অপরাধ

জনতা ব্যাংক থেকে ১৪৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়েও কারখানা চালু করেনি কনিকা কমার্শিয়াল

আমান নভেম্বর ১, ২০২৬ 0
জনতা ব্যাংক থেকে ১৪৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়েও কারখানা চালু করেনি কনিকা কমার্শিয়াল
জনতা ব্যাংক

 


টাইলস ও সিরামিকস কারখানা স্থাপনের কথা বলে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক থেকে প্রায় ১৪৭ কোটি টাকা ঋণ তুলে নিয়েছে ‘মেসার্স কনিকা কমার্শিয়াল লিমিটেড’। তবে বিপুল অঙ্কের এই অর্থ ছাড়ের পরও কারখানার উৎপাদন শুরু করা তো দূরের কথা, বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, প্রকল্পস্থলের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ এবং ভেতরে বা বাইরে ব্যাংকের কাছে দায়বদ্ধতার কোনো নামফলকও নেই।


অনিয়মিতভাবে ঋণ প্রদান, বারবার শর্ত লঙ্ঘন ও বেআইনি পুনর্বিন্যাসের কারণে সুদে-আসলে কনিকা কমার্শিয়ালের কাছে জনতা ব্যাংকের পাওনা এখন ২৬৬ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। অথচ এর বিপরীতে বন্ধক রাখা সম্পদের মূল্য সামান্য। ফলে বিশাল অংকের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই ব্যাংকটি। মহাহিসাব নিরীক্ষক কার্যালয়ের বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তরের ২০২৪-২০২৫ নিরীক্ষা বছরের প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট শাখার রেকর্ড পর্যালোচনায় চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য উঠে এসেছে।

দায়ের তুলনায় জামানত কম, আর্থিক ক্ষতি ২৬৬ কোটি টাকা
২০২৫ সালের ৩১ মার্চের হিসাব অনুযায়ী, কনিকা কমার্শিয়াল লিমিটেডের কাছে জনতা ব্যাংকের মোট অনাদায়ী দায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬৬ কোটি ২ লাখ টাকা। ঋণের একটি কিস্তিও আদায় না হওয়া এবং উৎপাদন শুরু না হওয়ায় সুদের কারণে এই দায়ের পরিমাণ লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে।

এর বিপরীতে গ্রাহকের কাছ থেকে সহজামানত বা বন্ধক হিসেবে ১ হাজার ২০৪ দশমিক ৩২ শতক জমি রাখা হয়। ২০২২ সালের ২৯ জানুয়ারি ব্যাংকের মূল্যায়নে এই জমির ‘ফোর্সড সেল ভ্যালু’ বা বাধ্যতামূলক বিক্রয়মূল্য ধরা হয় মাত্র ৬৭ কোটি ৪৪ লাখ ৬ হাজার ৯০০ টাকা। অর্থাৎ, পাওনা দায়ের বিপরীতে জামানত সম্পদের ঘাটতি প্রায় ১৯৯ কোটি টাকা বা সুনির্দিষ্টভাবে ১৯৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সময় গড়ালেও চালু না হওয়ায় কারখানায় স্থাপিত বা আমদানিকৃত যন্ত্রপাতির আয়ুষ্কাল ক্রমান্বয়ে কমছে। অন্যদিকে জমির দাম সামান্য বাড়লেও সুদের চাপে ব্যাংকের পাওনা লাফিয়ে বাড়ছে। ফলে ব্যাংক সরাসরি ২৬৬ কোটি ২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

ঋণ অনুমোদন ও অনিয়মিত অর্থ ছাড়ের নেপথ্য
কনিকা কমার্শিয়ালের অনুকূলে ঋণ প্রক্রিয়াকরণ শুরু হয় ২০১৮ সালে। ওই বছরের ১ ফেব্রুয়ারি জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ৫০৯তম সভায় বিএমআরই প্রকল্পের জন্য মোট ব্যয় ধরা হয় ২৩৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা। ব্যাংক ও উদ্যোক্তার ৫৫:৪৫ ঋণ-মূলধন অনুপাতে পর্ষদ প্রথম ধাপে ১৩১ কোটি ৮৯ লাখ টাকার প্রকল্প ঋণ অনুমোদন করে এবং ২০১৮ সালের ৪ মার্চ শাখা থেকে প্রাথমিক মঞ্জুরিপত্র দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর ৬৩৩তম পর্ষদ সভায় কারখানায় অতিরিক্ত ও আধুনিক মেশিনারিজ সংযোজনের কথা জানিয়ে গ্রাহক আবেদন করলে ঋণ-মূলধন অনুপাত ৬০:৪০ ধরে মূল ঋণসীমা আরও ২০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ১৫২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়। একই বছরের ৫ নভেম্বর দ্বিতীয় মঞ্জুরিপত্র ইস্যু করা হয়। পুরো ঋণের মেয়াদ ৮ বছর ধরা হলেও এর মধ্যে নির্মাণকাজ ও কিস্তি শুরুর আগের বিরতিকাল বা ‘গ্রেস পিরিয়ড’ ছিল ২১ মাস।

