ নিয়ে কর্মস্থলে যোগ দেন, অথচ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের কোনো ওরিয়েন্টেশন ছাড়াই সরাসরি শিক্ষকতায় পাঠানো হয়।তিনি অভিযোগ করেন, বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা যথাযথ প্রশিক্ষণ পান না। সেনাবাহিনী, পুলিশ, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনীসহ বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের পর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেও শিক্ষা ক্যাডারে তা নেই।মন্ত্রী জানান, শিক্ষা ক্যাডারে পদায়নের ক্ষেত্রে তদবির গ্রহণ করা হবে না এবং পদায়ন ও মূল্যায়ন যোগ্যতার ভিত্তিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, শ্রেণিকক্ষে যারা ভালো পড়াবেন, তারাই পুরস্কৃত হবেন।শিক্ষা কমিশন গঠনেও অনাগ্রহ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি ও সময়ের সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি এবং ডিগ্রি, অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং নায়েমের প্রশিক্ষণ ও বাস্তবায়ন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক প্রিম রিজভী বিশেষ অতিথি ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন নায়েমের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. ওয়াসীম মো. মেজবাহুল হক এবং স্বাগত বক্তব্য দেন প্রশিক্ষণ কোর্সের পরিচালক অধ্যাপক ড. নাসিমা খান।
০৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত একটি শিক্ষা নিবন্ধে বাংলাদেশের শ্রেণিকক্ষে বহুমুখী পাঠদান পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। লেখিকা নুসরাত ইয়াসমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী এবং এডুএনভয় ও শিক্ষা অধিকার সংসদের সাথে সংযুক্ত।নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, বহুমুখী পাঠদান পদ্ধতির তিনটি মূল উপাদান হলো শিখনফলকেন্দ্রিক পাঠদান, বৈচিত্র্যময় পাঠদান পদ্ধতি এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক সহায়তা ও ধারাবাহিক মূল্যায়ন। লেখিকা জানান, শিখনফলভিত্তি শিক্ষায় পাঠ শেষে শিক্ষার্থীর জ্ঞান, বোধ ও দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।বর্তমানে, বাংলাদেশের শ্রেণিকক্ষে বক্তৃতাভিত্তিক পদ্ধতি এখনও প্রধান পাঠদান পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। লেখিকা শহর ও গ্রামের বিভিন্ন স্কুলে পাইলট প্রকল্প চালু করার পরামর্শ দিয়েছেন।এছাড়া, কর্মসূচির পর শিখনফল এবং শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ মূল্যায়ন করার প্রস্তাব রয়েছে। খরচ, কার্যকারিতা এবং শিক্ষকদের প্রয়োজন পরীক্ষা করে প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।লেখিকা শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবকের মতামতের ভিত্তিতে কাঠামো পরিবর্তন করার পরামর্শ দিয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে ৪০ জন শিক্ষার্থীর একটি শ্রেণিকক্ষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৫:৪৫ মিনিটে প্রশাসনিক ভবনের প্রধান প্রবেশদ্বারের তালা ভাঙা হয়েছে।এর আগে, বিকেল ৫টায় তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা সিন্ডিকেট সভা চলাকালে ফটকটি বন্ধ করে দেয়। শিক্ষার্থীরা দাবি করেছে, ইনস্টিটিউটের পরিচালক তাদের নিজের বিভাগের শিক্ষক হতে হবে, দর্শন বিভাগের কেউ নয়।শিক্ষার্থীরা সহযোগী অধ্যাপক হামিম কামরুল হক বা বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ কাহালিকে পরিচালক করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তারা দুপুরে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেছিল।ছাত্রদল নেতাদের অভিযোগ, হামিম কামরুল হক আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত এবং জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। তারা আরো দাবি করেছে, তিনি পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে যোগাযোগ রেখে ক্যাম্পাসে অস্থিরতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন।ছাত্রদল নেতাদের নেতৃত্বে তালা ভাঙার পর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম এবং উপ-উপাচার্যগণকে উদ্ধার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশিত হয়নি।
শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ছাত্ররা সকল প্রকার পরীক্ষার অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছে। তারা মঙ্গলবার একটি মতবিনিয় সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং ১১টার পর ক্লাসে না যাওয়ার কথা জানিয়েছে।ছাত্রদের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো গবেষণা ক্ষেত্র পুনরুদ্ধারের দাবির অংশ। তারা অভিযোগ করেছে যে, এই গবেষণা ক্ষেত্রটি সচিবালয়ে স্থানান্তরিত হচ্ছে।ছাত্ররা বিভিন্ন ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে, যার মধ্যে মানব চেইন, বিক্ষোভ, সিট-ইন এবং সড়ক অবরোধ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাদের দাবি হল পুরনো গবেষণা ক্ষেত্রটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণরূপে পুনরুদ্ধার করা।বুধবার, শেকৃবির ছাত্ররা শের-ই-বাংলা নগরে পুরনো বাণিজ্য মেলা স্থলের দুটি নির্মাণ সাইটে ভাঙচুর চালায়। সেখানে সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হবে।ছাত্ররা যুক্তি দিয়েছে যে, পুরনো গবেষণা ক্ষেত্রটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং এটি কৃষি গবেষণা কার্যক্রমকে সমর্থন করে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকট মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা ভবিষ্যতে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
যুক্তরাজ্য উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে একটি জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত। বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণার সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবন গঠনে সহায়তা করে।অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করতে অক্ষম হয়, যদিও তাদের সামর্থ্য রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর বৃত্তি এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করতে পারে।২০২৭ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তি প্রদানের সুযোগ রয়েছে। এই বৃত্তিগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি'র একটি উল্লেখযোগ্য অংশ কমানোর সুযোগ পেতে পারে।ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য থিংক বিগ স্কলারশিপ প্রদান করে, যা সেপ্টেম্বর ২০২৭ থেকে শুরু হওয়া স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের নির্দিষ্ট কোর্সের জন্য উপলব্ধ। স্নাতকোত্তর পর্যায়ের এই বৃত্তির পরিমাণ £৩,০০০ থেকে £২৬,০০০ পর্যন্ত।গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তিনটি গ্রেট স্কলারশিপ প্রদান করে, প্রতিটির মূল্য £১০,০০০। রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেট স্কলারশিপের মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা এক বছরের স্নাতকোত্তর পড়াশোনার জন্য £১০,০০০ সহায়তা পেতে পারে।আবেদনকারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির শর্ত পূরণ করতে হবে এবং অফার গ্রহণ করতে হবে। আবেদন করার আগে পছন্দের কোর্স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ইংরেজি ভাষার শর্ত এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা জরুরি।
তথ্য ও সংস্কৃতি তুলনামূলক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রশাসনিক ভবন লক করে প্রতিবাদ জানিয়েছে।প্রায় ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী দুপুর ৪:৩০ টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের প্রধান গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়।সোমবার অধ্যাপক মোস্তফা নাজমুল মঞ্জুরকে নতুন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগ নিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল হক হামিম নিয়োগের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, এটি নিয়মাবলীর লঙ্ঘন। শিক্ষার্থীরা তাদের নিজেদের শিক্ষকদের মধ্যে থেকে পরিচালক নিয়োগের দাবি জানিয়েছে।নতুন পরিচালক নিয়োগের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগানোর পর উপাচার্য অধ্যাপক মো. নুরুল ইসলাম ভবনের ভিতরে আটকা পড়েন।ছাত্রদলের নেতারা তালা ভেঙে উপাচার্য ও অন্যান্যদের উদ্ধার করেন। উপাচার্য জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের উচিত সরাসরি তার সঙ্গে আলোচনা করা, যাতে শিক্ষাগত কার্যক্রম বিঘ্নিত না হয়।তিনি আরও জানিয়েছেন, তালা লাগানোর ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামের ১৫৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৬৩৬ জনে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, গত ১০ অক্টোবর থেকে বুধবার পর্যন্ত বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৭৬টি সরাসরি ফ্লাইট এবং ৭৭টি ট্রানজিট ফ্লাইট। সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৩৩টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ২০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১৩টি ফ্লাইট রয়েছে। অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ৩০টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট প্রভাবিত হয়েছে। এসব যাত্রীদের বিভিন্ন গন্তব্যে ট্রানজিট নিয়ে রিয়াদ ও দাম্মাম যাওয়ার কথা ছিল। তবে স্ব স্ব দেশ থেকে ফ্লাইট বাতিলের কারণে ঢাকা থেকে যাত্রী বহন করেনি তারা। সম্প্রতি হুথিদের হামলার পর রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়। হামলা হয় দাম্মামেও। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ ও দাম্মামে ফ্লাইট বন্ধ রাখে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। পরে এই সময় আরও বাড়ানো হয়।
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অর্থ সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় ১৪০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী দেওয়ানের খামার আদিনা জামে মসজিদের নির্মাণকাজ। নতুন দ্বিতল মসজিদ ভবনের পিলার নির্মাণের কাজ শেষ হলেও অর্থের অভাবে দেয়াল নির্মাণ ও ছাদ ঢালাই করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নির্মাণাধীন ভবনের পাশেই টিনের ছাউনির ঘরে চট বিছিয়ে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। বৃষ্টির সময় চালের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে এবং রোদে ঘরটি প্রচণ্ড গরম হয়ে ওঠে। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মুসল্লিদের। উপজেলার সদর ইউনিয়নের দেওয়ানের খামার গ্রামে অবস্থিত মসজিদটি স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৮৮৭ সালে খলিল ব্যাপারী খড়, বাঁশ ও পাটখড়ি দিয়ে মসজিদটি নির্মাণ করেন। সে হিসাবে মসজিদটির বয়স প্রায় ১৪০ বছর। পরে কাঠ ও টিন দিয়ে মসজিদটি সংস্কার করা হয়। খলিল ব্যাপারীর মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজাম্মেল হক ব্যাপারী ইটের দেয়াল ও টিনের ছাউনি দিয়ে মসজিদটির নতুন ঘর নির্মাণ করেন। ওই ভবনেই দীর্ঘদিন ধরে নামাজ আদায় করে আসছিলেন এলাকার মুসল্লিরা। কয়েক বছর আগে পুরোনো ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দেয় এবং পলেস্তারা খসে পড়তে থাকে। এতে মসজিদটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। পরে মসজিদ কমিটি ও মোজাম্মেল হক ব্যাপারীর বড় ছেলে মেজবাহুল হক বৈজু ব্যাপারী পুরোনো ভবনটি ভেঙে সেখানে নতুন দ্বিতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এজন্য আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। পরে কুড়িগ্রাম-১ (ভূরুঙ্গামারী-নাগেশ্বরী) আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম ও জেলা জামায়াতের আমির আজিজুর রহমান স্বপনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। মসজিদ কমিটির সভাপতি মেজবাহুল হক বৈজু ব্যাপারী জানান, নির্মাণকাজ শুরু করার পর থেকে এ পর্যন্ত ৯-১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। স্থানীয় এক ব্যক্তি ৬০ বস্তা সিমেন্ট দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকেও অর্থ সংগ্রহ করে কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে পিলার নির্মাণের পর দেয়াল ও ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করতে যে অর্থ প্রয়োজন, তা জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। মসজিদের নিজস্ব কোনো তহবিল না থাকায় নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। গত ১৭ অক্টোবর সরেজমিন দেখা যায়, নির্মাণাধীন ভবনের পাশে টিনের একটি ঘরে চট বিছিয়ে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। তারা জানান, বৃষ্টি হলে টিনের চালের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে। অন্যদিকে রোদে ঘরটি অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। এমন পরিবেশে নামাজ আদায় করতে তাদের কষ্ট হয়। স্থানীয় রফিকুল ইসলাম মাস্টার বলেন, মসজিদটির ভিত্তি নির্মাণ করতে গিয়ে আমরা এখন বিপাকে পড়েছি। কারো কাছ থেকে অনুদান পাচ্ছি না, কাজেরও কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না। তিনি মসজিদটির নির্মাণকাজ শেষ করতে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, মসজিদটি শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যেরও অংশ। দীর্ঘদিন ধরে এখানে নামাজ আদায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু নির্মাণকাজ থমকে থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত ধর্মপ্রাণ ও সামর্থ্যবানদের কাছে আর্থিক সহায়তা চাওয়া হয়েছে। মসজিদের খতিব মাওলানা নজরুল ইসলাম নোমানী বলেন, মসজিদের আশপাশের এলাকার অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। তারা মসজিদের উন্নয়নে বেশি অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করতে পারছেন না। টাকার অভাবে কাজ বন্ধ রয়েছে। বিকল্প স্থানে নামাজ আদায় করতেও মুসল্লিদের কষ্ট হচ্ছে। মসজিদ কমিটির সভাপতি মেজবাহুল হক বৈজু ব্যাপারী বলেন, সমাজভুক্ত মুসল্লিদের অনুদান থেকে যে অর্থ আসে, তা দিয়ে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বেতন দিতেই কষ্ট হয়। তাই নির্মাণকাজ শেষ করতে দেশ-বিদেশের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। সহায়তা পাঠানোর জন্য মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, ভূরুঙ্গামারী শাখার হিসাব নম্বর ০২০০০২৫৮৪২২৪৮ (দেওয়ানের খামার আদিনা জামে মসজিদ) এবং বিকাশ/নগদ নম্বর ০১৭২৯৬৭৮২৯২ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমার এলাকার শুধু মসজিদ নয়; রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করার চেষ্টা করছি। সুযোগ পেলে ওই মসজিদের উন্নয়নেও চেষ্টা করব।
মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ৬৬তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার হিফজুল কোরআন বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনকারী বাংলাদেশের ইহতেশামুল হক হিরাকে উষ্ণ সংবর্ধনা দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাকে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ভারপ্রাপ্ত সচিব) এ এইচ এম কামরুজ্জামান আহমেদ এবং যুগ্ম সচিব আরিফুল ইসলাম উপস্থিত থেকে বিশ্বজয়ী হাফেজকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। এ সময় হিরার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকার মিরপুর-১-এর মারকাযু ফয়জিল কোরআন আল ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মুফতি মাসুম ফয়েজী। গত ৬ থেকে ১০ অক্টোবর মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত হয় ৬৬তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতা ২০২৬। বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় কয়েক ধাপের বাছাই শেষে ৩৮টি দেশের প্রতিনিধি চূড়ান্ত পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ আয়োজনে হিফজুল কোরআন বিভাগে বিশ্বসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন বাংলাদেশের হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরা। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেছিলেন। পরবর্তীতে জমকালো সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন দেশটির ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী ড. জুলকিফলি হাসান। বিশ্বমঞ্চে প্রথম স্থান অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ হাফেজ হিরাকে নগদ ৪০ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, দৃষ্টিনন্দন সম্মাননা ট্রফি, ৫ হাজার রিঙ্গিত মূল্যের ওমরাহ প্যাকেজ ও ৩ হাজার রিঙ্গিত মূল্যের স্বর্ণের বার প্রদান করা হয়।
মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জের কল্যাণপুরে মাদরাসাতুর রাইহানের ২য় সাময়িক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে মাদরাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা ও কৃতী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানটি সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এইচ এম মুস্তাকিম বিল্লাহ নিশান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও দি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক রাইহানুল ইসলাম লুনা। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন মাওলানা মুহসিন উদ্দিন। বিশেষ আলোচক ছিলেন মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোলাম নবী। অনুষ্ঠানে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা ও আদর্শ চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ফলাফল ঘোষণার পর কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। এ সময় মাদরাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। মাদরাসাতুর রাইহান পরিবারের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সম্মানিত অতিথি, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ইলমে দ্বীন ও আমলে বরকত এবং কুরআন-সুন্নাহর আদর্শে গড়ে ওঠার জন্য দোয়া করা হয়।
নেত্রকোনা-৪ (মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী) আসনের বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের ৪৭ জন নেতাকর্মী ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাচ্ছেন। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরের বিশেষ উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে তারা এ পবিত্র ওমরাহ পালনের সুযোগ পাচ্ছেন। মঙ্গলবার রাতে ৪৭ সদস্যের এই ওমরাহ কাফেলা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে যাত্রা করবে। বিষয়টি নিশ্চিত করে লুৎফুজ্জামান বাবরের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মির্জা মো. হায়দার আলী জানান, এমপি মহোদয়ের নিজস্ব অর্থায়নে তার নির্বাচনি এলাকা নেত্রকোনা-৪-এর মোহনগঞ্জ উপজেলার ১৮ জন, মদন উপজেলার ১৭ জন, খালিয়াজুরী উপজেলার ১১ জন এবং আমি নিজে—মোট ৪৭ জনকে পবিত্র ওমরাহ পালনের সুব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তবে এমপি মহোদয় নিজে এই কাফেলার সঙ্গে যাচ্ছেন না। উনার ইচ্ছা নির্বাচনি এলাকার নেতৃবৃন্দ যাতে ধর্মীয় অনুশাসনে নিজেদের পরিচালিত করেন, সেই ভাবনা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওমরাহ কাফেলায় যারা যাচ্ছেন মোহনগঞ্জ উপজেলা (১৮ জন): উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম কার্ণায়েন, সিনিয়র সহসভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, সাধারণ সম্পাদক গোলাম এরশাদুর রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ভিপি, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী পুতুল, সাবেক পৌর মেয়র মাহাবুবুন্নবী শেখ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন তালুকদার, সাবেক পৌর আহ্বায়ক ফজলুল হক মাসুম, সাবেক উপজেলা সদস্য সচিব টিপু সুলতান, সাবেক জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান খান চৌধুরী, সিনিয়র নেতা মোহাম্মদ মহসিন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জহিরুজ্জামান খান রনি, সদস্য সচিব ফয়সাল আহমেদ খোকন, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জামিউল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাজমুস সাদী চৌধুরী অপু, সাংগঠনিক সম্পাদক কিরন খাঁ ও সাবেক সদস্য সচিব জাকির আহমেদ বাবু। খালিয়াজুরী উপজেলা (১১ জন): উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ স্বাধীন, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান কেষ্ট, সহ-সভাপতি মাসুদ রানা, সহ-সভাপতি ইদ্রিস আলী মোল্লা, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়া উদ্দিন জিয়া, যুগ্ম সম্পাদক তরিকুল ইসলাম তরুক, সদস্য হালিম আজাদ আকবরী, যুবদলের আহ্বায়ক এনামুল হক ছুটন, সদস্য সচিব রাজিব হোসেন পলাশ, ছাত্রদলের সভাপতি মাজহারুল হক পলিন ও সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত হৃদয়। এছাড়াও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মদন উপজেলা সভাপতি মুফতি আনোয়ার হোসেন এই প্রতিনিধিদলে কাফেলার সদস্য হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। এই উদ্যোগের বিষয়ে খালিয়াজুরী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ স্বাধীন বলেন, এমপি মহোদয় এতজন নেতাকর্মীকে ওমরাহ পালনে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়ে তার মহৎ মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। আমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান যে উনার মতো একজন অভিভাবক ও নেতা পেয়েছি। একই অনুভূতি প্রকাশ করে মোহনগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম কার্ণায়েন বলেন, আমাদের নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর আমাদের পবিত্র ওমরাহ পালনের এই অসামান্য সুযোগ করে দিয়েছেন। এজন্য মোহনগঞ্জ উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং মহান আল্লাহর দরবারে উনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় ভারি বৃষ্টি ও বজ্রঝড় হয়েছে। এ সময় মসজিদুল হারামে কাবা শরিফ ঘিরে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে। ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ভিডিও প্রতিবেদনে এ দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। বৃষ্টির সময় মসজিদুল হারামের আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং প্রবল বর্ষণ শুরু হয়। ভারি বৃষ্টির মধ্যেও মুসল্লিরা মসজিদুল হারামে নামাজ আদায় অব্যাহত রাখেন। আবহাওয়ার অবনতির কারণে সৌদি কর্তৃপক্ষ বন্যার সতর্কতা জারি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের উপত্যকা এবং নিচু এলাকাগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সৌদি জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের পূর্বাভাসেও মক্কাসহ কয়েকটি অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারি বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল। এর সঙ্গে শিলাবৃষ্টি, প্রবল বাতাস এবং আকস্মিক বন্যার আশঙ্কার কথাও জানানো হয়। আল-জাজিরার ভিডিওতে বৃষ্টির মধ্যে মসজিদুল হারামের পরিবেশ এবং কাবা শরিফ ঘিরে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের দৃশ্য বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে।
লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারে ইতি টানার সিদ্ধান্ত ক্রীড়াবিশ্বকে ২০১৬ সালের সেই বিষাদময় স্মৃতির কথা নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছে। সেবারও আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সি চিরতরে তুলে রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন এই মহাতারকা। মেসির সেই আকস্মিক সিদ্ধান্তের পর ফুটবলপ্রেমীদের পাশাপাশি সংহতি ও প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন তার সর্বকালের সেরা প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে গোল না হওয়ায় ম্যাচড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। সেখানে চিলির বিপক্ষে স্পটকিকে বল জালে পাঠাতে ব্যর্থ হন মেসি এবং শেষ পর্যন্ত শিরোপা হাতছাড়া হয় আলবিসেলেস্তেদের। পর পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের ফাইনালে হেরে মানসিকভা ভেঙে পড়েছিলেন আর্জেন্টাইন এই জাদুকর। মাত্র ২৯ বছর বয়সেই জাতীয় দলকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। মেসির এই বিদায়ে পুরো ফুটবল বিশ্ব স্তম্ভিত হয়ে পড়েছিল। তবে মাঠের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে সেই কঠিন মুহূর্তে মেসির পাশে এসে দাঁড়ান পর্তুগিজ তারকা রোনালদো। পর্তুগালের এই মহাতারকা তখন বলেছিলেন, মেসি একটি অত্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং মানুষের উচিত তার পরিস্থিতি বোঝা। টাইব্রেকারে মেসির পেনাল্টি মিসের বিষয়ে সহানুভূতি প্রকাশ করে রোনালদো মন্তব্য করেছিলেন, মেসি কখনোই হার বা দ্বিতীয় হওয়াতে অভ্যস্ত নয়। তবে একটি পেনাল্টি মিস করলেই কোনো ফুটবলার খারাপ খেলোয়াড় হয়ে যান না। ক্লাব ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দুই মহাতারকার তীব্র লড়াই সবসময়ই খবরের শিরোনাম হলেও, রোনালদোর মনে মেসির জন্য ছিল গভীর সম্মান। ফাইনাল শেষে মেসিকে কাঁদতে দেখে নিজের কষ্টের কথা জানিয়ে সিআরসেভেন বলেছিলেন, মেসিকে চোখের পানি ফেলতে দেখে তারও কষ্ট লেগেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, দেশ ও সমর্থকদের স্বার্থে মেসি যেন পুনরায় জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন করেন। রোনালদোর সেই প্রত্যাশা বাস্তব রূপ পেয়েছিল। অবসর নেওয়ার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ফিরে আসেন মেসি। এরপরের ঘটনা তো ইতিহাস-২০২১ সালে কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালে স্বপ্নের বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালে আবারও কোপা আমেরিকা জয় করে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে স্বর্ণাক্ষরে লিখিয়ে নেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক চিত্রটা একেবারেই ভিন্ন। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে স্পেনের কাছে হেরে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির পথচলার ইতি ঘটে। গত সোমবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের শেষ সিদ্ধান্ত জানিয়ে নিশ্চিত করেন যে, আর্জেন্টিনার হয়ে তাকে আর মাঠে দেখা যাবে না। ২০১৬ সালে রোনালদো যে প্রত্যাবর্তনের আশা করেছিলেন, এবার হয়তো সেই ফিরে আসার আর কোনো সম্ভাবনা থাকছে না।
বাংলাদেশে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ লক্ষ্যে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসে জাতীয় স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পরিদর্শন করেছে। সফর শেষে বাংলাদেশের মাঠ ও অবকাঠামো নিয়ে ইতিবাচক মূল্যায়ন করেছে প্রতিনিধি দলটি। রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর ১টায় ঢাকায় আসে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের প্রতিনিধি দল। সফরকালে তারা রাজধানীর জাতীয় স্টেডিয়াম, ঢাকা এবং বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনার মাঠ, ড্রেসিংরুম, টেকনিক্যাল জোনসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ঘুরে দেখে। পাশাপাশি কয়েকটি আবাসিক হোটেলও পরিদর্শন করেন তারা। জাতীয় স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনার মাঠ এবং সংলগ্ন বিভিন্ন সুবিধা পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা মাঠের মান ও বিদ্যমান অবকাঠামোকে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের জন্য গ্রহণযোগ্য বলে অভিমত দেন। তবে আন্তর্জাতিক মানের বড় দলকে আতিথেয়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে ড্রেসিংরুম, টেকনিক্যাল জোন এবং প্রবেশ ও বহির্গমন গেটের নিরাপত্তাসহ কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন। তবে এসব উন্নয়ন স্বল্প সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করা সম্ভব বলে মনে করছে ব্রাজিলের প্রতিনিধি দল। সফর শেষে সোমবার (২৪ আগস্ট) রাত ১টা ৪০ মিনিটে ঢাকা ত্যাগ করে প্রতিনিধি দলটি। চলতি সপ্তাহেই তারা ঢাকায় পরিদর্শনের বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরবে। এরপর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বা বাফুফে দ্রুত ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক করার উদ্যোগ নেবে। ওই বৈঠকে ব্রাজিল জাতীয় দলকে বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার আমন্ত্রণ জানানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে ব্রাজিলের নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। জাতীয় স্টেডিয়ামের মাঠ উন্নয়নে বাফুফে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যে সংস্কারকাজ করেছে, ব্রাজিলের প্রতিনিধি দলের ইতিবাচক মূল্যায়নকে সেই উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখছে বাফুফে। আন্তর্জাতিক দল ও খেলোয়াড়দের জন্য জাতীয় স্টেডিয়ামকে আরও উপযোগী করে তুলতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন করার পরিকল্পনাও রয়েছে বাফুফের। সফরের শেষ পর্যায়ে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের প্রতিনিধি দল এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অবকাঠামো উন্নয়ন, মাঠ ও পিচ ডেভেলপমেন্ট, যৌথ কোচিং প্রোগ্রাম, স্পোর্টস সায়েন্সের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজনসহ বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এদিকে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ব্রাজিলের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ব্রাজিলের প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশি সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি তারা লক্ষ্য করেছেন। বাংলাদেশে ব্রাজিল জাতীয় দল খেলতে এলে এখানকার ফুটবলপ্রেমীদের কাছ থেকেও একই ধরনের সমর্থন ও ভালোবাসা পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা। বাংলাদেশে ব্রাজিলের জাতীয় দলের একটি ম্যাচ আয়োজন হলে তা দেশের ফুটবলের জন্য বড় ধরনের আন্তর্জাতিক আকর্ষণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে বাফুফে। একই সঙ্গে দুই দেশের ফুটবল সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়ার পাশাপাশি কোচিং, স্পোর্টস সায়েন্স, মাঠ উন্নয়ন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। বাফুফের ম্যানেজার-মিডিয়া সাদমান সাকিব জানান, ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের প্রতিনিধি দলের এই সফরকে দুই দেশের ফুটবল সম্পর্ক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিনিধি দলের সুপারিশ পাওয়ার পর পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। সবকিছু ইতিবাচকভাবে এগোলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মাটিতে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের ম্যাচ দেখার স্বপ্ন পূরণ হতে পারে দেশের কোটি কোটি ব্রাজিল সমর্থকের।
মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ‘জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’। শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল ৪টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে (নতুন) টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এতে নাচোল উপজেলাকে ৪-০ গোলে হারিয়ে জয় পেয়েছে শিবগঞ্জ উপজেলা ফুটবল দল। জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা,চাঁপাইনবাবগঞ্জের যৌথ আয়োজনে এবং এরফান গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দ্বিতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী। আরও উপস্থিত ছিলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. নাকিব হাসান তরফদার । এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মো. মশিউর রহমান মিঠু, সদস্য মো. তৌফিকুল ইসলাম তোফা, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক কোষাধ্যক্ষ মো. বদিউজ্জামান বুধু, সাবেক সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হান্নান রজুসহ সংশ্লিষ্টরা। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে শিবগঞ্জ উপজেলা দল। প্রতিপক্ষ নাচোল উপজেলা দলও পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত শিবগঞ্জের দাপটের সামনে সুবিধা করতে পারেনি। নির্ধারিত সময়ের খেলায় শিবগঞ্জ ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে। ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য শিবগঞ্জ উপজেলার ৭ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় মোমিনুল ইসলাম ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত করা হয়। খেলা দেখতে জেলা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে দর্শক ও ফুটবলপ্রেমীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। দীর্ঘদিন পর জেলার ক্রীড়াঙ্গনে এমন বড় আয়োজন ঘিরে তরুণ ও ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। আয়োজকরা জানান, স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং তরুণ প্রজন্ম, যুবক, কিশোর ও শিক্ষার্থীদের মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে সুস্থ ও সুন্দর ধারার খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করাই এ টুর্নামেন্ট আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। খেলাধুলা তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই যুবসমাজকে মাদকমুক্ত ও সুস্থ রাখতে নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজনের মাধ্যমে তাদের মাঠমুখী করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে এবং এরফান গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত ‘জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’ জেলার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
দক্ষিণ কোরিয়া সফর উপলক্ষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। গতকাল রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় খিম্পু শহরের খিম্পু ফরেন সাপোর্ট সেন্টারে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স, দক্ষিণ কোরিয়া। অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ছাড়াও নানান শ্রেণি-পেশার প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশগ্রহণ করেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ডায়াস্পোরা সদস্যদের এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের আন্তরিকতা ও আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশ যখন অবরুদ্ধ ছিল, তখন প্রবাসীরা মুক্তির আশা জাগিয়ে রেখেছিল। গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য তিনি প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ের মতো জুলাই সনদ ও গণভোটের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নেও প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বিশ্ববাসীকে অবহিত করতে প্রবাসীদের সক্রিয় ভূমিকার প্রত্যাশা করেন। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোতেও প্রবাসীদের ভোটাধিকার অব্যাহত রাখতে এনসিপি কাজ করে যাবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত বলেন, কোরিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশিরা জুলাই অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আমরা চাই আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনার পলিসিতেও তারা ভূমিকা রাখবে। আমি এসেছিলাম গোয়াংজু ডেমোক্রেসি ফোরামে। এখানে এসে কোরিয়ার অভ্যুত্থান ও গণতান্ত্রিক লড়াই দেখেছি। আগামীতে বাংলাদেশের লড়াই-সংগ্রামকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে চাই। এ সময় উপস্থিত প্রবাসীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের মরদেহ বিনা মূল্যে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা, কোরিয়ায় বাংলাদেশি অভিবাসন প্রক্রিয়া সহজীকরণ, দালালদের অপতৎপরতা রোধ, বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ এবং দেশে প্রবাসীদের বিভিন্ন বিষয়ে অধিক অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান তারা। অনুষ্ঠানে এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য আয়মান রাহাত, এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স দক্ষিণ কোরিয়ার আহ্বায়ক আরিফুর রহমান ও সদস্য সচিব বাবুল মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
চ্যানেল আইয়ে আগামী ৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে 'ইনস্টাগ্রাম' নামের নাটকটি সম্প্রচারিত হবে। নাটকটি পরিচালনা করেছেন মুহাম্মাদ মোস্তফা কামাল রাজ।নাটকে খায়রুল বাসার ও নাজনীন নীহা মূল চরিত্রে অভিনয় করছেন। তারা এই নাটকে প্রথমবার জুটি বেঁধে কাজ করছেন।নাটকের কাহিনী গ্রাম্য মানুষের ঘটনা ও সামাজিক মাধ্যমকে কেন্দ্র করে। হাস্য রসের মাধ্যমে নাটকটি একটি বার্তা প্রদান করবে।নাটকে অতিরিক্ত অভিনেতা হিসেবে রয়েছেন রোজী সিদ্দিকী, ড. এজাজুল ইসলাম, ফারুক আহমেদ, মাহমুদুল ইসলাম মিঠু ও রাজু প্রমুখ।আগামী মাসে আরও নাটক প্রচারিত হবে বলে জানা গেছে।
নতুন টিভি সিরিজ 'ডিয়ার ৯০'স' ২৩ নভেম্বর থেকে সনি চ্যানেলে সম্প্রচার শুরু হবে। সিরিজটি সুরিন্দার ফিল্মস প্রাইভেট লিমিটেড দ্বারা প্রযোজিত।এই সিরিজে অভিনয় করবেন অভিনেত্রী কোয়েল মাল্লিক, যিনি এই সিরিজের মাধ্যমে তার প্রথম টেলিভিশন অভিষেক করবেন। কোয়েল মাল্লিকের পাশাপাশি সিরিজটিতে অভিনয় করবেন শঞ্জিত সেন গুপ্ত এবং অপরাজিতা মুখার্জী।'ডিয়ার ৯০'স' সিরিজটি ১৯৯০-এর দশকে সেট করা হয়েছে এবং এই সময়ের প্রেম, বন্ধুত্ব, স্বপ্ন ও অপেক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরবে।
সেলিনা হোসেনের উপন্যাস 'যাপিত জীবন'কে হাবিবুল ইসলাম হাবিব পরিচালিত চলচ্চিত্রে রূপান্তর করা হয়েছে। সিনেমাটি ২০ নভেম্বর দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।আজ সন্ধ্যা সিনেমার অফিসিয়াল পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে। শুটিং ২০২২ সালের নভেম্বরে শুরু হয়েছিল এবং এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছিল।চলচ্চিত্রটি ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও জাজ মাল্টিমিডিয়া সংস্থাগুলো দ্বারা নির্মিত। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সিনেমাটি সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছে।সিনেমায় আফজাল হোসেন ও রোকেয়া প্রাচী প্রথমবারের মতো স্বামী-স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। আশনা হাবিব ভাবনা কেন্দ্রীয় চরিত্র আনজুমের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন।ভাবনা এই সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বাবার পরিচালনায় কাজ করেছেন। অন্যান্য অভিনেতাদের মধ্যে রয়েছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ, রওনক হাসান, আবুল কালাম আজাদ, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, গাজী রাকায়েত, তানভীর হাবিব প্রবাল, কাজী হায়াত, প্রণব ঘোষ, মিলি মুন্সী, ডলি জহুর, মৌসুমী হামিদ ও খালিদ মাহবুব তুর্যো।
অভিনেতা আজিজুল হাকিম অভিনয়জীবনে ৫০ বছর পূরণ করেছেন। তিনি দীর্ঘ সময়ে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছেন।ক্যারিয়ারের এই পর্যায়েও তিনি অভিনয় থেকে বিরতি নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেননি। তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অভিনয় চালিয়ে যাওয়া চান।আজিজুল হাকিম অভিনয়কে পেশা নয়, বরং সৃজনশীলতার চর্চা বলে মনে করেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে যতক্ষণ মানুষের মধ্যে সৃজনশীলতা থাকে, ততক্ষণ তাকে কাজ চালিয়ে যাওয়া উচিত।গেল ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা 'প্রেসার কুকার'-এ তিনি লিয়াকত আলী চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এই চরিত্র সম্পর্কে তিনি বলেছেন যে এটি সমাজের একটি চরিত্র যা সমাজে বিদ্যমান।তিনি মনে করেন একজন অভিনেতার দায়িত্ব হলো চারপাশের চরিত্র পর্যবেক্ষণ করা এবং সুযোগ পেলে সেগুলো বিশ্বস্ততার সাথে উপস্থাপন করা।সিনেমা 'মালিক'-এও তিনি ভিন্ন লুকে খল চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ৫০ বছর পরেও নতুন গেটআপ বা চরিত্রে অভিনয়ের আনন্দ আগের মতোই অনুভব করেন তিনি।
বলিউড নির্মাতা অনুরাগ কশ্যপ ব্রাহ্মণ সম্প্রদায় সম্পর্কে মন্তব্য করার কারণে আইনি জটিলতায় পড়েছেন। ভারতের সুরাটের অতিরিক্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট জে ভি চৌহান তাঁর বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।অভিযোগকারীর আইনজীবী কমলেশ রাওয়াল জানিয়েছেন, অনুরাগকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য একাধিকবার নোটিস এবং সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি প্রতিক্রিয়া জানালেন না।মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৪ ডিসেম্বর নির্ধারিত হয়েছে। এই মামলা চলতি বছরের মে মাসে শুরু হয়েছিল। আদালত ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯২, ৩৫২ ও ৩৫২(২) ধারায় মামলা করার নির্দেশ দিয়েছে।এই ধারাগুলো বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ উস্কে দেওয়া, ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান করে শান্তিভঙ্গ করা এবং মিথ্যা গুজব ছড়ানোর অভিযোগ নিয়ে আলোচনা করে।বিবাদের সূত্রপাত ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল অনুরাগ কশ্যপের এক্স প্ল্যাটফর্মে করা একটি পোস্ট থেকে। আদিত্য নামের একজন ব্যক্তি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায় সম্পর্কে তার মন্তব্যের বিরোধিতা করেন, জবাবে অনুরাগ প্রশ্ন করেন ব্রাহ্মণ হয়ে তিনি কী অর্জন করেছেন।কমলেশ রাওয়াল এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আদালতে অভিযোগ করেন। আদালত প্রথমে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য অনুরাগের উপস্থিতি চেয়েছিল, কিন্তু তিনি অনুপস্থিত থাকলে একাধিক সমন এবং বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। জামিনযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ক্ষেত্রে শর্ত পূরণ করলে জামিন পাওয়ার সুযোগ থাকে।
শাহরুখ খানের ক্যারিয়ার নিয়ে আনন্দ মাহিন্দ্রা মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, শাহরুখ খানের লক্ষ্য ছিল একজন তারকা হওয়া।শাহরুখ খানের সঙ্গে আনন্দ মাহিন্দ্রার প্রথম সাক্ষাৎ ঘটে ১৯৮০-এর দশকের শেষের দিকে। তখন আনন্দ মাহিন্দ্রা "ইন্দ্রধনুষ" নামক একটি শিশুদের বিজ্ঞান কল্পকাহিনী টিভি সিরিজ প্রযোজনা করছিলেন। শাহরুখ খানের ওই সময় আনন্দের অফিসে গিয়ে সিরিজে একটি চরিত্রে অভিনয় করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।মিটিংয়ে করণ জোহরও উপস্থিত ছিলেন। করণ পরে জানান, তিনি প্রথমে শাহরুখকে কিছুটা অহংকারী মনে করেছিলেন। তবে আনন্দ মাহিন্দ্রা বলেন, করণের বর্ণনা পুরোপুরি সঠিক নয়।আনন্দ মাহিন্দ্রা আরও জানান, শাহরুখ খানের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব দীর্ঘকাল ধরে অব্যাহত রয়েছে। ১৯৯৩ সালে যশ চোপড়ার "দর" ছবির সাফল্যের পর শাহরুখ আনন্দের সিরিজ "রাগিনী"-তে অতিথি হিসাবে উপস্থিত হন।শাহরুখ খানের বাড়িতে পরদিন শুটিং করার অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি আনন্দ মাহিন্দ্রা উল্লেখ করেছেন। তারা একসঙ্গে সময় কাটাতেন, রাতের বেলায় স্ট্রিট ফুড খেতেন এবং একটি গাড়ির ওপর দাঁড়িয়ে গান গাইতেন।আনন্দ মাহিন্দ্রা বলেন, শাহরুখ সবসময় সিনেমায় নিজেকে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত রাখতেন এবং তার এই গুণ তাকে বিশেষ করে তুলেছিল।
