কোটি মানুষের শ্রমে-ঘামে ঘুরছে অর্থনীতির চাকা। অথচ সেই অর্জনের সিংহভাগ জমা হচ্ছে গুটিকয়েক মানুষের হাতে। সব মিলিয়ে চরম আয় বৈষম্যের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ। দেশে ১০ ভাগ মানুষের হাতে ৯০ ভাগের চেয়ে বেশি সম্পদ জমা হচ্ছে। ফলে সমাজে বাড়ছে বৈষম্য।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, শীর্ষ ১০ শতাংশের আয় সর্বনিম্ন ৪০ শতাংশ মানুষের সামষ্টিক আয়ের ৩ দশমিক ১৮ গুণ বেশি। গত চার দশকে দেশে ক্রমাগতভাবে আয়বৈষম্য পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। কেননা ওপরে থাকা মানুষের আয় যে হারে বেড়েছে, এর চেয়ে অনেক বেশি হারে কমেছে নিচের দিকে থাকা মানুষের আয়। অন্যদিকে দেশে বাড়ছে দারিদ্র্যের হার। ফলে একসময়ের সাফল্যের গল্প এখন মলিন হয়ে যাচ্ছে। চরম দারিদ্র্যঝুঁকিতে মধ্যবিত্ত মানুষরা।
এমন প্রেক্ষাপটে আগামী দিনে বেশকিছু উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। পঞ্চবার্ষিক স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্কে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এটি তৈরি করেছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। চলতি অর্থবছর থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত যা বাস্তবায়নের লক্ষ্য।
ফ্রেমওয়ার্কে জিইডি বলছে, জনসংখ্যার একটি বড় অংশ দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। ফলে জনাকীর্ণ বসতি, অপর্যাপ্ত আবাসন, অপ্রতুল সরকারি পরিষেবা এবং ক্রমবর্ধমান নগরবৈষম্য দেখা দিচ্ছে। অনেক নগরকর্মী সামাজিক সুরক্ষা বা কর্মসংস্থান সুরক্ষা ছাড়াই অনানুষ্ঠানিক ও স্বল্প বেতনের পেশায় নিযুক্ত থাকেন, যা তাদের মুদ্রাস্ফীতির চাপ এবং অর্থনৈতিক মন্দার মুখে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।
আরও বলা হয়েছে, ১৯৮৩-৮৪ সালে সবচেয়ে ধনী ১০ শতাংশ মানুষের আয় ছিল সবচেয়ে দরিদ্র ৪০ শতাংশ মানুষের সম্মিলিত আয়ের প্রায় দেড় গুণ। ২০২২ সাল নাগাদ, এই অনুপাত দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ৩ দশমিক ১৮-এ পৌঁছেছিল, যা ছিল এর সর্বোচ্চ পর্যায়। এ সময়ে সর্বনিম্ন ৪০ শতাংশ মানুষের আয়ের অংশ তীব্রভাবে কমে যায়। অন্যদিকে শীর্ষ ১০ শতাংশের অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে মোট আয়ের ৪০ শতাংশেরও বেশি হয়েছিল। যদিও রপ্তানিনির্ভর প্রবৃদ্ধি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করেছিল। কিন্তু এর সুবিধাগুলো অসমভাবে বণ্টিত হওয়ায় সুফল মেলেনি। যার বেশিরভাগ সুবিধা উচ্চ আয়ের গোষ্ঠীগুলোই ভোগ করেছে। বৈষম্য ক্রমবর্ধমানভাবে মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে প্রভাবিত করেছে, যাদের আয়ের অংশ ২০২২ সালে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছিল।
জিইডি বলছে, বৈষম্যের সঙ্গে দরিদ্রতার সম্পর্ক গভীর। বিগত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে, দারিদ্র্য ও বৈষম্য এখনো অন্যতম প্রধান উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ। দারিদ্র্য হ্রাস, সামাজিক সূচকের উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘ সময় ধরে তুলনামূলকভাবে উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ। লাখ লাখ মানুষ মুক্তি পেয়েছে চরম দারিদ্র্য থেকে। এই হার ১৯৯১-৯২ সালের ৪১ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ২০২৫ সালে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে গড় আয়ু প্রায় ৫০ বছর থেকে বেড়ে ৭৩ বছর হয়েছে। কমেছে শিশুমৃত্যুও। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশে দারিদ্র্যের প্রকৃতিও পরিবর্তিত হয়েছে।
দারিদ্র্য ক্রমবর্ধমানভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, কর্মসংস্থান নিরাপত্তা, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি এবং পরিবেশগত স্থিতিস্থাপকতার সঙ্গে সম্পর্কিত বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জগুলোকে প্রতিফলিত করে। অনেক পরিবার যারা নামমাত্র দারিদ্র্যসীমা অতিক্রম করেছে, তারাও অর্থনৈতিক ধাক্কা, অসুস্থতা, জলবায়ু-সম্পর্কিত দুর্যোগ বা আকস্মিক আয় কমার কারণে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২২ সালে মাঝারি দারিদ্র্য ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশে এবং একই সময়ে চরম দারিদ্র্য ৫ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
ফ্রেমওয়ার্কে জিইডি বলেছে, দারিদ্র্য, বৈষম্য এবং ঝুঁকির ধারাবাহিকতা বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি মডেলের অন্তর্ভুক্তিমূলকতা ও স্থায়িত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ উল্লেখযোগ্য জাতীয় আয় তৈরি করেছে, তবুও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মজুরি বৃদ্ধি, শ্রম উৎপাদনশীলতা, সরকারি ব্যয়ের গুণমান এবং সুযোগের ন্যায়সংগত প্রাপ্তি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
আগামী পাঁচ বছরে বৈষম্য কমিয়ে দরিদ্রতা নিরসনে নানা উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে ফ্রেমওয়ার্কে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বণ্টনগত প্রভাব উন্নত করা, প্রবৃদ্ধি-কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রকৃত আয় বৃদ্ধির মধ্যে সংযোগ স্থাপন এবং শ্রমবাজার সংস্কার।
এ ছাড়া খাতভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন করে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যবস্থাপনা করতে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা, লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ, ঝুঁকিপূর্ণ কর্মীদের জন্য সহায়তা, অল্প সময়ের মধ্যে দারিদ্র্য অবস্থার মূল্যায়ন, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের কাজের মান-মজুরি ও কর্মপরিবেশ উন্নত করা হবে।
আরও আছে— আনুষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, খাতভিত্তিক রূপান্তরে সহায়তা, শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, সামাজিক নিরপত্তা কর্মসূচির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত এবং বাজেট বরাদ্দে অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার দুপুর সোয়া ১২টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এই মতবিনিময় শুরু হয়। এতে যায়যায়দিন সম্পাদক ও ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের (এন ই সি) আহ্বায়ক শফিক রেহমান, আমার দেশ সম্পাদক ও এনইসি যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান, ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দিন, নয়া দিগন্তের সালাহউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, বণিক বার্তার দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান, ওয়াদার শফিকুল আলম, খবরের কাগজের মোস্তফা কামাল, আজকের পত্রিকার কামরুল হাসান, সময়ের আলোর সৈয়দ শাহ নেওয়াজ করিম, বাণিজ্য প্রতিদিনের গিয়াস উদ্দিন, ঢাকা মেইলের হারুন জামিল, মোস্তফা কামাল মজুমদার, এদিন, ভোরের ডাকসহ বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকরা অংশ নিয়েছেন। এছাড়া জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন।
মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ১৩০ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) অধীন মনাকষা বিওপির একটি বিশেষ টহলদল শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের চালকিপাড়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে এসব মাদকদ্রব্য জব্দ করে। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, জব্দ করা ১৩০ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় এস্কাফ সিরাপের আনুমানিক বাজারমূল্য ৫২ হাজার টাকা। জব্দকৃত মাদকদ্রব্য পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিবগঞ্জ থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। ৫৩ বিজিবি জানায়, চলতি আগস্ট মাসে বিভিন্ন অভিযানে ভারতীয় ৫২২ বোতল নেশাজাতীয় এস্কাফ সিরাপ এবং ১১৫ বোতল নেশাজাতীয় ফেয়ারডিল সিরাপ জব্দ করা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান, পিএসসি, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে বিজিবি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বাগেরহাটের মোংলায় চাঁদা না পেয়ে মো. আলমগীর শেখ (২৭) নামের এক ড্রেজার শ্রমিককে মারধর নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আলমগীর শেখ মোংলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। রোববার রাত ১০টার দিকে উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের উত্তর বাঁশতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন তিন রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে । অভিযোগে আলমগীর শেখ জানান, তিনি বালু কাটার ড্রেজারে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তার কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন ইমলাদ গাজী (৩৫), শামীম ফকির (৩৫) ও বাচ্চু ফকির (৪৪)। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তার ওপর ক্ষুব্ধ হন। পরে রাতে বাড়ি ফেরার পথে তিন রাস্তার মোড়ে অভিযুক্তরা আরো কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তার পথ রোধ করেন। এ সময় তাকে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার পকেটে থাকা ৪ হাজার ৮৭০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এসময় তারা বলেন, ড্রেজারে কাজ করতে হলে নিয়মিত চাঁদা দিতে হবে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. মানিক বলেন, "আমি কয়েকজনকে আলমগীরকে মারধর করতে দেখেছি। এ সময় তার কাছে টাকা দাবি করা হচ্ছিল। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা সেখান থেকে চলে যান।" মোংলা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম বলেন, "ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।b