বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার দুপুর সোয়া ১২টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এই মতবিনিময় শুরু হয়। এতে যায়যায়দিন সম্পাদক ও ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের (এন ই সি) আহ্বায়ক শফিক রেহমান, আমার দেশ সম্পাদক ও এনইসি যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান, ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দিন, নয়া দিগন্তের সালাহউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, বণিক বার্তার দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান, ওয়াদার শফিকুল আলম, খবরের কাগজের মোস্তফা কামাল, আজকের পত্রিকার কামরুল হাসান, সময়ের আলোর সৈয়দ শাহ নেওয়াজ করিম, বাণিজ্য প্রতিদিনের গিয়াস উদ্দিন, ঢাকা মেইলের হারুন জামিল, মোস্তফা কামাল মজুমদার, এদিন, ভোরের ডাকসহ বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকরা অংশ নিয়েছেন। এছাড়া জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন।
রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও সদর এলাকার সিএনজি স্টেশন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। প্রশাসন জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মাদকসহ মো. বাদশা (৪৮), পিতা—মৃত আহেদ আলী; মো. আশিক ইসলাম (২৩), পিতা—মো. সুমন; মো. আতিকুল (২৬), পিতা—মো. মোবারক এবং মো. ফারুক (৩৫), পিতা—মো. জয়নালকে আটক করা হয়। পরে আটক ব্যক্তিদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হলে তাদের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের যথাক্রমে ৩ মাস ও ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক নির্মূলে ঠাকুরগাঁওয়ে অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও
সার নিতে সকাল থেকে ডিলার পয়েন্টে ভিড় করেছিলেন কৃষকরা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও খোলেনি ডিলারের গুদাম। এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে গুদামের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সার বের করে নিয়ে যেতে শুরু করেন তারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। পুলিশের তৎপরতায় ১৯৭ বস্তার মধ্যে ৩৩ জন কৃষক ৩৩ বস্তা সার ফেরত দিলেও বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। রবিবার (২৩ আগস্ট) সকালে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের মুকুল হাজীর মেসার্স শাহ আমানত ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিলখুড়ি ইউনিয়নের শাহ আমানত ট্রেডার্সের ডিলার তাইফুর রহমান মুকুল। তার ডিলার পয়েন্টে পর্যাপ্ত সার বরাদ্দ থাকলেও কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণে গড়িমসির অভিযোগ রয়েছে। চলতি মৌসুমে তার বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩২০ বস্তা সার। এর মধ্যে গুদামে মজুদ ছিল ৩৪০ বস্তা। রবিবার সকাল থেকেই সার নিতে ওই ডিলার পয়েন্টে দুই শতাধিক কৃষক জড়ো হন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও ডিলার পয়েন্ট না খোলায় এক পর্যায়ে তারা গুদামের দরজা ভেঙে সার বের করে নিতে শুরু করেন। এ সময় কৃষকেরা ৫০ কেজি ওজনের ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যান। এসব বস্তায় মোট সারের পরিমাণ ৯ হাজার ৮৫০ কেজি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং গুদামে থাকা বাকি সার রক্ষা করে। ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিমুদ্দিন বলেন, ‘ওই ইউনিয়নে সারের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার বস্তা। কিন্তু বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩২০ বস্তা। উত্তোলনও এর চেয়ে কম ছিল। ফলে কৃষকেরা সার না পাওয়ার শঙ্কা থেকে গুদাম থেকে সার নিয়ে গেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’ তিনি আরো বলেন, ‘কৃষকেরা ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে গেছেন। পরে পুলিশের তৎপরতায় ৩৩ জন কৃষক ৩৩টি বস্তা ফেরত দিয়েছেন। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, ‘আগস্ট মাসে উপজেলায় ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ৬৮০ মেট্রিক টন। সে অনুযায়ী সার পাওয়া গেছে এবং বিতরণও চলছে। উপজেলায় ইউরিয়া সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকেরা আতঙ্কিত হয়ে এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন। নিয়ে যাওয়া বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’ ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ বলেন, ‘শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গার একটি পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, কৃষি কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে সার বিতরণ চলছিল। এ সময় কিছু মানুষ সার নিয়ে চলে যান। পরে খবর পেয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। কিছু সার উদ্ধার হয়েছে। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’ তিনি জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি:মোঃ কামরুল ইসলাম, দীর্ঘ ১ বছর ৯ মাস ৯ দিন, মোট ৬৪৯ দিন দায়িত্ব পালনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মো. হাবীব আজম। তাঁর বিদায়কে ঘিরে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় আবেগঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ।২৩ আগস্ট (রবিবার) সকালে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক, ক্রীড়া ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ছাত্র-যুবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।সংবর্ধনা শেষে জেলা পরিষদ চত্বরে বের হলে শত শত শুভাকাঙ্ক্ষী করতালি, স্লোগান ও ফুলেল শুভেচ্ছায় হাবীব আজমকে বিদায় জানান। পরে আবেগঘন শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাঁকে নিজ বাসভবনে পৌঁছে দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে উপস্থিতরা বলেন, জেলা পরিষদের সদস্য হওয়ার আগ থেকেই দীর্ঘদিন ধরে হাবীব আজম সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। পাহাড়ধস, অগ্নিকাণ্ড, বন্যাসহ বিভিন্ন দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা, দরিদ্র ও অসুস্থ মানুষের চিকিৎসায় সহযোগিতা এবং তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করার মতো বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাঁর বিদায়ে আবেগ প্রকাশ করে বলেন, পদ-পদবির মেয়াদ শেষ হলেও মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতার কোনো মেয়াদ নেই। ভবিষ্যতেও হাবীব আজম বৃহত্তর পরিসরে জনসেবা ও মানবিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবেন, এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাঁরা। এ সময় উপস্থিত ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে তাঁকে ভবিষ্যতে রাঙ্গামাটি পৌরসভা কিংবা ২৯৯ নং রাঙ্গামাটি আসনে নির্বাচনের মাধ্যমে বৃহত্তর পরিসরে জনসেবায় দেখতে চাওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করা হয়। ফুলেল শুভেচ্ছা, করতালি ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে শেষ হয় হাবীব আজমের বিদায় সংবর্ধনা।
মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ১৩০ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) অধীন মনাকষা বিওপির একটি বিশেষ টহলদল শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের চালকিপাড়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে এসব মাদকদ্রব্য জব্দ করে। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, জব্দ করা ১৩০ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় এস্কাফ সিরাপের আনুমানিক বাজারমূল্য ৫২ হাজার টাকা। জব্দকৃত মাদকদ্রব্য পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিবগঞ্জ থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। ৫৩ বিজিবি জানায়, চলতি আগস্ট মাসে বিভিন্ন অভিযানে ভারতীয় ৫২২ বোতল নেশাজাতীয় এস্কাফ সিরাপ এবং ১১৫ বোতল নেশাজাতীয় ফেয়ারডিল সিরাপ জব্দ করা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান, পিএসসি, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে বিজিবি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
