বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ, তীব্র মূলধন সংকট আর হাজার হাজার কোটি টাকার প্রভিশন ঘাটতিতে ধুঁকছে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক। ঋণ কেলেঙ্কারি আর লুটপাটের ধাক্কায় ব্যাংকটি যখন সাধারণ আমানতকারীদের আমানতের সুরক্ষা দিতে হিমশিম খাচ্ছে, সেই সময়েও ব্যাংকের টাকায় নিজেদের পকেট ভরাতে দ্বিধা করেননি ব্যাংকটির কর্মকর্তারা। একদিকে লোকসানে থাকা ব্যাংকের ভুয়া মুনাফা দেখিয়ে বোনাসের নামে কর্মকর্তারা ভাগ করে নিয়েছেন ১৫৩ কোটি টাকা, অন্যদিকে সরকারি আইন লঙ্ঘন করে দুপুরের খাবারের (লাঞ্চ সাবসিডি) নাম করে তুলে নিয়েছেন আরও ১১৩ কোটি টাকা।
সরকারি এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে জনতা ব্যাংকের এমন আর্থিক অনিয়ম ও সরকারি তহবিল ভাগবাটোয়ারার চিত্র উন্মোচিত হয়েছে। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শুধু কর্মকর্তাদের নীতিবহির্ভূত লাঞ্চ সুবিধা ও বোনাস দেওয়ার নামেই কর্মকর্তাদের পকেটে গেছে ব্যাংকটির মোট ২৬৬ কোটি ৫০ লাখ ৩৩ হাজার ৩১১ টাকা। আর এটি এমন এক সময়, যখন ব্যাংকটি লোকসানে ধুঁকছে।
সম্প্রতি নিরীক্ষা প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে মহাহিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয়ের বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তর। গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ে করা জনতা ব্যাংকের ২০২৩ ও ২০২৪ সালের অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন এবং চাকরি আদেশ-২০১৫ তোয়াক্কা না করে ব্যাংকের এসব আর্থিক অনিয়ম করা হয়েছে।
ভুয়া মুনাফা দেখিয়ে ১৫৩ কোটি টাকার বোনাস: বাণিজ্যিক অডিটের নথি অনুযায়ী, কাগজে-কলমে কাল্পনিক ও ভুয়া মুনাফা দেখিয়ে ২০২৩ সালে জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতনের ৩ দশমিক ৭৫ গুণ হারে বিশাল অঙ্কের উৎসব ও উৎসাহ বোনাস দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে ব্যাংক তহবিল থেকে তুলে নেওয়া হয় মোট ১৫৩ কোটি ৪৭ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৪ টাকা। তবে এ বোনাস দেওয়ার ক্ষেত্রে মানা হয়নি অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা।
নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকের মধ্যে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ব্যাংকটির শ্রেণীকৃত (খেলাপি) ঋণ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং প্রভিশন ঘাটতি থাকায় ব্যাংকটিতে কোনো মুনাফা অর্জিত হয়নি। বাস্তবে ব্যাংকটি তখন লোকসানে নিমজ্জিত ছিল। কিন্তু অডিট এড়াতে ও কর্মকর্তাদের পকেট ভারী করতে পরিচালনা পর্ষদের ৮২০তম সভায় ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক চিত্র গোপন রাখা হয়।
অডিট নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্মকর্তাদের উৎসাহ বোনাস দিতে চাইলে চূড়ান্ত মূল্যায়নে ব্যাংকের স্কোর ন্যূনতম ৫০ হতে হবে। কিন্তু জনতা ব্যাংকের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত আর্থিক ও পরিচালন মূল্যায়নে প্রাপ্ত স্কোর ছিল মাত্র ৩৫। স্কোর ৫০-এর নিচে নামলে কোনো কর্মকর্তা এক টাকাও বোনাস পাওয়ার যোগ্য নন। কিন্তু জনতা ব্যাংকের তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ ও শীর্ষ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সরকারের এ বাধ্যবাধকতাকে তোয়াক্কা করেনি।
এ ছাড়া, সরকারি নির্দেশনাবলি অনুযায়ী বোনাস দেওয়ার পূর্বশর্ত হলো ব্যাংকের প্রকৃত মুনাফা অর্জন। কিন্তু নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ব্যাংকটিতে মোট ২১ হাজার ১৮১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা প্রভিশন রাখার বাধ্যবাধকতা থাকলেও জনতা ব্যাংক রাখতে পেরেছিল মাত্র ৫ হাজার ৮৩৫ কোটি ৪ লাখ টাকা। ফলে প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৩৪৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এ বিশাল ঘাটতি গোপন রেখে কাগজে-কলমে ৫৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা মুনাফা দেখানো হয়। একই সময়ে ব্যাংকটির শ্রেণীকৃত ঋণ ২০২২ সালের ১৫ হাজার ৭৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ২০২৩ সালে ২৪ হাজার ৮৯৬ কোটি ২৮ লাখ টাকায় পৌঁছায়।
নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চূড়ান্ত স্কোর ৫০-এর কম হওয়া এবং প্রভিশন ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও এ বোনাস প্রদান ছিল নিয়মবহির্ভূত। প্রভিশন ঘাটতি গোপন করে ভুয়া মুনাফার ভিত্তিতে বোনাস বিতরণ শুধু আর্থিক অনিয়মই নয়, এটি ব্যাংক তহবিলের অপব্যবহারের শামিল। নিরীক্ষা দল এ সমুদয় অর্থ বেআইনি ও অনাদায়ি আর্থিক ক্ষতি হিসেবে চিহ্নিত করে অবিলম্বে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আদায় করে ব্যাংক কোষাগারে জমা করার সুপারিশ করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জনতা ব্যাংকের আর্থিক সংকটের বড় কারণ খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বগতি। ২০২৫ সালের জুনে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল ৭২ হাজার ১০৭ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের প্রায় ৭১ শতাংশ। ডিসেম্বর শেষে তা বেড়ে ৭২ হাজার ৫৩৯ কোটি এবং ২০২৬ সালের জুনে ৭৫ হাজার ৭২৮ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর প্রায় ৮০ শতাংশই শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছে আটকে রয়েছে।
খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ করতে না পারায় সংকট আরও গভীর হয়েছে। ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত হিসাবে জনতা ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ছিল ৫৫ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা। একই সময়ে ব্যাংকটির নিট লোকসান হয় ৩ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের জুনে যা হয়েছে ৫০ হাজার ১৬০ কোটি টাকা, যা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
ব্যাংকটির মূলধন পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক।
২০২৬ সালের মার্চে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে মূলধন ঘাটতি ছিল ১৮ হাজার ৩৫৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে খেলাপি ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি ও মূলধন সংকট জনতা ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতার ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে।
সরকারি আদেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ১১৩ কোটি টাকার ‘লাঞ্চ’ বিলাস: এদিকে কর্মকর্তাদের শুধু অনৈতিক বোনাস দিয়েই থেমে থাকেনি জনতা ব্যাংক, বেআইনি লাঞ্চ সাবসিডির নামেও ব্যাংকের বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, একদিকে যখন ভুয়া মুনাফায় বোনাসের ভাগবাটোয়ারা চলছিল, অন্যদিকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দুপুরের খাবারের নামে বিশেষ সুবিধা দিতে চালু করা হয় ‘লাঞ্চ সাবসিডি’। সরকারি বেতন কাঠামো এবং পে-অর্ডারের তোয়াক্কা না করে বছরের পর বছর ধরে ব্যাংকের হাজার হাজার কর্মকর্তাকে দুপুরের খাবারের ভাতা বা লাঞ্চ সাবসিডি দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন-ভাতা নির্ধারিত হয় সরকারি ‘চাকরি (ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান) (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ-২০১৫’ অনুযায়ী। উক্ত আদেশের ২০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ব্যাংকের ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা কাজের বিপরীতে মাসিক ২০০ টাকা হারে টিফিন ভাতা পাওয়ার যোগ্য হবেন। এর বাইরে ২য় থেকে ১০ম গ্রেডের কোনো কর্মকর্তা লাঞ্চ সাবসিডি বা দৈনিক খাবারের ভাতা পেতে পারেন না এবং দৈনিক ভিত্তিতে তা প্রদানের কোনো আইনি সুযোগ নেই।
কিন্তু প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে সরকারি বেতন আদেশের ২০ অনুচ্ছেদ অমান্য করে ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জনতা ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের ৪০৬তম সভায় ২য় থেকে ১০ম গ্রেডের সব কর্মকর্তার জন্য প্রতিদিনের ‘লাঞ্চ সাবসিডি’ অনুমোদন করা হয়। এ সিদ্ধান্তের ফলে পরবর্তী সময়ে ব্যাংকের ২য় থেকে ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি অনুযায়ী প্রতিদিন ২০০ টাকা হারে এ অর্থ দেওয়া হয়। পর্ষদের ওই সিদ্ধান্তের দোহাই দিয়ে বছরের পর বছর ধরে ২য় থেকে ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে ব্যাংকের