অনুমোদনের পর দিলকুশা করপোরেট শাখা থেকে ধাপে ধাপে পূর্ত কাজ ও অন্যান্য খাতে মোট ১৪৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ছাড় করা হয়। এর মধ্যে অবকাঠামো তৈরিতে ৮টি পৃথক কিস্তিতে ২১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। যার মধ্যে ২০১৮ সালে ৫ কিস্তিতে ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ২০১৯ সালে ২ কিস্তিতে ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং ২০২১ সালে ১ কিস্তিতে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়। এছাড়া এলসি ও আনুষঙ্গিক খাতে বিভিন্ন মেয়াদে ৯০ কোটি ৮৬ লাখ, ১৮ কোটি ৮ লাখ এবং ১৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা দেওয়া হয়।

মঞ্জুরিপত্রের ১৭(ক) নম্বর শর্ত অনুযায়ী, ২৩৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা বিএমআরই ব্যয়ের মধ্যে উদ্যোক্তার নিজস্ব অংশ ১০৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা মার্জিন অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু অডিট প্রতিবেদনে দেখা গেছে, উদ্যোক্তার এই অংশ সমমূলধন হিসেবে মার্জিন অ্যাকাউন্টে জমা না দিয়েই ব্যাংকের পুরো অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে।

সার্কুলার ভেঙে পাঁচ দফায় ঋণ পুনর্বিন্যাস
প্রথম মঞ্জুরি অনুযায়ী ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কথা থাকলেও নিয়মিত কিস্তি আদায় ও বাস্তবায়ন কোনটিই হয়নি। এরপরও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বারবার শর্ত শিথিল করে অনিয়মিতভাবে ঋণ পুনর্বিন্যাস করেছে।

প্রথমবার ২০২০ সালের ২২ এপ্রিল तत्कालीन এমডি ও সিইও বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ব্যতিরেকেই অনিয়মিতভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ১ বছর বাড়িয়ে দেন এবং পরিশোধের সময়সীমা ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৭ সাল নির্ধারণ করেন। ব্যাংক থেকে বিধিমালার ৮ম সংস্করণের ৭ অনুচ্ছেদের দোহাই দেওয়া হলেও অডিট দল তা বাতিল করে দেয়। কারণ সার্কুলার লঙ্ঘন করে এই সুবিধা দেওয়া হয়েছিল।

পরবর্তীতে ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ ২০২১ সালের ৫ মে দ্বিতীয়বার, ২০২২ সালের ২০ এপ্রিল তৃতীয়বার এবং ২০২২ সালের ১৬ অক্টোবর চতুর্থবার ঋণ পুনর্বিন্যাস করে। একই সঙ্গে ১০ শতাংশ মার্জিনে ৬ কোটি ৫ লাখ টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি ইস্যু করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে পুনঃসূচির মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ থাকে। অথচ এই ঋণের ক্ষেত্রে পঞ্চমবার পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নকাল ২১ মাস থেকে বাড়িয়ে ৪৮ মাস করা হয়, যা প্রাথমিক অনুমোদনের চেয়ে ২২৯ শতাংশ বেশি। ২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল ৮১২তম পর্ষদ সভায় বাস্তবায়নকাল এক বছর বাড়িয়ে মার্চ ২০২৪ এবং ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করে পঞ্চম পুনর্বিন্যাস করা হয়।