কোটি মানুষের শ্রমে-ঘামে ঘুরছে অর্থনীতির চাকা। অথচ সেই অর্জনের সিংহভাগ জমা হচ্ছে গুটিকয়েক মানুষের হাতে। সব মিলিয়ে চরম আয় বৈষম্যের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ। দেশে ১০ ভাগ মানুষের হাতে ৯০ ভাগের চেয়ে বেশি সম্পদ জমা হচ্ছে। ফলে সমাজে বাড়ছে বৈষম্য। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, শীর্ষ ১০ শতাংশের আয় সর্বনিম্ন ৪০ শতাংশ মানুষের সামষ্টিক আয়ের ৩ দশমিক ১৮ গুণ বেশি। গত চার দশকে দেশে ক্রমাগতভাবে আয়বৈষম্য পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। কেননা ওপরে থাকা মানুষের আয় যে হারে বেড়েছে, এর চেয়ে অনেক বেশি হারে কমেছে নিচের দিকে থাকা মানুষের আয়। অন্যদিকে দেশে বাড়ছে দারিদ্র্যের হার। ফলে একসময়ের সাফল্যের গল্প এখন মলিন হয়ে যাচ্ছে। চরম দারিদ্র্যঝুঁকিতে মধ্যবিত্ত মানুষরা। এমন প্রেক্ষাপটে আগামী দিনে বেশকিছু উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। পঞ্চবার্ষিক স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্কে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এটি তৈরি করেছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। চলতি অর্থবছর থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত যা বাস্তবায়নের লক্ষ্য। ফ্রেমওয়ার্কে জিইডি বলছে, জনসংখ্যার একটি বড় অংশ দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। ফলে জনাকীর্ণ বসতি, অপর্যাপ্ত আবাসন, অপ্রতুল সরকারি পরিষেবা এবং ক্রমবর্ধমান নগরবৈষম্য দেখা দিচ্ছে। অনেক নগরকর্মী সামাজিক সুরক্ষা বা কর্মসংস্থান সুরক্ষা ছাড়াই অনানুষ্ঠানিক ও স্বল্প বেতনের পেশায় নিযুক্ত থাকেন, যা তাদের মুদ্রাস্ফীতির চাপ এবং অর্থনৈতিক মন্দার মুখে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। আরও বলা হয়েছে, ১৯৮৩-৮৪ সালে সবচেয়ে ধনী ১০ শতাংশ মানুষের আয় ছিল সবচেয়ে দরিদ্র ৪০ শতাংশ মানুষের সম্মিলিত আয়ের প্রায় দেড় গুণ। ২০২২ সাল নাগাদ, এই অনুপাত দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ৩ দশমিক ১৮-এ পৌঁছেছিল, যা ছিল এর সর্বোচ্চ পর্যায়। এ সময়ে সর্বনিম্ন ৪০ শতাংশ মানুষের আয়ের অংশ তীব্রভাবে কমে যায়। অন্যদিকে শীর্ষ ১০ শতাংশের অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে মোট আয়ের ৪০ শতাংশেরও বেশি হয়েছিল। যদিও রপ্তানিনির্ভর প্রবৃদ্ধি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করেছিল। কিন্তু এর সুবিধাগুলো অসমভাবে বণ্টিত হওয়ায় সুফল মেলেনি। যার বেশিরভাগ সুবিধা উচ্চ আয়ের গোষ্ঠীগুলোই ভোগ করেছে। বৈষম্য ক্রমবর্ধমানভাবে মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে প্রভাবিত করেছে, যাদের আয়ের অংশ ২০২২ সালে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছিল। জিইডি বলছে, বৈষম্যের সঙ্গে দরিদ্রতার সম্পর্ক গভীর। বিগত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে, দারিদ্র্য ও বৈষম্য এখনো অন্যতম প্রধান উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ। দারিদ্র্য হ্রাস, সামাজিক সূচকের উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘ সময় ধরে তুলনামূলকভাবে উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ। লাখ লাখ মানুষ মুক্তি পেয়েছে চরম দারিদ্র্য থেকে। এই হার ১৯৯১-৯২ সালের ৪১ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ২০২৫ সালে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে গড় আয়ু প্রায় ৫০ বছর থেকে বেড়ে ৭৩ বছর হয়েছে। কমেছে শিশুমৃত্যুও। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশে দারিদ্র্যের প্রকৃতিও পরিবর্তিত হয়েছে। দারিদ্র্য ক্রমবর্ধমানভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, কর্মসংস্থান নিরাপত্তা, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি এবং পরিবেশগত স্থিতিস্থাপকতার সঙ্গে সম্পর্কিত বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জগুলোকে প্রতিফলিত করে। অনেক পরিবার যারা নামমাত্র দারিদ্র্যসীমা অতিক্রম করেছে, তারাও অর্থনৈতিক ধাক্কা, অসুস্থতা, জলবায়ু-সম্পর্কিত দুর্যোগ বা আকস্মিক আয় কমার কারণে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২২ সালে মাঝারি দারিদ্র্য ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশে এবং একই সময়ে চরম দারিদ্র্য ৫ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ফ্রেমওয়ার্কে জিইডি বলেছে, দারিদ্র্য, বৈষম্য এবং ঝুঁকির ধারাবাহিকতা বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি মডেলের অন্তর্ভুক্তিমূলকতা ও স্থায়িত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ উল্লেখযোগ্য জাতীয় আয় তৈরি করেছে, তবুও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মজুরি বৃদ্ধি, শ্রম উৎপাদনশীলতা, সরকারি ব্যয়ের গুণমান এবং সুযোগের ন্যায়সংগত প্রাপ্তি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে বৈষম্য কমিয়ে দরিদ্রতা নিরসনে নানা উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে ফ্রেমওয়ার্কে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বণ্টনগত প্রভাব উন্নত করা, প্রবৃদ্ধি-কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রকৃত আয় বৃদ্ধির মধ্যে সংযোগ স্থাপন এবং শ্রমবাজার সংস্কার। এ ছাড়া খাতভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন করে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যবস্থাপনা করতে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা, লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ, ঝুঁকিপূর্ণ কর্মীদের জন্য সহায়তা, অল্প সময়ের মধ্যে দারিদ্র্য অবস্থার মূল্যায়ন, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের কাজের মান-মজুরি ও কর্মপরিবেশ উন্নত করা হবে। আরও আছে— আনুষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, খাতভিত্তিক রূপান্তরে সহায়তা, শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, সামাজিক নিরপত্তা কর্মসূচির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত এবং বাজেট বরাদ্দে অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ।
মো. পলাশ ইসলাম, ধনবাড়ী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ্ নূরজাহান আক্তার সাথীর সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দিল-আফরোজ। সভায় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, ছাত্র প্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন ধনবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরুস সালাম সিদ্দিক, ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ এম. আজিজুর রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি এস এম সোবহান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক (ভিপি), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল ইসলাম মহব্বত, উপজেলা বিএনপির সদস্য কামাল হোসেন তালুকদার মিন্টু, ধনবাড়ী প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি সৈয়দ সাজন আহমেদ রাজু, কার্যকরী সদস্য মো. পলাশ ইসলামসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া সভায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ, ছাত্র প্রতিনিধি, সাংবাদিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্কুল-কলেজের শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ধনবাড়ী উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বিভিন্ন অপরাধ ও সামাজিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে শহর ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানজট নিরসন, মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ, অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং বন্ধ এবং ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে শুধু প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। অপরাধ প্রতিরোধে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজকে মাদক ও অনলাইন জুয়ার মতো ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় সড়কে অবৈধ পার্কিং ও যানজট সৃষ্টিকারী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ, মাদক ব্যবসা ও সেবনের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার এবং চুরি-ডাকাতিসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়। সভায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত শোনা হয় এবং বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ্ নূরজাহান আক্তার সাথী উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ও আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। জনসাধারণের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে বলেও সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়। মো: পলাশ ইসলাম ধনবাড়ী, টাঙ্গাইল মোবা: ০১৯৫৩২৫৫০০৮ তারিখ: ২০-৮-২০২৬
রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি:-মোঃ কামরুল ইসলাম, ২০ আগস্ট রাঙ্গামাটির দুর্গম ছোটহরিণা এলাকায় অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে অনুদান বিতরণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার ছোটহরিণা ব্যাটালিয়ন (১২ বিজিবি) এর উদ্যোগে ‘সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় হরিণা জোন সদরে এ অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জোন কমান্ডার ও ছোটহরিণা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল কাজী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, ইঞ্জিনিয়ার্স। এসময় তিনি ভূষণছড়া ইউনিয়নের ফারুক-ই-আযম (রাঃ) হেফজখানা ও এতিমখানার ছাত্রদের আহারের জন্য আর্থিক অনুদান, এক পরিবারের বসতবাড়ি মেরামতের জন্য ঢেউটিন, তিনটি পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা, দরিদ্র পরিবারের চিকিৎসা ও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ, দুটি স্ট্যান্ডসহ সেলাই মেশিন এবং একটি পরিবারকে সোলার প্যানেল প্রদান করেন। সবমিলিয়ে ১১টি বাঙালি ও ৩টি উপজাতি পরিবারসহ মোট ১৪টি পরিবার এবং ১টি হেফজখানা-এতিমখানার মাঝে ৭০ হাজার ৩০০ টাকা নগদ অনুদান দেওয়া হয়। জোন কমান্ডার বলেন, “বিজিবি শুধু দেশের সীমান্ত রক্ষা নয়, মানুষের কল্যাণে কাজ করাকেও নিজেদের দায়িত্ব বলে মনে করে। ছোটহরিণার মতো দুর্গম পার্বত্য নদী বেষ্টিত এলাকায় হরিণা জোন নিয়মিতভাবে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে ছোটহরিণা ব্যাটালিয়ন মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।স্থানীয়রা জানান, সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি বিজিবির এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ দুর্গম পাহাড়ি জনপদের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বাগেরহাটের মোংলায় চাঁদা না পেয়ে মো. আলমগীর শেখ (২৭) নামের এক ড্রেজার শ্রমিককে মারধর নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আলমগীর শেখ মোংলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। রোববার রাত ১০টার দিকে উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের উত্তর বাঁশতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন তিন রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে । অভিযোগে আলমগীর শেখ জানান, তিনি বালু কাটার ড্রেজারে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তার কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন ইমলাদ গাজী (৩৫), শামীম ফকির (৩৫) ও বাচ্চু ফকির (৪৪)। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তার ওপর ক্ষুব্ধ হন। পরে রাতে বাড়ি ফেরার পথে তিন রাস্তার মোড়ে অভিযুক্তরা আরো কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তার পথ রোধ করেন। এ সময় তাকে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার পকেটে থাকা ৪ হাজার ৮৭০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এসময় তারা বলেন, ড্রেজারে কাজ করতে হলে নিয়মিত চাঁদা দিতে হবে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. মানিক বলেন, "আমি কয়েকজনকে আলমগীরকে মারধর করতে দেখেছি। এ সময় তার কাছে টাকা দাবি করা হচ্ছিল। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা সেখান থেকে চলে যান।" মোংলা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম বলেন, "ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।b
নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঢাকাসহ তিন জেলায় বিশেষ ‘পিংক বাস’ সেবা চালু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপোতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সেবার উদ্বোধন করেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শেখ রবিউল আলম বলেন, নারীদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে এই সেবার পরিধি ভবিষ্যতে আরও বাড়ানো হবে। পর্যায়ক্রমে নতুন রুটে বাস চালুর পাশাপাশি বাসের সংখ্যাও বাড়ানো হবে। বর্তমানে নারীরা যে পরিবেশে যাতায়াত করছেন, সেটিও ধীরে ধীরে আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রী বলেন, নারী যাত্রীরা যেন এই বাসে চড়তে ও যাতায়াত করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু বাস চালু করলেই হবে না, পুরো সেবাটিকে সময়ের সঙ্গে আরও উন্নত করতে হবে। নারীদের জন্য চালু করা এই বিশেষ বাসসেবা উদ্বোধনের সময় শেখ রবিউল আলম বলেন, নতুন এই উদ্যোগ যেন কয়েক মাস পর হারিয়ে না যায়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। অতীতে কোনো কোনো সেবা উদ্বোধনের ছয় মাস পর আর খুঁজে পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সরকার এমনটি হতে দেবে না। বিআরটিসি ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মঙ্গলবার যে সেবা শুরু হলো, দুই মাস পর এর মান আরও বাড়াতে হবে। বিদ্যমান লজিস্টিক সহায়তা ও জনবল হয়তো নতুন ব্যবস্থার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নাও থাকতে পারে। তবে প্রতিদিন ব্যবস্থাপনার উন্নতি করতে হবে। নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াতের পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা সরকার করবে এবং মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে দায়বদ্ধ থাকবে। এই উদ্যোগকে টেকসই রাখা, আরও সমৃদ্ধ করা এবং বিস্তৃত করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। শেখ রবিউল আলম বলেন, নারী যাত্রীদের জন্য বাসে ওঠার আগের অপেক্ষার সময় থেকে শুরু করে বাসে ওঠা এবং বাস থেকে নামা পর্যন্ত পুরো যাত্রাটিই নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব করতে হবে। অপেক্ষার সময় অনেক নারী বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। বাসের ভেতরেও ব্যবস্থাপনার কারণে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। আবার বাস থেকে নামার সময়ও অনেক ক্ষেত্রে অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়। নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। রাষ্ট্র বিনির্মাণে তাদের অবদান রয়েছে। ভোটারদেরও অর্ধেকের বেশি নারী। পরিবারের অর্থনীতিতেও নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই নারীদের সক্ষমতাকে রাষ্ট্রের কাজে পুরোপুরি ব্যবহার করতে হলে তাদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিআরটিসি জানিয়েছে, নারীবান্ধব ও নারী চালক দ্বারা পরিচালিত পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকারের অংশ। এর অংশ হিসেবে মোট ১৪টি বিশেষ বাস দিয়ে এই সেবা শুরু হয়েছে। ঢাকার ১০টি রুটে ১০টি বাস, চট্টগ্রামে দুটি রুটে দুটি এবং বগুড়ায় দুটি রুটে দুটি বাস চলবে। ঢাকার ১০টি বাসের মধ্যে একটি একতলা এবং নয়টি দ্বিতল। আগামী দিনে এই সেবা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, রুটের সংখ্যা ও বাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে। বর্তমানে নারীরা যে পরিবেশে যাতায়াত করছেন, সেটিও ধীরে ধীরে আরও উন্নত করা হবে। বিআরটিসির বর্তমান ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, বিআরটিসি বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ২০০ বা তার বেশি বাস পরিচালনা করছে। সংস্থাটি বর্তমানে লোকসানে নেই, বরং ব্রেক-ইভেন অবস্থায় রয়েছে। তবে মানসম্মত সেবা ও অপারেশনে সমস্যা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যমান জরাজীর্ণ ব্যবস্থাপনাকে সময়ের সঙ্গে ঢেলে সাজিয়ে যুগোপযোগী ও যাত্রীবান্ধব করতে হবে। ঢাকার বাস রুট রেশনালাইজেশনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, অনেক রুটের অস্তিত্ব নেই, কিন্তু সেসব রুটের পারমিট রয়েছে। আবার অনেক রুটে পারমিট নেই, তারপরও বাস চলছে। অনেক আগে এসব রুট নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন যাত্রীদের চাপ ও প্রয়োজন বিবেচনা করে রুট ও রুট পারমিট নতুন করে নির্ধারণ এবং ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা হবে। পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে ২০০টি ইলেকট্রিক বাস সরাসরি কেনার প্রক্রিয়ায় যাওয়ার কথাও জানান শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, প্রকল্পের মাধ্যমে ই-বাস কেনার ক্ষেত্রে অনুমোদন, দরপত্র ও আন্তর্জাতিক ক্রয়প্রক্রিয়া শেষ করতে কমপক্ষে দেড় বছর সময় লাগতে পারে। এ কারণে সরাসরি ক্রয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মাল্টিমোডাল যোগাযোগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ই-বাসকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলাও সরকারের অঙ্গীকারের অংশ। তিনি জানান, ২০০টি ই-বাসের মধ্যে ১০০টি নারীদের জন্য বিভিন্ন রুটে রাখা হচ্ছে। এর ফলে নারী বাসসেবার রুট ও বাসের সংখ্যা আরও বাড়বে। বর্তমানে যেসব এলাকায় এই সেবা চালু হয়েছে, তার বাইরে ভবিষ্যতে অন্যান্য বিভাগেও এ সেবা সম্প্রসারণ করা হবে। নারীবাস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, বিআরটিসি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে ‘ভুয়া’ জমিদাতা সদস্য মনোনয়নের অভিযোগে পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরীসহ ছয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল রবিবার (১৬ আগস্ট) দুমকী সহকারী সিভিল জজ আদালতে এ মামলা করেন সৈয়দ লিয়াকত হোসেনসহ চার অভিযোগকারী। বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৩৫ নং জলিশা বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী আবদুর রহমান ওরফে লাল মিয়া ১৯৩৫ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করলেও স্কুলের নামে তিনি কোনো জমি দলিলবদ্ধ করে যাননি। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে ভূমি সংকট নিরসনে তাঁর মেয়ের ঘরের নাতি সৈয়দ লিয়াকত হোসেন লিকু মিরা ও অন্যরা তাদের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ৭ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে বিদ্যালয়কে দান করেন। অন্যদিকে, দাতা মনোনীত ব্যক্তি মো. আশিফুর রহমান প্রতিষ্ঠাতার প্রপৌত্র হলেও তিনি তার পরিবারের কেউ কখনো জমি দান করেননি বলে বাদীপক্ষের দাবি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রকৃত জমিদাতা বা তার উত্তরাধিকারীদের মধ্য থেকে একজনকে দাতা সদস্য করা যাবে। বাদীপক্ষের অভিযোগ, ২১ জুলাই সৈয়দ লিয়াকত হোসেনকে মনোনয়নের সর্বসম্মতি থাকলেও সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে আশিফুর রহমানকে অবৈধ ভাবে দাতা সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. মিনারা বেগম জানান, উভয় পক্ষকে ডেকে সবার স্বাক্ষর নিয়েই রেজুলেশন করেই আশিফুর রহমানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। পরে আপত্তি উঠলে তিনি ইউএনওকে বিষয়টি জানান। ইউএনও উভয় পক্ষকে ডেকে শুনানির কথা বললেও পরে আর কাউকে ডাকেননি। তিনি আরও জানান, আমার এ বিদ্যালয়ে মোট ৩৩ শতক জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৭ শতক জমি লিকু মিরাসহ আরও ৩ জনে দান করেছেন। বাকি ২৬ শতক জমি প্রতিষ্ঠাতার হলেও তা দান নয়। বিদ্যালয়টি পূর্ব থেকেই সেটি ব্যবহার করে আসছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ খাইরুল ইসলাম চৌধুরী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, যেহেতু বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে, তাই আদালত যেভাবে নির্দেশনা দেবে আমরা সেভাবেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব। উল্লেখ্য, মামলায় স্কুলটির প্রধান শিক্ষক, উপজেলা শিক্ষা অফিসার, ইউএনও, আশিফুর রহমান, রাজা আবদুস সালাম ও রাজা শহিদুল হককে বিবাদী করা হয়েছে।
গ্যাসসংকটে ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে অবস্থিত রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ২৬ দিন ধরে পুরোপুরি বন্ধ। একই সময়ে ময়মনসিংহ অঞ্চলের আরও দুটি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন অর্ধেকের নিচে নেমে আসায় বিভাগজুড়ে বেড়েছে লোডশেডিং। ময়মনসিংহ আরপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এইচ এম রাশেদ এ পরিস্থিতির জন্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়ী করেছেন। আরপিসিএল সূত্রের বরাতে দেশের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। তবে বছরের পর বছর ধরে গ্যাসসংকটের কারণে কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতা কমে আসছিল। আরপিসিএলের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে ৩০ থেকে ৩৫ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছিল না। ২০২২-২৩ অর্থবছরে কেন্দ্রটির প্লান্ট ফ্যাক্টর ছিল ৪৫ শতাংশ। এর আগের অর্থবছরে তা ছিল ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে। বর্তমানে গ্যাসের সরবরাহ পুরোপুরি না থাকায় গত ২৬ দিন ধরে কেন্দ্রটির উৎপাদন শূন্য। ময়মনসিংহ আরপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এইচ এম রাশেদ রবিবার বলেন, গ্যাসসংকটের কারণে ২৬ দিন ধরে ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সম্পূর্ণ বন্ধ। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আবার উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে। বাড়ছে লোডশেডিং বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ থাকায় ময়মনসিংহ বিভাগে লোডশেডিং বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গ্রামাঞ্চলে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। জেলা শহরেও কয়েক ঘণ্টা করে লোডশেডিং হচ্ছে। ময়মনসিংহ সদরের গোপালনগর গ্রামের ভ্যানচালক নাসির উদ্দিন বলেন, দিনের বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে তিন থেকে চার ঘণ্টার আগে আসে না। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে ঘুমানো এবং সন্তানদের পড়াশোনাও কঠিন হয়ে পড়েছে। নগরের কাঁচিঝুলি এলাকার নারী উদ্যোক্তা শেফালী আক্তারও লোডশেডিং নিয়ে ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, দিনে ও রাতে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এর সঙ্গে বাসায় গ্যাসসংকট থাকায় রান্নাবান্নাতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ময়মনসিংহে বিদ্যুৎ ও গ্যাসসংকট কবে কাটবে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ সংখ্যাগুলো ছোট নয়। মাত্র সাড়ে সাত মাসে ঠাকুরগাঁওয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে জব্দ হয়েছে ৬ হাজার ৪৯১ পিস ইয়াবা। এর সঙ্গে রয়েছে ৪ হাজার ৬৬ পিস টাপেন্টাডল, ৩২ বোতল ফেনসিডিল, ৭ কেজি ৩৮ গ্রাম গাঁজা, ৪৪২ লিটার দেশি মদ, ১০৫ বোতল ফেন্সিবিল, ২ বোতল ইস্কফ সিরাপ ও ৩ বোতল এমকেড্রিল। শুধু মাদকদ্রব্য জব্দেই শেষ নয়, চলতি বছরের মার্চ থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত মাদকবিরোধী অভিযানসহ বিভিন্ন মামলায় ৫১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। একই সময়ে মাদক সেবনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে করা হয়েছে ৮৪টি মামলা। এসব মামলায় ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় এবং ৮৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রবিবার (১৬ আগস্ট) ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে এসব তথ্য জানানো হয়। পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে দেওয়া মাসভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বছরের মাঝামাঝি সময়ে মাদক উদ্ধারের পরিমাণও বেড়েছে। বিশেষ করে জুন ও জুলাই মাসে ইয়াবা ও টাপেন্টাডল উদ্ধারের পরিমাণ ছিল উল্লেখযোগ্য। মার্চে ডিবির অভিযানে জব্দ করা হয় ১ হাজার ৫৩৭ পিস ইয়াবা। একই সময়ে ৭৮৩ পিস টাপেন্টাডল, ৩২ বোতল ফেনসিডিল, ৬২৫ গ্রাম গাঁজা, ১৬১ লিটার দেশি মদ এবং ৭৮ বোতল ফেন্সিবিল উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় ৬৭টি মামলায় ৮৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এপ্রিলেও অভিযান অব্যাহত ছিল। ওই মাসে ৪২৪ পিস ইয়াবা, ১৬১ পিস টাপেন্টাডল, ৫৩৩ গ্রাম গাঁজা ও ২ বোতল ইস্কফ সিরাপ জব্দ করা হয়। এ সময় ৩২টি মামলায় গ্রেপ্তার হন ৪৬ জন। মে মাসে ইয়াবা উদ্ধারের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭১৬ পিস। এ ছাড়া ৫৩১ পিস টাপেন্টাডল, ফেনসিডিল, ৭৮৬ গ্রাম গাঁজা ও ২৩৫ লিটার দেশি মদ জব্দ করা হয়। এসব ঘটনায় ৬০টি মামলায় ৮১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে জুনে এসে ইয়াবা উদ্ধারের পরিমাণ এক লাফে বেড়ে যায়। ওই মাসে জব্দ হয় ২ হাজার ১৫৯ পিস ইয়াবা। সঙ্গে ছিল ৩৫০ পিস টাপেন্টাডল ও ২ কেজি ৮৫২ গ্রাম গাঁজা। এসব ঘটনায় ৬৬টি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় ৮৫ জনকে। জুলাইয়ে আবার টাপেন্টাডল উদ্ধারে বড় পরিমাণ দেখা যায়। ওই মাসে ১ হাজার ৩১১ পিস ইয়াবার পাশাপাশি ১ হাজার ৭৫৫ পিস টাপেন্টাডল, ২৭ বোতল ফেনসিডিল, ২ কেজি ১৫২ গ্রাম গাঁজা, ২৫ লিটার দেশি মদ ও ৩ বোতল এমকেড্রিল জব্দ করা হয়। এ সময় ৬৮টি মামলায় ৯৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আগস্টের প্রথম ১৪ দিনেও অভিযান থামেনি। এ সময়ে ৩৪৪ পিস ইয়াবা, ৪৮৬ পিস টাপেন্টাডল, ৯০ গ্রাম গাঁজা ও ২১ লিটার দেশি মদ জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ২১টি মামলায় ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এতে দেখা যায় এক মাসেই দুই হাজারের বেশি ইয়াবা জব্দ করেছে পুলিশ। পুলিশের মাসভিত্তিক হিসাবের সবচেয়ে বড় চিত্রটি পাওয়া যায় জুন মাসে। ওই এক মাসেই জব্দ হয়েছে ২ হাজার ১৫৯ পিস ইয়াবা। মার্চের ১ হাজার ৫৩৭ পিসের তুলনায় জুনে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার পরিমাণ ৬২২ পিস বেশি। আবার টাপেন্টাডল উদ্ধারের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ছিল জুলাই মাস। ওই মাসে ১ হাজার ৭৫৫ পিস টাপেন্টাডল জব্দ করা হয়। এর আগের মাস জুনে উদ্ধার হয়েছিল ৩৫০ পিস। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে টাপেন্টাডল উদ্ধারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ হিসাব ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র সামনে আনছে মাদকদ্রব্যের ধরন ও উদ্ধারের পরিমাণ মাসভেদে পরিবর্তিত হলেও ইয়াবা ও টাপেন্টাডল পুলিশের অভিযানে নিয়মিতভাবে উঠে আসছে। মার্চ থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত পুলিশের মাসভিত্তিক হিসাবে বিভিন্ন মাদক মামলায় অনেকেই গ্রেপ্তার হয়েছেন। এর মধ্যে মার্চে ৮৮ জন, এপ্রিলে ৪৬ জন, মে মাসে ৮১ জন, জুনে ৮৫ জন, জুলাইয়ে ৯৩ জন এবং আগস্টের প্রথম ১৪ দিনে ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের দেওয়া সামগ্রিক হিসাবে, চলতি বছরের এই সময়ে জেলা পুলিশ ও ডিবির অভিযানে বিভিন্ন মামলায় মোট ৫১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে, মাদক সেবনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৮৪টি মামলায় ৮৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসব মামলায় ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ এবং শত শত মানুষ গ্রেপ্তারের পর স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসছে একটি প্রশ্ন, এত অভিযান ও গ্রেপ্তারের পরও ঠাকুরগাঁওয়ে মাদক সরবরাহ ও সেবন কতটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে? মাদকের উৎস কোথায়, কীভাবে এসব মাদক জেলায় প্রবেশ করছে, কারা সরবরাহ করছে এবং গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মূল হোতারা কতটা আইনের আওতায় আসছে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে জেলাবাসী। ঠাকুরগাঁও শহরের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ইয়াবা ও টাপেন্টাডলের মতো মাদক বিপুল পরিমাণে জব্দ হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগের। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানে মাদক উদ্ধার ও সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। তবে শুধু বহনকারী বা সেবনকারীদের গ্রেপ্তার করলেই মাদকের বিস্তার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তারা আরও বলেন, এসব মাদক কোথা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে আসছে, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং কারা সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত তা খুঁজে বের করে মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদারের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। কলেজ শিক্ষক মো. আতাউর রহমান বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে মাদক পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো প্রয়োজন। একইসঙ্গে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রসুল কাজল বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে ডিবির অভিযান নিয়মিতভাবেই চলছে। শুধু মাদক উদ্ধার ও মাদক বহনকারীদের গ্রেপ্তার নয়, এর সঙ্গে জড়িত মূল ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার বিষয়েও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। কোথা থেকে মাদক আসছে, কীভাবে তা জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে এবং কারা এর পেছনে রয়েছে এসব তথ্য সংগ্রহ করে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. খোদাদাদ হোসেন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। মাদকদ্রব্য উদ্ধার, মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি মাদকের মূল উৎস ও সরবরাহব্যবস্থা শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। গত সাড়ে সাত মাসে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ এবং পাঁচ শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মাদকের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও ০১৭৪০৮৬১০৮০
ঋণের নামে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ও এস আলমসহ মোট ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। সোমবার দুপুরে দুদকের কার্যালয়ে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ‘সুপ্রভ কম্পোজিট নিট […] ঋণের নামে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ও এস আলমসহ মোট ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। সোমবার দুপুরে দুদকের কার্যালয়ে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ‘সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড’ নামের একটি দুর্বল প্রতিষ্ঠানের ঋণসীমা জালিয়াতির মাধ্যমে ১০০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়। পরবর্তীতে সেই অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়। অ্যাননটেক্স গ্রুপের ইউনুস বাদলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেডের অনুকূলে অবৈধভাবে ঋণ বরাদ্দ পাইয়ে দিতে ভূমিকা রাখেন ব্যবসায়ী এস আলম। আর তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন, ব্যাংকের সাবেক তিন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুল মাওলা, আব্দুল হামিদ মিয়া ও মাহবুব উল আলমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই অনৈতিক কাজের অনুমোদন দিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ৪টি অডিট ফার্মের মাধ্যমে ঘটনার তদন্ত করে এসব অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছে বলেও দুদকে পাঠানো অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছুটির দিনে বরগুনা জেলা সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে বালাম ও রেজিস্ট্রার খাতায় কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন সাংবাদিকরা। এ সময় কার্যালয়ের গেট বন্ধ করে সাংবাদিকদের হুমকি-ধমকি দেওয়া, পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা এবং মারধরের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে বরগুনা জেলা সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী দৈনিক কালবেলার বরগুনা জেলা প্রতিনিধি আসাদ সবুজ জানান, গোপন সংবাদের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, সরকারি ছুটির দিনে জেলা সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে গোপনে কিছু কাজ চলছে। বিষয়টি জানতে তিনি বৈশাখী টেলিভিশনের বরগুনা প্রতিনিধি রাসেল শিকদার, বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিনিধি ইব্রাহিম সোহেল, দৈনিক আমার সংবাদের প্রতিনিধি কাশেম হাওলাদার ও দৈনিক ঢাকা নিউজের প্রতিনিধি জুলহাস মিয়াসহ বরগুনা পৌর শহরের পুরান থানা এলাকার জেলা সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে যান। সেখানে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ সরকারি কার্যালয়ের কেচি গেট খোলা দেখতে পান তারা। পরে ভবনের তৃতীয় তলার নকলখানায় গিয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জনকে বালাম নিয়ে কাজ করতে দেখেন সাংবাদিকরা। এ সময় জেলা রেজিস্ট্রার স্বদেশ চন্দ্র চন্দ্রের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে সাংবাদিকদের জানান। পরে উপস্থিত সাংবাদিকরা ভিডিও ধারণ শুরু করলে সদর উপজেলার এজলাসে মাস্টাররোলে কর্মরত বাশার খান দ্রুত সেখানে গিয়ে নিজেকে জেলা ছাত্রদলের সহসম্পাদক পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণে বাধা দেন বলে অভিযোগ। এ সময় নকলখানার গেট বন্ধ করে উপস্থিত সাংবাদিকদের একটি নির্দিষ্ট দলের দোসর ও চাদাবাজ হিসেবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি সাংবাদিকদের হুমকি-ধমকি দেওয়া এবং মারধরের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা। পরে কার্যালয়ের একাধিক কর্মচারী বাশার খানকে আচরণ সংযত করার অনুরোধ করেন। এ সময় নকলখানার রেকর্ডকিপারের কাছে সরকারি ছুটির দিনে তাদের করা কাজ নিয়ম অনুযায়ী হচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি ‘অনিয়ম’ বলে স্বীকার করেন বলে জানান সাংবাদিকরা। এ বিষয়ে বরগুনা জেলা রেজিস্ট্রার স্বদেশ চন্দ্র চন্দ্র বলেন, সরকারি ছুটির দিনে বালাম নিয়ে কাজ করার অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার আমার নেই। আমি খোঁজ নিয়ে বিষয়টি জানার চেষ্টা করছি। তবে অনুমোদন ছাড়া কোনোভাবেই সরকারি ছুটির দিনে বালামের কাজ করা যাবে না।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত চিফ পার্সোনাল অফিসার (সিপিও) তরুণ কান্তি বালার দপ্তর থেকে এক রেল কর্মকর্তার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক নথি রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সরকারি দপ্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী টপকে কীভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল উধাও হলো এবং এর পেছনে সত্য গোপন বা তথ্য লোপাটের কোনো পরিকল্পিত চেষ্টা রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে তীব্র বিতর্ক ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজারের (সিসিএম) দপ্তরের আদালত পরিদর্শক (গ্রেড-১) জিনিয়া নাসরিনের একটি স্পর্শকাতর প্রশাসনিক নথি দীর্ঘদিন ধরে প্রক্রিয়াধীন ছিল। নথির নম্বর ৫৪.০১.১৫০০.১১৪.০৫.০০১.২৫। সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার খাতার দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর নথিটি চূড়ান্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনার জন্য তৎকালীন চিফ পার্সোনাল অফিসার (সিপিও) তরুণ কান্তি বালার নিকট উপস্থাপন করা হয়। তবে দীর্ঘ প্রায় নয় মাস ধরে নথিটি সিপিওর দপ্তরে পড়ে থাকলেও এতে কোনো ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ বা ফাইল নিষ্পত্তি করা হয়নি। সম্প্রতি উক্ত নথিটির চূড়ান্ত স্থিতি জানতে গিয়ে দেখা যায়, সেটি সিপিও কক্ষে নেই এবং দপ্তরের সংশ্লিষ্ট অন্য কোথাও এর কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। উপরন্তু, নথিটি দপ্তরের বাইরে অন্য কোথাও পাঠানো বা হস্তান্তরের কোনো এন্ট্রি রেজিস্টার খাতায় উল্লেখ নেই। অনুসন্ধানে দেখা যায়, চট্টগ্রাম সিআরবিতে কর্মরত রেলওয়ের কর্মী মাকসুদা আক্তার লিখি এবং তার স্বামী মাহবুবুর রহমান ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে জড়িয়ে জিনিয়া নাসরিনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানে দাবি করা হয়, জিনিয়া নাসরিন সরকারি চাকরির পাশাপাশি আইন পেশায় নিয়োজিত থেকে দ্বৈত পেশা সংক্রান্ত সরকারি চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন করছেন। ওই অভিযোগের পর জিনিয়া নাসরিন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি থেকে দুটি পৃথক দাপ্তরিক প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করে রেলওয়ে প্রশাসনের নিকট জমা দেন। প্রত্যয়নপত্রে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে, জিনিয়া নাসরিন কখনোই সেখানে আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন না। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগের বিপরীতে প্রয়োজনীয় যাবতীয় বৈধ কাগজপত্র প্রশাসনের কাছে দাখিল করেন। এর প্রেক্ষিতে রেলওয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একজন ওয়েলফেয়ার ইন্সপেক্টরকে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতিতে সরেজমিনে পাঠিয়ে অভিযোগের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়। পরবর্তীতে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) সুবক্তগীনের নির্দেশে পুরো বিষয়টি চূড়ান্ত আইনি পর্যালোচনার জন্য একজন ব্যারিস্টারের নিকট পাঠানো হয়। আইনগত মতামত প্রদানকালে উক্ত ব্যারিস্টার লিখিতভাবে স্পষ্ট জানান, জিনিয়া নাসরিন দ্বৈত পেশায় যুক্ত থাকার মতো কোনো অপরাধ করেননি এবং এক্ষেত্রে সরকারি চাকরি বিধিমালার কোনো লঙ্ঘন ঘটেনি। ওই আইনি মতামতের সঙ্গে পূর্ণ একমত পোষণ করে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের আইন কর্মকর্তা আল মাহমুদ ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর সিপিও (পূর্ব) ও জিএম (পূর্ব)-এর উদ্দেশ্যে একটি দাপ্তরিক পত্র প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে জিএম (পূর্ব) ও সিপিও (পূর্ব) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিলে সিপিওর জেনারেল শাখা থেকে সংশ্লিষ্ট নথিটি উপস্থাপন করা হয়েছিল। রেজিস্টার খাতার এন্ট্রি নিশ্চিত করা সত্ত্বেও টানা নয় মাস নথিতে কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়া এবং পরবর্তীতে তা রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা। বিগত কয়েকদিন ধরে জিনিয়া নাসরিন নথিটির অবস্থান জানতে সিপিও দপ্তরে গিয়ে সিপিও তরুণ কান্তি বালার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি ফাইলটির বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এ বিষয়ে আদালত পরিদর্শক (গ্রেড-১) জিনিয়া নাসরিন জানান, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির প্রত্যয়নপত্র, রেলওয়ে প্রশাসনের নিজস্ব সরেজমিন যাচাই-বাছাই এবং ব্যারিস্টারের আইনগত মতামত, প্রতিটি পর্যালোচনায় তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, সত্য তথ্য ও নিরপেক্ষ তদন্তের ফল প্রকাশ পাওয়ার পরই পুরো নথিটি গায়েব করে দেওয়া হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল সঠিক তথ্য গোপন করা। তবে নথিটির প্রতিটি দাপ্তরিক তথ্যের কপি তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে এবং উপযুক্ত সময়ে তা প্রশাসনের নিকট উপস্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে দাপ্তরিক নথি হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত চিফ পার্সোনাল অফিসার (সিপিও) তরুণ কান্তি বালা জানান, নথিটি বর্তমানে তার কাছে বা তার দপ্তরে নেই। রেজিস্টার খাতার এন্ট্রি প্রসঙ্গের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের ফাইল চুরির ঘটনা পূর্বেও ঘটেছে। তার রুম থেকে ফাইল চুরি হলে ২৪ ঘণ্টা ফাইল পাহারা দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। যে ফাইলটি নিয়েছে সে চোর এবং তাকে ধরতে পারলে জেল খাটতে হবে। তিনি বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেবেন এবং ফাইল পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি নোটিশ পাঠাবেন।
* প্রটোকল ছাড়া হুট করে চালু করা হয়েছে প্রকল্পটি * জনবলের অভাবে স্মৃতিচিহ্ন নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা বা নিরাপত্তা প্রটোকল ছাড়াই হুট করে চালু করা হয়েছে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে শহীদদের অমূল্য স্মৃতিচিহ্ন ও স্পর্শকাতর স্থাপনাসমূহ। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সেকশন ও স্মারক সরিয়ে ফেলার গুরুতর অভিযোগ ইতিহাস বিকৃতির শঙ্কাকে আরো তীব্র করে তুলেছে। কোনো ধরনের জনবল বা স্টাফ নিয়োগ না দিয়ে এবং সিকিউরিটি প্রটোকলের মহড়া না করেই জাদুঘর খুলে দেওয়ার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। গতকাল শনিবার তিনি বলেন, ‘কোনো রকম স্টাফ না দিয়ে, সিকিউরিটি প্রটোকল রিহার্সাল না করে এভাবে মিউজিয়ামটা কোন বিবেচনায় খোলা হলো, এটা আমার কাছে বিস্ময়কর লাগছে।’ ফারুকী বলেন, এ জাদুঘরে শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন আছে, অনেক ইলেকট্রনিক ইকুইপমেন্ট আছে। এভাবে নিরাপত্তাব্যবস্থা না মেনে কেউ জাদুঘরে ঢুকলে বহু জিনিস নষ্ট হয়ে যাবে। এমন অনেক জিনিস আছে, যেটা একবার নষ্ট হলে আর পাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, ‘এ জাদুঘর কেপিআই ওয়ানভুক্ত ইনস্টলেশন। এরকম স্পর্শকাতর ইনস্টলেশন এরকম এতিম দশায় ওপেন করা হলো কেন? সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর সত্যিকারের উদ্যোগী হলে এতদিনে সঠিকভাবে উদ্বোধন করা যেত। দরকার হলে সাময়িক বন্ধ রাখেন। তারপর যথাযথ স্টাফিং, সিকিউরিটি প্রটোকল রিহার্সাল করে চালু করেন’—মন্তব্য করেন তিনি। জুলাই স্মৃতি জাদুঘর প্রস্তুতির কাজে যুক্ত ছিলেন এমন একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমার দেশকে বলেন, বর্তমানে কোনো পেশাদার ব্যবস্থাপনা কমিটি নেই। ফলে গবেষকদেরও শ্রমিক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মতো কাজ করতে হচ্ছে। কাচের ভেতরে রাখা শহীদদের স্মৃতি স্মারকগুলো ভেঙে যাচ্ছে। মানুষ হাত দিয়ে সেগুলো ধরছে, কিন্তু তা বাধা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত লোকবল নেই। তিনি বলেন, বিভিন্ন ইনস্টলেশন, বিশেষ করে আন্দোলনের আইকনিক ছবিগুলো উন্মুক্ত থাকায় মানুষের হাত লাগার কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ও খুলে পড়ে যাচ্ছে। শহীদ ইব্রাহিমের সাইকেলের মতো বড় বড় স্মারকগুলো একদমই অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। এগুলোর সামনে কেবল একটি লোহার শেকল দিয়ে রাখা হয়েছে; যে কেউ সেই বড় স্মারকগুলো হাত দিয়ে স্পর্শ করছে, কিন্তু বাধা দেওয়ার মতো কেউ নেই। তিনি আরো বলেন, সীমান্ত হত্যা নিয়ে নির্ধারিত রুমটি এখনো পুরোপুরি ফাঁকা পড়ে আছে এবং সেখানে কোনো ইনস্টলেশন নেই, কেবল ক্যাম্পাস ভায়োলেন্সের দুটি ফটো লাইটবক্স রাখা হয়েছে। ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের ভিকটিমদের জন্য নির্দিষ্ট রুমটির বিশেষ কোনো ইনস্টলেশনই আর নেই। ডিজিটাল প্রেস নামের যে প্রজেক্টরে ভিকটিমদের ধরে নিয়ে যাওয়ার পেপার কাটিং দেখানো হতো, সেটিও নেই। প্রতিদিন অতিরিক্ত মানুষ আসছে এবং সবার উদ্দেশ্য জানা সম্ভব নয়। নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, পতিত স্বৈরাচার ও তার দোসররা যেকোনো সময় এ জাদুঘরের সহজে ক্ষতি করতে পারে। প্রবেশপথ থেকে শুরু করে একদম জাদুঘরের হল পর্যন্ত বিশেষ কোনো নজরদারি নেই এবং মাঝে মাঝে পথচারীরাও দেদার ঢুকে পড়ছে। উন্মুক্ত থাকা ও মানুষের স্পর্শ লাগার কারণে টিভি ও ট্যাবগুলো বিভিন্নভাবে নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট (ডিএসএ)-এর মাধ্যমে নিপীড়নের শিকার ভিকটিমদের আলামত ও ইতিহাসের সেকশনটিকে ছোট করে ফেলা হয়েছে। এদিকে জুলাই জাদুঘর পরিদর্শন শেষে গতকাল শনিবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সদ্য উদ্বোধন হওয়া জুলাই ৩৬ গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর থেকে সীমান্ত হত্যা এবং মোদিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্ত হত্যার আলামত ও রেকর্ডসংবলিত ‘বর্ডার কিলিং রুম’ সেকশন পুরোপুরি সরিয়ে ফেলা, সীমান্ত হত্যার শিকার ফেলানীর ভাস্কর্য অপসারণ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ বাদ দেওয়া এবং আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মোদিবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসসংবলিত সেকশনটি তুলে নেওয়া হয়েছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখার জন্য ইতিহাসের কোনো অংশ বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই’—মন্তব্য করেন নাহিদ। জাদুঘর পরিচালনার জন্য দ্রুত জনবল নিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে এখানে পর্যাপ্ত জনবল নেই। প্রায় ২০০ জনের মতো জনবল প্রয়োজন হলেও এখন পর্যন্ত ১৫-২০ জন কাজ করছেন এবং আপাতত স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এতে জাদুঘরটি নিরাপত্তাহীনতা ও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
ঢাকা মেট্রোরেলের যাত্রীদের ফার্স্ট-মাইল ও লাস্ট-মাইল যাতায়াতের দুর্ভোগ কমাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে অ্যাপভিত্তিক বাইসাইকেল শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ‘জোবাইক’। ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে প্রথম ধাপে মেট্রোরেল লাইন-৬-এর তিনটি স্টেশনে চালু হচ্ছে জোবাইকের বাইসাইকেল সেবা। গত ৬ আগস্ট ডিএমটিসিএল ও জোবাইকের মধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ডিএমটিসিএলের উন্মুক্ত দরপত্রে অংশ নিয়ে কার্যাদেশ পাওয়ার পর এ চুক্তি করা হয়েছে। জোবাইক জানিয়েছে, প্রথম ধাপে উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার ও উত্তরা দক্ষিণ মেট্রো স্টেশনে ছয় মাসের পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ সেবা চালু করা হবে। এসব স্টেশনে ১৫০ থেকে ৩০০টি প্যাডেল বাইসাইকেল রাখা হবে। যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় পরবর্তী সময়ে পার্কিং হাবের সংখ্যা বাড়ানো হবে। পাইলট প্রকল্প সফল হলে লাইন-৬-এর অন্যান্য স্টেশনেও এ সেবা সম্প্রসারণ করা হবে। যেভাবে ব্যবহার করা যাবে জোবাইকের বাইসাইকেল ব্যবহার করতে যাত্রীদের নির্ধারিত পার্কিং এলাকা অথবা কাছাকাছি জোবাইক হাবে যেতে হবে। এরপর জোবাইক অ্যাপের মাধ্যমে বাইসাইকেলে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে সেটি আনলক করা যাবে। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর নির্ধারিত যে কোনো জোবাইক পার্কিং স্থানে বাইসাইকেল রেখে রাইড শেষ করা যাবে। ফলে মেট্রো স্টেশন থেকে বাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কর্মস্থলে যাওয়ার ক্ষেত্রে স্বল্প দূরত্বের যাতায়াত আরও সহজ হবে। কত টাকা ভাড়া জোবাইকের এ সেবায় প্রতিটি রাইডের শুরুতে ২ টাকা আনলকিং ফি দিতে হবে। এর সঙ্গে প্রতি মিনিটে ১ টাকা করে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, ১০ মিনিটের একটি রাইডে আনলকিং ফিসহ মোট ভাড়া হবে ১২ টাকা। একইভাবে ২০ মিনিটের রাইডে দিতে হবে ২২ টাকা। কারা বেশি উপকৃত হবেন এ উদ্যোগের ফলে উত্তরা রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রজেক্ট (আরইউএপি) ও উত্তরা রূপায়ণ সিটির বাসিন্দা, মেট্রো ডিপোর কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আশপাশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরাসরি উপকৃত হবেন। এর মধ্যে রয়েছে শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (ডব্লিউইউবি) এবং বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি)। জোবাইকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মেহেদী রেজা বলেন, প্রতিদিন প্রায় চার লাখ মানুষ মেট্রোরেলে যাতায়াত করেন। তবে স্টেশন থেকে বের হওয়ার পর গন্তব্যে পৌঁছানোর ফার্স্ট-মাইল ও লাস্ট-মাইল যাতায়াতে রিকশা ছাড়া পর্যাপ্ত বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে জোবাইকের বাইসাইকেল স্বাস্থ্যকর, সুবিধাজনক ও সাশ্রয়ী পরিবহনের বিকল্প হতে পারে। তিনি বলেন, বাইসাইকেল ব্যবহারের মাধ্যমে যাত্রীরা কার্বন নিঃসরণ কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারবেন। পাশাপাশি ঢাকায় বাইসাইকেলবান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য ডেডিকেটেড সাইকেল লেন নির্মাণে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। ২০১৮ সালে কক্সবাজার থেকে পরিবেশবান্ধব স্মার্ট রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করে জোবাইক। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে চলতি বছরের জুনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ই-বাইক সেবা চালুর মাধ্যমে আবারও কার্যক্রম শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। এবার মেট্রোরেল ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে রাজধানীতে বড় পরিসরে ফিরছে জোবাইক।
সাবেক কাস্টমস কমিশনার হাফিজুর রহমানকে ঘিরে নতুন করে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগের পাশাপাশি বর্তমানে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার পদ পেতে বিভিন্ন মহলে তদবির চালাচ্ছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রভাব খাটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন হাফিজুর রহমান। তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে দুর্নীতি-সংক্রান্ত তদন্ত এবং চাকরিজীবন নিয়ে বিভিন্ন বিতর্কের অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। এদিকে অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, প্রভাবশালী বিভিন্ন মহলের সমর্থন নিয়ে তিনি বর্তমানে দুদকের কমিশনার হওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি নথি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে হাফিজুর রহমানের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদে যুক্ত করা হবে। উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক সাবেক বাসচালকের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও স্বর্ণ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ এতটাই বেশি ছিল যে গণনার সময় পাঁচটি টাকা গণনার মেশিন বিকল হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত বাড়িটি থেকে মোট ২৮ কোটি রুপি নগদ এবং ১৫ কেজি স্বর্ণ জব্দ করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ২১ কোটি রুপি। গ্রেফতার হওয়া মিনার মণ্ডল একসময় বাসচালক ছিলেন। তিনি স্থানীয় পাথর ব্যবসায়ী তুলু মণ্ডলের আত্মীয়। তুলু মণ্ডলকে সাবেক তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত করা হয়। চলতি মাসের শুরুতে অনুব্রত মণ্ডল দলীয় বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেন। পুলিশ মিনার মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দাবি করেছেন, উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ ও স্বর্ণ তুলু মণ্ডল এবং তার কথিত অবৈধ সিন্ডিকেটের। বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া অভিযানে প্রথমে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ রুপি গণনা করা হয়। পরে পুরো অভিযান শেষে উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ বেড়ে ২৮ কোটিতে পৌঁছায়। তদন্তকারীরা জানান, মিনার মণ্ডলেরও পাথর ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং তুলু মণ্ডলের মালিকানাধীন পাথরের খনি ও ক্রাশিং ইউনিটের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ কোথা থেকে এসেছে এবং কীভাবে তা সংগ্রহ করা হয়েছে, সে বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ। অভিযানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে বড় একটি দল অংশ নেয়। তবে কী কারণে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল বা এটি কোনো অবৈধ আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বলেন, বালু মাফিয়াদের বিরুদ্ধে অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রশংসনীয় কাজ করেছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ উদ্ধার হয়েছে। তিনি জানান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে এবং জনসম্পদ লুটকারীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মিনার মণ্ডল একসময় রাজ্য পরিবহন বিভাগের কর্মী ও বাসচালক ছিলেন। পরে তিনি পাথর ব্যবসায় যুক্ত হন। তার আয়ের উৎস এবং বিপুল সম্পদের উৎস এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে। তৃণমূলে পালটাপালটি অভিযোগ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয়েছে পালটাপালটি অভিযোগ। অভিযুক্তদের সঙ্গে অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি সামনে এনে একে অপরকে দোষারোপ করছেন দলটির নেতারা। তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, কিছু নেতা নিজেদের ‘ভালো তৃণমূল’ হিসেবে তুলে ধরে অবৈধ সম্পদ লুকিয়ে রেখেছেন—এমন প্রশ্ন উঠছে। যাদের বাড়ি থেকে টাকা উদ্ধার হয়েছে, তারা এসব নেতার ঘনিষ্ঠ বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট নেতাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। অন্যদিকে তৃণমূলের সংসদ সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বীরভূম দীর্ঘদিন ধরে এক সাবেক তৃণমূল মন্ত্রী ও ‘বীরভূমের বাঘ’ হিসেবে পরিচিত নেতার নিয়ন্ত্রণে ছিল। অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কতটা গভীর, তা তদন্ত করে বের করা উচিত। ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এত বড় অঙ্কের অর্থ উদ্ধারের জন্য পুলিশ প্রশংসার দাবিদার। তবে এই অর্থ কার এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, সেটিও তদন্ত করে বের করতে হবে। আলোচনায় ১০০ কোটি রুপির জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ে এই অভিযানের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে তুলু মণ্ডলের মেয়ের ২০২৪ সালের জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ে। বীরভূমের সিউড়িতে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বাংলা ও বলিউডের বেশ কয়েকজন তারকা উপস্থিত ছিলেন। সূত্রগুলোর দাবি, বিয়ের পেছনে প্রায় ১০০ কোটি রুপি ব্যয় করা হয়েছিল। অতিথিদের মধ্যে অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরা, দর্শনা বণিক, আরবাজ খান ও জারিন খানও ছিলেন।
নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (এনআই) অ্যাক্টের অধীনে করা মামলার মূল উদ্দেশ্য হলো চেকের অর্থ আদায় নিশ্চিত করা, চেকদাতাকে (আসামি) কারাগারে পাঠানো নয়—এমন পর্যবেক্ষণ দিয়ে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। রায়ে আদালত স্পষ্ট করে বলেছেন যে, এনআই অ্যাক্টের মামলায় কারাদণ্ড প্রদান শুধুমাত্র উপযুক্ত ও বিশেষ পরিস্থিতিতেই দেওয়া উচিত। মো. আলাউদ্দিন বনাম রাষ্ট্র এবং অন্যান্য মামলার রায়ে এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বরিশালের এক গবাদিপশু ব্যবসায়ীর চেক ডিজঅনার সংক্রান্ত ফৌজদারি রিভিশন আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি ড. মো. বশির উল্লাহর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২২ জুলাই এই রায় দেন। রায়ের লিখিত অনুলিপি বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রকাশ করা হয়েছে। রায়ে অর্থদণ্ড বহাল রেখে আসামির কারাদণ্ড বাতিল করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালতে আসামি পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. সাইফুল আলম। ঋণ প্রদানকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী দেব দুলাল বড়াল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সফিকুল ইসলাম, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ফারহানা আবেদীন, হেমায়েত উদ্দিন এবং কে এম সাইফুল ইসলাম। রায়ে আদালত ‘আমান উল্লাহ বনাম রাষ্ট্র’ মামলার নজির উল্লেখ করে বলেন, এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার বিচারে কারাদণ্ড প্রদান করা একটি অতি কঠোর সাজা, যা থেকে কোনো শাস্তিমূলক উদ্দেশ্য সাধিত হয় না। উক্ত নীতি ও পর্যবেক্ষণের সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত পোষণ করছি। মামলার প্রেক্ষাপট গবাদিপশুর ব্যবসার উদ্দেশ্যে আসামি মো. আলাউদ্দিন বাদীর (যিনি বরিশালের তৃতীয় যুগ্ম দায়রা আদালতের বাদী ছিলেন) কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ নেন। উক্ত ঋণ পরিশোধের নিমিত্তে আলাউদ্দিন রূপালী ব্যাংক লিমিটেড, বরিশাল বাজার রোড শাখার একটি চেক প্রদান করেন। ২০২০ সালের ২ নভেম্বর চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে পর্যাপ্ত তহবিল না থাকার কারণে তা (চেক) নাকচ (ডিজঅনার) হয়। পরবর্তী সময়ে আইনি নোটিশ প্রদান ও নির্দিষ্ট মেয়াদে টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় বাদী ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বর বরিশালের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমলি আদালত) আদালতে এনআই অ্যাক্টের আইনে (সি.আর.) মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তা বরিশাল দায়রা জজ আদালতে পাঠান। দায়রা জজ মামলাটি বরিশাল তৃতীয় যুগ্ম দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করেন। ওই আদালত ২০২১ সালের ১৪ অক্টোবর এআই অ্যাক্টর ১৩৮ ধারায় আসামি আলা উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এরপর ২০২২ সালের ১৮ জানুয়ারি বরিশালের তৃতীয় যুগ্ম দায়রা জজ আদালত আসামি মো. আলাউদ্দিনকে এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং চেকের সমপরিমাণ ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করেন। পরে অর্থদণ্ডের অর্ধেক (২ লাখ ৫০ হাজার) টাকা জমা দিয়ে বরিশাল দায়রা জজ আদালতে আপিল করেন আসামি আলাউদ্দিন। পরে আপিল আদালত (বরিশাল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ) ২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড বহাল রেখে আসামির আপিল খারিজ করে দেন। বিচারিক আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হয়ে আসামি আলাউদ্দিন হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন। গত ২২ জুলাই হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের রায় বাতিলে জারি করা রুল খারিজ করে অর্থদণ্ড বহাল রাখেন। পাশাপাশি বিচারিক আদালতের রায়ের সাজার অংশটি ন্যায় বিচারের স্বার্থে সংশোধন করে তা (কারাদণ্ড) বাতিল করে দেন। অর্থাৎ আসামির অর্থদণ্ড বহাল রেখে কারাদণ্ড বাতিল করে দেন আদালত। রায়ের কপি প্রাপ্তির তিনি মাসের মধ্যে আসামিকে (আলাউদ্দিন) ডিজঅনার চেকের অবশিষ্ট অংশ অর্থাৎ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন আদালত। অনাদায়ে আসামিকে দুই মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে কারাদণ্ড ভোগ করলেও তিনি জরিমানা পরিশোধের দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন না এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬ ধারা অনুযায়ী আদালত উক্ত টাকা আদায় করা হবে বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন আদালত।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন