হৃদয়ে স্বৈরাচার লালন ও মননে ফ্যাসিবাদ যিনি ধারণ করেন তিনিতো স্বৈরাচার আওয়ামী ঠিকাদারদের আর্থিকভাবে পূণ: বাসন করবেন-এটাই স্বাভাবিক। বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন আমুর পালিত পুত্র হিসেবে পরিচিত ফয়সাল আালম গত তিন বছর ধরে ফ্যাসিবাদকে আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পালন করে আসছেন সরকারি অফিসকে ব্যবহার করে। আমুর প্রভাবে প্রথমে ঝালকাঠি পরবর্তীতে বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পদে দায়িত্ব বাগিয়ে নিয়ে এই গণপূর্ত কর্মকর্তা বেনামী ঠিকাদারী ব্যবসা টেন্ডার বাণিজ্যসহ নির্মাণ মেরামত রক্ষণাবেক্ষণ কাজগুলোতে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে বরাদ্দের মোটা অংকের অর্থ প্রতিবছর লোপাট করে আসছেন। অবৈধ উপায়ে আয়কৃত অর্থের একটি অংশ তিনি আ’লীগের বিতর্কিত একতরফা দ্বাদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পালিত বাবা আমির হোসেন আমু ও বিএনপি থেকে নৌকায় চড়ে বসা ব্যারিষ্টার শাহজাহান ওমরের নির্বাচনী কাজে ব্যয় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বরিশালে স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র-জনাতার আন্দোলন দমাতেও ছাত্রলীগের মাধ্যমে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন তিনি। তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অতীতের ন্যায় তিনি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বরিশাল গণপূর্ত বিভাগে আ’লীগ সমর্থক ঠিকাদারদের বেশীরভাগ কাজ পাইয়ে দিয়েছেন টেন্ডার প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির আাশ্রয় নিয়ে। এরকম বহু প্রমাণ ‘বাঙালি সংবাদ’ এর হস্তগত হয়েছে। ১২৫৬৪২১নং ওটিএম টেন্ডার আইডি’র মাধ্যমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মেসার্স এস এ এন্টারপ্রাইজকে ১৮০০৯৬৫.০০০ টাকা চুক্তিমূল্যে বরিশালে গণপূর্ত বিভাগের PWD) আওতাধীন সরকারি কার্যালয়, বাসভবন এবং পরিদর্শন বাংলোগুলির এয়ার-কুলারের বার্ষিক সার্ভিসিং ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজটি পাইয়ে দেওয়া হয়। এস এ এন্টারপ্রাইজ এর মালিক ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও টুঙ্গিপাড়া নিবাসী দীন ইসলাম। তিনি জুলাই অদ্ভ্যুত্থানের পর থেকে পলাতক আছেন। অথচ তার প্রতিষ্ঠানের নামে এরকম বহু কাজ পাইয়ে দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম নিজস্ব লোকজনের মাধ্যমে নিজেই করছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়।
বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমরের সাথে বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে নৌকা প্রতীকে জয়ী হন তিনি।
একইভাবে একই প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ১২৬৮৬৩৩নং ওটিএম টেন্ডার আইডি’র মাধ্যমে ৮৮৭৭০২.৮২৬ টাকা চুক্তিমূল্যে বরিশাল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, বরিশালের অন্যান্য ভবন ও কাঠামোর মেরামত, সংস্কার এবং বৈদ্যুতিক কাজ; ৩৮২১৩০.৮৪৭ টাকা চুক্তিমূল্যে ১১৪৫৬৯৯নং ওটিএম টেন্ডার আইডি’র মাধ্যমে একই প্রতিষ্ঠানকে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের চতুর্থ তলায় অবস্থিত দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এজলাস কক্ষে টাইলস স্থাপন এবং এজলাস কক্ষ ও স্টেনোগ্রাফারের কক্ষের কাঠের আসবাবপত্রে বার্নিশ ও রং করার কাজ; ১১৪৫৬৪৩ আইডির ব্যবহার করে ৪৪৯০৩০.৫০২ টাকা চুক্তিমূল্যে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র সহকারী বিচারকের ব্যক্তিগত কক্ষের অভ্যন্তরীণ সজ্জা, আলোকসজ্জা এবং আনুষঙ্গিক বৈদ্যুতিক কাজ; ১১৪৪০৫৪ নং টেন্ডার আইডি’র মাধ্যমে ৮৬৩১১১.৮৪৪ টাকা চুক্তিমূল্যে বরিশাল জেলা জজ কোয়ার্টারের ফাল্গুনী ভবনের দ্বিতীয় তলায় সিভিল, স্যানিটারি ও আনুষঙ্গিক বৈদ্যুতিক কাজ; ১১৪২৬৫৬ নং টেন্ডার আইডি ব্যবহার করে ৫৯১২১৫.৯৫৮ টাকা চুক্তিমূল্যে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারকের ব্যক্তিগত কক্ষে অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা ও সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক কাজ; ১১৪৫২৫৬নং টেন্ডার আইডির মাধ্যমে ৬৩৩২৭৫.৮০২ টাকা চুক্তিমূল্যে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারকের ব্যক্তিগত কক্ষে অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা ও সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক কাজগুলো পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ১১৪৫২৫৬ ও ১১৪২৬৫৬নং টেন্ডার আইডি দুটোর কাজ একই জায়গায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারকের কক্ষে একই ধরণের দুইটি কাজের বাস্তবায়ন দেখিয়ে ৬৩৩২৭৫.৮০২+ ৫৯১২১৫.৯৫৮= ১২২৪৪৯১.৭৬ টাকার অনিয়ম করা হয়েছে। এই কাজের মাধ্যমে বরাদ্দে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আালম কোন ধরণের কাজ না করেই লোপাট করেছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়।
স্বৈরাচার নেতা আমির হোসেন আমুর সাথে একান্ত আলাপ-চারিতায় প্রকৌশলী ফয়সাল আলম
এস এ এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে বাস্তাবয়নকৃত অন্যান্য কাজগুলোতেও ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে বরাদ্দে বড় অংশ লুটপাট ভাগ-বাটোয়ারা করার অভিযোগ রয়েছে।
অপরদিকে, ওটিএম টেন্ডার আইডি নং ১২৩১৬০১ এর মাধ্যমে গোপালগঞ্জের প্রতিষ্ঠান মেসার্স সৌরভ ট্রেডার্স একই অর্থবছরে ২৯৪৪৬৩৩৩.৫৫১ চুক্তিমূল্যে গোপালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, বরিশাল, রংপুর, জামালপুর এবং যশোর জেলায় BITAC-এর ৬ (ছয়) কেন্দ্র স্থাপন (বরিশাল-এ একটি) উপ-প্রধান: আনুষঙ্গিক পণ্য সরবরাহ ও স্থাপন কাজটি পাইয়ে দেন লুটেরা নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটির মালিক একজন আওয়ামী নেতা বলে জানা গেছে।
টেন্ডার আইডি নং ১২৭৪৩৭৪ ব্যবহার করে বরিশালে সরকারি শিশু হাসপাতালের নির্মাণ কাজের অবশিষ্ট অংশ এর অন্তভূক্ত বিষয়সমূহ ১০০০ কেভিএ (KVA) সাব-স্টেশন সরঞ্জাম সরবরাহ ও স্থাপন; ৪০০ কেভিএ জরুরি জেনারেটর সরবরাহ ও স্থাপন; ২০ হর্সপাওয়ার (HP) সাবমার্সিবল পাম্প-মোটর সেট ও ১০ হর্সপাওয়ার সেন্ট্রিফিউগাল পাম্প-মোটর সেট সরবরাহ ও স্থাপন; অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র সরবরাহ ও স্থাপন; শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, বজ্রপাত নিরোধক ও আর্থিং ব্যবস্থা, এলটি (LT) ওভারহেড লাইন, কম্পাউন্ড ও গার্ডেন লাইটিং, পিএবিএক্স (PABX) কাম ইন্টারকম ব্যবস্থা, এলটি ফিডার ক্যাবল, অন-গ্রিড সোলার সিস্টেম, ডিজিটাল সাইনবোর্ড, সিসি (CC) ক্যামেরা ব্যবস্থা, ডিজিটাল কনফারেন্স সিস্টেম এবং পিএ (পিএ/সাউন্ড সিস্টেম সরবরাহ ও স্থাপন কাজটি সাবেক এক আওয়ামী মন্ত্রীর মেয়ে জামাইয়ের প্রতিষ্ঠান মেসার্স আল-মদিনা এন্টারপ্রাইজকে চুৃক্তিমূল্য ৪২৭৭৯৯৬৭.১৯৬ টাকা চুক্তিমূল্যে পাইয়ে দেওয়া হয়। এই কাজে সিডিউল বহির্ভূতভাবে অত্যন্ত নি¤œমাণের যন্ত্রপাতি ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সরবরাহ ও স্থাপন দেখিয়ে বরাদ্দে পুরো অর্থ উঠিয়ে নেওয়ার পায়তারা করছেন নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আালম।
শুধু তাই নয়, স্বৈরাচারের দোসর ও আওয়ামী আমলে দেশব্যাপী একচেটিয়া কাজ করা বাবর এসাসিয়েটস্ নামক প্রতিষ্ঠানটিকে ১১২৩৪৩৬ নং টেন্ডার আইডি ব্যবহার করে ১২৫৬০৭৯.৯২৮ টাকা চুক্তিমূল্যে বরিশাল জেলা জজ আদালত চত্বরে অবস্থিত ৪-তলা বিশিষ্ট জেলা জজ আদালত ভবনের প্লাস্টার ও ডিসটেম্পারের বিশেষ মেরামত কাজ ও ১১২৩৪৩৪ নং ওটিএম টেন্ডার আইডির মাধ্যমে একই প্রতিষ্ঠানকে ১১৪৭৯৬৩.৪৯১ টাকা চুক্তিমূল্যে বরিশাল জেলা জজ আদালত চত্বরে অবস্থিত ৪-তলা বিশিষ্ট জেলা জজ আদালত ভবনে সিলিকন পেইন্টসহ বিশেষ মেরামত কাজ দুটি পিপিআর বহির্ভূত ভাবে বিশেষ কৌশলে পাইয়ে দেওয়া হয়। এই কাজ দুটি সিডিউল বহির্ভূতভাবে অত্যন্ত নিমাণের নির্মাণ উপকরণ ব্যবহার করে এর বাস্তবায়নের অভিযোগ রয়েছে।
১১৫৩২৯৩ নং ওটিএম টেন্ডার আইডি ব্যবহার করে ২৭৯৩৫৫৫৪.৮২০ টাকা চুক্তিমূল্যে গোপালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, বরিশাল, রংপুর, জামালপুর এবং যশোর জেলায় BITAC-এর ৬ (ছয়) কেন্দ্র স্থাপন বরিশালে একটি (সাব হেড: ফায়ার ডিটেকশন অ্যান্ড প্রোটেকশন সিস্টেম) ব্যবস্থা সরবরাহ ও স্থাপন কাজটি বাবর এসোসিয়েটস্-এইএল জেভিকে পাইয়ে দেওয়া হয়। জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানী দুটিই ফ্যাসিবাদের দোসর বলে অভিযোগ রয়েছে। পূর্ববর্তী অর্থবছরগুলোতেও প্রকৌশলী ফয়সাল আলম একইভাবে আ’লীগ ছাত্রলীগ যুবলীগ এর কথিত ঠিকাদারদের টেন্ডার পাইয়ে দিয়ে আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
আরো জানা যায়, আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের সুবিধাভোগী ফয়সাল আলম সরকারি কর্মকর্তা হয়ে নৌকার ব্যাজ বুকে লাগিয়ে সর্বত্র বিচরণ করতেন ওই সময়ে। নিজেকে তিনি জাহির করতেন মস্তবড় আ’লীগার। অভিযোগ উঠে-নিজে ছাত্রলীগ নেতার পরিচয় গোপণ করে স্বৈরাচারের শাসনামলের মতো দাপিয়ে বেড়াতে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পরও পদ পদবী ও আধিপত্য ধরে রাখতে বিভিন্ন অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন প্রকৌশলী ফয়সাল আলম। সে ধারাবাহিকতায় তিনি নিজেকে বিএনপি ঘরোনার ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে নানা কায়দায় অপতৎপরতা চালিয়ে আসছেন। খোলস পাল্টিয়ে আওয়ামী জার্সি পরিত্যাগ করে তিনি ইতোমধ্যে বিএনপিপন্থী কর্মকর্তাদের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। অবৈধ অর্থের জোড়ে চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) এর বরিশালে নবগঠিত কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান পদে আসীন হন বহুল বিতর্কিত নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল।
অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বৈরাচারের শক্তিতে ক্ষমতাবান হয়ে তিনি একইসাথে বরিশাল ও ঝালকাঠি ডিভিশনের দায়িত্ব ধরে রাখেন প্রায় ৭ মাস। সে সময়ে অর্থ্যাৎ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ঝালকাঠি ডিভিশনে ভূয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে লোপাট করেন প্রায় কোটি টাকা। প্রয়োজনের অতিরিক্ত টেন্ডার করেও ডিভিশনটিকে দেনায় ডুবিয়ে আসেন। নভেম্বর ২০২২ইং থেকে ২০২৪ জুন ফাইনাল পর্যন্ত ঝালকাঠির দায়িত্বে থেকে এই প্রকৌশলী এলটিএম টেন্ডারে ব্যাপক জালিয়াতি বেনামী ঠিকাদারী ব্যবসার পাশাপাশি ঝালকাঠি সদর মডেল মসজিদ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ঝালকাঠি সদর হাসপাতালকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ জেলা সমাজ সেবা কমপ্লেক্স এনএসআই ভবন পুলিশ লাইনে পুলিশ অফিসার্স মেস নির্মাণ কাজগুলোতে ব্যাপক জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। এ সকল বিষয় নিয়ে পরবর্তীতে দুদকে অভিযোগ দেওয়া হলেও ফ্যাসিবাদের ক্ষমতায় তার কিছুই হয়নি। ফলে তিনি দুর্নীতি লুটপাটে তিনি আরো অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছেন।
অনুসন্ধানী সূত্রগুলো বলছে, ৩২তম বিসিএস’র বহুল বিতর্কিত ফয়সাল আলমের গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার শুক্তঘর এলাকায়। খুলনায় তিনি পড়ালেখা করেছেন। ছিলেন খুয়েট ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক। প্রভাবশালী আ’লীগ নেতা আমির হোসেন আমুর অত্যন্ত আস্থাভাজন (পালিত ছেলে হিসাবে পরিচিত) হিসেবে ফয়সাল আলম ঝালকাঠিতে দীর্ঘদিন একই চেয়ার আঁকড়ে ধরে স্বৈরাচার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে নিজেকে বড় আ’লীগার হিসেবে জাহির করতেন তিনি। ঝালকাঠিতে আমুর প্রভাবে ব্যাপক দুর্নীতিতে জড়িয়ে সাধারণ ঠিকাদারদের তোপের মুখে পড়েছিলেন তিনি। এক পর্যায়ে ঝালকাঠির ঠিকাদাররা দুদকে অভিযোগও দিয়েছিলেন। দোর্দন্ড প্রভাবশালী আমুর আর্শিবাদপুষ্ট হওয়ায় কোনভাবেই তার লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হয়নি সে সময়ে। ঝালকাঠি থেকে বরিশাল গণপূর্তে দায়িত্ব নেওয়ার পর সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠজন বনে গিয়ে নানা ধরণের অন্যায়-অনিয়মে জড়িয়ে পড়লেও তৎকালীন সময়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। উল্টো গোপণ সিন্ডিকেট তৈরী করে বেনামী ঠিকাদারী ব্যবসায় একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করেন। প্রতিবাদীদের বিভিন্নভাবে নাজেহাল করেন তিনি। অভ্যুত্থানের পরেও তিনি ফ্যাসিবাদের লোকদের বেশীরভাগ কাজ পাইয়ে দিয়ে আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং করছেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গোপালগঞ্জের দীন ইসলামের এসএ এন্টারপ্রাইজকে কয়েক কেবাটি টাকার কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। ঢাকার বাবর এসোসিয়েটসকে বড় বড় অসংখ্য কাজ দিয়েছেন। স্থানীয় কেআইসি ট্রেডার্স, খান বিল্ডার্স, খান এন্টারপ্রাইজ, খান ট্রেডার্স, নয়ন এন্টারপ্রাইজ, আঞ্জুম ট্রেডার্স ও আবির এন্টারপ্রাইজসহ আরো ২/৩টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে সাথে নিয়ে অত্যন্ত প্রভাবশালী লুটেরা সিন্ডিকেট তৈরী করেছেন তিনি।
আরো জানা যায়, শেবাচিম হাসপাতালে ক্যান্সার ইউনিট নির্মাণে ২দফা ব্যয় বাড়িয়ে বরাদ্দ হয় ২ শৎ ৩৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৯৯ কোটি ৪১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা চুক্তিমূল্যে বেজমেন্টসহ ১৫ তলা ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে। প্রকৌশলী ফয়সাল আলমের গোপণ ব্যবসায়িক পার্টনার খান বিল্ডার্স নামক প্রতিষ্ঠানটি এ কাজের বাস্তবায়নে রয়েছে। ভবন নির্মাণ পুরোপুরি শেষ না হলেও ২০৩৪-২৪ অর্থবছরে ৪,৮৪,১০,৫০৮/-টাকা চুক্তিমূল্যে ওই ভবনের জন্য পিবিএক্স সিএটিভি/ডিস পিএ সিস্টেম ডিজিটাল কনফারেন্স সিস্টেম সোলার সিস্টেম পিএবিএক্স সিসিটিভি কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং গ্রীড সোলার সিস্টেম নার্স মনিটরিং সিস্টেম ডিঙ্কিং ওয়াটার পিউরিফায়ার সিস্টেম; একই অর্থবছরে ৫,৯৫,৮০,০০০/- টাকা চুক্তিমূল্যে মেডিকেল ওয়াস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম; ৫,৩৬,১৬,৪৭৪/- টাকা চুক্তিমূল্যে স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি), ৫,৯৪,৪৩,৯৮০/- টাকা চুক্তিমূল্যে ডিস্ট্রিবিউশন লাইনসহ মেডিকেল গ্যাস সিস্টেম সরবারহ ও স্থাপণ; ৩,১৪,১৯,৫১৩/- টাকা চুক্তিমূল্যে ফায়ার ফাইটিং ম্যানেজমেন্ট সিষ্টেম সরবরাহ ও স্থাপন কাজ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১০,৮৮,৯৮,৮৮৪/- টাকা চুক্তিমূল্যে ২টি ১৫০০ কেভি সাবস্টেশন এইচটি এলটি সার্ভিস ক্যাবল ৫০০ কেভি জেনারেটর ও পাম্প মোটর সেট সরবরাহ কাজগুলোতে মালামাল সরবরাহ দেখিয়ে ঠিকাদারদের পুরো বিল পরিশোধ করে প্রায় ২ কোটি টাকা লোপাট করেছেন প্রকৌশলী ফয়সাল আলম। অথচ এ সকল মালামাল নির্দিষ্ট সাইটে স্থাপণের প্রয়োজনীয় জায়গার সংকুলান হয়নি এখনও। চাইনজ ব্র্যান্ডের নি¤œমাণের মালামাল সরবরাহ নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে ডিভিশনটির প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে।
একইভাবে বরিশালে নভোথিয়েটার স্থাপণ প্রকল্পে ভবন নির্মাণের কাজ অর্ধেক শেষ না হলেও শূধুমাত্র কোটি টাকা লোপাটের উদ্দেশে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৬,২১,৭৭,৪৫২/- টাকা চুক্তিমূল্যে ফিডার ক্যাবলসহ ২০০০ কেভিএ সাবষ্টেশন ৪০০ কেভি জেনারেটর ৪০০ কেভি সাবস্টেশন ১৫০ কেভি জেনারেটর; ১১,৪৯,৯৯,০০০/- টাকা চুক্তিমূল্যে এসি সরবরাহ ও স্থাপন ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে সংশ্লিষ্ট কাজসহ পাম্প মোটর সেট পিএবিএক্স ও ইন্টারকম সিস্টেম সাউন্ড/পিএ কনফারেন্স সিসেস্টম অডিটোরিয়াম সাউন্ড সিসেবটম স্টেজ লাইট ও ভিডিও ওয়াল অডিটোরিয়াম স্টেজ কারটেইন সরবরাহ ও স্থাপণ কাজগুলোর সকল মালামাল সরবরাহ দেখিয়ে ঠিকাদারের বিল পরিশোধ করা হয়েছে। নি¤œমাণের মালামাল সরবরাহ করা হয়েছে এই ক্ষেত্রেও।
এছাড়াও ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বকয়েক কোটি টাকা বরাদ্দে দুর্গাসাগর ট্যুরিজম ফ্যাসালিটিজ প্রকল্প, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১,৪৭,৮২,৭৭০/- টাকা চুক্তিমূল্যে সার্কিট হাউজ, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১,০৭,৯৫,০৩২/-টাকা চুক্তিমূল্যে জেলা প্রশাকের বাসভবনে বিভিন্ন ধরণের মেরামত পুণঃ বাসন কাজগুলোেেত ওভার ইষ্টিমেটের মাধ্যমে ৩/৪গুণ বেশী বরাদ্দ করিয়ে বেশীরভাগ অর্থ লোপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, খান বিল্ডার্স ও খান ট্রেডার্সের স্বত্তাধিকারী মিজান খান ওরফে কাশি মিজান এবং নাসির খান বিগত আ’লীগ সরকারের শাসনামলে সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর ক্রেডিট কার্ড নামে পরিচিত পান। এরা বিগত স্বৈরাচারের শাসনামলে প্রকৌশলী ফয়সালের সহায়তায় একচেটিয়া গণপূর্তের কাজ ভাগিয়ে নিয়েছেন। ৫ আগস্টের পর দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও বহুল বিতর্কিত এই দুই প্রতিষ্ঠান এখনও বরিশাল গণপূর্ত বিভাগে অদৃশ্য শক্তিতে নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। এক্ষেত্রে আওয়ামী ফ্যাসীবাদের সুবিধাভোগী দোসর হিসেবে আখ্যায়িত নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম এর সঙ্গে বিতর্কিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলোর গভীর সখ্যতা বজায় রেখে তাদেরকে কাজ পাইয়ে দিয়ে আসছেন। ৫ আগস্টে পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে ফয়সাল আলমের বদলীর আদেশও হয়। স্বার্থ হাসিলের জন্য উক্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দুটি নানা কলকাঠির মাধ্যমে ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় তার বদলীর আদেশ বাতিল করে স্বস্থানে বহাল রাখতে সক্ষম হন।
নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায়, নিয়ম ভঙ্গ করে তিনি একচেটিয়েভাবে ঝালকাঠির বাসিন্দা নাসির খানের মালিকানাধীন খান বিল্ডার্স ও শহরতলীর কাশিপুরের বাসিন্দা মিজান খানের খান ট্রেডার্স নগরীর বড়-ছোট সকল ধরণের বাজেটের শত শত কোটি টাকার কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। বরিশাল মেরিন একাডেমি, বঙ্গবন্ধু নভো থিয়েটার, ক্যান্সার হাসপাতাল, বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক), শায়েস্তাবাদের তালতলী মডেল মসজিদ, আব্দুর রব সেরনিয়াবাত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, বরিশাল মেট্রােপলিটনের এয়ারপোর্ট থানা, আমানতগঞ্জে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রিপেয়ারিংয়ের কাজ সহ আরো অনেক কাজ প্রতিষ্ঠান দুটিকে মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে পাইয়ে দিয়েছেন এবং দিযে আসছেন। এর মধ্যে মডেল মসজিদ ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে পরবর্তীতে তা ক্ষমতার দাপুটে শক্তিতে ধামাচাপা দেওয়া হয়। বিশেষ করে ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ও নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলমের যোগশাজসে ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণে খান বিল্ডার্সকে ৯০ কোটি টাকার কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। পরবর্তীতে হাসপাতাল নির্মাণ কাজে আরো ৮০ কোটি ভাগিয়ে নেওয়ার কৌশলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি অর্থ বর্ধিতকরণের জন্য রিভাইস স্টিমেট দাখিল করে নানামুখী দৌঁড়ঝাপ চালিয়ে বরাদ্দ বাড়িয়ে নিয়েছেন।
আরো জানা যায়, দুটি উপজেলা মডেল মসজিদের (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ইং) টেন্ডার ওপেনিংয়ের দিনক্ষণ নির্ধারণ করে গণপূর্ত বিভাগ। তবে তিনটি প্রতিষ্ঠানের ওয়ার্ক ক্যাপাসিটি না থাকার কারণে তিন মাস পর উক্ত টেন্ডার দুটি বাতিল করা হয়। বাতিলকৃত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- খান ট্রেডার্স, খান বিল্ডার্স, ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স। চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারী বাতিলকৃত দুটি মডেল মসজিদসহ আরো তিনটি মডেল মসজিদের ড্রপিংয়ের দিনক্ষণ ধার্য করে গণপূর্ত বিভাগ। এর পর গোপণ সমাঝোতার মাধ্যমে নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বাবর এ্যাসোসিয়েট ও খান ট্রেডার্স (জেবি) এবং এস.এ এন্টারপ্রাইজ ও খান বিল্ডার্স (জেবি)কে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য টেন্ডারের নিয়ম কানুন ভঙ্গ করে নানা ধরণের কুটকৌশল অবলম্বন করে তাদেরকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়। সাধারণ ঠিকাদারদের প্রশ্ন- যে প্রতিষ্ঠানগুলো ওয়ার্ক ক্যাপসিটি না থাকার কারণে এক মাস আগে টেন্ডার রিটেন্ডার করেছে সেই একই প্রতিষ্ঠানগুলো কিভাবে পূণরায় জেভির মাধ্যমে পরবর্তীতে একই টেন্ডারে অংশগ্রহণ করে? প্রসঙ্গত : জেভির শর্তাবলীতে লিড পার্টনার ৪০%, সহযোগী পার্টনারস ২৫% টেন্ডারের শর্তবলীতে উল্লেখ থাকলেও সেই শর্তাবলী ভঙ্গ করে লিড পার্টনার ১০%, সহযোগী পার্টনার ৯০% এর কথা বলে নির্বাহী প্রকৌশলী তার পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়েছেন মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে।
বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার জন্য প্রকৌশলী ফয়সালের মোবাইলে বেশ কয়েকদিন একাধিকবার ফোন দিলেও তার রেসপন্স না পাওয়ায় মতামত গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের প্রত্যাশা, সরকার উদ্যোগী হলে দেশটিতে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি ফোরাম (বিআরএএফ)। সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কাজে লাগাতে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের প্রত্যাশা সার্বিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রত্যাশা, দেশটিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তাঁদের মতে, বিদেশে কাজের সুযোগ যেন স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং চাকরিপ্রত্যাশীরা যেন প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও অনিশ্চয়তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নিয়োগকর্তার পরিচয়, কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন, চাকরির চুক্তি এবং ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সার্বিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করা হবে। এতে বাংলাদেশের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন দেশে কী ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন, কী কী নথি জমা দিতে হবে এবং ছাড়পত্র পেতে কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। তাঁদের প্রত্যাশা, বিএমইটি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা কমবে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত চাকরির শর্ত যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমন্বয়ই পারে বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকে আরও গতিশীল করতে। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার দাবি সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি সার্বীয় দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, শ্রমবাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের সহায়তা এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বাস্তব চাহিদা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ সংশ্লিষ্টদের সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের সম্ভাবনা যাচাই, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেবেন। একই সঙ্গে সার্বিয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন নতুন দেশে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধান, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য শ্রমিকের চাহিদা যাচাই, নিয়োগকর্তার সক্ষমতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি অনুমোদনের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার, বিএমইটি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বশীল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই—এই বিষয়গুলোতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ও জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের। মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) কাজী মো. সাবিরুল আলমসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) খুলনা দুদকের উপ পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেন। খবর বাসস। এর আগে গত সোমবার কমিশন থেকে মামলা করার অনুমতি দেওয়া হয়। মামলায় অভিযুক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাবিরুল আলম ছাড়া অন্যরা হলেন— খান লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের লিড পার্টনার মো. আতাউর রহমান, ঠিকাদারি কোম্পানি মাহাবুব ব্রাদার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রকল্পের পার্টনার শেখ মাহাবুব রহমান এবং কেডিএ’র সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামীম জেহাদ, নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রকল্প) মো. আরমান হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মুনতাসির মামুন, সহকারী প্রকৌশলী বাসুদেব কুমার বিশ্বাস ও উপ সহকারী প্রকৌশলী শরীফ ওয়াহিদুজ্জামান। দুদকের অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় ঠিকাদার মাহাবুব ব্রাদার্স লিমিটেডকে খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কার্যাদেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী সড়কটি নির্মাণ না করে সরকারের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে-যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি একনেকের সভায় ঐ সড়ক নির্মাণে দীর্ঘ ১৩ বছরের নজিরবিহীন বিলম্বের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে তিনি এর সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। খুলনা দুদকের উপ পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী বলেন, কমিশন মামলা করার জন্য অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু এখন মামলা হয়নি। শিগগিরই মামলা দায়ের করা হবে।
ঢাকায় স্ত্রী ও বোনের নামে পাঁচ ফ্ল্যাট # হবিগঞ্জ ও কুড়িগ্রামে পেট্রোল পাম্প # যুক্তরাষ্ট্রে গড়েছেন অঢেল সম্পদ গণপূর্ত অধিদপ্তরের (পিডব্লিউডি) ডিপ্লোমা প্রকৌশলী মো. রফিকুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়নকাজে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে শতকোটি টাকা আত্মসাৎ এবং দেশে-বিদেশে বিপুল অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকার অভিজাত এলাকা বসুন্ধরায় স্ত্রী ও বোনের নামে পাঁচটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, হবিগঞ্জ ও কুড়িগ্রামে দুটি পেট্রোল পাম্প এবং যুক্তরাষ্ট্রে বোনের নামে ফ্ল্যাটসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। পিডব্লিউডি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির (বাপিডিপ্রকৌস) ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রফিকুজ্জামানের বিরুদ্ধে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) এসব অভিযোগ জমা দিয়েছেন একই প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মচারী। গত ২৬ অক্টোবর দুদকে দেওয়া অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, কাজের ব্যয় বাড়িয়ে বিল উত্তোলন এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, ঢাকায় সর্বশেষ কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে মুগদা হাসপাতালের ভবন নির্মাণ ও সংস্কার, বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কার এবং পুলিশের বিভিন্ন ভবন নির্মাণকাজে অনিয়মের মাধ্যমে অন্তত ১১৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এসব প্রকল্পে কাজের মান, ব্যয় নির্ধারণ, দরপত্র ও বিল পরিশোধের বিষয়গুলো তদন্ত করা হলে অনিয়মের চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে ভেরিয়েশন বা কাজের পরিমাণ ও ব্যয় পরিবর্তনের সময় কয়েক গুণ বেশি দর দেখিয়ে সরকারের ২০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় একপর্যায়ে তদন্ত শুরু হলেও প্রভাব ও উৎকোচের মাধ্যমে তা ধামাচাপা দেওয়া হয়। তবে এ অভিযোগের পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। দেশে-বিদেশে সম্পদের পাহাড়ের অভিযোগ: অভিযোগে রফিকুজ্জামানের সম্পদের যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। অভিযোগকারীর দাবি, ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় স্ত্রী ও বোনের নামে পাঁচটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন তিনি। এ ছাড়া নিজের জন্মস্থান হবিগঞ্জ এবং কুড়িগ্রামে দুটি পেট্রোল পাম্পের মালিকানার সঙ্গেও তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের একটি বড় অংশ হুন্ডির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তাঁর বোনের নামে একটি ফ্ল্যাট কেনা হয়েছে বলেও অভিযোগকারীর দাবি। এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, অর্থের উৎস এবং বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী। পদায়ন যেখানে, দুর্নীতির অভিযোগও সেখানে: অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, রফিকুজ্জামান পিডব্লিউডির বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি নির্মাণ ও সংস্কারকাজে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সম্প্রতি তাঁকে হবিগঞ্জে বদলি করা হয়েছে। তাঁর দায়িত্ব পালনকালে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর দরপত্র, কার্যাদেশ, প্রকল্প ব্যয়, ভেরিয়েশন, বিল-ভাউচার ও কাজের বাস্তব অগ্রগতি যাচাই করা হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরূপণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দুদকে অভিযোগ, চলছে যাচাই-বাছাই: দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগের বিষয়ে সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। শিগগিরই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ডেকে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য ও ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বাধীন তদন্ত, কথিত সম্পদের প্রকৃত মালিকানা যাচাই এবং সরকারি প্রকল্পের নথিপত্র পরীক্ষা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে ১১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, সড়ক প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানোর বিষয় এবং দেশে-বিদেশে কথিত সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে দুদকের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে প্রকৌশলী মো. রফিকুজ্জামানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পাঠানো খুদে বার্তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার দক্ষিণ এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে সাইদা আক্তার রিলা নামে ১৮ বছর বয়সী এক ছাত্রী বুধবার দুপুরে চাঁদের আলো হোটেলের একটি কক্ষ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।রিলা পাবনা শহীদ বুলবুল সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।পুলিশ জানিয়েছে, কক্ষের দরজা ভেঙে তারা রিলার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে।ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।পুলিশ ঘটনার পেছনে আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো রহস্য রয়েছে কিনা তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করছে।