আন্তর্জাতিক

চীনের সঙ্গে উত্তেজনা: দক্ষিণ চীন সাগরে ফের যুক্তরাষ্ট্রের নৌমহড়া

জানিফ হাসান জুন ১২, ২০২৫ 0

দক্ষিণ চীন সাগরে আবারও শক্তি প্রদর্শন করল যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। মার্কিন নৌবাহিনীর এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার USS Theodore Roosevelt এবং তার স্ট্রাইক গ্রুপ সম্প্রতি বিতর্কিত এই অঞ্চলে প্রবেশ করে টহল মিশনে অংশ নেয়। পেন্টাগনের দাবি, এটি একটি পূর্বনির্ধারিত ও নিয়মিত কার্যক্রম, যার মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌপরিবহন স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়।

তবে চীন এই পদক্ষেপকে ‘উসকানিমূলক’ বলে মন্তব্য করেছে এবং তাদের নিজস্ব সামরিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করেছে। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এ ধরনের বিদেশি সামরিক উপস্থিতিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে এবং প্রয়োজন হলে তারা ‘প্রত্যুত্তর’ দিতে প্রস্তুত।

দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। চীন প্রায় পুরো অঞ্চলকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে, যদিও আন্তর্জাতিক আইন ও ২০১৬ সালের হেগ ট্রাইব্যুনালের রায়ে এই দাবি খারিজ হয়েছে।

 

আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি

দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক তৎপরতা শুধু চীনের জন্য নয়, বরং সমগ্র এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন শুধু নিজেরাই নয়, বরং আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে যৌথ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে।

সম্প্রতি ফিলিপাইনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় এক বিশাল আকারের যৌথ সামরিক মহড়া, যেখানে উভয় দেশের নৌবাহিনী এবং কোস্ট গার্ড অংশগ্রহণ করে। এতে অংশ নেয় ডজনখানেক যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও নজরদারি ড্রোন। এই মহড়ার অংশ হিসেবে বিতর্কিত স্কারবোরো শোল এলাকার কাছাকাছিও কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়, যেটি চীন এবং ফিলিপাইন উভয় দেশের দাবির কেন্দ্রবিন্দু।

এই যৌথ মহড়া চীনকে স্পষ্ট বার্তা দেয় যে যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে এককভাবে নয় বরং মিত্রদের নিয়ে সক্রিয় অবস্থান নিচ্ছে। ফিলিপাইন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া—এই চার দেশকেই এখন যুক্তরাষ্ট্রের ‘নির্ভরযোগ্য কৌশলগত অংশীদার’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

চীন এই মহড়াকে ‘সীমান্ত লঙ্ঘন’ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করেছে। চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, “আমরা নিজের ভূখণ্ড ও জলসীমার নিরাপত্তা রক্ষা করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। কোনো প্রকার বাহ্যিক চাপ আমাদের প্রতিক্রিয়ায় প্রভাব ফেলবে না।”

 

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে সম্ভাব্য ঝুঁকি

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ চীন সাগর বর্তমানে একটি ভূ-রাজনৈতিক সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র একে ‘ফ্রিডম অব নেভিগেশন’ ইস্যু হিসেবে দেখলেও চীন বিষয়টিকে তাদের ‘সার্বভৌমত্বের অবমাননা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে। এই দ্বন্দ্বের ফলে সামান্য ভুল বোঝাবুঝিও বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. লি ঝাও বলেন, “দুই পক্ষের সেনাবাহিনী যখন এত ঘন ঘন এবং এত কাছাকাছি এলাকায় কার্যক্রম চালায়, তখন উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। কোন পক্ষ ভুলক্রমেও আগ্রাসী পদক্ষেপ নিলে পুরো অঞ্চলটাই অস্থির হয়ে উঠতে পারে।”

বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, এই উত্তেজনা শুধুই সামরিক নয়, বরং বাণিজ্যিক ও কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্ব বহন করছে। দক্ষিণ চীন সাগর দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সামুদ্রিক বাণিজ্য হয়, ফলে এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

আন্তর্জাতিক

View more
‘ইমাম-উলামা’দের চাপে কনসার্টের অনুমতি বাতিল
‘ইমাম-উলামা’দের চাপে কনসার্টের অনুমতি বাতিল

  ইমাম-উলামা পরিষদের আপত্তির পর কিশোরগঞ্জে পূর্বনির্ধারিত একটি কনসার্টের অনুমতি বাতিল করেছে জেলা প্রশাসন। বুধবার (১৯ আগস্ট) কিশোরগঞ্জ শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে আলিশান রেস্টুরেন্টের উদ্যোগে কনসার্টটি হওয়ার কথা ছিল। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এতে জনপ্রিয় ব্যান্ড এ্যাশেজ ও সংগীতশিল্পী নোবেল গান পরিবেশন করার কথা ছিল। অনুষ্ঠান ঘিরে স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমী ও সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে প্রশাসনের অনুমতি বাতিলের কারণে কনসার্টটি আর অনুষ্ঠিত হয়নি। আয়োজকরা জানান, গত ১৭ আগস্ট কনসার্ট আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হলেও এর প্রায় ১৫ দিন আগে থেকেই জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদনসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। পরে ১৮ আগস্ট কনসার্ট বন্ধের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা ইমাম-উলামা পরিষদ। আবেদনে গান-বাজনার আয়োজনকে শরিয়তবিরোধী উল্লেখ করে অনুষ্ঠান বন্ধের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে কনসার্টকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কার কথাও জানানো হয়। ইমাম-উলামা পরিষদের সদর উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আহমাদুল্লাহ বলেন, তাদের আবেদনের পর জেলা প্রশাসন কনসার্টের অনুমতি বাতিল করেছে। অন্যদিকে, আয়োজক প্রতিষ্ঠান আলিশান রেস্টুরেন্টের মালিক মো. ইব্রাহীম খলিল বলেন, রেস্টুরেন্টের র‌্যাফেল ড্রয়ের পুরস্কার বিতরণ উপলক্ষে কনসার্টটির আয়োজন করা হয়েছিল। জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করার পর তারা অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতিও পেয়েছিলেন। তবে বুধবার দুপুরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠান না করার কথা জানানো হয়। কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে কনসার্টকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। এ কারণে অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি আয়োজক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স নেই বলেও জানান তিনি। তবে আয়োজকদের দাবি, তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও লাইসেন্স রয়েছে এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় জেলা প্রশাসনের কাছ থেকেই তারা অনুমতি নিয়েছিলেন। এদিকে, শেষ মুহূর্তে কনসার্টের অনুমতি বাতিল হওয়ায় স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি সুস্থ সংস্কৃতি, সংগীত ও বিনোদনের চর্চারও প্রয়োজন রয়েছে।

News আগস্ট ১৯, ২০২৬ 0
নেপালের সেনাবাহিনীর ‘জেনারেল’ হলেন ভারতীয় সেনাপ্রধান

নেপালের সেনাবাহিনীর ‘জেনারেল’ হলেন ভারতীয় সেনাপ্রধান

সৌদিতে নিহত ১৬ প্রবাসীর পরিবার পাবে বিশেষ অনুদান

সৌদিতে নিহত ১৬ প্রবাসীর পরিবার পাবে বিশেষ অনুদান

জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব বাছাইয়ের ভোট আজ

জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব বাছাইয়ের ভোট আজ

ভারতের কেরালায় ইসলাম ত্যাগের চেয়ে ইসলাম গ্রহণের হার বাড়ছে
ভারতের কেরালায় ইসলাম ত্যাগের চেয়ে ইসলাম গ্রহণের হার বাড়ছে

  এবার রাষ্ট্রীয় নানা প্রতিকূলতা, পদ্ধতিগত দমনপীড়ন আর হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর তীব্র তাণ্ডব ও রাষ্ট্রীয় দ্বিচারিতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভারতের মাটিতে এক নীরব, অলৌকিক বিপ্লব ঘটে চলেছে। সত্যের আলো নেভানোর যত চেষ্টাই হচ্ছে, মানুষের হৃদয়ে সেই আলোর তীব্রতা যেন তত বেশি প্রস্ফুটিত হচ্ছে। সব ভয়ভীতি আর সামাজিক প্রতিবন্ধকতাকে পায়ে ঠেলে, কেবল আত্মিক শান্তি আর পরম সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন বহু মানুষ আশ্রয় নিচ্ছেন ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে। এই যেন এক অবিনশ্বর সত্যের জয়গান—যেখানে শত জুলুম আর অপপ্রচারের অন্ধকারকে চিরে ইসলামের শাশ্বত সৌন্দর্য মানুষের অন্তরকে জয় করে চলেছে, এবং সমস্ত বাধা পেরিয়ে কেরালাসহ পুরো ভারতে ইসলামের সুবাস ছড়িয়ে পড়ছে স্বমহিমায়। ভারতের কেরালার সাম্প্রতিক সরকারি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে রাজ্যের ধর্মীয় রূপান্তরের ক্ষেত্রে এক চমকপ্রদ ও ভিন্নমুখী চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সরকারি নথির তথ্য অনুযায়ী, কেরালায় অন্যান্য ধর্মের তুলনায় ইসলাম ত্যাগের চেয়ে ইসলাম গ্রহণের হার যেমন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে, ঠিক তেমনি হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে অন্য ধর্মে চলে যাওয়ার প্রবণতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিগত কয়েক বছরের সরকারি গেজেট ডেটা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এই জনতাত্ত্বিক পরিবর্তনের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। কেরালা সরকারের অফিসিয়াল গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে ইসলাম ধর্ম ত্যাগকারীদের সংখ্যার চেয়ে নতুন করে এই বিশ্বাসের ছায়াতলে আসা মানুষের সংখ্যা বহুগুণ বেশি। সময়ের সাথে সাথে এই ব্যবধান আরও প্রকট ও শক্তিশালী রূপ ধারণ করেছে। ২০২০ সালের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সে বছর কেরালায় মাত্র ৪০ জন ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু এর বিপরীতে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধর্মীয় আদর্শ থেকে ১৪৪ জন নতুন বিশ্বাসী ইসলাম গ্রহণ করেন—যা ত্যাগের তুলনায় গ্রহণের হার প্রায় সাড়ে তিন গুণেরও (৩.৬ গুণ) বেশি ছিল। এই নবাগতদের সিংহভাগই (৭৭%) এসেছিলেন হিন্দু সম্প্রদায় থেকে, যার মধ্যে একটি বড় অংশ (৬৩%) ছিলেন নারী। বিশেষ করে ইঝাভা, থিয়্যা এবং নায়ারের মতো প্রতিষ্ঠিত হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরাই বেশি সংখ্যায় ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। চার বছরের ব্যবধানে, ২০২৪ সালের সাম্প্রতিক গেজেট ডেটাতে এই প্রবণতা আরও নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেতে দেখা যায়। ২০২৪ সালে কেরালায় মোট ৫৭ জন ব্যক্তি ইসলাম ত্যাগ করলেও (৩৬ জন হিন্দু ধর্মে এবং ২১ জন খ্রিষ্ট ধর্মে), তার বিপরীতে সম্পূর্ণ ভিন্ন আদর্শ থেকে রেকর্ড সংখ্যক ৩৪৩ জন মানুষ (২৭৬ জন হিন্দু এবং ৬৭ জন খ্রিষ্টান) নতুন করে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই বছর কেরালায় ইসলাম ত্যাগের তুলনায় ইসলাম গ্রহণের অনুপাতিক হার প্রায় ৬ গুণ (৬.০১ গুণ) বেশি। নেট বা নিট পরিবর্তনের এই বিশাল ব্যবধান প্রমাণ করে যে, কেরালায় ধর্মীয় রূপান্তরের ক্ষেত্রে ইসলামই সবচেয়ে বড় ইতিবাচক ও স্থিতিশীল অবস্থান ধরে রেখেছে। ইসলামের এই রকেটের গতিতে বৃদ্ধির বিপরীতে হিন্দু ধর্মের ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানটি বেশ উদ্বেগজনক। ডেটা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কেরালায় হিন্দু ধর্ম গ্রহণের চেয়ে হিন্দু ধর্ম ত্যাগের (অন্য ধর্মে চলে যাওয়ার) হার ও সংখ্যা দিন দিন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২০ সালের তথ্যে দেখা যায়, কেরালায় ২৪১ জন ব্যক্তি অন্য ধর্ম থেকে হিন্দু ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিলেন। তবে এই ধর্মান্তরের ভেতরের চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সরকারি পরিসংখ্যান মতে, হিন্দু ধর্মে আসা এই ব্যক্তিদের মধ্যে ৭২% মানুষই ছিলেন মূলত দলিত খ্রিষ্টান (যেমন—খ্রিষ্টান চেরামার, খ্রিষ্টান সাম্বাভা এবং খ্রিষ্টান পুলায়া)। তারা মূলত খ্রিষ্টান ধর্মে স্থানান্তরিত হওয়ার কারণে দলিতদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি কোটা বা রিজার্ভেশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। ফলে কেবল সেই আইনি ও অর্থনৈতিক সুবিধা ফিরে পেতেই তারা কাগজে–কলমে পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে আসতে বাধ্য হন। অর্থাৎ, এটি কোনো আত্মিক আকর্ষণে নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সুযোগ–সুবিধা পাওয়ার একটি কৌশলগত বাধ্যবাধকতা ছিল মাত্র। অন্যদিকে, সে বছর ইসলাম থেকে হিন্দু ধর্মে এসেছিলেন মাত্র ৩২ জন। কিন্তু ২০২৪ সালের কেরালা স্টেট গেজেটের ডেটায় হিন্দু ধর্ম ত্যাগের এক অভাবনীয় ও ব্যাপক চিত্র সামনে এসেছে, যেখানে হিন্দু ধর্মে আসার চেয়ে তা ছেড়ে যাওয়ার হার অনেক বেশি। ২০২৪ সালে অন্য ধর্ম (ইসলাম ও খ্রিষ্টান) থেকে হিন্দু ধর্মে এসেছেন সর্বমোট ৩৬৫ জন (যার মধ্যে খ্রিষ্টান থেকে ৩২৯ জন এবং ইসলাম থেকে মাত্র ৩৬ জন)। এর বিপরীতে, ২০২৪ সালে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে অন্য ধর্মে চলে গেছেন রেকর্ড সংখ্যক ৫১০ জন মানুষ! এর মধ্যে সরাসরি ইসলাম গ্রহণ করেছেন ২৭৬ জন এবং খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছেন ২৩৪ জন। অর্থাৎ, চার বছরের ব্যবধানে ইসলাম ত্যাগ করে হিন্দু ধর্ম গ্রহণের সংখ্যা প্রায় স্থিতিশীল (২০২০ সালে ৩২ জন এবং ২০২৪ সালে ৩৬ জন) থাকলেও, হিন্দু ধর্ম থেকে সরাসরি ইসলাম গ্রহণের হার দ্বিগুণেরও বেশি (২০২০ সালে ১১১ জন থেকে ২০২৪ সালে ২৭৬ জন) বৃদ্ধি পেয়েছে। সামগ্রিক সরকারি গেজেট ও পরিসংখ্যানের এই তুলনামূলক চিত্রটি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় প্রমাণ করে যে, কেরালায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার প্রবণতা শুধু বজায়–ই নেই, বরং তা নাটকীয় গতিতে বাড়ছে। অন্যদিকে, হিন্দু ধর্মে ফেরার বিষয়টি অনেকাংশে সরকারি সুযোগ–সুবিধা ও কোটা ব্যবস্থার আইনি মারপ্যাঁচের সাথে যুক্ত হলেও, স্বতঃস্ফূর্তভাবে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ও অন্যান্য ধর্মে চলে যাওয়ার হার সমাজ ও জনমিতির জন্য একটি শক্তিশালী ও বাস্তব পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সূত্র: নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস/নিউজলন্ড্রি

News জুলাই ১, ২০২৬ 0
পাকিস্তানের হামলায় নিহত সেনাদের সংখ্যা গোপন করেছে মোদি সরকার

পাকিস্তানের হামলায় নিহত সেনাদের সংখ্যা গোপন করেছে মোদি সরকার

আজকের চুক্তি মোজতবা খামেনির কাছে ট্রাম্পের আত্মসমর্পণ

আজকের চুক্তি মোজতবা খামেনির কাছে ট্রাম্পের আত্মসমর্পণ

ধৈর্যেরও একটা সীমা আছে, আমিরাতকে হুঁশিয়ারি ইরানের

ধৈর্যেরও একটা সীমা আছে, আমিরাতকে হুঁশিয়ারি ইরানের

বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ে জাতিসংঘের জরুরি সতর্কবার্তা: জুলাইতে নতুন তাপমাত্রার রেকর্ডের আশঙ্কা

জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা আরও একবার সামনে এনে জাতিসংঘ একটি জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে। সংস্থাটির বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে পৃথিবীজুড়ে গড় তাপমাত্রা পূর্ববর্তী সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। গত কয়েক মাস ধরেই বৈশ্বিক উষ্ণতা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ২০২4 সালের জুলাই ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে গরম মাস, কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, চলতি বছর সেই রেকর্ড ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি। গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ও এল নিনোর মতো প্রাকৃতিক ঘটনার মিলিত প্রভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, “এই সংকেত মোটেও অবহেলা করার মতো নয়। জলবায়ু পরিবর্তন এখন ভবিষ্যতের ভয় নয়, এটি বর্তমানের বাস্তব দুর্যোগ।”   রেকর্ডভাঙা উষ্ণতা ও এর পরিণতি WMO-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসেই গড় বৈশ্বিক তাপমাত্রা শিল্পপূর্ব সময়ের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। এটি প্যারিস জলবায়ু চুক্তির প্রধান সীমা অতিক্রম করার আশঙ্কাকে বাস্তব করে তুলেছে। বিশেষ করে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি অঞ্চলে আগেই অস্বাভাবিক দাবদাহ শুরু হয়েছে। ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানল, স্পেনে জলসংকট এবং চীনের নদীগুলোতে পানি শুকিয়ে যাওয়া—এইসব ঘটনা বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবের সরাসরি উদাহরণ। এ ছাড়া গলছে হিমবাহ, বাড়ছে সমুদ্রের উচ্চতা, এবং খরার কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে অনেক দেশে। জাতিসংঘ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, তাপমাত্রার এই রেকর্ডব্রেকিং ধারা অব্যাহত থাকলে লাখো মানুষ খাদ্যসংকটে পড়বে এবং জলবায়ু উদ্বাস্তু হওয়ার হার উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।   জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়তে থাকলেও পৃথিবীর বড় অর্থনীতিগুলো কার্বন নিঃসরণ কমাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “জলবায়ু সংকটের সময়েও কয়লা পোড়ানো এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা চলতে পারে না। সময় এসেছে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে সাহসিকতার সঙ্গে।” এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান নির্গমন কমানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা বললেও বাস্তবায়নে গতি কম। চীন ও ভারতের মতো উন্নয়নশীল শক্তিগুলোও উন্নয়ন চাহিদার দোহাই দিয়ে নিঃসরণ কমাতে দ্বিধাগ্রস্ত। তবে কিছু ইতিবাচক উদ্যোগও রয়েছে। সম্প্রতি ৫০টিরও বেশি দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার কিছু দেশ পরিবেশবান্ধব নীতিমালায় সরে আসছে। বিশ্বজুড়ে জলবায়ু আন্দোলনকারীরা আবারও রাস্তায় নামার ঘোষণা দিয়েছে। তারা বলছে, “এই লড়াই শুধু পরিবেশের নয়, এটি মানবতার অস্তিত্বের লড়াই।”   পরিস্থিতি মোকাবেলায় বৈশ্বিক ঐক্য ছাড়া কোনো পথ নেই বলে জানিয়েছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। জুলাই মাসে রেকর্ড তাপমাত্রা যদি সত্যিই বাস্তবে পরিণত হয়, তবে সেটি হবে মানবজাতির জন্য এক বড় সতর্ক সংকেত। বিশ্ব এখন অপেক্ষা করছে—এই সংকেতকে নেতারা কতটা গুরুত্ব দেন, আর মানুষ কতটা প্রস্তুত থাকে এক বিপজ্জনক ভবিষ্যতের মুখোমুখি হতে।

News জুন ২৮, ২০২৫ 0

রাশিয়ার সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে ইউক্রেনের আলোচনা জোরালো

চীনের সঙ্গে উত্তেজনা: দক্ষিণ চীন সাগরে ফের যুক্তরাষ্ট্রের নৌমহড়া

ইরানকে আলোচনায় ফেরাতে গোপনে তৎপর যুক্তরাষ্ট্র

ইরানকে আলোচনায় ফেরাতে গোপনে তৎপর যুক্তরাষ্ট্র

0 Comments