২০২৬ সালের ৪ নভেম্বর, সকাল ৭টা ৩৮ মিনিটে কল্যাণপুরে, দিয়াবাড়ী মিরপুর বেড়িবাঁধে একটি যাত্রীবাহী বাস এবং সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।এই দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে দুজন পুরুষ এবং দুজন নারী রয়েছে।ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে ৭টা ৩৮ মিনিটে পৌঁছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত মরদেহ শাহ আলী থানার উপপরিদর্শক আরিফুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।ঘটনার বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ফেসবুকে গাজীপুরে পুলিশের গুলিতে ১০ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থী নুরুজ্জামান সামি আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।প্রথম ছবিতে হাসপাতালের কেবিনে জরুরি চিকিৎসা পাচ্ছে এক আহত স্কুলশিক্ষার্থীকে দেখা যায়। অন্য দুটি ছবিতে রক্তাক্ত স্কুলের আইডি কার্ড ও শার্ট দেখা যায়।সামির পিতা ইউসুফ রানা জানিয়েছেন, তার ছেলে স্কুল থেকে বের হওয়ার পর পেছন থেকে একটি ইটের টুকরার আঘাতে আহত হয়েছে। তিনি জানান, গুলিবিদ্ধ হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি।ইউসুফ রানা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, সামি বিকেএসপি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তার মাথায় তিনটি সেলাই দিয়েছেন এবং সিটি স্ক্যান ও এক্স-রে করানো হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সামি এখন শঙ্কামুক্ত।গতকাল রোববার থেকে রাজধানী ও গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন চলছে। আন্দোলনের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকায় গত এক বছরে বিভিন্ন যানবাহনে কমপক্ষে ২১টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১৭টি ডাকাতি উপজেলার পিরোজপুর এলাকায় মোজাফফর আলী ফাউন্ডেশনের পরিত্যক্ত এতিমখানার ৫০০ গজের মধ্যে ঘটেছে।স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রায় এক যুগ ধরে মহাসড়কের পাশের পরিত্যক্ত ভবনটি অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় ডাকাতির সরদারসহ প্রায় ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারির পর মহাসড়কে ডাকাতির সংখ্যা এবং পরিত্যক্ত ভবনে বাহিরের লোকের আনা-গমি প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।তবে গত দুই মাস ধরে ফের পরিত্যক্ত ভবনে মাদকসেবীদের আড্ডা বসছে এবং গভীর রাত পর্যন্ত বাহিরের লোকের আনা-গমি বাড়ছে। এলাকাবাসীরা আশঙ্কা করছেন, এর ফলে মহাসড়কের যানবাহন ছাড়াও এলাকার বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ অপরাধ বেড়ে যাবে।এ বিষয়ে পিরোজপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান অভিযোগ করেছেন, মহাসড়কের পাশে হওয়ায় ভবনটি ঘিরে ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। তিনি পুলিশকে একাধিকবার জানিয়েছেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।সোনারগাঁও থানার ওসি মুহম্মদ আব্দুল বারিক বলেছেন, পরিত্যক্ত ভবনে মাদকসেবীদের আনা-গমির তথ্যটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। তিনি জানান, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ খুলনার রূপসা উপজেলার আঠারোবেকি নদীর তীর থেকে গুলিবিদ্ধ দুই যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রূপসা সরকারি কলেজের সামনের সিংহের চর এলাকা থেকে দুটি লাশ উদ্ধার করা হয়।নিহতদের পরিচয় মেহেদী হাসান সোহাগ (৩৫ বছর) ও রেজাউল করিম আলামিন (৩০ বছর) হিসেবে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা খুলনার বি কোম্পানি নামের গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন।পুলিশের অনুমান, দুজনকে গুলি করে মেরে তারপর নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। সোহাগের শরীরে চোখের পাশে এবং আলামিনের শরীরে থুতনির নিচ ও পিঠে গুলির দাগ পাওয়া গেছে।স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, সোহাগের পিতার নাম মো. আব্দুল্লাহ। আব্দুল্লাহ আগে জেলখানা ঘাটে নৌকা চালাতেন এবং পরে সোহাগ বি কোম্পানি গোষ্ঠীর সাথে জড়িত হন। আলামিনের পিতার নাম এবং বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।চশমাদর্শীদের কথা অনুযায়ী, রোববার সকালে নদীর সিংহের চর এলাকায় একটি লাশ ভাসতে দেখেন। পরে পানি কমে গেলে একই জায়গায় পাশাপাশি দুটি লাশ দেখতে পান।