আইনের ইতিহাসবিষয়ক গবেষক রাশেদ রাহম বাংলাদেশে বিচার বিভাগ ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি জানান, কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থায় আদালত রেজিমের বৈধতা প্রদানের প্রধান উপযোগী হয়।রাজনীতির বিচারিকীকরণের ফলে ‘রাজনৈতিক আদালত’ উদ্ভূত হয় এবং রাজনৈতিক পরিসর বিভাজিত হয়। বিচারব্যবস্থার রাজনীতিকরণের মাধ্যমে সরকার ক্ষমতা ও সংস্কার সংক্রান্ত প্রশ্ন আদালতের মাধ্যমে সমাধান করে।বাংলাদেশে বিচার বিভাগের ‘কৌশলগত দলবদল’ হলো সংবিধান সংশোধনীতে হস্তক্ষেপ না করা, এড়িয়ে যাওয়া বা বৈধতা দেওয়া। তুলনামূলক গবেষণায় দেখা গেছে বিচারকরা রাজনৈতিক পরিবেশের সাথে খাপ খায় এবং ক্ষমতাসীনদের পতনের অপেক্ষায় থাকেন।বাংলাদেশে সংবিধান মোট ১৭ বার সংশোধন হয়েছে এবং উচ্চ আদালত ৬ বার সংশোধনী বাতিল করেছে। প্রতিটি বাতিলকৃত সংশোধনী চলমান রেজিমের পতনের সময় বা পরবর্তী ভিন্ন রেজিমে বাতিল হয়েছে।১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের মৌল কাঠামো পরিবর্তন করা হয়। এই সংশোধনী দুই সপ্তাহের মধ্যে আদালতের পর্যবেক্ষণে আসে। ১৯৮১ সালে হাইকোর্ট স্বীকার করে চতুর্থ সংশোধনী সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ধ্বংস করেছে।সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়ার জন্য আদালত আইনবিজ্ঞানের ‘পরিচিত ধারণা’ ব্যবহার করে রক্ষণশীলতা রক্ষা করে। বিচারপতি মুনীম এরশাদের সামরিক শাসনকে বৈধতা দেন এবং সপ্তম সংশোধনী জারি হয়।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে পালন করা হচ্ছে। এই উপলক্ষে একটি মতামত প্রকাশিত হয়েছে।মতামতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাতটি অনুষদ এবং ৪৭টি বিভাগ রয়েছে।গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা ও সমন্বয়ের জন্য 'সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ব্যবস্থা' নামে একটি ব্যবস্থা রয়েছে।লেখক গোলাম মর্তুজা সেলিম জাতীয় কৃষক শক্তির সদস্য সচিব।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে আজ নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। তবে এই লটারির বাইরে থেকে যান তিন প্রভাবশালী নির্বাহী প্রকৌশলী। তারা ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পদায়নে আছেন। তারা হলেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের সচিবালয়ে কর্মরত (ই/এম-৪) নিয়াজ মো. তানভীর আলম, ইডেন বিভাগে কর্মরত (সচিবালয়) মুনতাসির মামুন এবং সংসদে কর্মরত (ই/এম-৭) রিসালাত বারী। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ১৫৫ জন নির্বাহী প্রকৌশলীকে সরাসরি লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন করা হয়। তাদের মধ্যে ১১৬ জন সিভিল ও ৩৯ জন ই/এম বিভাগের কর্মকর্তা। লটারিতে বেশ কয়েকটি রঙের বক্স রাখা হয়। এত বক্সের ব্যবহার নিয়েও কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন। গণপূর্তের সংস্থাপন শাখা থেকে মাজহারুল ইসলাম ও মো. জিয়াউর রহমানকে শেরেবাংলা নগর ১ ও ২ এ নতুন করে পদায়ন নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সচিবালয়ে কর্মরত নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়াজ মো. তানভীর আলম (বিসিএস ২৮) বর্তমানে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম-৪ এ কর্মরত রয়েছেন। তিনি খুলনার সাবেক মেয়র তালুকদার আবদুল খালেকের ভাতিজা। এর আগে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম-৩ ও ই/এম-৬ এ নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাহী প্রকৌশলী মুনতাসির মামুন গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইডেন বিভাগে কর্মরত (সচিবালয়)। তিনি ২৭তম বিসিএস (গণপূর্ত) ক্যাডারের কর্মকর্তা। এর আগে, ইডেন গণপূর্ত উপ-বিভাগ-১, ঢাকা-এ উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (সিভিল) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তারও আগে তিনি গণপূর্ত প্রকল্প বিভাগ-৩, ঢাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া, নির্বাহী প্রকৌশলী রিসালাত বারী ই/এম-৭ এ (সংসদ) কর্মরত। বিসিএস ৩২তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা বিএনপির অঙ্গসংগঠনের এক নেতার স্ত্রী। তিনি একই স্টেশনে চার বছরের বেশি সময় ধরে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেছেন। সাবেক এক মুখ্য সচিবের নিকট আত্মীয় পরিচয়ে তিনি এখানে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের মহাখালী বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজিবুল ইসলামকে ডিভিশন-১ এ পদায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একাধিক প্রকৌশলীর মতে, রাজিবুল ইসলাম প্রকৌশলীদের সংগঠনের শীর্ষ এক নেতাকে দিয়ে তদবির করিয়েছেন। তিনি এর আগেও ঢাকা বিভাগ ১ এবং নগর গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে, নিয়াজ মো. তানভীর আলম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে দিয়ে তদবির করিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘কিছু জায়গা স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ। তাই হঠাৎ করে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া যাচ্ছে না। সেই বিষয়টি কর্তৃপক্ষ বিবেচনায় নিয়েই এই বদলি ও পদায়ন করেছে।’ তিন প্রকৌশলীকে কেন লটারির আওতায় আনা হয়নি? জানতে চাইলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন-২) মো. সারোয়ার আলম বলেন, ‘ভিআইপি কেপিআইভুক্ত চার এলাকা- রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বাংলাদেশ সচিবালয় ও জাতীয় সংসদের নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির বাইরে রাখা হয়েছে।’ এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এসব জায়গায় যাতে ফ্যাসিস্টদের মধ্য থেকে কেউ আসতে না পারে সেজন্য এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ সারোয়ার আলম আরও বলেন, ‘যেসব প্রকৌশলীকে লটারির আওতায় আনা হয়নি তাদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা বলে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এরপরও কোনো অভিযোগ এলে, তখন যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নিশ্চিতকরণ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তা ও অধিকার আদায়ের প্রত্যয়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। রাজধানীর তথ্য ভবনের তৃতীয় তলায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠান দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাংবাদিক, সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বুদ্ধিজীবী, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্টজনদের অংশগ্রহণে এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। বুধবার (১৯ আগস্ট) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন এমপি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবীবুর রহমান হাবীব এবং রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মজিবুল হক মজু। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, অধিকার, মর্যাদা, কল্যাণ এবং স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে বর্তমানে গণমাধ্যম সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করছে। বর্তমান সরকারের শাসনামলে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। সরকারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশে এর আগে গণমাধ্যম কখনো এতটা স্বাধীনতা ভোগ করেনি। তবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে যেন অপসাংবাদিকতা, মিথ্যা সংবাদ কিংবা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের সংস্কৃতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভুয়া নিউজ পোর্টাল ব্যবহার করে অপপ্রচার ও চাঁদাবাজির বিষয়ে প্রতিনিয়ত অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। পেশাদার সাংবাদিকদের স্বার্থেই এ ধরনের অপসংস্কৃতি রোধ করা প্রয়োজন। রাজনীতি ও সাংবাদিকতার সম্পর্ক প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনীতির মূল কাজ জনগণের সেবা করা। আর সাংবাদিকদের দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা। তবে বিগত সময়ে যারা সাংবাদিকতার আড়ালে ফ্যাসিবাদের দালালি করেছে এবং গুম-খুন ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনের সহযোগী হয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মসহ সব ক্ষেত্রে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও সুস্থ ডিজিটাল মিডিয়া ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে তথ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সংবাদপত্রের মালিক, সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। ভবিষ্যতেও এ আলোচনা অব্যাহত থাকবে। প্রধান আলোচকের বক্তব্যে অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন এমপি সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও কল্যাণে ফাউন্ডেশনের মহতী উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান। সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ অতিথি হাবীবুর রহমান হাবীব বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহৎ পেশা। রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের উচিত সাংবাদিকদের সম্মান করা এবং তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করা। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতাকে আধুনিক শ্রম ও শিল্প আইনের আওতায় এনে পেশাটিকে একটি শক্ত প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দেওয়া প্রয়োজন। সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনকে আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ছিল মৃত সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া। একই সঙ্গে অসহায় ও অসুস্থ সাংবাদিকদের মধ্যেও আর্থিক ও মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়। বক্তারা বলেন, একজন সাংবাদিকের মৃত্যুর পর তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো পুরো সাংবাদিক সমাজের মানবিক দায়িত্ব। সাংবাদিকদের পরিবারকে সহযোগিতা এবং অসহায় ও অসুস্থ সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানোর এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও আরও বড় পরিসরে অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন, প্রতিকূল পরিবেশে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা বিভিন্ন সময় হামলা, হয়রানি, মামলা ও নানা ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েন। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাংবাদিকদের জন্য জরুরি সহায়তা তহবিল গঠন এবং আইনি সহায়তার পরিধি বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা বাধা ছাড়াই সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিকদের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা কমিটি অনুমোদন করা হয়। পাশাপাশি সাংবাদিকতা, সমাজসেবা, মানবিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য আমন্ত্রিত অতিথি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের মহাসচিব তালুকদার রুমি। এ সময় সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডেইলি প্রেজেন্ট টাইমস-এর প্রধান সম্পাদক মো. ওমর ফারুক জালাল, দৈনিক ফলাফল-এর সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, দুর্নীতি প্রতিরোধ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম হিরু, দৈনিক বঙ্গ সংবাদ -এর সম্পাদক ও প্রকাশক ডা. মির্জা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনিরুজ্জামান তোফায়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মিরাজ হোসেন, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ সনোয়ার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক, দৈনিক মুক্তির লড়াই পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক কামরুজ্জামান রনি, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, দৈনিক নবজীবন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক নুরুন্নাহার, মারিয়া ইসলাম, সারহিন আক্তার, দীপা আক্তার এবং কাজী রোকেয়া আক্তার কেয়া উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত জেলা কমিটি থানা কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাব্বির আহম্মেদ রনি, আরজেএফ-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম, বিএনএন নিউজের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ছিল বর্ণাঢ্য র্যাালি, কেক কাটা, আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান, মৃত সাংবাদিকদের পরিবারের মধ্যে চেক বিতরণ এবং অসহায় ও অসুস্থ সাংবাদিকদের আর্থিক ও মানবিক সহায়তা প্রদান। অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের জন্য সকাল, দুপুর ও বিকেলের খাবারের ব্যবস্থাও ছিল। বিভিন্ন পর্বে সাংবাদিকদের কল্যাণে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে সাংবাদিকদের অধিকার, পেশাগত নিরাপত্তা ও কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যয় নিয়ে সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বর্ণাঢ্য আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, বিগত পাঁচ বছর ধরে সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণে ফাউন্ডেশন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আগামী দিনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা এবং জীবনমান উন্নয়নে ফাউন্ডেশন আরও যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাজধানীর মিরপুরের শিয়ালবাড়ীতে গণপূর্ত বিভাগের কাঠের কারখানা। একসময় সেখানে তৈরি হতো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দরজা-জানালা, আদালতের আসবাব, বিভিন্ন দপ্তরের কক্ষের টেবিল-চেয়ার, এমনকি শৈল্পিক কাঠের নকশাও। কর্মচঞ্চল সেই কারখানাজুড়ে এখন কেবল ভুতুড়ে নীরবতা। যেসব শেডে সারা দিন কাঠ কাটার শব্দ, মেশিনের গর্জন আর শ্রমিকদের ব্যস্ততা থাকত; সেখানে পড়েছে ধুলাবালির স্তর। প্রায় এক দশক ধরে কার্যত অচল হয়ে থাকা সরকারি এ কারখানার আশপাশে যদিও গড়ে উঠেছে আসবাবের অনেক কারখানা ও দোকান। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ যাচ্ছে ব্যক্তিমালিকানাধীন এসব প্রতিষ্ঠানের হাতেই। আর সেগুলো পাইয়ে দিতে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। সরকারি দপ্তর ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জন্য রুচিশীল ও আলংকারিক কাঠের আসবাব তৈরির উদ্দেশ্যে পাকিস্তান আমলে কারখানাটি স্থাপন করা হয়। সময়ের পরিক্রমায় যুক্ত করা হয় কাঠ প্রক্রিয়াকরণের আধুনিক সব যন্ত্রপাতি। দীর্ঘ সময় ধরে এখান থেকেই সরবরাহ করা হয় বিভিন্ন স্থাপনায় প্রয়োজনীয় কাঠের সামগ্রী। বিশাল এ কর্মযজ্ঞ চালাতে কারখানার ছিল প্রায় ১ হাজার ২০০ শ্রমিক। কিন্তু এক দশক আগে নানা কারণ দেখিয়ে সেটি বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর সরকারি প্রকল্পের আসবাব তৈরির কাজ চলে যায় আশপাশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোয়। গণপূর্ত বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার দাবি, সরকারি বিভিন্ন ভবনে গত কয়েক বছরে ব্যবহৃত দরজা-জানালা ও কাঠের আসবাবের মান নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অনেক প্রকল্পে উদ্বোধনের আগেই দরজা-জানালা নষ্ট হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। অথচ অতীতে সরকারি কাঠের কারখানায় তৈরি আসবাব এখনো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করছে, যার মান নিয়ে নেই তেমন অভিযোগ। সম্প্রতি সরজমিনে দেখা যায়, মিরপুর-৬ নম্বরে সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন প্রকল্পের পাশে থাকা গণপূর্ত বিভাগের কাঠের কারখানার মূল ফটক বন্ধ। আবাসন প্রকল্পের ভেতর দিয়ে বিকল্প পথে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে বিশাল চত্বরজুড়ে সারিবদ্ধ ১৫টি শেড। রয়েছে কারখানা, মেকানিক্যাল স্টোর, গ্যারেজ ও স্টাফ কোয়ার্টার। কিন্তু অধিকাংশই তালাবদ্ধ। কোথাও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে কিছু আসবাব। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো নষ্ট হওয়ার উপক্রম। ফাটল ধরেছে ভবনগুলোর দেয়াল, ছাদের টিন মরিচা ধরা, চারপাশে জরাজীর্ণ পরিবেশ। আবার একটি শেডে হাঁস-মুরগি লালনপালন করতে দেখা যায়। সংশ্লিষ্টরা জানান, ইএম কাঠ কারখানা উপবিভাগ গণপূর্তের একটি বিশেষায়িত ইউনিট। অন্তর্বর্তী সরকার সেটি পুনরায় সচলের সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও পরবর্তী সময়ে তা আর এগোয়নি। বন্ধ কারখানা চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে গণপূর্তের ইএম কাঠের কারখানা উপবিভাগের প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মাদ আনোয়ার হোসেন ডেইলি ভয়েস নিউজ কে বলেন, ‘চালু হয়নি ব্যাপারটা সে রকম না। বিভাগটির কার্যক্রম চালুর ব্যাপারে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’ এদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকায় আশপাশের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় দুই শতাধিক ছোট-বড় আসবাবের কারখানা ও শোরুম গড়ে উঠেছে। বর্তমানে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের আসবাবের বড় অংশই এসব প্রতিষ্ঠান থেকে নেয়া হয়। ১০০ শয্যার জেলা হাসপাতালগুলোকে সম্প্রতি ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ ও সংস্কার প্রকল্পে প্রয়োজনীয় আসবাব সরবরাহে প্রায় দেড়শ কোটি টাকার কাজ দেয়া হয়েছে নয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে। কাজের দরপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এতে অংশ নেয়ার শর্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলোর যান্ত্রিক ও রাসায়নিক প্রক্রিয়াকরণ প্লান্ট, সিজনিং প্লান্ট, ল্যাকার প্লান্টসহ কাঠ ও ইস্পাতের আসবাব উৎপাদন কারখানা থাকা বাধ্যতামূলক। তবে যে প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ পেয়েছে তাদের অনেকেরই কোনো প্লান্ট নেই। তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কাঠের সামগ্রী সরবরাহ করে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় অনিয়ম ও দুর্নীতি দেশের দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যা। উন্নয়ন প্রকল্পে অতিমূল্যায়ন, নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ এবং সরকারি অর্থের অপচয়ের ঘটনা বারবারই ঘটছে। আর এর জন্য এক শ্রেণীর কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের যোগসাজশে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। অনেক ক্ষেত্রে অসাধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের একটি অংশ পারস্পরিক যোগসাজশে দরপত্র নিয়ন্ত্রণ, অস্বাভাবিকভাবে ব্যয় বৃদ্ধি, কমিশন বা কাটমানির বিনিময়ে কাজ পাইয়ে দেয়া এবং কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিল উত্তোলনের মতো অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় এসব অনিয়মের তদন্তও একই প্রভাববলয়ের ব্যক্তিদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবে একই ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঘটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেজাউল করিম সোহাগ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পে আসবাবপত্র ও কাঠসংক্রান্ত ক্রয় নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, সেটিও সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার দুর্বলতার একটি উদাহরণ। এসব ঘটনা প্রমাণ করে এখনো সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহির ঘাটতি রয়েছে।’ জনসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও সরকারি ক্রয় ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করা বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সেটিকে অকার্যকর রেখে একই ধরনের পণ্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহের যৌক্তিকতা নেই। বরং সরকারি কারখানাগুলো আধুনিকায়নের মাধ্যমে পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা গেলে একদিকে যেমন সরকারি ব্যয় কমানো সম্ভব, অন্যদিকে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়মের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাঠের কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ রেখে পাশের নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরকারি কাজ করানোর পেছনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলে মনে করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। ডেইলি ভয়েস নিউজ কে তিনি বলেন, ‘বিগত কর্তৃত্ববাদী সরকারের সময়ে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার একটি বড় অংশ সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল। দুঃখজনকভাবে সেই চর্চার ধারাবাহিকতা এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু কীভাবে গণপূর্তের কাঠের কারখানা বন্ধ হয়ে গেল, কেন বন্ধ হলো এবং সে সিদ্ধান্তের কোনো দালিলিক ভিত্তি পাওয়া যাচ্ছে না—এটি প্রশাসনিক জবাবদিহির বড় ধরনের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।’ কারখানাটি বন্ধ থাকার ফলে কারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে এবং এর জন্য কারা দায়ী, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করা প্রয়োজন উল্লেখ করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার কারখানাটি পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নিলেও সেটি বাস্তবায়িত হয়নি। তাই বর্তমান সরকারের উচিত এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনা।’ প্রায় এক দশক ধরে বন্ধ থাকা গণপূর্ত বিভাগের কাঠের কারখানাটি পুনরায় চালু করা গেলে সরকারি প্রকল্পে ব্যবহৃত কাঠের আসবাব ও সরঞ্জামের গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) খালেকুজ্জামান চৌধুরী। তার মতে, নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা থাকলে সরকারের একদিকে যেমন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে, অন্যদিকে মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহও নিশ্চিত করা যাবে। খালেকুজ্জামান চৌধুরী ডেইলি ভয়েস নিউজ কে বলেন, ‘নিজস্ব কারখানা থাকলে আমাদের অনেক সুবিধা হয়। ঠিকাদারদের মাধ্যমে সবসময় ভালো মানের উপকরণ পাওয়া যায় না। কিন্তু নিজস্ব কারখানা থাকলে আমরা নিজেরাই মান নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। বিশেষ করে আদালতসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য যেসব আসবাবপত্রে তুলনামূলক কম অলংকরণ থাকে, সেগুলো নিজস্ব কারখানাতেই দক্ষতার সঙ্গে উৎপাদন করা সম্ভব।’ একসময় কারখানাটিতে বিপুলসংখ্যক ওয়ার্ক-চার্জড কর্মী কাজ করতেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অবসরের পর তাদের পদ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় জনবল সংকট তৈরি হয়েছে। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। তবে কারখানাটি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে নতুন জনবল নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল ও আধুনিক যন্ত্রপাতি পাওয়া গেলে সরকারি এ উৎপাদন ইউনিট আবারো সচল করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নবীনগর থেকে মেরকুটা যাওয়ার যাত্রীবাহী নৌকায়, মনু বাবুর ঘাটলা নামক স্থানে নৌকায় বসাকে কেন্দ্র করে তর্ক বির্তক একপর্যায়ে মোহাম্মদ খাঁর ছেলে এলেম খাঁর ঘুষির আঘাতে বগডহর গ্রামের মনসুর আলী বেপারি বাড়ির মৃত হারিজ মিয়ার ছেলে হানিফ মিয়া (৫০) মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থালে থাকা লোকজন জানান,হাঠাৎ করেই নৌকায় বসাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি একপর্যায়ে মহল্লা গ্রামের এলেম খাঁর ঘুষির আঘাতে পূর্ব ইউনিয়নের বগডহর গ্রামের হানিফ মিয়া অচেতন অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সাথে সাথে স্থানীয়লোকজন ও তার স্ত্রী তাকে নবীনগর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। হানিফ মিয়ার স্ত্রী জানান, তারা তাদের মেয়ের স্বামির বাড়ি বেড়াতে মহল্লা গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে নৌকায় বসতে যান, তখন ভিতরে থাকা যাত্রী বলেন, এখানে বসতে পারবেন না, তখন আমার স্বামী বলেন কেন বসতে পারবো না,তখন ভিতরে থাকা সেই লোকটি আমার স্বামী কে গালাগাল করলে, এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ঐ ব্যাক্তি আমার স্বামী কে ঘুষি মারলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন স্থানীয়লোকজন হাসপাতালে নিয়ে আসলে ডাক্তার আমার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে জানান। তিনি আরো বলেন, আমার স্বামীর অবস্থার অবনতি দেখে সেই লোকটি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন,আমি তাকে চিনি না তবে দেখলে চিনতে পারবো,তার বাড়ি মহল্লা গ্রামে এতটুকুই জানি। এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডিউটিতে থাকা ডাক্তার অঙ্কন জানান, উনাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। হাসপাতালে আসার আগেই তিনি মারা যান। এবিষয়ে নবীনগর থানা অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, আপনারা যা শুনেছেন আমরাও তাই শুনেছি, খবর পেয়ে নবীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডিউক ইউনিভার্সিটি ও নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ৩০ অক্টোবর ফ্রন্টিয়ার্স ইন সাইকোলজি জার্নালে একটি গবেষণা প্রকাশ করেন।গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের ৩ থেকে ১৩ বছর বয়সী ২৯৫ জন শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অংশে ১২৪ জন শিশু এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা উত্তর ক্যারোলাইনা চিড়িয়াখানায় গবেষণায় অংশ নেন।গণতান্ত্রিক কঙ্গোর কিনশাসার লোলা ইয়া বোনোবো অভয়ারণ্যে ১৭১ জন শিক্ষার্থী গবেষণায় অংশগ্রহণ করেন। গবেষকরা শিশুদের প্রাণীর প্রতি ভয় (বায়োফোবিয়া) এবং জীববৈচিত্র্যের প্রতি আকর্ষণ পরিমাপের জন্য ছবিভিত্তিক তুলনামূলক পদ্ধতি ব্যবহার করেন।গবেষণায় দেখা গেছে সব শিশু প্রকৃতির প্রতি সমান আকর্ষণ অনুভব করে না এবং সব শিশু সাপ বা মাকড়সার প্রতি সমান ভয় পায় না। মার্কিন শিশুদের তুলনায় কঙ্গোর শিশুরা ঘরের আশপাশে বন্য প্রাণীর উপস্থিতি কম সহ্য করতে পারে এবং জীববৈচিত্র্যময় স্থানে ভ্রমণের আগ্রহ কম।গবেষণার ফলাফল থেকে পরিবেশবিষয়ক শিক্ষায় বৈচিত্র্য আনার প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে। প্রাণীর প্রতি ভয় এবং প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণ পরস্পরের বিপরীত নয়, বরং দুটি আলাদা মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়া।শিক্ষক ও অভিভাবকদের উচিত শিশুদের প্রকৃতির প্রতি ব্যক্তিগত আগ্রহ ও স্বাচ্ছন্দ্যের স্তর বুঝে পরিবেশগত শিক্ষা প্রদান করা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির কয়েকজন ছাত্রী এক সহপাঠীর বিরুদ্ধে ডিজিটালভাবে তাদের ছবি পরিবর্তন, অশ্লীল বার্তা পাঠানো এবং ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছে।মঙ্গলবার, স্কুল প্রাঙ্গণে এই ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে তারা বিক্ষোভ করে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, স্কুল প্রশাসন অভিযুক্ত ছাত্রের বাবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পদমর্যাদার কারণে পক্ষপাতিত্ব দেখাচ্ছে।স্কুল কর্তৃপক্ষ ১০ জন প্রতিবাদী ছাত্রীর ক্লাস স্থগিত করেছে। তারা অভিযোগ করেছে যে, স্কুল প্রশাসন তাদের অভিযোগ গ্রহণ করেনি এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে।প্রতিবাদী ছাত্রীরা পাঁচটি দাবি জানিয়েছে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে, প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা।স্কুল প্রশাসন একটি দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, কিন্তু প্রতিবাদী ছাত্রীরা এর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।প্রতিবাদী ছাত্রীরা জানিয়েছে, তারা ২৫ দিন ক্লাস থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।