কোষাগারের বিপুল অঙ্কের টাকা। কেবল এ নিয়মবহির্ভূত লাঞ্চ সাবসিডি বাবদ ব্যাংকটির ব্যয় হয়েছে ১১৩ কোটি ২ লাখ ৭৮ হাজার ৩৫৭ টাকা। অডিট প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিচালনা পর্ষদ বা ব্যাংকের কোনো প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রীয় আইন বা সরকারি আদেশ লঙ্ঘন করে নিজস্ব কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা অনুমোদন করতে পারে না। ফলে এই ১১৩ কোটি টাকার ব্যয় বেআইনি ও অপব্যয় হিসেবে গণ্য হবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি ব্যাংকের যখন মূলধন ঘাটতি থাকে, খেলাপি ঋণের বোঝা বাড়ে, তখন ব্যাংক টিকিয়ে রাখতে পরিচালনা পর্ষদ ও কর্মচারীদের কৃচ্ছ্রসাধনের পথ অবলম্বন করার কথা। অথচ জনতা ব্যাংকের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। সেখানে আইন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্য করে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অডিট পর্যালোচনায় জানা যায়, অডিট দল যখন এসব বিষয়ে ব্যাংকের কাছে ব্যাখ্যা জানতে চায়, তখন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যে জবাব দিয়েছে, তা অডিটের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। বোনাসের বিষয়ে ব্যাংক জানিয়েছে, তারা ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ হিসাব ও পর্ষদ অনুমোদনের ভিত্তিতে বোনাস দিয়েছে। কিন্তু নিরীক্ষা বলছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট স্কোর (৫০) না পাওয়া এবং ব্যাংকে বিপুল প্রভিশন ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও এ জবাব গ্রহণযোগ্য নয়।
লাঞ্চ সাবসিডির বিষয়ে ব্যাংক জানিয়েছে, পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্মকর্তাদের কর্মস্পৃহা বাড়াতে এ ভাতা দেওয়া হয়েছে। তবে অডিটে ব্যাংকের এ জবাবকে ‘স্বীকৃতিমূলক অনিয়ম’ আখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আদেশ-২০১৫-এর অনুচ্ছেদ ২০ লঙ্ঘন করে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ কোনো ভাতা অনুমোদন করতে পারে না এবং এটি সরকারি কোষাগার থেকে অবৈধভাবে অর্থ তুলে নেওয়ার শামিল।
অর্থনীতিবিদ ও আর্থিক খাত বিশ্লেষকদের মতে, যখন একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক খেলাপি ঋণের চাপে সংকটে রয়েছে, তখন কর্মকর্তাদের এমন বোনাস ও ভাতা গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। কৃত্রিম মুনাফা দেখিয়ে বোনাস দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তারা মনে করেন।
নিরীক্ষা প্রতিবেদনের আপত্তির বিষয়ে জানতে চাইলে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. মজিবর রহমান বলেন, পরিচালনা বোর্ডের অনুমোদন নিয়েই বোনাস এবং লাঞ্চ সাবসিডি দেওয়া হয়েছে। এটা দীর্ঘদিন ধরেই চলমান, অন্যান্য ব্যাংকেও এর প্রচলন রয়েছে। অডিট অধিদপ্তর মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ব্যাংকের কাজের ধরন মিলিয়ে আপত্তি তুলেছে। অথচ বোনাস ও লাঞ্চ ভাতার পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদিত এবং দেশের সব রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অডিট অধিদপ্তরকে দেওয়া ব্যাখ্যায় জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের ৮২০তম সভার অনুমোদনক্রমে ব্যাংকের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদ্যমান কর্মস্পৃহা ও কর্মউদ্দীপনা অটুট রাখাসহ ভবিষ্যতে তাদের ব্যাংকের সার্বিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নকাজে স্বপ্রণোদিত অংশগ্রহণে অধিকতর অনুপ্রাণিত ও উৎসাহ জোগানোর লক্ষ্যে ২০২৩ সালের জন্য সংরক্ষিত প্রভিশন থেকে ৩ দশমিক ৭৫ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ উৎসাহ বোনাস হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।
লাঞ্চ সাবসিডির বিষয়ে ব্যাংকটি জানিয়েছে, জনতা ব্যাংকের সব গ্রেডের কর্মচারীদের অনুকূলে কল্যাণমূলক স্কিমের অধীন লাঞ্চ ও হালকা নাস্তা বাবদ সাবসিডি প্রদান করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদের ২৫২তম সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্য তিনটি রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে লাঞ্চ সাবসিডি ও হালকা নাস্তা খরচ বাবদ ২০০ টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
চলমান লাঞ্চ ও হালকা নাস্তা বাবদ সাবসিডি খরচের বিষয়টি চাকরি আদেশ-২০১৫-এর ২০ অনুচ্ছেদে উল্লিখিত ‘টিফিন ভাতার’ সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। উক্ত অনুচ্ছেদে ১১ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডের কর্মচারীদের মাসিক ২০০ টাকা টিফিন ভাতা প্রাপ্যতার বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। সেই হিসেবে যদি কর্মচারীদের টিফিন ভাতার সঙ্গে লাঞ্চ সাবসিডি ও হালকা নাস্তা বাবদ ২০০ টাকা দেওয়া হতো, তাহলে চাকরি আদেশের পরিপন্থী হতো। এক্ষেত্রে বেতন ও বিভিন্ন ভাতাদির সঙ্গে লাঞ্চ ও হালকা নাস্তা বাবদ সাবসিডির বিষয়টি পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক অনুমোদিত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রভিশন ঘাটতি থাকার পরেও কীভাবে তারা কর্মকর্তাদের বোনাস দিয়েছে এবং কী যুক্তিতে লাঞ্চ সাবসিডি দিয়েছে, সেটার জবাব জনতা ব্যাংকই ভালো দিতে পারবে। তিনি বলেন, বাণিজ্যিক অডিট আপত্তি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া; কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করবে না। সংশ্লিষ্ট জনতা ব্যাংককেই অডিট অধিদপ্তরকে সন্তোষজনক জবাব দিতে হবে। তবে রুটিন পরিদর্শনে বাংলাদেশ ব্যাংক অডিট ফাইল এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নেওয়া পদক্ষেপ খতিয়ে দেখে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক বলেন, প্রভিশন ঘাটতি থাকলে বোনাস নেওয়ার সুযোগ নেই। এই অডিটে যে অনিয়মের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো আমরা আসার আগেই হয়েছে। তবে এখন আর এভাবে ইনসেনটিভ দেওয়া হয় না। এখন যাতে আগের মতো অনিয়ম না হয়, সেটি নিশ্চিতের পাশাপাশি আগের ক্ষতিগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বোনাস-লাঞ্চের নামে ২৬৬ কোটি টাকা নেওয়ার বিষয়টি জানিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে সরকারি নিয়ম ভঙ্গ করে কর্মকর্তাদের এভাবে বোনাস ও ভাতা দেওয়া সরাসরি ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম এবং জনগণের অর্থের সঙ্গে প্রতারণা। তিনি বলেন, ‘অন্যান্য ব্যাংকও নেয়’—জনতা ব্যাংকের দেওয়া এমন যুক্তিও অযৌক্তিক। একটি অপরাধ কখনোই অন্য কোনো অপরাধকে বৈধ করতে পারে না। অনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণকারী কর্মকর্তা—সবাইকে জবাবদিহির আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখোমুখি করা উচিত।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের প্রত্যাশা, সরকার উদ্যোগী হলে দেশটিতে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি ফোরাম (বিআরএএফ)। সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কাজে লাগাতে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের প্রত্যাশা সার্বিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রত্যাশা, দেশটিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তাঁদের মতে, বিদেশে কাজের সুযোগ যেন স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং চাকরিপ্রত্যাশীরা যেন প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও অনিশ্চয়তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নিয়োগকর্তার পরিচয়, কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন, চাকরির চুক্তি এবং ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সার্বিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করা হবে। এতে বাংলাদেশের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন দেশে কী ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন, কী কী নথি জমা দিতে হবে এবং ছাড়পত্র পেতে কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। তাঁদের প্রত্যাশা, বিএমইটি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা কমবে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত চাকরির শর্ত যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমন্বয়ই পারে বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকে আরও গতিশীল করতে। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার দাবি সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি সার্বীয় দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, শ্রমবাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের সহায়তা এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বাস্তব চাহিদা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ সংশ্লিষ্টদের সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের সম্ভাবনা যাচাই, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেবেন। একই সঙ্গে সার্বিয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন নতুন দেশে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধান, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য শ্রমিকের চাহিদা যাচাই, নিয়োগকর্তার সক্ষমতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি অনুমোদনের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার, বিএমইটি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বশীল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই—এই বিষয়গুলোতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ও জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের। মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) কাজী মো. সাবিরুল আলমসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) খুলনা দুদকের উপ পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেন। খবর বাসস। এর আগে গত সোমবার কমিশন থেকে মামলা করার অনুমতি দেওয়া হয়। মামলায় অভিযুক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাবিরুল আলম ছাড়া অন্যরা হলেন— খান লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের লিড পার্টনার মো. আতাউর রহমান, ঠিকাদারি কোম্পানি মাহাবুব ব্রাদার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রকল্পের পার্টনার শেখ মাহাবুব রহমান এবং কেডিএ’র সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামীম জেহাদ, নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রকল্প) মো. আরমান হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মুনতাসির মামুন, সহকারী প্রকৌশলী বাসুদেব কুমার বিশ্বাস ও উপ সহকারী প্রকৌশলী শরীফ ওয়াহিদুজ্জামান। দুদকের অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় ঠিকাদার মাহাবুব ব্রাদার্স লিমিটেডকে খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কার্যাদেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী সড়কটি নির্মাণ না করে সরকারের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে-যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি একনেকের সভায় ঐ সড়ক নির্মাণে দীর্ঘ ১৩ বছরের নজিরবিহীন বিলম্বের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে তিনি এর সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। খুলনা দুদকের উপ পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী বলেন, কমিশন মামলা করার জন্য অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু এখন মামলা হয়নি। শিগগিরই মামলা দায়ের করা হবে।
ঢাকায় স্ত্রী ও বোনের নামে পাঁচ ফ্ল্যাট # হবিগঞ্জ ও কুড়িগ্রামে পেট্রোল পাম্প # যুক্তরাষ্ট্রে গড়েছেন অঢেল সম্পদ গণপূর্ত অধিদপ্তরের (পিডব্লিউডি) ডিপ্লোমা প্রকৌশলী মো. রফিকুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়নকাজে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে শতকোটি টাকা আত্মসাৎ এবং দেশে-বিদেশে বিপুল অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকার অভিজাত এলাকা বসুন্ধরায় স্ত্রী ও বোনের নামে পাঁচটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, হবিগঞ্জ ও কুড়িগ্রামে দুটি পেট্রোল পাম্প এবং যুক্তরাষ্ট্রে বোনের নামে ফ্ল্যাটসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। পিডব্লিউডি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির (বাপিডিপ্রকৌস) ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রফিকুজ্জামানের বিরুদ্ধে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) এসব অভিযোগ জমা দিয়েছেন একই প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মচারী। গত ২৬ অক্টোবর দুদকে দেওয়া অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, কাজের ব্যয় বাড়িয়ে বিল উত্তোলন এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, ঢাকায় সর্বশেষ কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে মুগদা হাসপাতালের ভবন নির্মাণ ও সংস্কার, বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কার এবং পুলিশের বিভিন্ন ভবন নির্মাণকাজে অনিয়মের মাধ্যমে অন্তত ১১৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এসব প্রকল্পে কাজের মান, ব্যয় নির্ধারণ, দরপত্র ও বিল পরিশোধের বিষয়গুলো তদন্ত করা হলে অনিয়মের চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে ভেরিয়েশন বা কাজের পরিমাণ ও ব্যয় পরিবর্তনের সময় কয়েক গুণ বেশি দর দেখিয়ে সরকারের ২০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় একপর্যায়ে তদন্ত শুরু হলেও প্রভাব ও উৎকোচের মাধ্যমে তা ধামাচাপা দেওয়া হয়। তবে এ অভিযোগের পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। দেশে-বিদেশে সম্পদের পাহাড়ের অভিযোগ: অভিযোগে রফিকুজ্জামানের সম্পদের যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। অভিযোগকারীর দাবি, ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় স্ত্রী ও বোনের নামে পাঁচটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন তিনি। এ ছাড়া নিজের জন্মস্থান হবিগঞ্জ এবং কুড়িগ্রামে দুটি পেট্রোল পাম্পের মালিকানার সঙ্গেও তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের একটি বড় অংশ হুন্ডির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তাঁর বোনের নামে একটি ফ্ল্যাট কেনা হয়েছে বলেও অভিযোগকারীর দাবি। এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, অর্থের উৎস এবং বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী। পদায়ন যেখানে, দুর্নীতির অভিযোগও সেখানে: অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, রফিকুজ্জামান পিডব্লিউডির বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি নির্মাণ ও সংস্কারকাজে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সম্প্রতি তাঁকে হবিগঞ্জে বদলি করা হয়েছে। তাঁর দায়িত্ব পালনকালে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর দরপত্র, কার্যাদেশ, প্রকল্প ব্যয়, ভেরিয়েশন, বিল-ভাউচার ও কাজের বাস্তব অগ্রগতি যাচাই করা হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরূপণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দুদকে অভিযোগ, চলছে যাচাই-বাছাই: দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগের বিষয়ে সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। শিগগিরই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ডেকে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য ও ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বাধীন তদন্ত, কথিত সম্পদের প্রকৃত মালিকানা যাচাই এবং সরকারি প্রকল্পের নথিপত্র পরীক্ষা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে ১১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, সড়ক প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানোর বিষয় এবং দেশে-বিদেশে কথিত সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে দুদকের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে প্রকৌশলী মো. রফিকুজ্জামানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পাঠানো খুদে বার্তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার দক্ষিণ এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে সাইদা আক্তার রিলা নামে ১৮ বছর বয়সী এক ছাত্রী বুধবার দুপুরে চাঁদের আলো হোটেলের একটি কক্ষ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।রিলা পাবনা শহীদ বুলবুল সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।পুলিশ জানিয়েছে, কক্ষের দরজা ভেঙে তারা রিলার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে।ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।পুলিশ ঘটনার পেছনে আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো রহস্য রয়েছে কিনা তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করছে।