রূপসা থানার ওসি মাসুম খান জানিয়েছেন, দুটি লাশে একাধিক গুলির চিহ্ন আছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরো দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। সোহাগ ও আলামিনের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কিনা তদন্ত চলছে।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সদকী ইউনিয়নের বাটিকামারা এলাকায় জমি বিরোধের জেরে এক নারী নিহত হয়েছেন। নিহত নারীর নাম নাছিমা বেগম, বয়স ৪২ বছর। তিনি ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলামের স্ত্রী।ঘটনাটি সোমবার ভোরে ঘটে। নাছিমার বড় ছেলে নাসির হোসেন ১৩ জনকে আসামি করে কুমারখালী থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।নাছিমার স্বামী শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, মিঠু হোসেন ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। হামলার সময় নাছিমাকে চড় থাপ্পড় ও মারধর করা হয়, পরে তিনি মারা যান।মোমিন শেখ ও তার স্বজনরা সোমবার ভোর ৫টার দিকে নাছিমার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু করেন। নাছিমাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুই জনকে আটক করে আদালতে পাঠিয়েছে। আটককৃতরা হলেন মিঠু হোসেন (৪৮) ও রিপন শেখ। কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, হত্যার অভিযোগে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
রাজধানীর রামপুরা এলাকায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবনের সামনে মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে দুটি ককটেল বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে। বিস্ফোরণে কেউ হতাহত হয়নি।রামপুরা থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন, দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে এসে ককটেল ছেড়ে দিয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।পুলিশ সন্দেহীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছে। তদন্তের জন্য ঘটনাস্থল এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।এর আগে সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনের পানির পাম্পের ওপর ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ মঙ্গলবার একটি প্রজ্ঞাপনে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পুলিশ পদে বদলি ঘোষণা করেছে।প্রজ্ঞাপনে মোট সাতজন বরিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বদলি করা হয়েছে। এসআরবির মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশকে পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক হিসেবে বদলি করা হয়েছে।হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি ফারুক আহমেদকে এসআরবির নতুন মহাপরিচালক নিয়োগ করা হয়েছে। পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত আইজি সায়েদুর রহমানকে হাইওয়ে পুলিশে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত আইজি গাজী জসীম উদ্দিনকে রাজারবাগ পুলিশ টেলিকম সংস্থায় বদলি করা হয়েছে। গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদারকে শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত আইজি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি আশিক সাঈদকে জিএমপি কমিশনার বানানো হয়েছে। রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি মীর আশরাফ আলীকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।একটি পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে ছয়জন পুলিশ সুপারintendent এর বদলির তথ্য দেওয়া হয়েছে। নীলফামারী জেলার এসপি ফরহাদ হোসেন খাঁনকে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।মুন্সিগঞ্জ জেলার এসপি মেনহাজুল আলমকে নীলফামারী জেলার নতুন এসপি নিয়োগ করা হয়েছে। এসআরবির এসপি মো. বদরুদ্দোজাকে মুন্সিগঞ্জ জেলার এসপি হিসেবে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।জামালপুরের এসপি ফারহানা ইয়াসমিনকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে বদলি করা হয়েছে। বরগুনার এসপি কুদরত ই খুদাকে জামালপুর জেলার নতুন এসপি বানানো হয়েছে।এসআরবির এসপি কে এম এ মামুন খানকে বরগুনা জেলার এসপি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
খুলনার দিঘলিয়ায় মঙ্গলবার ভোরে একটি মুড়ির প্যাকেট বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে জামায়াত সভাপতি এম এম মনিরুল ইসলাম (৬৩) আহত হন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে পৌনে ছয়টার দিকে ফজর নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে ফেরার সময় তিনি বাড়ির দরজার সামনে একটি পলিথিনের প্যাকেটে মুড়ি দেখতে পান। প্যাকেটটি কেউ ভুলে রেখে গেছে মনে করে তিনি সেটি ঘরের ভিতরে নিয়ে আসেন এবং মেজের ওপর রাখেন।প্যাকেটটি মেজে রাখার সাথে সাথে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ জ্বলে যায় এবং ঘরের আসবাবপত্রও আগুন ধরে যায়। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণ করে তাকে উদ্ধার করে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।দিঘলিয়া থানার ওসি অরুপ কুমার চৌধুরী জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি অনুমান করেন, এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে দূর্বৃত্তরা এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে। এই ঘটনার সিলসিলে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান এম. শাওকত আলী দাবি করেছেন যে পুলিশ সেবায় জালিমি বা হুমরানি করা যাবে না। তিনি সাধারণ মানুষকে সহজে পুলিশের সেবা উপভোগ করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন।মঙ্গলবার বিকেলে দামপা পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত ওপেন হাউস ডে অনুষ্ঠানে তিনি পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দেন যে অভিযোগ ও সমস্যার কথা শুনে দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।অনুষ্ঠানে নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা লোকজন তাদের অভিযোগ ও সমস্যার কথা কমিশনারের কাছে তুলে ধরেছিলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া, মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ, শেখ শরিফুল ইসলাম এবং নেছার উদ্দিন আহম্মেদ।
ছাত্র নেতা দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে পুলিশ আটক করেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রিন্সের গ্রেফতারের পর পুলিশ তার কয়েকজন পরিবারের সদস্য এবং সহযোগীদেরও আটক করে।গ্রেফতারকৃতদের সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক জসিম উদ্দিন আটককৃতদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।একজন কিশোর আটককৃতকে মহিলা ও শিশু আদালতের বিচারক মাসুদুর রহমান একটি সংশোধনাগারে পাঠান।প্রিন্সকে ২৯ অক্টোবর রাত ১১:৩০ টায় সুনামগঞ্জ সদর মডেল পুলিশ স্টেশনে আটক করা হয়। ৩০ অক্টোবর সকালে তাকে অসুস্থ অবস্থায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।হাসপাতালে প্রিন্সের আত্মীয় ও ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের কয়েকজন কর্মী জরুরি বিভাগে প্রবেশ করে এবং তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে দেয়।সকাল ২:৩০ টার দিকে প্রিন্সের পরিবারের সদস্যরা এবং কর্মীরা সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে জড়ো হন। তারা পুলিশকে আক্রমণ করেন এবং সরকারি দায়িত্বে বাধা দেন।একটি অ্যাম্বুলেন্স আসার পর আত্মীয়রা পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে প্রিন্সকে আটক থেকে মুক্ত করে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পরে পুলিশ প্রিন্সকে সিলেটের কুইন্স হাসপাতালে পুনরায় আটক করে।পুলিশ অভিযোগ করেছে যে আটককৃতদের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্বে বাধা দেওয়া, আক্রমণ, পালানোর চেষ্টা এবং মৃত্যুর হুমকির মতো অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় মোট দশজনকে আসামি করা হয়েছে।
মিরপুরে সোমবার সকালে পোশাকশ্রমিকেরা ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন।সকাল ৯টার দিকে মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকা থেকে শ্রমিকদের একটি দল মিছিল নিয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়।পুলিশের ধাওয়ার কারণে শ্রমিকরা মিরপুর-১১ নম্বরের দিকে সরে যায়। এই অবস্থানের কারণে কিছুক্ষণের জন্য মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, পরে তা স্বাভাবিক হয়।স্থানীয় দোকানি আব্দুল জাহের জানিয়েছেন, সকাল ৯টার দিকে শ্রমিকেরা মিরপুর-১০ নম্বর মোড়ে আসেন এবং পুলিশ তাদের সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, পুলিশ শ্রমিকদের রাস্তায় নামার চেষ্টা বন্ধ করে দিয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।শ্রমিকদের অসন্তোষ গত শনিবার থেকে শুরু হয় এবং রোববার সকাল থেকে তারা মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।রোববারের বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ভাঙচুর ঘটে, যেখানে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।এই সংঘর্ষে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং যান চলাচল ব্যাহত হয়। পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠনের কথা জানানো হয়েছে, তবে শ্রমিকদের দাবি ও অসন্তোষ পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।