উদয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির কয়েকজন ছাত্রীকে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছবি বিকৃত করা, অশ্লীল বার্তা পাঠানো এবং ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে একই শ্রেণির এক ছাত্রকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১০ শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রেখেছে। মঙ্গলবার সকালে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ শুরু করে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে, অভিযুক্ত ছাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিনের ছেলে হওয়ায় প্রশাসন পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। তারা দাবি করেছে, সকাল থেকে প্রাঙ্গণে জড়ো হওয়া থেকে তাদের রোধ করতে শ্রেণিকক্ষে তালাবদ্ধ করা হয়েছিল। পরে তারা তালা ভেঙে বিক্ষোভ শুরু করে। বিক্ষোভকারীরা ‘হয়রানিমুক্ত স্কুল চাই’, ‘মেয়েদের নিরাপত্তা চাই’ এবং ‘ওর বাবা ডিন হলে আমাদের কি বাবা রিকশাওয়ালা?’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, ভুক্তভোগী ও প্রতিবাদীদের হয়রানি বন্ধ করা, বঞ্চিত ১০ শিক্ষার্থীকে শ্রেণিতে ফিরিয়ে আনা এবং ডিনের নিয়ন্ত্রণমুক্ত স্বতন্ত্র তদন্ত কমিটি গঠন। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে গেলে প্রশাসন অভিযোগ গ্রহণ করেনি। বরং ১০ প্রতিবাদী শিক্ষার্থীকে আটকে লিখিত বক্তব্য নেওয়া, ক্লাস ও পরীক্ষা থেকে বিরত রাখা এবং আইনি হুমকি দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীরা দাবি করেছে, ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষিত একটি মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। অধ্যক্ষকে দেওয়া অভিযোগপত্রে ছাত্রীরা জানিয়েছে, অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে কুরুচিপূর্ণ আচরণ করছেন এবং সম্প্রতি বিকৃত ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ও ধর্ষণের হুমকি দিয়েছেন। আগে দুবার অভিযোগ করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এক ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেছে, অভিযুক্ত চার বছর ধরে বিরক্ত করছেন এবং একাধিকবার অবাঞ্ছিত স্পর্শ করেছেন। অন্য এক ভুক্তভোগী জানিয়েছে, অভিযুক্ত শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ নিয়ে অশালীন মেসেজ পাঠিয়ে অনেক বন্ধুকে ধর্ষণের হুমকি দিয়েছেন। এ ধরনের ঘটনা বহুবার ঘটলেও শিক্ষকদের কাছে অভিযোগ করা যায়নি। আন্দোলনকারী মো. জামিল হোসেন জানিয়েছেন, অক্টোবরের প্রথম দিকে ৬০-৭০ জন শিক্ষার্থী অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার মুঠোফোন ও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বিকৃত ছবি ও বার্তা মুছে ফেলতে বলেছেন এবং তাকে থাপ্পড় দিয়ে সতর্কও করা হয়েছে। ৭ অক্টোবর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বাবা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সহকারী প্রক্টর বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। ৮ অক্টোবর পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষকরা ১০ শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করে লাঞ্চরুমে আটকে রেখে লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি, বরং অভিভাবকদের ডেকে মানসিক চাপ দেওয়া হয়েছে। প্রথমে ১০ শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা ও ক্লাস থেকে বিরত রাখা হয়। পরে অভিভাবকদের প্রতিবাদের মুখে আলাদা কক্ষে পরীক্ষা নেওয়া হলেও শ্রেণিকক্ষে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পূজার ছুটিসহ মোট ২৫ দিন তারা স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হয়েছে। প্রতিবাদ অব্যাহত রাখলে টিসি দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। বিদ্যালয় প্রশাসন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সহকারী প্রক্টর ড. এ কে এম নূর আলম সিদ্দিকী ও ড. এনামুল হক সজীবকে নিয়ে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে, তদন্তের নামে অভিযুক্তকে অপহরণ ও গুরুতর মারধরের অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ, তবে অভিজ্ঞতা ছাড়া চাকরি পাওয়া সম্ভব।বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম চাকরির আবেদনে সহায়ক হতে পারে। গবেষণা, জরিপ, কর্মশালা এবং প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা চাকরির আবেদনে কাজে লাগতে পারে।ক্লাবের কার্যক্রম ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের অভিজ্ঞতা নিয়োগদাতাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে লেখা গবেষণাপত্র বা টার্ম পেপার সিভিতে যুক্ত করা যেতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের বিংহ্যামটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যারিয়ার নির্দেশিকায় সিভিতে গবেষণার অভিজ্ঞতা তুলে ধরার জন্য কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা একাডেমিক কাজের অংশ হিসেবে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ, সাক্ষাৎকার, পর্যবেক্ষণ ও জরিপে অংশ নেন।শিক্ষকদের সঙ্গে গবেষণা বা অন্যান্য একাডেমিক কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকে শিক্ষার্থীদের। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাসউদ ইমরান বলেছেন যে শিক্ষার্থীরা টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট বা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করতে পারেন।শিক্ষকের সঙ্গে গবেষণা, পাঠদান-সহায়ক কাজ বা প্রকল্পে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা সিভিতে উল্লেখ করা যেতে পারে। এসিআইয়ের মানবসম্পদ বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. আকতার হোসেন বলেছেন যে বেশির ভাগ সদ্য স্নাতকের কাজের অভিজ্ঞতা থাকে না।নিয়োগদাতারা শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রাসঙ্গিক দক্ষতা বিবেচনা করেন। সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করে। নিয়োগদাতারা প্রার্থীর যোগাযোগের দক্ষতা, দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতা, দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা এবং নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার যোগ্যতাও বিবেচনা করেন।
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী কনস্ট্রাক্ট কার্নিভাল ২.০ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠানটি বিইসিএম বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত হয়।৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত এই কার্নিভালে বিইসিএম বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রতিযোগী ও সংশ্লিষ্টরা অংশগ্রহণ করেন।প্রতিযোগিতাগুলোতে শিক্ষার্থীদের কারিগরি জ্ঞান, সৃজনশীল চিন্তাশক্তি, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, ব্যবস্থাপনা দক্ষতা এবং বাস্তব প্রকৌশল প্রয়োগের দক্ষতা যাচাই করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এসএম আব্দুর রাজ্জাক। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মো. হাফিজুর রহমান।এই অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের জন্য পুরস্কারের পরিমাণ এক লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে থাকে।গত এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর আত্মহত্যা প্রতিরোধের জন্য সচেতনতামূলক প্রচার শুরু করা হয়েছিল। তবে অনেক প্রতিষ্ঠান এই প্রচারে যুক্ত হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।এইচএসসি পরীক্ষায় প্রায় ছয় লাখ শিক্ষার্থী হোঁচট খেয়েছে। বিশেষ করে ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে তিন লাখ ৮২ হাজার শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।ফল প্রকাশের প্রথম ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত পাঁচ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এছাড়া কমপক্ষে ১৮ জন আত্মহত্যাচেষ্টার খবর পাওয়া গেছে।মোটমাট ছয় লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে, যা উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬ ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই দিনব্যাপী সামিটের উদ্বোধন করবেন।বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি যৌথভাবে এই আয়োজন করছে। সামিটের বিস্তারিত তুলে ধরেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।এটি চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কেন্দ্রে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসার প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সামিটের উদ্দেশ্য হলো মানুষ, বাণিজ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মিশ্রণে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করা।সামিটে তিনটি বিষয়ভিত্তিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ১২টায় প্রথম অধিবেশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিপ্লবের গতিপথ নিয়ে আলোচনা হবে। একই সময়ে দ্বিতীয় অধিবেশনে শিক্ষা ও শিল্প খাতের অংশীদারি বাড়ানোর কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হবে। বিকেল ৩টায় তৃতীয় অধিবেশনে ডিজিটাল সহকর্মী হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এজেন্টের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হবে।সামিটে মোট ১৪২টি প্রদর্শনী স্টল থাকবে। দেড় শতাধিক স্টার্টআপ এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তাদের উদ্ভাবন ও প্রকল্প উপস্থাপন করবে। ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি কলেজের শিক্ষার্থী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রকল্প নিয়ে অংশ নেবেন।বিদেশি প্রদর্শক হিসেবে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান থাকবে, যার মধ্যে একটি যুক্তরাষ্ট্রের এবং চারটি পাকিস্তানের। মন্ত্রী জানিয়েছেন, সামিটে প্রায় ছয় হাজার দর্শনার্থী এবং দুই হাজার আমন্ত্রিত অতিথি অংশ নেবেন।প্রায় ২৭ জন বক্তা ও আলোচক থাকবেন, তাদের মধ্যে দেশি-বিদেশি নীতিনির্ধারক, শিল্প বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, গবেষক ও করপোরেট প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। ঢাকা চেম্বার এবং মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২০০ জন বিশেষ অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
সিলেট ডেটা সেন্টারে ৩২৫ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র এখন কার্যকর। এই প্রকল্পের জন্য ৪৫০টি উচ্চ ক্ষমতার সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে।এই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বাংলাদেশের ডেটা সেন্টারের মধ্যে সবচেয়ে বড় সৌর বিদ্যুৎ সুবিধা হিসেবে পরিচিত। এটি প্রতি বছর ৩০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে এবং ১৮৮ টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন কমাবে।গ্রামীণফোনের CEO ইয়াশ আজজাম জানিয়েছেন, ডিজিটাল রূপান্তরের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে এবং কোম্পানি একটি নির্ভরযোগ্য, ভবিষ্যৎ প্রস্তুত এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ করছে।গ্রামীণফোন ২০১৯ সালের ভিত্তি বছরের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন ৫০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নিয়েছে।ZTE বাংলাদেশের CEO মাও জুনইয়ং বলেছেন, এই প্রকল্পটি দেখায় কিভাবে উন্নত প্রযুক্তি এবং নবায়নযোগ্য শক্তি একত্রিত হয়ে টেকসই এবং শক্তি দক্ষ ডিজিটাল অবকাঠামো নির্মাণ করতে পারে।এই প্রকল্পে গ্রামীণফোন এবং ZTE বাংলাদেশ যৌথ অংশীদার হিসেবে কাজ করছে।
বর্তমান সময়ে বাড়ির অনেক ডিভাইস ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। স্মার্টফোন এবং কম্পিউটার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে তথ্য চুরি হওয়ার ঘটনা বাড়ছে।বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, স্মার্ট ফ্রিজের নিরাপত্তা দুর্বল হলে সাইবার অপরাধীরা সহজেই তথ্য চুরি করতে পারে। এছাড়াও, সিসিটিভি ক্যামেরা, ভিডিও ডোরবেল এবং স্মার্ট লকও সাইবার অপরাধীদের লক্ষ্য হতে পারে।স্মার্ট হোমের সব ডিভাইস প্রায়ই একই ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকে। দুর্বল নিরাপত্তার স্মার্ট ডিভাইস অন্য সাইবার হামলার কাজে ব্যবহার হতে পারে।স্মার্ট ডিভাইসের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য ডিফল্ট পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা উচিত। পাশাপাশি, নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট করা প্রয়োজন।
বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence - AI) এক নতুন বিপ্লবের সূচনা করেছে। তথ্য বিশ্লেষণ, অটোমেশন, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি এবং শিক্ষা সহ প্রায় সব খাতে এআই-এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশও এ পরিবর্তনের বাইরে নয়। দেশীয় স্টার্টআপ, সফটওয়্যার কোম্পানি এবং প্রযুক্তি সংস্থাগুলো এআই প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ দেখাচ্ছে, তবে এখনও অনেক পথ বাকি। বাংলাদেশের অগ্রগতি: দেশে বর্তমানে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান চ্যাটবট, অটোমেটেড কাস্টমার সার্ভিস, ফেস রিকগনিশন, এবং ডেটা অ্যানালিটিক্সে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। সরকারের আইসিটি বিভাগ 'AI ফর বাংলাদেশ' প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও এআই শিক্ষা চালু করছে ধীরে ধীরে। চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা: যথাযথ ডেটা অবকাঠামো, দক্ষ মানবসম্পদ ও গবেষণার অভাবে এআই প্রযুক্তির পূর্ণ সম্ভাবনা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ইন্টারনেট ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে জনসচেতনতার অভাবও অন্যতম বড় বাধা। বিশেষজ্ঞ মতামত: প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ যদি সময়মতো ডেটা সুরক্ষা আইন, এআই গবেষণা তহবিল এবং শিল্প-একাডেমিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে পারে, তবে আগামী পাঁচ বছরে দেশের অর্থনীতিতে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর ভবিষ্যতের কল্পনা নয়—এটি বর্তমানে বিশ্বকে বদলে দিচ্ছে। বাংলাদেশ যদি সঠিকভাবে বিনিয়োগ ও পরিকল্পনা করতে পারে, তবে এআই হতে পারে দেশের পরবর্তী ডিজিটাল বিপ্লবের চালিকা শক্তি।
বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence বা AI) প্রযুক্তির ব্যবহার বিস্ময়কর হারে বাড়ছে। তবে এর বিপুল সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে নানা বিভ্রান্তি, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও নৈতিক চ্যালেঞ্জ। এসব বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে এবং নীতিমালার আওতায় আনতে বিশেষজ্ঞরা এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রতি ঢাকায় আয়োজিত "এআই অ্যান্ড সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট" শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তারা বলেন, অতি দ্রুত এই প্রযুক্তির প্রসার ঘটলেও এর যথাযথ ব্যবহার, নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা এখনও প্রয়োজনীয় মাত্রায় পৌঁছায়নি। ভুয়া তথ্য ছড়ানোর আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই দিয়ে তৈরি করা ভুয়া ভিডিও (ডিপফেইক), অটোমেটেড ভুয়া সংবাদ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিমূলক কনটেন্ট ইতিমধ্যেই সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হক বলেন, "অনেকেই এখন বিশ্বাস করছে না কোন ছবি বা ভিডিও আসল। এর ফলে সত্য-মিথ্যার সীমা মুছে যাচ্ছে। রাজনীতি, আইন ও সামাজিক সম্প্রীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।" চাকরির বাজারে শঙ্কা বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারে অনেক শ্রমনির্ভর ও মধ্যম স্তরের পেশা অদূর ভবিষ্যতে বিলুপ্ত হতে পারে। বিশেষ করে কল সেন্টার, কনটেন্ট লেখক, গ্রাফিক ডিজাইনার এবং হিসাবরক্ষণ পেশায় ঝুঁকি বাড়ছে। নীতিমালার ঘাটতি বাংলাদেশে এখনও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের জন্য কোনো পূর্ণাঙ্গ আইন বা জাতীয় নীতিমালা নেই। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন থাকলেও তা এআই-নির্ভর প্রযুক্তির গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন প্রযুক্তিবিদরা। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ তারা বলছেন, এখনই উচিত শিক্ষা, প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক মহলে এআই ব্যবহারের রূপরেখা তৈরি করা। নৈতিক ও নিরাপদ এআই উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও স্টার্টআপদেরও একসঙ্গে কাজ করা জরুরি।