পঞ্চম পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত পাওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে গ্রাহক কর্তৃক ২ কোটি টাকা এবং প্রথম কিস্তির সমুদয় অর্থ ২০২৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে পরিশোধ নিশ্চিতের নির্দেশ ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রাহকের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় না করেই শাখা কর্তৃপক্ষ ২০২৪ সালের ৯ মে চিঠির মাধ্যমে পঞ্চমবার ঋণ পুনর্বিন্যাসের মঞ্জুরি দিয়ে দেয়।

খেলাপি গ্রাহককে নতুন ঋণ সুবিধা
প্রকল্প চালু না হলেও ২০২২ সালের ২২ জুন পর্ষদের ৭২২তম সভায় প্রারম্ভিক উৎপাদনের কাঁচামাল কেনার অযুহাতে ৬ মাস মেয়াদে ‘অ্যাডহক সিসি’ (চলতি মূলধনের জন্য সাময়িক নগদ ঋণ) অনুমোদন করা হয়। Branches-এর ২২ জুনের চিঠির মাধ্যমে তা মঞ্জুর ও বিতরণ করা হয়। এই ঋণ অনুমোদনের বিষয়টিও ব্যাংকের ঋণ নীতি বা সার্কুলার দ্বারা সমর্থিত ছিল না।

কোনো বিধি-বিধান না থাকা সত্ত্বেও অ্যাডহক সিসি ঋণের নামে ২৫ কোটি টাকা অনুমোদন করে ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ছাড় করা হয়। গ্রাহক দাবি করেন এই টাকা সরবরাহকারীকে অগ্রিম দেওয়া হয়েছে, কিন্তু ব্যাংক এর কোনো সত্যতা বা কাঁচামাল সংগ্রহের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি।

এদিকে ২০২৪ সালের ১৩ এপ্রিলের সিআইবি রিপোর্টে দেখা যায়, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকেই স্থিতিভিত্তিক ঋণ হিসাবটি ‘এসএস’ অর্থাৎ নিম্নমানের খেলাপি শ্রেণিতে নিবন্ধিত ছিল এবং তা ৬ মাসের বেশি সময় মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল। আইন অনুযায়ী খেলাপি গ্রাহককে নতুন কোনো ঋণ সুবিধা দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও, ২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল পর্ষদ সভা থেকে ওই খেলাপি গ্রাহকের অ্যাডহক সিসি ঋণের মেয়াদ ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, শর্ত পরিপালন না করায় এটি কার্যকর হয়নি। তবে সিআইবি রিপোর্টে খেলাপি থাকা সত্ত্বেও পর্ষদ কর্তৃক মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়াটা সরাসরি আইনের ব্যত্যয়।

প্রকল্পস্থলের ভয়াবহ চিত্র: তালাবন্ধ ফটক ও খালাস না হওয়া মালামাল
বাণিজ্যিক অডিট দল ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল প্রকল্পস্থলে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে নজিরবিহীন চিত্র দেখতে পায়। পরিদর্শনের সময় কারখানার প্রধান ফটক পুরোপুরি বন্ধ পাওয়া যায়। সেখানে প্রতিষ্ঠানের নাম কিংবা প্রকল্পটি জনতা ব্যাংকের কাছে দায়বদ্ধ—এমন কোনো সাইনবোর্ড ছিল না। সীমানাপ্রাচীরের বাইরে নামমাত্র একটি সাইনবোর্ড দেখতে পাওয়া গেলেও স্থানীয়রা জানান, ওই জমিটুকু ছাড়া আশপাশের অন্য সব জমি ভিন্ন মালিকের।

গ্রাহকের মেশিনারিজ আমদানি-সংক্রান্ত এলসি নথি এবং শাখার অসমন্বিত বিল অব এন্ট্রির তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, গ্রাহকের অনুকূলে স্থাপিত এলসির বিপরীতে বিল অব এন্ট্রি প্রায় দুই বছর ধরে অসমন্বিত রয়েছে। ব্যাংক এলসির মূল্য পরিশোধ করলেও গ্রাহক বন্দর থেকে মালামাল ছাড় করেনি, যা প্রমাণ করে প্রকল্প বাস্তবায়নে গ্রাহকের কোনো আগ্রহই ছিল না। এছাড়া অডিটের সময় ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল পর্যন্ত কোনো প্রকল্প সমাপ্তি প্রতিবেদন বা পিসিআর সম্পন্ন করা হয়নি।

চার আইন ও নীতিমালা লঙ্ঘন
ঋণ অনুমোদন, বিতরণ, তদারকি এবং পরে পুনর্গঠন সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চারটি আইন, সার্কুলার ও শর্ত লঙ্ঘন করেছে। প্রথমত, বিআরপিডি সার্কুলার নম্বর-১৫-এর ৮(বি) ও ৮(সি) অনুচ্ছেদ উপেক্ষা করে খেলাপি হিসাবকে অনিয়মিতভাবে পুনর্গঠন করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, মঞ্জুরিপত্রের শর্ত নম্বর-১৭(ক) লঙ্ঘন করে উদ্যোক্তার ইকুইটি জমা নেওয়া হয়নি। তৃতীয়ত, ব্যাংক কোম্পানি আইন লঙ্ঘন করে খেলাপি ঋণগ্রহীতাকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। চতুর্থত, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত নীতিমালার সুস্পষ্ট ব্যত্যয় ঘটানো হয়েছে।

গা ঢাকা দিয়েছেন উদ্যোক্তারা, নীরব ব্যাংক কর্তৃপক্ষ
কনিকা কমার্শিয়ালের নামে নেওয়া ঋণ ও বর্তমান অবস্থা জানতে যোগাযোগ করা হলে সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক গৌতম সাহা বলেন, তিনি ২০১৭-১৮ সালেই প্রতিষ্ঠানটি থেকে বের হয়ে এসেছেন এবং বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। পরবর্তীতে সাবেক জিএম (ট্রেড) সিরাজুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্বীকার করেন যে কারখানা চালু হয়নি এবং বর্তমানে অলস পড়ে আছে। তিনি নিজে ট্রেডিং দেখতেন যা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি এখন বেকার। আর প্রকল্পস্থলে কোনো দিন কার্যক্রম শুরু হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি ‘না’ সূচক উত্তর দেন।

সামগ্রিক বিষয়ে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বক্তব্য চেয়ে জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ফেরদৌসের কাছে গত ১৫ অক্টোবর হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠানো হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। এমনকি ফোন কল করেও কোনো সাড়া মেলেনি।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে পুরো অনিয়মের বিষয়ে দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট দায় নির্ধারণসহ জনতা ব্যাংকের অনাদায়ী ২৬৬ কোটি ২ লাখ টাকা দ্রুত আদায়ের জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সম্ভাবনার নতুন শ্রমবাজার সার্বিয়া

মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের প্রত্যাশা, সরকার উদ্যোগী হলে দেশটিতে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি ফোরাম (বিআরএএফ)। সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কাজে লাগাতে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের প্রত্যাশা সার্বিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রত্যাশা, দেশটিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তাঁদের মতে, বিদেশে কাজের সুযোগ যেন স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং চাকরিপ্রত্যাশীরা যেন প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও অনিশ্চয়তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নিয়োগকর্তার পরিচয়, কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন, চাকরির চুক্তি এবং ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সার্বিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করা হবে। এতে বাংলাদেশের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন দেশে কী ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন, কী কী নথি জমা দিতে হবে এবং ছাড়পত্র পেতে কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। তাঁদের প্রত্যাশা, বিএমইটি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা কমবে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত চাকরির শর্ত যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমন্বয়ই পারে বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকে আরও গতিশীল করতে। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার দাবি সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি সার্বীয় দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, শ্রমবাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের সহায়তা এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বাস্তব চাহিদা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ সংশ্লিষ্টদের সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের সম্ভাবনা যাচাই, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেবেন। একই সঙ্গে সার্বিয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন নতুন দেশে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধান, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য শ্রমিকের চাহিদা যাচাই, নিয়োগকর্তার সক্ষমতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি অনুমোদনের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার, বিএমইটি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বশীল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই—এই বিষয়গুলোতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ও জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের। মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক  

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডস হকি ফাইনালে আজ মুখোমুখি

আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত।   আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে।   অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।”   বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।   মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।   বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে।   মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।   বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

অপরাধ

View more
কেডিএ’র প্রধান প্রকৌশলীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার অনুমোদন
কেডিএ’র প্রধান প্রকৌশলীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার অনুমোদন

  খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) কাজী মো. সাবিরুল আলমসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) খুলনা দুদকের উপ পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেন। খবর বাসস। এর আগে গত সোমবার কমিশন থেকে মামলা করার অনুমতি দেওয়া হয়। মামলায় অভিযুক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাবিরুল আলম ছাড়া অন্যরা হলেন— খান লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের লিড পার্টনার মো. আতাউর রহমান, ঠিকাদারি কোম্পানি মাহাবুব ব্রাদার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রকল্পের পার্টনার শেখ মাহাবুব রহমান এবং কেডিএ’র সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামীম জেহাদ, নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রকল্প) মো. আরমান হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মুনতাসির মামুন, সহকারী প্রকৌশলী বাসুদেব কুমার বিশ্বাস ও উপ সহকারী প্রকৌশলী শরীফ  ওয়াহিদুজ্জামান। দুদকের অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় ঠিকাদার মাহাবুব ব্রাদার্স লিমিটেডকে খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কার্যাদেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী সড়কটি নির্মাণ না করে সরকারের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে-যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি একনেকের সভায় ঐ সড়ক নির্মাণে দীর্ঘ ১৩ বছরের নজিরবিহীন বিলম্বের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে তিনি এর সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। খুলনা দুদকের উপ পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী বলেন, কমিশন মামলা করার জন্য অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু এখন মামলা হয়নি। শিগগিরই মামলা দায়ের করা হবে। 

News নভেম্বর ৪, ২০২৬ 0
বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হুমায়ুন কবীর এখন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব

বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হুমায়ুন কবীর এখন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব

মাসুদ এর দুর্নীতির বহু অভিযোগ, তবু ২১ কোটির প্রকল্প পেল ।

মাসুদ এর দুর্নীতির বহু অভিযোগ, তবু ২১ কোটির প্রকল্প পেল ।

রাজউক নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণে সুযোগ দিয়ে পরিচালক রাজিয়া সুলতানার রমরমা ঘুষ বাণিজ্য

রাজউক নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণে সুযোগ দিয়ে পরিচালক রাজিয়া সুলতানার রমরমা ঘুষ বাণিজ্য

দেশে-বিদেশে সম্পদ পাহাড় প্রকৌশলী রফিকুজ্জামানের
দেশে-বিদেশে সম্পদ পাহাড় প্রকৌশলী রফিকুজ্জামানের

  ঢাকায় স্ত্রী ও বোনের নামে পাঁচ ফ্ল্যাট # হবিগঞ্জ ও কুড়িগ্রামে পেট্রোল পাম্প # যুক্তরাষ্ট্রে গড়েছেন অঢেল সম্পদ গণপূর্ত অধিদপ্তরের (পিডব্লিউডি) ডিপ্লোমা প্রকৌশলী মো. রফিকুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়নকাজে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে শতকোটি টাকা আত্মসাৎ এবং দেশে-বিদেশে বিপুল অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকার অভিজাত এলাকা বসুন্ধরায় স্ত্রী ও বোনের নামে পাঁচটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, হবিগঞ্জ ও কুড়িগ্রামে দুটি পেট্রোল পাম্প এবং যুক্তরাষ্ট্রে বোনের নামে ফ্ল্যাটসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। পিডব্লিউডি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির (বাপিডিপ্রকৌস) ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রফিকুজ্জামানের বিরুদ্ধে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) এসব অভিযোগ জমা দিয়েছেন একই প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মচারী। গত ২৬ অক্টোবর দুদকে দেওয়া অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, কাজের ব্যয় বাড়িয়ে বিল উত্তোলন এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, ঢাকায় সর্বশেষ কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে মুগদা হাসপাতালের ভবন নির্মাণ ও সংস্কার, বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কার এবং পুলিশের বিভিন্ন ভবন নির্মাণকাজে অনিয়মের মাধ্যমে অন্তত ১১৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এসব প্রকল্পে কাজের মান, ব্যয় নির্ধারণ, দরপত্র ও বিল পরিশোধের বিষয়গুলো তদন্ত করা হলে অনিয়মের চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে ভেরিয়েশন বা কাজের পরিমাণ ও ব্যয় পরিবর্তনের সময় কয়েক গুণ বেশি দর দেখিয়ে সরকারের ২০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় একপর্যায়ে তদন্ত শুরু হলেও প্রভাব ও উৎকোচের মাধ্যমে তা ধামাচাপা দেওয়া হয়। তবে এ অভিযোগের পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। দেশে-বিদেশে সম্পদের পাহাড়ের অভিযোগ: অভিযোগে রফিকুজ্জামানের সম্পদের যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। অভিযোগকারীর দাবি, ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় স্ত্রী ও বোনের নামে পাঁচটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন তিনি। এ ছাড়া নিজের জন্মস্থান হবিগঞ্জ এবং কুড়িগ্রামে দুটি পেট্রোল পাম্পের মালিকানার সঙ্গেও তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের একটি বড় অংশ হুন্ডির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তাঁর বোনের নামে একটি ফ্ল্যাট কেনা হয়েছে বলেও অভিযোগকারীর দাবি। এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, অর্থের উৎস এবং বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী। পদায়ন যেখানে, দুর্নীতির অভিযোগও সেখানে: অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, রফিকুজ্জামান পিডব্লিউডির বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি নির্মাণ ও সংস্কারকাজে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সম্প্রতি তাঁকে হবিগঞ্জে বদলি করা হয়েছে। তাঁর দায়িত্ব পালনকালে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর দরপত্র, কার্যাদেশ, প্রকল্প ব্যয়, ভেরিয়েশন, বিল-ভাউচার ও কাজের বাস্তব অগ্রগতি যাচাই করা হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরূপণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দুদকে অভিযোগ, চলছে যাচাই-বাছাই: দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগের বিষয়ে সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। শিগগিরই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ডেকে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য ও ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বাধীন তদন্ত, কথিত সম্পদের প্রকৃত মালিকানা যাচাই এবং সরকারি প্রকল্পের নথিপত্র পরীক্ষা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে ১১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, সড়ক প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানোর বিষয় এবং দেশে-বিদেশে কথিত সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে দুদকের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে প্রকৌশলী মো. রফিকুজ্জামানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পাঠানো খুদে বার্তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।  

News নভেম্বর ৪, ২০২৬ 0
সুবিধার বিনিময়ে পণ্য খালাসের অভিযোগ সহকারী কমিশনার সাকিবের বিরুদ্ধে

সুবিধার বিনিময়ে পণ্য খালাসের অভিযোগ সহকারী কমিশনার সাকিবের বিরুদ্ধে

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনাস্থল ও পুলিশ তদন্তের প্রতীকী ছবি।

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে গৃহবধূর মৃত্যু: যুবনেতা রাশেলের বিরুদ্ধে মামলা

লক্ষ্মীপুরে মা ও তিন বোন হত্যাকাণ্ডের তদন্তের প্রতীকী চিত্র

লক্ষ্মীপুরে মা ও তিন বোন হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে

পাবনার চাঁদের আলো হোটেলের একটি কক্ষ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশ উদ্ধার
পাবনার হোটেল থেকে ১৮ বছরের ছাত্রী সাইদা আক্তার রিলার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার দক্ষিণ এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে সাইদা আক্তার রিলা নামে ১৮ বছর বয়সী এক ছাত্রী বুধবার দুপুরে চাঁদের আলো হোটেলের একটি কক্ষ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।রিলা পাবনা শহীদ বুলবুল সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।পুলিশ জানিয়েছে, কক্ষের দরজা ভেঙে তারা রিলার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে।ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।পুলিশ ঘটনার পেছনে আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো রহস্য রয়েছে কিনা তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করছে।

Desk Reporter নভেম্বর ৪, ২০২৬ 0
টাঙ্গাইলে শিশুর ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলার প্রতীকী ছবি

টাঙ্গাইলে সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে যুবক গ্রেফতার

১৩ বছর বয়সী সিমির মৃত্যুর তদন্ত ও পুলিশি অবহেলার প্রতীকী চিত্র।

১৩ বছর বয়সী সিমির মৃত্যুর তদন্ত ও পুলিশি অবহেলার অভিযোগ

কেশবপুরে জোড়া হত্যাকাণ্ডের সাথে সম্পর্কিত একটি প্রতীকী চিত্র।

কেশবপুরে দম্পতিকে হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, দুইজন গ্রেপ্তার

0 Comments