পুলিশ মিরপুর এলাকা থেকে রাজীব চন্দ্র দাস নামের একজন ব্যক্তিকে গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে। পল্লবী থানার ওসি জালাল উদ্দিন জানান, সোমবার ভোরে রাজীব চন্দ্র দাসকে আটক করা হয়।জানা গেছে, পল্লবী থানায় গতকাল একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। রাজীব ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দিয়ে জানিয়েছেন যে তিনি গাড়িতে আগুন লাগিয়েছেন।এছাড়া, পুলিশ গতকাল রাতে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ২০ জনকে আটক করেছে।
০৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিকট কালশী সড়কে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনের সময় পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা ঘটে।পল্লবী থানায় তাইনাত কনস্টেবল মো. সাইমন হামলার সময় আহত হন এবং তাকে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। পল্লবী থানার জালাল উদ্দিন জানিয়েছেন, শ্রমিকদের ধাওয়া দিয়ে ছাত্রভঙ্গ হলে তারা কালশীর দিকে সরে যান। তখন পুলিশের একটি দল মিরপুর-১১ এর দিকে যাচ্ছিল, এবং এই সময় কনস্টেবল সাইমনের ওপর হামলা হয়।সকাল ১০টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ ঘটে। সকাল থেকে পল্লবী শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন পোশাক কারখানার সামনে কয়েক হাজার শ্রমিক অবস্থান নেন এবং তাদের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায়।শ্রমিকরা সড়কে নেমে পুলিশের বাধা দেয় এবং উত্তেজিত হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। সংঘর্ষের কারণে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের ভেতরে অনেক যাত্রী আটকা পড়েন।ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি পুলিশ সদস্যকে লাঠি দিয়ে মারধর করছেন এবং অন্যরা তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছেন। মিরপুর-১১ নম্বরে শ্রমিকদের ইটপাটকেলের আঘাতে ৪ পুলিশ সদস্য আহত হন।
যাত্রাবাড়ীর ধলপুর সিটি পল্লিতে সোমবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে একটি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে দুই শতাধিক টিনের ঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে প্রায় ৯০০ নিম্ন আয়ের মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।উচ্ছেদ অভিযানের সময় পুলিশ সিটি পল্লির বাসিন্দাদের সেখান থেকে চলে যেতে বলেছিল। অভিযানে ব্যবহৃত এক্সক্যাভেটর মেশিনের গায়ে 'ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন' লেখা ছিল।যাত্রাবাড়ী থানার ওসি উচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা জানান, তারা সেখানে কোনো অভিযান চালাননি।অভিযানের সময় ৩০ জনের বেশি বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ অভিযানের সময় এসআরবি সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগও উঠেছে।গত বছর আদালতের আদেশ অনুযায়ী, বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা না করে তাদের উচ্ছেদ করা যাবে না।এছাড়া, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১০ এর অভিযানের সময় মারুফ হোসেন নামে এক তরুণ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। মারুফ সিটি পল্লিতে তার পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন।
শিল্পকর্ম চুরি একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা বিশ্বব্যাপী। বিভিন্ন দেশের পুলিশ এই ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সংগ্রাম করছে।২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে, ইতালির পারমা শহরে বার্ষিক প্রত্নতাত্ত্বিক মেলায় পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের এই সফরের সময়, কর্মকর্তারা বিভিন্ন শিল্পকর্মের ছবি তুলেছিলেন।ছবিগুলি পরে তাদের অভ্যন্তরীণ ডাটাবেসে আপলোড করা হয়। কয়েক ঘণ্টা পর, পুলিশ সিস্টেমে একটি ছবির পাশে সতর্কতা সংকেত দেখা দেয়।যে ছবিটি নিয়ে সংশয় ছিল, তাতে একটি যুবতী মহিলাকে দেখা যায়, যার ত্বক উজ্জ্বল এবং তিনি অ্যাকোয়ামারিন ও লাল পোশাক পরিহিত ছিলেন। পরবর্তী দিনে পুলিশ ওই শিল্পকর্মটি আটক করে আরও পরীক্ষা করার জন্য।লেফটেন্যান্ট কর্নেল সালভাতোর রাপিকাভোলি জানান, পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছু অস্বাভাবিক মনে হচ্ছিল। তার টিম কয়েক দশক ধরে চুরি হওয়া শিল্পকর্ম খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ।নতুন AI সিস্টেমটি চুরি হওয়া শিল্পকর্ম চিহ্নিত করতে তাদের কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে AI সিস্টেমের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে, এটি ৩০০টিরও বেশি বড় চুরি হওয়া শিল্পকর্ম উদ্ধার করতে সাহায্য করেছে।এছাড়াও, AI ১৬৫,০০০টিরও বেশি ছোট আইটেম, যেমন মুদ্রা এবং পাণ্ডুলিপি উদ্ধার করতে সহায়তা করেছে। উদ্ধারকৃত শিল্পকর্ম ও আইটেমগুলির মোট মূল্য ২০৩ মিলিয়ন ইউরোরও বেশি।
রাজধানীর আগারগাঁও মেট্রো স্টেশনে সোমবার রাত ৯:১৫ টায় একটি বিস্ফোরণ ঘটে।শের-এ-বাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে একটি পুলিশ টিম পাঠানো হয়েছে।তবে, তিনি জানাননি যে, বিস্ফোরণে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কিনা। এখন পর্যন্ত কোনো আহত বা নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।
যশোর শহরের বকুলতলা মোড়ে সোমবার ভোররাতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা স্মৃতিস্তম্ভের মূল বেদিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনার ৩৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সোমবার দুপুরে স্মৃতিস্তম্ভটি পরিদর্শন করা হয় এবং সেখানে আগুনে পোড়ার কালো চিহ্ন দেখা যায়।ঘটনার পর স্মৃতিস্তম্ভ চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম জানান, স্মৃতিস্তম্ভ চত্বরে দুই পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
আজ সোমবার ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় ২৬৪টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শিল্প পুলিশের এসপি মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।শ্রমিকেরা সকাল থেকে ফ্যাক্টরির সামনে ইট-পাটকেল ও লাঠিসোঁটা নিক্ষেপ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, আশুলিয়ার কয়েকটি কারখানায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে।আর্টিস্টিক ডিজাইন লিমিটেড ফ্যাক্টরির সামনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষে ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ করছেন।এছাড়া, গাজীপুরের কালিয়াকৈরে শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পোশাক শ্রমিকরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করেছেন।গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। গাজীপুর জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, বিজিবি সদস্যরা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
লোহাগড়ার চাচাই গ্রামে বসবাসকারী ৪৫ বছর বয়সী অটোরিকশা চালক নিটু জামাদ্দার পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি ২৭ অক্টোবর রাতে অটোরিকশা নিয়ে বের হন এবং ২৮ অক্টোবর ভোর ৩:৩০ টার দিকে নারায়লের দিকে যাওয়ার সময় শেষবার দেখা গিয়েছিল।নিটুর স্ত্রী, শরিফা বেগম, ২৮ অক্টোবর লোহাগড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেছেন। তিনি নিটুকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন।জানা গেছে, নিটু দিন বেলায় গবাদি পশু পালন ও কৃষির কাজ করেন এবং রাতের বেলায় অটোরিকশা চালান। প্রায় এক মাস আগে, তিনি স্থানীয় এক অটোরিকশা চালকের দ্বারা আক্রমণের শিকার হন।স্থানীয় পুলিশ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় নিটুকে খুঁজে বের করার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, মামলাটির ওপর একটি বিশেষ তদন্ত দল কাজ করছে।
মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বিক্ষোভে শ্রমিকরা দুই দিন ধরে অংশগ্রহণ করছে।প্রথম দিন, শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ চলাকালীন সময়ে পুলিশে হামলা ও একটি পুলিশ গাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে।পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভের সাথে সম্পর্কিত পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি মামলা পল্লবী থানায় এবং একটি মামলা মিরপুর মডেল থানায় দায়ের করা হয়েছে।পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মামলাগুলোর অভিযোগে ৩১ জনকে আটক করা হয়েছে।সোমবার সকালে, শ্রমিকরা মিরপুরে সমবেত হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। সকাল ৯টার দিকে, মিরপুর ১৪ থেকে একটি শ্রমিকের দল মিরপুর ১০ এর দিকে march করার চেষ্টা করে, কিন্তু পুলিশ তাদের থামিয়ে দেয়।মিরপুর ১০ এ অন্য একটি শ্রমিকের দল সমবেত হয়ে সাময়িকভাবে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়।বিক্ষোভের ফলে এলাকায় ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
চট্টগ্রামে পুলিশের ওপর হামলা ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় চারজনের জন্য এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মোহিদুল ইসলাম এ রায় দেন।রিমান্ডে থাকা চারজনের মধ্যে রয়েছেন ওয়াকিল হোসেন Boga, রকি হোসেন পিচ্চি, মনির হোসেন এবং আবুল হাসান, যিনি কালা হাসান নামে পরিচিত।অ্যাসিস্ট্যান্ট পাবলিক প্রসিকিউটর রাইহানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, আসামিদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছিল।কিন্তু আদালত মামলার বাকি আটজন আসামির রিমান্ডের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে।ওয়াকিল হোসেন Boga, সেপ্টেম্বর মাসে পাহারতলী কলেজের একজন শিক্ষকের অপহরণ ও হামলার ঘটনায় প্রধান আসামি হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয়।পুলিশের গ্রেফতারি প্রচেষ্টার পর তার অনুসারীরা রাস্তা অবরোধ করে, যা পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের দিকে নিয়ে যায়।ঘটনার পর খুলশী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের প্রত্যাশা, সরকার উদ্যোগী হলে দেশটিতে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি ফোরাম (বিআরএএফ)। সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কাজে লাগাতে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের প্রত্যাশা সার্বিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রত্যাশা, দেশটিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তাঁদের মতে, বিদেশে কাজের সুযোগ যেন স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং চাকরিপ্রত্যাশীরা যেন প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও অনিশ্চয়তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নিয়োগকর্তার পরিচয়, কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন, চাকরির চুক্তি এবং ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সার্বিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করা হবে। এতে বাংলাদেশের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন দেশে কী ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন, কী কী নথি জমা দিতে হবে এবং ছাড়পত্র পেতে কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। তাঁদের প্রত্যাশা, বিএমইটি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা কমবে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত চাকরির শর্ত যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমন্বয়ই পারে বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকে আরও গতিশীল করতে। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার দাবি সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি সার্বীয় দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, শ্রমবাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের সহায়তা এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বাস্তব চাহিদা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ সংশ্লিষ্টদের সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের সম্ভাবনা যাচাই, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেবেন। একই সঙ্গে সার্বিয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন নতুন দেশে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধান, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য শ্রমিকের চাহিদা যাচাই, নিয়োগকর্তার সক্ষমতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি অনুমোদনের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার, বিএমইটি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বশীল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই—এই বিষয়গুলোতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ও জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের। মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।