বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও ব্যবসায়িক ধীরগতির প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আহরণে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুমাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার কোটি টাকা। এনবিআরের তিনটি অনুবিভাগের মধ্যে আয়কর খাতে কিছুটা ভালো করলেও কাস্টমস ও ভ্যাটে রাজস্ব আহরণে বড় ধস নেমেছে। ফলে আলোচ্য সময়ে এনবিআরের গড় প্রবৃদ্ধিও নেতিবাচক হয়েছে। এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস অর্থাৎ জুলাই-আগস্টে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮১ হাজার ৫৩ কোটি টাকা। এ সময়ে এনবিআর আদায় করেছে ৫১ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা। অর্থাৎ দুই মাসে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ১৬১ কোটি টাকা। আর গড় প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাইনাস ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ। যদিও করোনা মহমারির সময় শাটডাউন চলাকালেও এ ধরনের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ছিল না বলেও জানিয়েছেন খোদ এনবিআরের কর্মকর্তারা।
একাধিক এনবিআর কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরের ভ্যাটের কিছু পলিসির কারণে মাঠ পর্যায়ে রাজস্ব আহরণে কিছু নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে তিন মাস অন্তর অন্তর ভ্যাট রিটার্ন জমার সুযোগ দেওয়ার কারণে অনেক ব্যবসায়ী রিটার্ন জমা দেননি। যার কারণে ভ্যাট আদায়ে এই ধস নেমেছে। আর কাস্টমসে মূলত ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার কারণে প্রবৃদ্ধি তলানিতে রয়েছে। দেশের সবচেয়ে বড় ও প্রধান চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে মনিটরিংয়ে দুর্বলতা, ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের হয়রানি, উল্লেখযোগ্য কোনো ধরণের বড় ডিটেকশন না থাকাসহ কিছু কর্মকর্তাদের কারণে রাজস্ব আহরণে গতি কমেছে। একই সঙ্গে কাস্টম হাউসের দায়িত্বপ্রাপ্ত এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দুর্বলতাও একটি কারণ বলেও জানিয়েছেন কাস্টমসের একাধিক কর্মকর্তা। তবে বছরজুড়ে আয়কর রিটার্ন জমার সুযোগ থাকার কারণে আয়কর খাতের প্রবৃদ্ধির গতি আগের মতো রয়েছে বলেও জানান তারা।
সূত্র আরও জানায়, চলতি অর্থবছরে দুমাসে সবচেয়ে বেশি ১৪ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা ঘাটতির মুখে পড়েছে ভ্যাট আদায়। আলোচ্য সময়ে ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩১ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা। এই সময়ে ভ্যাট আদায় হয়েছে ১৭ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা। আর ভ্যাটে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাইনাস ২১ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এ ছাড়া কাস্টমসে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৭ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছরের প্রথম দুই মাসে কাস্টমস খাতে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাড়িয়েছে ৮ হাজার ৭৭৩ কোটি টাকা। আর প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ১৪ শতাংশ। তবে বিপরীতমুখী ছিল শুধু এনবিআরের আয়কর অনুবিভাগ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে আয়কর খাতের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২২ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে আয়কর আদায় হয়েছে ১৬ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ আয়কর খাতে ঘাটতির পরিমাণ দাড়িয়েছে ৬ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা। ঘাটতি থাকলেও অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে আয়কর খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআরের ভ্যাট বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য সৈয়দ মুসফিকুর রহমান বলেন, সাধারণত রিটার্নের সঙ্গে ভ্যাটের টাকা আসে। বাধ্যবাধকতা না থাকায় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো রিটার্ন এখনো জমা দেয়নি। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে আমরা প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ভ্যাট আসত। এ ছাড়া টোবাকোর কারণে আমরা প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা কম রাজস্ব পেয়েছি। এখানেই অর্থাৎ বড় বড় প্রতিষ্ঠানের ৩ হাজার ৬০০ কোটি ভ্যাট আমরা এখনো পাইনি। যার কারণে ভ্যাট আহরণে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ ছাড়া সারা দেশে তিন মাস অন্তর ভ্যাট রিটার্নের নিয়ম থাকায় অনেকে এখনো ভ্যাটের টাকা জমা দেননি, যার প্রভাব পড়েছে ভ্যাট আদায়ে বলেও জানান এনবিআরের এই ঊর্ধতন কর্মকর্তা।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের প্রত্যাশা, সরকার উদ্যোগী হলে দেশটিতে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি ফোরাম (বিআরএএফ)। সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কাজে লাগাতে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের প্রত্যাশা সার্বিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রত্যাশা, দেশটিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তাঁদের মতে, বিদেশে কাজের সুযোগ যেন স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং চাকরিপ্রত্যাশীরা যেন প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও অনিশ্চয়তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নিয়োগকর্তার পরিচয়, কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন, চাকরির চুক্তি এবং ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সার্বিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করা হবে। এতে বাংলাদেশের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন দেশে কী ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন, কী কী নথি জমা দিতে হবে এবং ছাড়পত্র পেতে কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। তাঁদের প্রত্যাশা, বিএমইটি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা কমবে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত চাকরির শর্ত যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমন্বয়ই পারে বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকে আরও গতিশীল করতে। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার দাবি সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি সার্বীয় দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, শ্রমবাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের সহায়তা এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বাস্তব চাহিদা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ সংশ্লিষ্টদের সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের সম্ভাবনা যাচাই, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেবেন। একই সঙ্গে সার্বিয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন নতুন দেশে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধান, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য শ্রমিকের চাহিদা যাচাই, নিয়োগকর্তার সক্ষমতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি অনুমোদনের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার, বিএমইটি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বশীল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই—এই বিষয়গুলোতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ও জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের। মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
উন্নয়ন প্রকল্প পাসের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রকল্পের গুণগত মান বাড়াতে ১৩টি নির্দেশনা জারি করেছে পরিকল্পনা বিভাগ। সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির সময় বিনিয়োগের আর্থিক সুফল, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিবেশগত প্রভাব, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। সম্প্রতি এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। নির্দেশনায় সরকারি সংস্থাগুলোকে এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। এতে প্রকল্প গ্রহণের আগে ব্যয়ের বিপরীতে কী পরিমাণ সুফল পাওয়া যাবে, জনগণের অর্থ কতটা কার্যকরভাবে ব্যয় হবে এবং প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদে কতটা টেকসই হবে, তা মূল্যায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি প্রকল্পের ডিপিপিতে অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার বা ভ্যালু ফর মানি (ভিএফএম) নিশ্চিত করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রকল্পের মানদণ্ড, সম্ভাবনা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ও বিশ্লেষণ সংযুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পে বিনিয়োগের বিপরীতে আর্থিক রিটার্ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের সম্ভাবনাও মূল্যায়ন করতে হবে। জারিকৃত নির্দেশনায় পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে পরিবেশের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা চিহ্নিত করার পাশাপাশি ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে। প্রতিবন্ধীদের জন্য উন্নয়ন প্রকল্পের অবকাঠামো সহজে ব্যবহার উপযোগী করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এজন্য প্রকল্পের ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী র্যাম্প, লিফট, প্রতিবন্ধীবান্ধব শৌচাগারসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা রাখার কথা বলা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং কার্বন ক্রেডিট-সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের ক্ষেত্রে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) প্রতিবেদন প্রস্তুত ও জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে বিদ্যমান ও পরিকল্পনাধীন অবকাঠামোর সমন্বয় থাকতে হবে। প্রকল্পগুলো যাতে ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনে ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়টিও ডিপিপিতে তুলে ধরতে হবে। জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা ও আগাম পরিকল্পনা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে পরিকল্পনা বিভাগ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রকল্প প্রস্তাব তৈরির সময় এসব বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন নির্দেশনার ফলে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ বা অর্থ বরাদ্দের বিষয় নয়, বরং প্রকল্পের প্রকৃত সুফল, অর্থনৈতিক প্রভাব ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতাও বিবেচনায় আসবে। এতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো, প্রকল্পের মান বাড়ানো এবং সরকারি অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) তিন লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে সরকার। অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা, অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নিয়ে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইনভেস্টমেন্টর করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ আমার দেশকে বলেন, যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। কারণ এসব প্রকল্পের অর্থায়নে বড় একটি অংশই আসে ঋণ থেকে, যা শেষ পর্যন্ত জনগণকেই পরিশোধ করতে হয়। তাই প্রকল্প অনুমোদনের আগে এর সম্ভাব্য সুফল, কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত আর্থিক রিটার্ন যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা উচিত। তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এসব বিষয় যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হতো না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্পের যৌক্তিকতা ও কার্যকারিতা উপেক্ষিত হয়েছে। এখন থেকে এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করেই উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও অনুমোদন দেওয়া উচিত।
আধুনিক, সমন্বিত ও প্রযুক্তিভিত্তিক নিরাপদ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা সুসংহত করতে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকায় হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের মেঘনা হলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ইমিগ্রেশন ও বর্ডার গভর্নেন্স সংক্রান্ত আইওএম কৌশলগত রূপরেখা (২০২৭-২০৩১)’ শীর্ষক ব্রিফিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বহির্বিশ্বের সঙ্গে যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সংযুক্ত। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক যাতায়াত ও বাণিজ্য সহজতর করার পাশাপাশি সীমান্ত অতিক্রমকারী ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সীমান্ত পরিচালনায় জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈধ ভ্রমণ ও বাণিজ্যকে গতিশীল করতে হবে। সরকার গৃহীত জাতীয় সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কৌশল ২০২৬-২০৩১ এবং পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন রূপরেখা ২০২৬-২০৩১-এর কথা তিনি জানিয়েছেন। তিনি জানান, ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার, কাগজবিহীন প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সরকারি সেবাগুলোর মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা বৃদ্ধিই বর্তমান সরকারের মূল অগ্রাধিকার। ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নীতি ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে আমাদের বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্টগুলোর কার্যক্রমগত সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে কেবল প্রযুক্তিনির্ভর না করে মানবিক অধিকার ও সুরক্ষার প্রতি সংবেদনশীল এবং পেশাদার মানদণ্ডে উন্নীত করতে হবে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের কথা উল্লখে করে তিনি বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কোনো একক সংস্থার দায়িত্ব নয়; এর জন্য সব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দফতর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ প্রয়াস প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইওএম-এর প্রস্তাবিত ২০২৭–২০৩১ মেয়াদের কৌশলগত রূপরেখাকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের সীমান্ত কাঠামো গঠনে তাদের সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। ব্রিফিং অনুষ্ঠানে আইওএম বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ড. লরা টম বন্ডে বলেন, অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ এরইমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ভবিষ্যতে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কারিগরি দক্ষতা ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে আইওএম সহযোগিতা করতে আগ্রহী। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসান এবং উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং এবং ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোসহ বিভিন্ন অংশীদার সংস্থার প্রতিনিধিরা আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের পরাজয়ের দায়িত্ব দলের ভেতরের কিছু সদস্য এবং ফক্স নিউজের ওপর আরোপ করেছেন। তিনি ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে বেশ কিছু পোস্টের মাধ্যমে নির্বাচনে প্রার্থীদের বিজয় ও পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।ট্রাম্প টেক্সাস রাজ্যের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের সমালোচনা করেছেন। তার দাবি, গ্রেগ অ্যাবট তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শেষ ছয় মাসে ‘আরআইএনও’ না হলে পরাজিত হতেন না। ‘আরআইএনও’ শব্দটির পূর্ণরূপ হলো ‘রিপাবলিকান ইন নেম অনলি’।”তিনি ‘ভেটো’ শব্দ লেখা একটি লাল টুপির ছবি শেয়ার করেছেন, যা ইঙ্গিত দেয় যে ডেমোক্র্যাটদের কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ থাকলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করা যেতে পারে।ট্রাম্প ফক্স নিউজের সমালোচনা করেছেন এবং নিউইয়র্কের সাবেক ডেমোক্র্যাট মেয়র বিল ডি ব্লাসিওকে তাদের রাজনৈতিক বিশ্লেষক দলে রাখার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার অভিযোগ, ফক্স নিউজ ডেমোক্র্যাটদের বিরোধিতা করে এবং বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে নির্বাচনের পরাজয়ের জন্য দায়ী।নির্বাচনের পর ট্রাম্পের এই মন্তব্য দলের অভ্যন্তরীণ মতবৈচিত্র্য এবং মিডিয়ার সাথে তার সম্পর্কের বিষয়ে আলোচনা জাগিয়ে তুলেছে।