বাংলাদেশে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে একটি মানচিত্র ও পতাকা পেয়েছিল কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতার দেখা পাননি এদেশের মানুষ। সেজন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়েছে। শুধু অপেক্ষা নয়, বরং স্বাধীনতা যুদ্ধের পরও বারবার মানুষকে রাজপথে নামতে হয়েছে, জীবন দিতে হয়েছে প্রকৃত মুক্তির লক্ষ্যে। প্রকৃত মুক্তি আর স্বাধীনতার জন্য শোষিত-বঞ্চিত মানুষ বারবার রাজপথে জীবন দিলেও প্রতিবারই কিছু শাসক ক্ষমতার জন্য দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিতে দ্বিধা করেনি। শেখ মুজিবুর রহমান থেকে শুরু করে তার মেয়ে শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশে ভারতের যে আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়, তা ছিল একটি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং মানুষের মুক্তির চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশকে ভারতের আধিপত্য থেকে মুক্ত করে বিশ্বে বাংলাদেশকে একটি প্রকৃত স্বাধীন দেশ ও মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেন। আজ তার ছেলে তারেক রহমানের হাতে বাংলাদেশের শাসনভার। জিয়াউর রহমান দেশ শাসনের দায়িত্বভার গ্রহণের আগে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আওয়ামী দুঃশাসন ও ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্য। রক্তাক্ত এক অধ্যায়ের মাধ্যমে সেই আওয়ামী দুঃশাসন ও ভারতীয় আধিপত্য থেকে মুক্ত হয় দেশ। একইভাবে তারেক রহমানও ক্ষমতা লাভের আগে দেড় যুগ ধরে বাংলাদেশে চেপে বসেছিল শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মাফিয়া শাসনব্যবস্থা এবং ভারতের সর্বগ্রাসী নিয়ন্ত্রণ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মাফিয়া শাসনব্যবস্থা ও ভারতীয় আধিপত্যের জাল ছিন্ন করতে আবার রক্তাক্ত পথ পাড়ি দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। আজ তারেক রহমানের সামনে আবার এক ঐতিহাসিক সুযোগ এসেছে পিতার পথ ধরে বাংলাদেশকে নতুন করে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে প্রতিষ্ঠা করার। প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে মালয়েশিয়া এবং চীনকে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মূলত সেই পথে যাত্রার প্রথম কাজটি করলেন। এরপর ঢাকা-বেইজিং যৌথ ইশতেহার ও সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বাংলাদেশ আবার স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির নতুন ভিত্তি স্থাপন করল।
বর্তমান আধিপত্যকেন্দ্রিক বৈশ্বিক রাজনৈতিক বাস্তবতা, ভূরাজনৈতিক গুরুত্বের কারণে বাংলাদেশের প্রতি পরাশক্তিগুলোর আগ্রহের প্রেক্ষাপটে প্রথম সফর হিসেবে এক যাত্রায় মালয়েশিয়া ও চীন গমন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতি এবং অবস্থানের বিষয়ে একটি কূটনৈতিক বার্তা। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির নতুন আরেক অধ্যায় রচিত হয়েছে। ঢাকা-বেইজিং যে যৌথ ইশতেহার প্রকাশ করা হয়েছে, তা চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর স্বাধীন বাংলাদেশ হিসেবে ভবিষ্যৎ পথচলায় যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে। যৌথ ইশতেহারসহ দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা ও চুক্তির আলোকে সঠিকভাবে সামনে অগ্রসর হতে পারলে তা দুই দেশের সম্পর্ক যেমন নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে, তেমনি বাংলাদেশ আবির্ভূত হবে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উন্নয়নের অন্যতম অংশীদার ও কেন্দ্র হিসেবে। যৌথ ইশতেহারে ঢাকা-বেইজিং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, তিস্তা পরিকল্পনায় চীনের অংশগ্রহণ, চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ প্রকল্প, বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোর এবং এক চীননীতির প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় সমর্থনের মাধ্যমে ঢাকা স্বাধীন ও সাহসী পররাষ্ট্রনীতির নতুন যুগের সূচনা করল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের পাশে থাকার যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন, তা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
চব্বিশের জুলাই বিপ্লবে শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের বিরোধিতার ক্ষেত্রে ভারতের সব মুখোশ খুলে পড়ে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটিয়ে শেখ হাসিনাকে আবার ফিরিয়ে আনার জন্য ভারত প্রকাশ্যে মরিয়া হয়ে মাঠে নামে। তবে তাদের সে চেষ্টা ব্যর্থ হলেও এখনো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে থেমে নেই ভারতের গভীর ষড়যন্ত্র। বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, চাপে রাখা ও অস্থিরতা তৈরির জন্য একের পর এক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নয়াদিল্লি। পুশইন তার সর্বশেষ উদাহরণ। বাংলাদেশের বুকে দাঁড়িয়ে ভারতের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশকে গ্রাস করে অখণ্ড ভারত প্রতিষ্ঠার ঔদ্ধত্য পর্যন্ত প্রকাশ করেছেন। ভারতের লেলিয়ে দেওয়া লোকজন প্রকাশ্যে করে চলছে দেশদ্রোহীমূলক কর্মকাণ্ড।
চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর ভারতের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত হয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকার স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেন। নয়াদিল্লি তা মেনে নিতে পারেনি। ড. ইউনূস সরকারের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবে চীন, পাকিস্তান, তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ঘটনা একের পর এক বজ্রপাতের মতো আঘাত করে নয়াদিল্লির বুকে। শুধু তাই নয়, চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক উন্নয়নের পদক্ষেপে সুদূর ওয়াশিংটন পর্যন্ত নড়েচড়ে বসে। চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক উন্নয়নের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খোলে ঢাকার ওয়াশিংটন দূতাবাস। এ বিষয়ে তীব্র চাপ সৃষ্টি করা হয় ঢাকার ওপর। তবে এ ক্ষেত্রে শক্ত অবস্থান নিয়ে ঢাকার পাশে দাঁড়ায় বেইজিং। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেয় ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কের ক্ষেত্রে তৃতীয় কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপ তারা মেনে নেবে না। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময়ও বেইজিং স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বাংলাদেশে যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ তারা প্রত্যাখ্যান করবে। চীন বাংলাদেশের পাশ থেকে সরে যাবে না।
নতুন নির্বাচিত সরকার ড. ইউনূসের রেখে যাওয়া স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ধারা কতটা বজায় রাখতে পারবে, তা নিয়ে নানা কারণে সংশয় দেখা দেয় । বিশেষ করে, চীন থেকে শক্তিশালী যুদ্ধবিমান ক্রয় ও বাণিজ্য বৃদ্ধি, চীনের মাধ্যমে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন বিষয়ে ইউনূস সরকার যে উদ্যোগ নেয়, তা বাস্তবে পরিণত করার বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি প্রকাশ্য চাপ সৃষ্টি করা হয় বিভিন্ন মহল থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লেখা এক চিঠিতে বাংলাদেশকে তার দেশ থেকে সমরাস্ত্রসহ অন্যান্য পণ্য আমদানি বৃদ্ধির জন্য সরাসরি চাপ সৃষ্টি করেন। অন্যদিকে ভারত তার চিকেনস নেক করিডোরের মতো কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল স্থানের কাছে চীনের উপস্থিতিকে তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করে এবং তিস্তা প্রকল্পে চীনের অংশগ্রহণের বিরোধিতা অব্যাহত রাখে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ঢাকা-বেইজিং যেসব সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং যৌথ ইশতেহারে দ্ব্যর্থহীনভাবে যেসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, তা নয়াদিল্লির মাথা ঘুরিয়ে দিয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বিশেষ করে, মোংলায় ভারতের জন্য বরাদ্দ করা অঞ্চলকে বাতিল করে সেখানে চীনকে বিশেষ অর্থনৈতিক জোন গঠনসহ চট্টগ্রামেও চীনকে একই সুবিধা দেওয়ার ঘটনায় ভারতের বিভিন্ন মহলে তোলপাড় চলছে।
অনুগত রেখে শোষণ করা ও শুধু নিজ স্বার্থ আদায় করা ছাড়া ভারত কোনো দিন বাংলাদেশের মঙ্গল চায়নি, ভবিষ্যতে চাইবে তারও কোনো লক্ষণ নেই। দেড় দশক ধরে ওয়াশিংটনের সমর্থনে নয়াদিল্লি বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মাফিয়া শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিল। চব্বিশের জুলাই বিপ্লব হয়েছিল শেখ হাসিনার দুঃশাসন ও ভারতীয় আধিপত্যের অবসানের লক্ষ্যে। কোনো অবস্থাতেই এদেশের মানুষ আর ভারতীয় কোনো আধিপত্য মেনে নেবে না। তাই কারো কোনো রক্তচক্ষুর তোয়াক্কা না করে বাংলাদেশকে তার স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নিজ স্বার্থ রক্ষা করে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ধারা বজায় রাখতে হবে।
মনে রাখতে হবে, ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর বাংলাদেশ ভারতীয় আধিপত্য থেকে মুক্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে চীন বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এরপর থেকে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের যে সামরিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক তার ভিত্তি রচিত হয় ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমানের চীন সফরের মাধ্যমে। চীন বর্তমানে এমন একটি দেশ, যাদের বর্তমান বিশ্বের সুপার পাওয়ার যুক্তরাষ্ট্র তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মনে করে। চীনের উত্থান মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সব চেষ্টা একের পর এক ব্যর্থ করে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে চীন। সর্বশেষ চীনকে ঘায়েল করতে ওয়াশিংটনের শুল্কযুদ্ধের বিরুদ্ধে বেইজিং যেভাবে পাল্টা আঘাত করেছে, তাতে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে হোয়াইট হাউস। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সব শাখায় চীন আজ যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ নয়; বরং সমরাস্ত্র প্রযুক্তির অনেক ক্ষেত্রে চীন আজ ছাড়িয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রকে। বিশেষ করে, হাইপারসনিক মিসাইল প্রযুক্তি। রাশিয়ার পর চীন অভেদ্য হাইপারসনিক মিসাইলের অধিকারী। অর্থনৈতিক, সামরিক, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, বিশ্ববাণিজ্যসহ সব ক্ষেত্রে চীনের রাতারাতি উত্থান আজ পুরো বিশ্বের অন্যতম আলোচিত একটি বিষয়।
ভূকৌশলগত অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের সামনে যে সম্ভাবনা ও বিপদ, এর পরিপ্রেক্ষিতে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা, বাণিজ্যিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।
জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালে দিশাহীন জাতিকে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে দেশবাসীকে পথের দিশা দিয়েছিলেন। সেই জিয়াউর রহমানই আবার ১৯৭৫ সালের পর সামনে এগিয়ে এসেছিলেন ভারতের আধিপত্য থেকে বাংলাদেশের প্রকৃত স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব উদ্ধারে।
ড. ইউনূসের দেড় বছর ছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি মানে জাতীয়তাবাদী বিএনপির শাসনামল। দীর্ঘ আওয়ামী দুঃশাসন শেষে আবার সেই জাতীয়তাবাদী শক্তির হাতে বাংলাদেশের শাসনভার। আবার তাই বিএনপির সামনে সুযোগ এসেছে বাংলাদেশকে একটি আত্মমর্যাদাসম্পন্ন স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ হিসেবে বিশ্বদরবারে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড় করানোর এবং অমিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর। ঐতিহাসিক এ দায়িত্ব পালন থেকে পিছু হটার সুযোগ নেই । চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে তাইওয়ান বিষয়ে বাংলাদেশ এক চীননীতির প্রতি যে দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেছে, তাকে সাহসী না বলে উপায় নেই।
চীনের পক্ষ থেকে করিডোরবিষয়ক যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা গেলে পূর্বদিগন্তে বাংলাদেশের জন্য নতুন সূর্যোদয় হবে। খুলে যাবে সম্ভাবনা ও সমৃদ্ধির নতুন এক দুয়ার। ভারতের ওপর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক-নির্ভরতা কমাতে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ২০০১ সালে চারদলীয় সরকারের সময় ‘লুক ইস্ট’ পলিসি গ্রহণ করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য বৃদ্ধি। এই লক্ষ্যে মিয়ানমারে যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ বিষয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার ২০০৩ সালে চুক্তি হয় এবং কার্যক্রমও শুরু হয়। শুরু হয় বাংলাদেশ-মিয়ানমার ফ্রেন্ডশিপ রুট চালুর কার্যক্রম। অভিযোগ রয়েছে, ভারত তার নিজ স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ায় তখন মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে বাংলাদেশের লুক ইস্ট পলিসি বাস্তবায়ন থেকে সরে আসার । ফলে ওখানেই থেমে যায় সম্ভাবনাময় সেই উদ্যোগ। এখন চীনের মাধ্যমে যেহেতু নতুন এই করিডোর প্রস্তাব এসেছে, তাই এ ক্ষেত্রে মিয়ানমারের ওপর অন্য কোনো আঞ্চলিক শক্তির চাপ প্রয়োগ বা মিয়ানমারের এ থেকে সরে আসার সুযোগ নেই। বস্তুত চীন আজ যে করিডোরের প্রস্তাব দিয়েছে, তা আরো বৃহত্তর পরিসরে বাংলাদেশই শুরু করছিল ২০০১ সালে। চীনের প্রস্তাবিত এ করিডোরের সঙ্গে বাংলাদেশের লুক ইস্টনীতির আওতায় দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে কীভাবে যুক্ত করা যায়, তা নিয়ে কাজ করা উচিত।
চীনের আমদানি-রপ্তানির ৯০ ভাগ হয়ে থাকে সমুদ্রপথে। আর তাদের সমুদ্রবাণিজ্যের ৮০ ভাগ হয়ে থাকে অতিশয় সরু মালাক্কা প্রণালির মাধ্যমে। মালাক্কা প্রণালির প্রবেশমুখে ভারতের আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ। ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য যুদ্ধে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বন্ধ করে দিতে পারে এ প্রণালি। চীন তাই পাকিস্তানের গোয়াদর বন্দরের মাধ্যমে আরব সাগরে প্রবেশের ব্যবস্থা করেছে। মালাক্কা ডিলেমা সংকট কাটাতে চীন-মিয়ানমার, মধ্য এশিয়া ও রাশিয়ার ওপর দিয়ে বিভিন্ন বিকল্প পাইপলাইন ও পথ তৈরি করছে। বাংলাদেশের সঙ্গে স্থলপথে যুক্ত হতে পারলে চীন সরাসরি বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশিতে প্রবেশ করতে পারবে। তাই প্রস্তাবিত এ করিডোরে রয়েছে চীনের অর্থনৈতিক, ভূরাজনৈতিক, কৌশলগতসহ অনেক বিষয়। প্রস্তবিত করিডোরে ঢাকা অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে চীনের বহুমুখী স্বার্থের বিপরীতে বাংলাদেশকেও সমান স্বার্থ আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের প্রত্যাশা, সরকার উদ্যোগী হলে দেশটিতে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি ফোরাম (বিআরএএফ)। সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কাজে লাগাতে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের প্রত্যাশা সার্বিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রত্যাশা, দেশটিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তাঁদের মতে, বিদেশে কাজের সুযোগ যেন স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং চাকরিপ্রত্যাশীরা যেন প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও অনিশ্চয়তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নিয়োগকর্তার পরিচয়, কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন, চাকরির চুক্তি এবং ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সার্বিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করা হবে। এতে বাংলাদেশের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন দেশে কী ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন, কী কী নথি জমা দিতে হবে এবং ছাড়পত্র পেতে কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। তাঁদের প্রত্যাশা, বিএমইটি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা কমবে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত চাকরির শর্ত যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমন্বয়ই পারে বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকে আরও গতিশীল করতে। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার দাবি সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি সার্বীয় দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, শ্রমবাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের সহায়তা এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বাস্তব চাহিদা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ সংশ্লিষ্টদের সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের সম্ভাবনা যাচাই, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেবেন। একই সঙ্গে সার্বিয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন নতুন দেশে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধান, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য শ্রমিকের চাহিদা যাচাই, নিয়োগকর্তার সক্ষমতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি অনুমোদনের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার, বিএমইটি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বশীল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই—এই বিষয়গুলোতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ও জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের। মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে। পোশাকশ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে যত বিলম্ব হবে, শিল্প খাতের ক্ষতি ততই বৃদ্ধি পাবে। আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় জামায়াত আমির এসব কথা বলেন। ভিডিও বার্তায় জামায়াতের আমির বলেন, গত কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধিসহ নানা দাবিতে আন্দোলন করছেন। এই আন্দোলনের কারণে বহু কারখানা বন্ধ রয়েছে এবং দু-এক জায়গায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। গাজীপুরের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গতকাল গাজীপুরের শ্রীপুরে গাইবান্ধার তৌফিক নামে এক পোশাকশ্রমিককে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে অতিদ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি। তৈরি পোশাক খাতকে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, এই খাতে বড় কোনো বিপর্যয় ঘটলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকার দ্রুত এই সমস্যার যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছাবে বলে তারা প্রত্যাশা করেছিলেন। জামায়াত আমির বলেন, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে স্বল্প বেতনে জীবনধারণ করা শ্রমিকদের জন্য অসম্ভব। তাদের দাবি বিবেচনা করে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন ছিল, যা সরকার এখনো করতে পারেনি। শিল্প বাঁচলে দেশ বাঁচবে কথাটি যেমন সত্য, তেমনি শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে—এই বাস্তবতাও মনে রাখতে হবে। জামায়াতের আমির বলেন, এই শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকার যেন দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া যত বিলম্বিত হবে, এই খাতের ক্ষতি ততই বৃদ্ধি পাবে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে সুযোগসন্ধানী অনেকে বিভিন্ন ধরনের সুযোগের অপব্যবহার করার চেষ্টা করে। এ ব্যাপারে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা ও সতর্কতার পরিচয় দিতে হবে। আন্দোলনরত শ্রমিকদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, আপনারা নিজেদের প্রতিষ্ঠান বাঁচিয়ে রাখুন। আমরা আপনাদের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে আছি। শিল্প বেঁচে থাকলেই আপনারা বেঁচে থাকবেন। একই সঙ্গে মালিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকদের নিজেদের পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করুন। তাহলে সিদ্ধান্ত গ্রহণটা সহজ হয়ে যাবে। বক্তব্যের শেষে নিহত শ্রমিক তৌফিকের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সবাই ভালো থাকবেন। তৌফিকের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে আজকের মতো এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আরও কথা হবে, আরও দেখা হবে।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ঢাকা সফররত চীনের আন্তর্জাতিক মন্ত্রী। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরস্থ সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিষয়ক মন্ত্রী লিউ হাই সিং। এর আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল, চীনের আন্তর্জাতিক মন্ত্রীকে স্বাগত জানান। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন চীনা মন্ত্রী। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন লিউ হাই সিং। এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব,বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও কূটনৈতিক সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ এবং ঢাকায় চীনা দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সদস্য বলে দাবি পুলিশের। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে মেট্রোস্টেশনের আশপাশে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পোশাক শ্রমিক কি না, জানতে চাইলে আন্দোলনরত শ্রমিকরা বলেন, সংঘর্ষে তারা জড়িত ছিলেন না। তাদের দাবি, অন্যকোনো পক্ষ শ্রমিকদের মধ্যে ঢুকে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে। তারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলেন। এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা পুলিশের ওপর হামলা চালাচ্ছিলেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পোশাক শ্রমিক নন। প্রাথমিকভাবে তাদের আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের থানায় নেওয়া হয়েছে। ওসি আরও বলেন, আন্দোলনকারীদের প্রধান সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যান চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রমিকেরা মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের নিচে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের সরিয়ে দিতে গেলে বিভিন্ন দিক থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা সড়কে বেঞ্চ ও কাঠ জড়ো করে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।