প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবার দেশের স্কুল পর্যায়ে রোবটিক্স শিক্ষা চালু করতে উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের শতাধিক স্কুলে এ পাঠ্যক্রম চালু করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষায় “ভূমিকা ভিত্তিক রোবটিক্স” শীর্ষক একটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করা হয়েছে। এতে থাকবে সহজ প্রোগ্রামিং, সেন্সর ব্যবহার, অটোমেশন ধারণা, এবং ছোটখাটো রোবট তৈরি ও পরিচালনার হাতে-কলমে শিক্ষা। ভবিষ্যতের কর্মদক্ষতা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক হাফিজুর রহমান বলেন, “বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রযুক্তি-ভিত্তিক দক্ষতা সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন। আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্যই এই প্রস্তুতি।” তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে যাতে তারা ক্লাসে রোবটিক্স বিষয়টি সহজভাবে তুলে ধরতে পারেন। শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে ইতোমধ্যে কিছু বেসরকারি স্কুল পরীক্ষামূলকভাবে রোবটিক্স ক্লাব পরিচালনা করছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। রাজধানীর একটি স্কুলের শিক্ষার্থী সানজিদা রহমান জানায়, “আমরা নিজেরাই ছোট একটি রোবট বানিয়েছি, সেটি চলতে পারে এবং নির্দেশ মানতে পারে—এটা ভীষণ রোমাঞ্চকর।” কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে দেশীয় স্টার্টআপ এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে একাধিক দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। ‘টেকল্যাবস বাংলাদেশ’ নামের একটি স্টার্টআপ ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্কুলে লো-কোস্ট রোবটিক্স কিট সরবরাহ শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মত প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রাথমিক স্তরে রোবটিক্স শিক্ষা ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেকাট্রনিক্স এবং অটোমেশন সেক্টরে দক্ষ কর্মশক্তি গড়ার ভিত্তি তৈরি করবে।
সরকার লবণাক্ত পানি শোধন করে পাইপলাইনে সারা দেশে সরবরাহের পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। আজ মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। এর আগে তিনি ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেন। শাহে আলম বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে একটি শহরের জন্য মাত্র ৩০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করা যাবে। সেখানে ঢাকা শহরে আমরা ৭৪ শতাংশ উত্তোলন করছি। আর উপরিভাগের পানি (সারফেস ওয়াটার) মাত্র ২৪ শতাংশ। এতে জলবায়ু পরিবর্তন ও আমাদের পরিবেশের ওপর বড় ধরনের আঘাত আনবে। ভূমিকম্প হওয়ার একটা সম্ভাবনা থেকে যাবে। এই বিষয়টি মাথায় রেখে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মতো স্যালাইন ওয়াটারকে ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মাধ্যমে সরবরাহের উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। ‘সমুদ্রের উপরিভাগ বা নদী গিয়ে যেখানে মিলিত হয়েছে, চাঁদপুর ও মোংলায় দুটি পয়েন্টে বড় ধরনের প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি করতে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন,’ বলেন তিনি। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রকল্প দুটির ফিজিবিলিটি স্টাডি শুরু হয়েছে এবং এডিবি এ ব্যাপারে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। ‘গ্যাস বা বিদ্যুৎ যে রকম জাতীয় গ্রিড থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, আমরা এই পানি দেশের প্রত্যেকটি জেলা-উপজেলা পর্যায়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেবো। গ্যাস যদি দেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে পানিও সারা দেশে (সরবরাহ করা) অসম্ভব কিছুই হবে না,’ সরকারের সিদ্ধান্ত জানান তিনি। শাহে আলম জানান, ঢাকা শহরে প্রতিদিন পানির চাহিদা ৩ কোটি ২৫ লাখ লিটার। এর মধ্যে ভূগর্ভস্থ ও উপরিভাগ মিলিয়ে ওয়াসা সরবরাহ করে ২ কোটি ৯৫ লাখ থেকে ৩ কোটি ৫ লাখ লিটার পর্যন্ত। প্রতিদিনই আমাদের কিছু ঘাটতি থেকে যায়। তিনি জানান, এই ঘাটতি পূরণ এবং ঢাকার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার কথা বিবেচনা করে ইতোমধ্যে গন্ধর্বপুর প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। শিগগির (নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার) প্রকল্পটি চালু হবে। এটি চালু হলে মেঘনা থেকে প্রতিদিন ঢাকায় আমরা ৫০ কোটি লিটার পানি পাব। ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সায়েদাবাদ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটি মোট ১৬ হাজার কোটি টাকা প্রকল্প। আমরা শোধনাগার নির্মাণ করে ঢাকা ওয়াসার মাধ্যমে মেঘনা থেকে ৯৫ কোটি লিটার পানি নিয়ে আসব। এই ১৬ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার কাজ শেষ হয়েছে। ২০১৫ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটি ২০৩০ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য ২০২৯ সালের মধ্যে শেষ করব। শেষ পর্যায়ের কাজে ডেনমার্ক সরকার বাংলাদেশকে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা দিয়ে সহযোগিতা করবে উল্লেখ করে শাহে আলম বলেন, এর মধ্যে দেড় হাজার কোটি টাকা অনুদান এবং বাকি ৩ হাজার কোটি টাকা সহজ শর্তে ঋণ। মাত্র দেড় থেকে ২ শতাংশ সুদ হারে কাজ শেষ হওয়ার পরবর্তী ২০ বছরে শোধ করতে হবে। ‘ফলে সরকারের ওপর খুব একটা চাপ হবে না। আমরা এটা গ্রহণ করেছি এবং আমরা উনাদের সরকারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছি।’ এর বাইরেও ডেনমার্ক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট, ওয়াটার সাপ্লাই ও বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকা সাহায্য করছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘উনারা বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী।’ ‘আমরা অনুরোধ করেছি, তারা যাতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ করেন। বিশেষ করে সরাসরি ওয়েস্ট টু এনার্জিতে বিনিয়োগ করতে বলেছি। উনারা বলেছেন, ফিজিবিলিটি স্টাডি করে দেখবেন যে তারা কী ধরনের সহযোগিতা করতে পারেন।’
চলতি বছরে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) মাঠে গড়ানো নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার আভাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল। টুর্নামেন্টটি আরও গোছানোভাবে আয়োজন করতে চান তিনি। দেশের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিপিএল নিয়ে তামিম বলেন, ‘এ বছর নাও হতে পারে বিপিএল। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আরও ভালো বলতে পারবেন।’ বিপিএল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বিসিবি প্রধান বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত ইচ্ছা বিপিএলটা গুছিয়ে করা। যেখানে খেলা নিয়ে আলোচনা হবে, হার-জিত নিয়ে কথা হবে। টাকাপয়সা নিয়ে নেতিবাচক খবর হোক, সেটা চাই না। বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট হলেও বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের টুর্নামেন্ট। ইমেজ রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য। ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে এ বছর বিপিএল না হলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তামিম বলেন, ‘আমরা এ বছর করতে না পারলেও ২০২৭ সালে ভালোভাবে করতে পারব। এ ছাড়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আছে।’ এছাড়া ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মোটামুটি ভালোই হয়েছে। আমরা আসার পর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ হয়েছে। তৃতীয় বিভাগ হয়েছে। নতুন মৌসুম শুরু হয়ে যাবে। দ্বিতীয় বিভাগে দলগুলো অংশগ্রহণ করেনি, সেই খেলোয়াড়দের আর্থিক অনুদান দেওয়ার একটি ব্যাপার আছে। আলোচনা করে সেটাও সমাধান করে ফেলবো।’
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সরকার দেশের ১৯২টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ফাইল ছবি বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে নগর এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ তথ্য জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা না করেই নগরবাসী যেন সহজে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পায় সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এতে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া আরও সহজ হবে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা চালু করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ৫০ শয্যা ও জেলা হাসপাতালগুলোতেও ডায়ালাইসিস সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে। তিনি বলেন, নতুন অবকাঠামো, ভবন ও বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে যাতে দেশের কোনো গ্রাম চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না থাকে। চিকিৎসার অভাবে যেন কোনো মানুষের প্রাণহানি না ঘটে, সে লক্ষ্যেই স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
দেশের সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে জেলা পর্যায়ে কঠোর মনিটরিংয়ের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। একই সঙ্গে প্রতি মাসে চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার সংগ্রহ, আকস্মিক পরিদর্শন এবং অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রশাসন শাখা থেকে গত বুধবার (১ জুলাই) জারি করা এক নির্দেশনায় দেশের সব সিভিল সার্জনের কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, চিকিৎসাসেবার গুণগত মান বজায় রাখতে প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে শয্যা সংখ্যার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োজিত রাখা বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ প্রতি ১০টি শয্যার বিপরীতে অন্তত একজন মেডিকেল অফিসারের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে সিভিল সার্জনদের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, প্রতি মাসে জেলার সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার সংগ্রহ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চিকিৎসকদের নাম, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)-র নিবন্ধন নম্বর ও মোবাইল নম্বরসহ তথ্য সংগ্রহ, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই এবং আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনা। এ ছাড়া কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসক উপস্থিত না থাকলে কিংবা ভুয়া বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করা হলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, জেলা পর্যায়ের মনিটরিং কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ প্রতিবেদন প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠাতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনা দেশের সব সিভিল সার্জনের কাছে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিবন্ধিত চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত হলে রোগীরা আরও নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাবেন। একই সঙ্গে কাগজে-কলমে চিকিৎসক দেখিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা বা চিকিৎসক সংকট গোপনের মতো অনিয়মও কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Hamza Choudhury–র (লেস্টার সিটি) বাংলাদেশে খেলার ঘোষণা BFF–এর জন্য প্ররোচনা হিসেবে কাজ করেছে। স্পীডস্টার ফুটবলার হিসেবে তার অভিষেকের পর, BFF একাধিক প্রবাসী ট্যালেন্ট খুঁজে বের করে বাংলাদেশ দলে নেওয়ার পরিকল্পনা শুরু করেছে। 🔹 বিদেশি মূল–বিশ্বে পরিচিত কিছু নাম শামীট সোম (Shamit Som/Shamit Shome): কানাডায় থাকা ২৭ বছর বয়সী মিডফিল্ডার, কানাডার জাতীয় দলেরও অংশ ছিলেন। BFF–র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফাহাদ করিম জানিয়েছেন, তৈরি হয়েছে দুই সপ্তাহের সময়, যাতে তিনি ক্লাব ও কোচদের সঙ্গে আলোচনা করে বাংলাদেশে খেলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন । এর পাশাপাশি, ফাহামিদুল ইসলাম (ইতালির চতুর্থ বিভাগ), ফারহান মাহমুদ (ফ্রান্স), ক্যারিম হাসান স্মিথ, ইলমান মাতিন, ও আশিকুর রহমান (ইংল্যান্ড), নাবিদ আহমেদ (কানাডা), আমির সামি (যুক্তরাষ্ট্র) সহ ১৩ দেশের ৩২ জন বিদেশি খেলোয়াড় BFF–র নজরে এসেছে । 🔹 ট্রায়াল ও পরিকল্পনা BFF ছয় থেকে সাত দিনব্যাপী ১–৫ জুন ২০২৫ ট্রায়ালের আয়োজন করেছে ঢাকায়, যেখানে প্রবাসী ১৬–২০ বছর বয়সী খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স যাচাই করা হবে । BFF–র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফাহাদ করিম জানান, এটি দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি–বাংলাদেশি যোগ উইঙ্গার বা মিডফিল্ডার হিসেবে সম্ভাবনাময় জুড়ির একটি চেষ্টার অংশ en.wikipedia.org। 🔹 Hamza Choudhury–এর ভূমিকা ও প্রভাব Hamza–র বাংলাদেশ দলে অন্তর্ভুক্তির পরে BFF–র উদ্যোগ আরো জোরালো হয়েছে। তিনি অক্টোবর ২০২৪–এ FIFA অনুমোদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ দলের জন্য যোগ্যতা পান tds-images.thedailystar.net+3dhakatribune.com+3thedailystar.net+3। BFF–র প্রেসিডেন্ট তাবিথ আওয়াল ও নির্বাহী সদস্য ইমতিয়াজ হামিদ সভুজ–এর সাথে UK’র King Power স্টেডিয়ামে দেখা করেন; এসময় Hamza–র সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি করা হয় — যা BFF–র বিদেশি খেলোয়াড়দের প্রলোভনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে । BFF মূলত চায়, Hamza কেবল মাঠেই নয়,Pro-ফর্ম ও আন্তর্জাতিক মানে গাইড হিসেবে কাজ করুক এবং তাকে অনুসরণ করে অন্য প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা বাংলাদেশ দলে আসুক reddit.com+14jagonews24.com+14dhakatribune.com+14। 🔹 ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সচরাচর বিদেশি জাতীয় দল ইতিবাচক ভাবে একাধিক ম্যাচের জটিলতা সামলে প্রবাসীদের গ্রহণে সময় নেয়, তবে BFF–র পরিকল্পনায় প্রথম ফোকাস থাকবে বিদেশে জন্ম বা প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত যুববলদের, যেন তারা দ্রুত জাতীয় দলের সঙ্গে তাল মিলাতে পারে । সামিট সোম–এর জিপিএস–ম্যাপ হওয়া, স্কুলছাত্রদের টুর্নামেন্ট থেকে উঠে আসা andere তরুণদের ধরে বাংলাদেশের শিবিরে যোগ দিতে ইচ্ছুক— জুজের পথ প্রশস্ত হতে পারে আগামী মাসগুলোতে। সংক্ষেপে বিষয় পরিস্থিতি প্রবাসী খেলোয়াড়দের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৩২ জন (১৩ দেশ) প্রধান উদাহরণ Hamza Choudhury, Shamit Shome ট্রায়াল সময় জুন ২০২৫ গতিগতি Hamza–র অভিষেক ও FIFA অনুমোদনের পর BFF–র আরো সক্রিয় পদক্ষেপ লক্ষ্য বিদেশি-প্রমাণ পয়েন্টে প্রয়োগযোগ্য ফুটবলারদের সন্ধান ও সংযোজন বিশ্লেষণ খেলোয়াড় sourced from Europe/N. America–এর সংখ্যা বাড়ছে—এটা বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য স্বপ্নের সম্ভাবনা। Hamza Choudhury–র অভিজ্ঞতা মাইলফলক হিসেবে কাজ করছে। BFF–র লক্ষ্য, এই প্রবাসীদের inclusion–এর মাধ্যমে জাতীয় দলে গুণগত মান ও প্রতিযোগিতা বাড়ানো—এতে SAFF, AFC, ও বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় দলটি শক্তিশালী দাঁড়াতে পারবে। তবে এই পরিকল্পনা সফল করতে হলে BFF–কে পারমিট, ক্লাব-নমঞ্জুরি, এবং FIFA–এর clearance ত্বরান্বিত করতে হবে। পাশাপাশি ম্যাচফিটনেস ও জাতীয় আদর্শে খেলোয়াড়দের অভ্যস্ত করতে হবে। প্রবাসী প্রজন্মের সুশৃঙ্খল তালিকাভুক্তকরণ প্রতিযোগিতামূলক মান উন্নত করবে। Shamit Shome–এর মতো অভিজ্ঞ ও তরুণ মুখগুলোর দ্রুত বাংলাদেশ দলে সংযোজন সম্ভাব্য হলে, ভবিষ্যতে প্রবল প্রভাব বিস্তার করতে ব্যর্থ হবে না।
ফেসব্যাক্সট্ম Camp Nou রেনোভেশন প্রকল্প ২০২৩ সালের জুনে শুরু হয়ে দীর্ঘ বিলম্বের পর, অবশেষে গ্যাম্পার ট্রফির মাধ্যমে ১০ আগস্ট ২০২৫ সালে ‘আংশিক’ কার্যক্রমে ফিরছে বার্সেলোনা। এই সময় পর্যন্ত ক্লাব ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে মিল রেখেও রয়েছে ফিনান্সিয়াল ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ, যা প্রকল্পকে ধাপে এগিয়ে দিয়েছে। সময়সূচির পরিবর্তন ও প্রগতির সারাংশ বার্সেলোনা থেকে ২০২৩–২০২৬ সময়ের ‘Espai Barça’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে Camp Nou পুনর্নির্মাণ শুরু হয় ২০২৩ সালের জুনে, যা শুরুতে ডিসেম্বরে সমাপ্ত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা পিছিয়ে সেপ্টেম্বর ২০২৫–এ সরাসরি এবং ২০২৬–এর গ্রীষ্মে সম্পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে reuters.com+15padmagazine.co.uk+15fcbarcelonanoticias.com+15thisismoney.co.uk+3eurofootball.news+3reddit.com+3 । মাঠে বায়ো-হাইব্রিড ঘাস বসানো শুরু হয়েছে এপ্রিল ২০২৫–এ, যা মূল যাত্রার সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে । ১ম ও ২য় স্তরে প্রায় ৩৯,০০০ সিট বসানো সম্পন্ন, ৩য় শ্রেণির ভিত্তিক নির্মাণ চলছে ও VIP রিং‑এর কাঠামো তৈরি দ্রুতগতি পেয়েছে । আর্থিক পুনর্গঠন ও ঋণের অধঃবিন্যাস রেনোভেশনের জন্য €১.৪৫–€১.৫ বিলিয়ন ঋণ নেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে €৪২৪ মিলিয়ন বর্তমানে বন্ড ইস্যু করে, ২০২৮ থেকে ২০৩৩-৫০ পর্যন্ত সময়সীমা বাড়িয়ে পরিশোধ পরিকল্পনা করা হয়েছে । এই ধরণের আর্থিক পদক্ষেপ ক্লাবের বার্ষিক রাজস্ব বাড়াতে সাহায্য করবে, বিশেষ করে স্পন্সরশিপ ও টিকিট বিক্রয়ের মাধ্যমে €২০০–€৩৫০ মিলিয়ন সম্ভাব্যভাবে অর্জনের হিসেব আছে । প্রশাসনিক বাধা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া গ্যাম্পার ট্রফির আগে সিটি কাউন্সিল, ফায়ার সার্ভিস, মসোস দ’Esquadra ও UEFA-র সাথে বেশ কিছু পারমিট নিতে হবে as.com । বার্সেলোনা পাত্তা দিচ্ছে নেই, এবং আশা করছে জুলাই মাসে আংশিকভাবে লাইসেন্স পেয়ে যাবে । তবে, VIP সেকশন, পঞ্চম তলা, ছাদ অর্থাৎ “roof” ইনস্টলেশন ২০২৬ গ্রীষ্মে সমাপ্ত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে । ⚽ গ্যাম্পার ট্রফি ও স্বাগতম চান্স ১০ আগস্ট Trofeu Joan Gamper আংশিকভাবে নতুন Camp Nou-তে আয়োজনের পরিকল্পনা, যেখানে আনুমানিক ৫০,০০০–৬০,০০০ দর্শক অংশ নিতে পারে cincodias.elpais.com+13as.com+13elpais.com+13 । ছাদ ছাড়া, লিফ্ট, গ্যালারি, ভিআইপি এলাকা ও বাথরুমে কিছু কাজ অসম্পূর্ণ থাকবে — ক্লাব এটি “ট্রায়াল ফেজ” হিসেবে দেখছে, এবং ভক্তদের ধৈর্য কামনা করেছে । সারসংক্ষেপ উপাদান অবস্থা উল্লেখযোগ্য তারিখ মাঠ ও সিট ঘাস বসানো–সিটিং প্রায় সম্পন্ন এপ্রিল–মে ২০২৫ VIP/তৃতীয় শ্রেণি কাঠামো তৈরি প্রক্রিয়াধীন চলমান ছাদ বিলম্বিত, ২০২৬ গ্রীষ্মে সম্ভাব্য — পারমিট অপেক্ষমাণ, জুলাইয়ে মিলতে পারে — আংশিক খোলা গ্যাম্পার ট্রফি: ১০ আগস্ট ২০২৫ ১০ আগস্ট ২০২৫ পূর্ণ উদ্বোধন ২০২৬ গ্রীষ্মের দিকে — ঋণ পুনর্গঠন €৪২৪ মিলিয়ন বন্ড, ২০৩৩–৫০ পর্যন্ত সময়সীমা জুন ২০২৫ Spotify Camp Nou ইউরোপের বৃহত্তম স্টেডিয়াম হিসেবে নতুন করে আত্মপ্রকাশের পথে; তবে নির্মাণ বিলম্ব এবং পারমিট-সংক্রান্ত বাধাগুলি টেকনিক্যাল চ্যালেঞ্জের শুরু। অর্থনৈতিক পুনর্গঠন অর্থসঙ্কট সামলে রাখা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। ক্লাবের এখন মূল অগ্রাধিকার আছে — ১০ আগস্টে আংশিক রিটার্ন দিয়ে ফ্যানদের সাথে পুনঃমিলন ঘটানো। আর এটি যদি সাফল্যের সাথে সফল হয়, তাহলে পরবর্তী বছরের পূর্ণাঙ্গ ক্যাপাসিটিতে ফিরতে সহজ পথ উন্মোচিত হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচেনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের রিপাকলিকান পার্টির ভরাডুবি হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে কংগ্রেসের নিন্মকক্ষের ৪৩৫টি আসনে মধ্যে ২২০ আসনে ডেমোক্র্যাটরা আর ১২৬ আসনে রিপাবলিকানরা জয়ী হয়েছে । সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২১৮ আসন। অন্যদিকে ১০০ আসনের সিনেটের ৩৫টিতে এবার নির্বাচন হচ্ছে । বর্তমান সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩ এবং ডেমোক্র্যাটদের ৪৭ আসন ছিল । গতকালের নির্বাচনের পর ইতিমধ্যে ডেমোক্র্যাটদের আসনসংখ্যা ৫৩তে পৌঁছ গেছে। রিপাবলিকানদের আসনসংখ্যা কমে ৪১-এ দাঁড়িয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা ও সিএনএন
দক্ষিণ ফ্লোরিডার পেমব্রোক কাউন্টিতে রবিবার দুপুর ১২:৫০ মিনিটে একটি লারজেট ৬০ মডেলের বাণিজ্যিক বিমান বিধ্বস্ত হয়। বিমানটিতে ৯ জন যাত্রী ছিলেন বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডি সান্টিস জানিয়েছেন, বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার সময় নিচে থাকা কেউ আহত বা নিহত হয়নি। দুর্ঘটনাস্থলটি গ্রিনাক্রেস শহরে, যা ওয়েস্ট পাম বিচ থেকে প্রায় ৭ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।বিমানটি টেক্সাসের অস্টিন-বার্গস্ট্রম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাহামাসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিমানটি প্রায় ৩৫,০০০ ফুট উচ্চতায় ছিল যখন পাইলটরা তীব্র বৃষ্টি, তুষারপাত এবং ঝড়ের কথা জানিয়ে আরো ২,০০০ ফুট উচ্চতায় ওঠার অনুরোধ করেন।এরপর বিমানটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে। প্রথমে প্রতি মিনিটে ১০,০০০ ফুট, পরে ২০,০০০ ফুট এবং সর্বশেষ ৩০,০০০ ফুট প্রতি মিনিটের হার দিয়ে অবতরণ করে। এক পাইলট জরুরি সংকেত প্রেরণ করেন এবং বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে ডানদিকে তীব্রভাবে ঝুঁকে পড়ে।দুর্ঘটনার কারণে আশেপাশের একটি মোবাইল হোম পার্ক থেকে প্রায় ৬০০ জন বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশের সড়কটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে।ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) তদন্তে সহায়তা করবে এবং ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন একটি তদন্ত দল পাঠাবে।এদিন এলাকায় ভারী বৃষ্টি হচ্ছিল এবং ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে সোমবার বিকেল পর্যন্ত বন্যার সতর্কতা জারি করেছে।
ঘন কুয়াশার কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দক্ষিণাঞ্চলে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে দেশটির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম)। মঙ্গলবার সকালে এ সতর্কতা জারি করা হয়। একই সঙ্গে হলুদ সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে। কুয়াশার কারণে সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে গাড়িচালকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবুধাবি পুলিশ। এনসিএমের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর দেশটির আবহাওয়া সাধারণত পরিষ্কার থেকে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। তবে সকালে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। এতে সড়কে দৃশ্যমানতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবুধাবি পুলিশ গাড়িচালকদের সড়কের ইলেকট্রনিক সাইনবোর্ডে প্রদর্শিত গতিসীমার পরিবর্তনের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছে। এদিকে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ কিছু এলাকায় আর্দ্রতা বাড়তে পারে। এ সময় কোথাও কোথাও কুয়াশা বা হালকা কুয়াশা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। দেশজুড়ে তাপমাত্রা ১৯ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। আবুধাবিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি এবং দুবাইয়ে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে পারে। রাস আল খাইমায় তাপমাত্রা নেমে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। বাতাস দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে হালকা থেকে মাঝারি বেগে বইতে পারে। পরে তা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হতে পারে এবং মাঝে মাঝে গতিবেগ বাড়তে পারে। বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০ কিলোমিটার থাকলেও তা সর্বোচ্চ ৩৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। আরব উপসাগর ও ওমান সাগরে সমুদ্রের অবস্থা শান্ত থাকবে বলে জানিয়েছে এনসিএম।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সোমবার (০২ নভেম্বর) অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার রাজধানী সেন্ট জনসে কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের সম্মেলন (সিএইচওজিএম) উপলক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ আমন্ত্রণ জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বৈঠকে দুই দেশের ক্রমবর্ধমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন উভয় মন্ত্রী। যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের শক্তিশালী বাণিজ্যিক উপস্থিতি, বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগ এবং জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থার জন্য এয়ারবাস কেনার বিষয়ে বাংলাদেশের চুক্তির বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তন, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন এবং মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বহুপক্ষীয় ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমর্থন অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হন দুই মন্ত্রী। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাজ্যের অব্যাহত মানবিক সহায়তার আশ্বাস দেন।
ভারতের আসাম রাজ্যের লখিমপুর জেলার একটি গ্রামে গ্যাসভর্তি বেলুনের সঙ্গে বাঁধা বাংলাদেশের বিএনপির যুবসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের একটি ব্যানার পাওয়া গেছে। শুক্রবার নারায়ণপুর থানার অন্তর্গত লেটেকুজান গ্রামের একটি ধানখেতে বেলুনগুলো দেখতে পান স্থানীয় এক কিশোর। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সকালে পাশের মাঠে গরু চরানোর সময় কিশোরটি বেলুনগুলো দেখতে পায়। পরে সেগুলো একটি বাঁধের কাছে নেমে এলে সে সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে যায়। বেলুনের সঙ্গে লাগানো ফ্লেক্স ব্যানারে জাতীয়তাবাদী যুবদলের মৌলভীবাজার জেলা শাখার ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছাবার্তা লেখা ছিল। এতে বিএনপির নেতা ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ছবিও ছিল। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের সময় একই ধরনের দলীয় ব্যানারযুক্ত বেলুন ওড়ানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রামবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে ধলপুর পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল লেটেকুজান গ্রামে যায়। পরে বেলুন ও ব্যানারটি নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। এই সময় পুলিশ জানায়, ব্যানার ও বেলুনগুলো কোথা থেকে উড়ে এসেছে এবং কীভাবে ভারতের এই গ্রামে পৌঁছেছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করা হচ্ছে।
দিল্লিতে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোটের বিক্ষোভ-মিছিল শুরু হয়েছে। ভিড় বাড়ছে রামলীলা ময়দানে। রোববার ভোর থেকে সেখানে জমায়েত হতে শুরু করেন বিজেপিবিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সমর্থকেরা। ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। বিরোধীদের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শুধু প্রতিবাদস্থলেই মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী কনট প্লেস-মিন্টো রোডের সংযোগস্থল থেকে মিছিল নিয়ে বের হবেন বলে কথা রয়েছে । এছাড়া, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনদেরও মিছিলে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। মিছিল শেষ হবে রামলীলা ময়দানে গিয়ে। দিল্লির রাস্তায় রাস্তায় পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য সব রকম প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। ২৫০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে শহরজুড়ে। রামলীলা ময়দানে ইতোমধ্যে অনেকেই জড়ো হয়েছেন। সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের মিছিল এরই মধ্যে সেখানে পৌঁছে গেছে। কর্মসূচির জন্য দিল্লির একাধিক রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। রামলীলা ময়দানে সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৫৫ হাজার মানুষের জমায়েত সম্ভব। পুলিশ জানিয়েছে, তার বেশি জমায়েতের সম্ভাবনা তৈরি হলে গন্তব্যে পৌঁছোনোর আগেই ভিড় আটকে দেওয়া হতে পারে। বিরোধীদের দাবি, ১০ লাখ মানুষের জমায়েত হবে। ‘ইন্ডিয়া’র কর্মসূচির পাল্টা হিসেবে রোববারই দিল্লিতে মিছিল করবে বিজেপি। ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গার স্মরণে পাল্টা সমাবেশের ডাক দিয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সমাবেশকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ।