রাজনীতি

পুলিশের এলিট ফোর্স হিসেবে থাকবে র‌্যাব, হচ্ছে নতুন আইন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Jamil Saxona মে ১৮, ২০২৬ 0
পুলিশের এলিট ফোর্স হিসেবে থাকবে র‌্যাব, হচ্ছে নতুন আইন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

 


জননিরাপত্তা রক্ষায় একটি এলিট ফোর্স লাগবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, একটা এডহক ভিত্তিতে র‍্যাব পরিচালিত হচ্ছে। এটা ঠিক নয়। তাই এখন র‍্যাবের জন্য আইন করা হচ্ছে।

আজ সোমবার (১৮ মে) দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলায় র‌্যাব সদর দফতরে র‌্যাবের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে  সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে এ কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, আগামী দিনে সম্পূর্ণভাবে মানবাধিকারকে সমুন্নত রেখে একটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছি। যে আইনের অধীনে একটি এলিট ফোর্স হিসেবে একটা বাহিনী থাকবে। নতুন প্রত্যাশা অনুযায়ী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আগামী দিনে সম্পূর্ণভাবে মানবাধিকারকে সমুন্নত রেখে আমরা একটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছি। যে আইনের অধীনে এলিট ফোর্স হিসেবে একটি বাহিনী থাকবে। আমরা র‍্যাবের নাম আবার রিনেম করবো কিনা বা অন্য নতুন এলিট ফোর্স আমরা রেইজ করবো কিনা সেটা এখনো চিন্তাভাবনার বিষয়, সরকার বিবেচনা করছে। তবে সব ক্ষেত্রেই ফোর্সের ক্ষেত্রেই আমরা জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা, ট্রান্সপারেন্সি এবং অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটি আমরা এনশিওর করবো। 

তিনি বলেন, অথরিটি থাকবে রেসপন্সিবিলিটি থাকবে। সঙ্গে সঙ্গে সেই বাহিনীর ট্রান্সপারেন্সি এবং অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটি নিশ্চিত করা হবে, সেই একই আইনে। সেভাবে আমরা আগামীতে আইনের শাসন চেষ্টা করবো এবং জননিরাপত্তা জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী সেটা হবে ইনশাল্লাহ।

র‍্যাবের মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে র‍্যাবের বিরুদ্ধে আমেরিকার আমেরিকা একটি স্যাংশন দিয়েছে। তো সেই স্যাংশন উইথড্র করতে আপনাদের কোনো উদ্যোগ রয়েছে কিনা? জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা জানি যে র‍্যাবের কিছু কর্মকর্তার কারণে প্রতিষ্ঠান হিসেবে র‍্যাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এমন কোনো প্রতিষ্ঠান ছিল না বিগত পতিত শাসন আমলে যে প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। সেটা পুলিশ, সেনাবাহিনী, র‍্যাব, বিজিবি সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রতিষ্ঠান হিসেবে। 

‘কিন্তু আমাদের স্মরণ রাখতে হবে কয়েকজন কর্মকর্তার কর্মকাণ্ড পুরো প্রতিষ্ঠান দায় দায়িত্ব নিতে পারে না। আমরা এখন যার যার নিজস্ব আইনে সেই প্রতিষ্ঠানের আইনে সেই সব অফিসারদেরকে অ্যাকাউন্টেবল করার জন্য এবং বিচারের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য আমরা অলরেডি অনুশাসন দিয়েছি। কারণ প্রতিষ্ঠান দায়ী না। আইন আছে। প্রতিষ্ঠান কীভাবে চলবে কর্মকর্তারা কীভাবে সে আইন মেনে চলবে, পরিচালনা হবে। যদি কিছু সংখ্যক কর্মকর্তা কর্মচারী বিপথগ্রস্ত হয় বা বিপথে যায় তারা পার্সোনালি দায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান দায়ী না। আমরা সেই দৃষ্টিতেই দেখি। ঠিক আমেরিকা যে সময় র‍্যাবের উপরে স্যাংশন দিয়েছিল সেই সময় র‍্যাব এমন কিছু কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। সেই সময় ফ্যাসিবাদী সরকারের যারা দণ্ডমণ্ড ছিলেন শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে তাদের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য একদলীয় শাসন ব্যবস্থা এবং একদলীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েমের জন্য যে উগ্রবাসনা তাদের ছিল সেটা কায়েমের জন্য। এভাবে অনেক প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করেছে। সেই কারণে র‌্যাবের উপরে যে স্যাংশনটা আমেরিকা ইমপোজ করেছে। সেটা এখনো বহাল। কিন্তু আমরা যদি এলিট ফোর্স হিসেবে একটা নতুন কোর্স রিনেম করি বা রেইজ করি সেখানে হয়তো তারা বিষয়টা পুনর্বিবেচনা করবেন বলে আশ করা যায় যে এখন অনেক কিছু বাকি আছে। দেখা যাক।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা একটা আইন ফ্রেম করার জন্য কমিটি করে দিয়েছি এবং সেই আইনটা আমি নিজে করবো এবং সেই আইনটা আমার সামনে এখনো আসেনি। আমি কিছু সময় দিয়েছি। সেখানে বিশ্লেষণ করার কাজ করছি। বর্তমানে র‍্যাব যে আইনি পরিচয় হচ্ছে সেটা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের একটা সার্ভিস প্রফেশনের উপরে দাঁড়িয়ে পরিচালিত হয়। এটা এডহক ভিত্তিতে চলেছে। একটা প্রতিষ্ঠান এভাবে এডহক ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়ার সুযোগ ছিল না। এখন আমরা সেটা আইন করবো আলাদা এনফোর্সের জন্য। সেখানে অথরিটি দেওয়া থাকবে। তাদের রেসপন্সিবিলিটি ফিক্সড করা থাকবে এবং সেই ক্ষেত্রে তাদের জবাবদিহিতা অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটি এবং ট্রান্সপারেন্সি দেওয়া নিশ্চিত হবে। সেই হিসাবে আইনটা আসবে। এখনো ডিটেইলস বলার সময় আসেনি।

তিনি বলেন, এখন যেভাবে চলছে একটা ধারার অধীনে, সেটা তো আজকে না, সেটা আরো ১০/১২ বছর আগে থেকে হয়েছে এবং সেটা আমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আসার পরে দেখলাম যে, সেটা ঠিক না। একটা বাহিনী প্রতিষ্ঠা হয়েছে তার জন্য সুনির্দিষ্ট আইন থাকতে হবে এবং তাদের দায়িত্ব বণ্টন করা থাকবে, সেখানে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা থাকবে। সেই হিসাবেই অন্যান্য বাহিনী থাকবে। কিন্তু এই একটা নয়। তাই আমরা এখন সংশোধন করবো, নতুন প্রত্যাশা এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সেজন্য একটা এলিট ফোর্স দরকার হবে। তাদের যে ইকুইপমেন্টস লজিস্টিক ট্রেনিং ফ্যাসিলিটিস, অ্যাসেটস সবকিছু সেখানে যাবে।

রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে র‍্যাবকে ব্যবহার করা হয়েছে। র‍্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তারাও বলেছেন যে তারা এভাবে কারো হাতিয়ার হতে চান না। আপনার সরকার সামনে নতুন যে এলিট ফোর্স নাম পরিবর্তন করে যে বাহিনীটা আসবে তাদেরকে যে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হবে না? এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মর্নিং সোজ দ্য ডে। তিন মাস হয়েছে। র‍্যাব কি ব্যবহৃত হয়েছে? পুলিশ ব্যবহৃত হয়েছে? অন্য কোনো বাহিনী ব্যবহৃত হয়েছে? পলিটিক্যাল উদ্দেশ্যে হয়েছে? সুতরাং মর্নিং শোজ দ্য ডে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গুম সংক্রান্ত কমিশন গঠন ও ইনকোয়ারি করা হয়েছিল। সেখানের যে ফাইনাল রিপোর্টে উঠে এসেছিল র‍্যাব এবং বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর বিরুদ্ধে যে একটা মিলিটারি ইন্টার্নাল ইনকোয়ারি বোর্ড হয়েছিল সে বোর্ডটা বাতিল করে দেওয়া হয়েছে উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশের প্রেক্ষিতে। যে বোর্ডটা বন্ধ হয়ে গেল তদন্তের জায়গা থেকে যারা আসলো, এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত ছিল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কীভাবে হবে? জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আপনার কোয়েশ্চনটা সঠিক নয়। ইলিয়াস আলীর ওয়াইফ আইসিটি কোর্টে মামলা করেছেন। আমিও মামলা করেছি। আইসিটি কোর্টের একটা আইন আছে। সেই আইনটা সবচাইতে শক্ত আইন। গুম কমিশন যে করা হয়েছিল সেখানে কোনো সুনির্দিষ্টকরণ ছিল না। আইসিটি আইনের মধ্যে যদি আমরা সেই এমেন্ডমেন্টগুলো নিয়ে আসতে পারতাম, এখনো যেটা আমরা চেষ্টা করছি। তাহলে সব ধরনের গুমের বিচার ওখানে হবে। কেউ গুম হয়েছে, ফেরত আসে নাই। কেউ গুম হয়েছে, ফেরত এসেছে। কেউ গুমের হুমকি পেয়েছে। কেউ গুমের শিকার হয়েছে। বিভিন্ন রকমের ডেফিনেশন ওখানে আসতে পারবে। বিভিন্ন রকমের মেজারস নিয়ে যেতে পারবে। একটা কমিশন হলো সেখানে শুনানি হবে, মেজারস হবে না। অন্য একটা অথরিটি সেটা তদন্ত করবে। সেই অথরিটি আবার মামলা করবে। আমি ব্যক্তি হিসেবে ভিকটিম হলে আমি মামলা করতে পারবো না। এসব ডিবেটগুলো তো ছিল। আইনকানুনের ব্যাপার। এর চাইতে বেশি আইন বলা হতে পারবে না।

র‍্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির ও র‍্যাব মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সম্ভাবনার নতুন শ্রমবাজার সার্বিয়া

মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের প্রত্যাশা, সরকার উদ্যোগী হলে দেশটিতে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি ফোরাম (বিআরএএফ)। সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কাজে লাগাতে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের প্রত্যাশা সার্বিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রত্যাশা, দেশটিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তাঁদের মতে, বিদেশে কাজের সুযোগ যেন স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং চাকরিপ্রত্যাশীরা যেন প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও অনিশ্চয়তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নিয়োগকর্তার পরিচয়, কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন, চাকরির চুক্তি এবং ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সার্বিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করা হবে। এতে বাংলাদেশের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন দেশে কী ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন, কী কী নথি জমা দিতে হবে এবং ছাড়পত্র পেতে কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। তাঁদের প্রত্যাশা, বিএমইটি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা কমবে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত চাকরির শর্ত যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমন্বয়ই পারে বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকে আরও গতিশীল করতে। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার দাবি সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি সার্বীয় দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, শ্রমবাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের সহায়তা এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বাস্তব চাহিদা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ সংশ্লিষ্টদের সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের সম্ভাবনা যাচাই, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেবেন। একই সঙ্গে সার্বিয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন নতুন দেশে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধান, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য শ্রমিকের চাহিদা যাচাই, নিয়োগকর্তার সক্ষমতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি অনুমোদনের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার, বিএমইটি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বশীল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই—এই বিষয়গুলোতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ও জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের। মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক  

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডস হকি ফাইনালে আজ মুখোমুখি

আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত।   আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে।   অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।”   বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।   মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।   বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে।   মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।   বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

রাজনীতি

View more
শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হলে ক্ষতি বাড়বে: জামায়াত আমির
শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হলে ক্ষতি বাড়বে: জামায়াত আমির

  বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে। পোশাকশ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে যত বিলম্ব হবে, শিল্প খাতের ক্ষতি ততই বৃদ্ধি পাবে। আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় জামায়াত আমির এসব কথা বলেন। ভিডিও বার্তায় জামায়াতের আমির বলেন, গত কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধিসহ নানা দাবিতে আন্দোলন করছেন। এই আন্দোলনের কারণে বহু কারখানা বন্ধ রয়েছে এবং দু-এক জায়গায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। গাজীপুরের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গতকাল গাজীপুরের শ্রীপুরে গাইবান্ধার তৌফিক নামে এক পোশাকশ্রমিককে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে অতিদ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি। তৈরি পোশাক খাতকে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, এই খাতে বড় কোনো বিপর্যয় ঘটলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকার দ্রুত এই সমস্যার যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছাবে বলে তারা প্রত্যাশা করেছিলেন। জামায়াত আমির বলেন, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে স্বল্প বেতনে জীবনধারণ করা শ্রমিকদের জন্য অসম্ভব। তাদের দাবি বিবেচনা করে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন ছিল, যা সরকার এখনো করতে পারেনি। শিল্প বাঁচলে দেশ বাঁচবে কথাটি যেমন সত্য, তেমনি শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে—এই বাস্তবতাও মনে রাখতে হবে। জামায়াতের আমির বলেন, এই শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকার যেন দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া যত বিলম্বিত হবে, এই খাতের ক্ষতি ততই বৃদ্ধি পাবে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে সুযোগসন্ধানী অনেকে বিভিন্ন ধরনের সুযোগের অপব্যবহার করার চেষ্টা করে। এ ব্যাপারে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা ও সতর্কতার পরিচয় দিতে হবে। আন্দোলনরত শ্রমিকদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, আপনারা নিজেদের প্রতিষ্ঠান বাঁচিয়ে রাখুন। আমরা আপনাদের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে আছি। শিল্প বেঁচে থাকলেই আপনারা বেঁচে থাকবেন। একই সঙ্গে মালিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকদের নিজেদের পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করুন। তাহলে সিদ্ধান্ত গ্রহণটা সহজ হয়ে যাবে। বক্তব্যের শেষে নিহত শ্রমিক তৌফিকের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সবাই ভালো থাকবেন। তৌফিকের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে আজকের মতো এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আরও কথা হবে, আরও দেখা হবে।

News নভেম্বর ৪, ২০২৬ 0
নতুন আরেকটি দায়িত্ব পেলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু

নতুন আরেকটি দায়িত্ব পেলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু

সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আট

সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আট

বাবা সাদেক হোসেন খোকার সমাধিতে ইশরাক হোসেনের শ্রদ্ধা

বাবা সাদেক হোসেন খোকার সমাধিতে ইশরাক হোসেনের শ্রদ্ধা

জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়ার সমাধিতে চীনা মন্ত্রীর শ্রদ্ধা
জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়ার সমাধিতে চীনা মন্ত্রীর শ্রদ্ধা

  বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ঢাকা সফররত চীনের আন্তর্জাতিক মন্ত্রী। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরস্থ সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিষয়ক মন্ত্রী লিউ হাই সিং। এর আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল, চীনের আন্তর্জাতিক মন্ত্রীকে স্বাগত জানান। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন চীনা মন্ত্রী। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন লিউ হাই সিং। এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব,বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও কূটনৈতিক সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ এবং ঢাকায় চীনা দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।  

News নভেম্বর ৪, ২০২৬ 0
নওগাঁ কারাগারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেন নবাবের মৃত্যু

নওগাঁ কারাগারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেন নবাবের মৃত্যু

বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

‘ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেব’—বিএনপি নেতাকে হুমকি স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার

‘ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেব’—বিএনপি নেতাকে হুমকি স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার

মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, নিষিদ্ধ আ.লীগের ৫ জন গ্রেপ্তার
মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, নিষিদ্ধ আ.লীগের ৫ জন গ্রেপ্তার

  রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সদস্য বলে দাবি পুলিশের। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে মেট্রোস্টেশনের আশপাশে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পোশাক শ্রমিক কি না, জানতে চাইলে আন্দোলনরত শ্রমিকরা বলেন, সংঘর্ষে তারা জড়িত ছিলেন না। তাদের দাবি, অন্যকোনো পক্ষ শ্রমিকদের মধ্যে ঢুকে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে। তারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলেন। এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা পুলিশের ওপর হামলা চালাচ্ছিলেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পোশাক শ্রমিক নন। প্রাথমিকভাবে তাদের আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের থানায় নেওয়া হয়েছে। ওসি আরও বলেন, আন্দোলনকারীদের প্রধান সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যান চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রমিকেরা মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের নিচে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের সরিয়ে দিতে গেলে বিভিন্ন দিক থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা সড়কে বেঞ্চ ও কাঠ জড়ো করে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

News নভেম্বর ৩, ২০২৬ 0
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে খুলনায় উৎসবের আমেজ, পরিচ্ছন্ন নগরীর প্রস্তুতি

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে খুলনায় উৎসবের আমেজ, পরিচ্ছন্ন নগরীর প্রস্তুতি

জেলগেটে আখতারুজ্জামান/‘জামায়াত আমিরের অনুমতি নিয়ে সব সত্য প্রকাশ করবো’

জেলগেটে আখতারুজ্জামান/‘জামায়াত আমিরের অনুমতি নিয়ে সব সত্য প্রকাশ করবো’

বাগআচড়ায় তরিকুল ইসলামেরর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত।

বাগআচড়ায় তরিকুল ইসলামেরর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত।

0 Comments