কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম নগরে আসার পথে পুলিশের এক সদস্যের কাছ থেকে এক লাখ ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করে নগরের বাকলিয়া থানা-পুলিশ। তবে এ ঘটনায় মামলা না করে হাতিয়ে নেওয়া হয় উদ্ধার করা ইয়াবা বড়ি। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নির্দেশে ছেড়ে দেওয়া হয় বহনকারীকে। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন ওসি।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের করা এক তদন্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এ প্রতিবেদন গত ২৯ এপ্রিল পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনাটি ঘটে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর। যাঁর কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার হয়, তাঁর সঙ্গে আরেক ব্যক্তির কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. ওয়াহিদুল হক চৌধুরীকে প্রধান করে পুলিশের ওই তদন্ত কমিটি করা হয়।
ঘটনার সময় বাকলিয়া থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন আফতাব উদ্দিন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার ওসি। তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর আট পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হলেও ওসি আফতাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আল-আমিন সরকার, এসআই মো. আমির হোসেন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সাইফুল আলম, এএসআই জিয়াউর রহমান, এএসআই সাদ্দাম হোসেন, এএসআই এনামুল হক, কনস্টেবল রাশেদুল হাসান ও কনস্টেবল উম্মে হাবিবা স্বপ্না।
যে পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করার অভিযোগ উঠেছে, তাঁর নাম ইমতিয়াজ হোসেন। কক্সবাজার জেলা আদালতের এক বিচারকের গানম্যান ছিলেন তিনি। ঘটনার পর তাঁকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সর্বশেষ এ ঘটনায় ৯ জুন বাকলিয়া থানার পরিদর্শকের (তদন্ত) দায়িত্বে থাকা তানভীর আহমেদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ ঘটনার প্রায় ছয় মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে মামলার সুপারিশ করা হয়। আত্মসাৎ হওয়া ইয়াবা বড়িও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি গ্রেপ্তার হননি ইয়াবা পাচারে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য।
পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে ওসিকে অভিযুক্ত করে বলা হয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৪৬ ধারার বিধান অনুযায়ী মাদকদ্রব্য–সংক্রান্ত অপরাধগুলো আমলযোগ্য অপরাধ। তা সত্ত্বেও কোনো ব্যক্তিকে মাদকসহ আটকের পর ওসি মামলা না করে পিআরবির (বাংলাদেশ পুলিশ প্রবিধান) ২৪৪ বিধি লঙ্ঘন করেছেন। একই সঙ্গে পুলিশ আইনের ২৯ ধারার অপরাধ করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাকলিয়া থানার তৎকালীন ওসি আফতাব উদ্দিন ইয়াবা গায়েবের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেননি। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও সংরক্ষণ করেননি। অভিযানে থাকলেও বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ ওসির নির্দেশে ইয়াবা বহনকারীকে ছেড়ে দেন। পরিদর্শক তানভীরের সঙ্গে অভিযানে ছিলেন বাকলিয়া থানার আরও আট পুলিশ সদস্য। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও ফৌজদারি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং নিয়মিত মামলার সুপারিশ করা হয় তদন্ত প্রতিবেদনে।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুস সাত্তার প্রথম আলোকে বলেন, মাদক উদ্ধারের অপরাধটি আমলযোগ্য হলেও সংশ্লিষ্ট থানার ওসি ইয়াবাসহ আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দিয়ে অপরাধ করেছেন। ফৌজদারি মামলা করে ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা, আলামত উদ্ধার হওয়া সত্ত্বেও কেন এফআইআর (এজাহার) ও জব্দ তালিকা প্রস্তুত হয়নি, তা তদন্ত করা উচিত। মাদক গোপনে হস্তান্তর করে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে কোনো বেআইনি সুবিধা দেওয়া হয়েছে কি না, এসব বিষয়ও জানতে হবে।
যেভাবে আত্মসাৎ করা হয় ইয়াবা
ছয় পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কনস্টেবল ইমতিয়াজ কক্সবাজারের মো. মোশাররফ নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে এক লাখ ইয়াবাভর্তি একটি লাগেজ ঢাকাগামী একটি বাসে করে নিয়ে আসেন। এর বিনিময়ে তাঁকে ৮০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা। দেশ ট্রাভেলসের (ঢাকা মেট্রো ব ১৫-১৬৪২) বাসটি কর্ণফুলী নদীর শাহ আমানত সেতু পার হওয়ার পর বাকলিয়া থানার এএসআই সাদ্দাম হোসেন ও সাদাপোশাকে থাকা পুলিশের এক সোর্স বাসটিতে ওঠেন। তখন তাঁরা বাসে ঘুমন্ত যাত্রী ইমতিয়াজকে জাগিয়ে তোলেন। ওই সময় তিনি নিজেকে পুলিশ পরিচয় দেন এবং তাঁর পরিচয়পত্র দেখান। এরপর ইমতিয়াজকে বাস থেকে নামিয়ে পুলিশ বক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর দুই পুলিশ সদস্য এসে বাস থেকে ইমতিয়াজের লাগেজটি পুলিশ বক্সে নিয়ে যান। ওই সময় বাসের সুপারভাইজার মো. মিজান পুলিশ বক্সে গেলেও এসআই আমির হোসেন তাঁকে বাস নিয়ে চলে যেতে বলেন। তখন চালক মো. সুলতান গাড়ি নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে চলে যান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ সদস্য ইমতিয়াজ বলেন, পুলিশ বক্সে সাদাপোশাকে বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ, এসআই আল–আমিন সরকার দাঁড়ানো অবস্থায় ছিলেন। পুলিশ বক্সের ভেতর ইমতিয়াজের লাগেজটি খোলেন সাদাপোশাকে থাকা পুলিশের সোর্স। লাগেজ সামান্য খুলে ভেতরে ইয়াবা দেখতে পেয়ে আবার লাগেজের মুখ লাগিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় ইমতিয়াজ তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। পুলিশ সদস্যরা নিজেদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করেন। পরে ইমতিয়াজের সামনে লাগেজের ভেতর থেকে ইয়াবার প্যাকেটগুলো খোলা হয়। প্রতি প্যাকেটে ১০ হাজার করে ১ লাখ ইয়াবা ছিল।
পরে পুলিশ সদস্যরা সব ইয়াবা নিজেদের দখলে নিয়ে কাপড়চোপড়সহ লাগেজটি ইমতিয়াজকে দিয়ে দেন। তিনি পুলিশ বক্স থেকে বেরিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে নগরের অলংকার মোড় বাসস্ট্যান্ডে যান। সেখান থেকে কুমিল্লায় গ্রামের বাড়িতে চলে যান।
বাকলিয়া থানার ওসি আফতাব উদ্দিনের নির্দেশেই ইয়াবা বড়িগুলো ছেড়ে দেওয়া হয় বলে উল্লেখ করা হয় তদন্ত প্রতিবেদনে। জানতে চাইলে আফতাব উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইয়াবার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি আত্মসাৎ করিনি। ঘটনার সময় আমি বাসায় ছিলাম।’
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ, এসআই আল–আমিন সরকার, আমির হোসেন, এএসআই সাদ্দাম হোসেন, কনস্টেবল ইমতিয়াজের কাছ থেকে এক লাখ ইয়াবা উদ্ধার করে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে ছেড়ে দেওয়া এবং আত্মসাৎ করে অপরাধ করেছেন। এ ছাড়া এএসআই সাইফুল আলম, জিয়াউর রহমান, এনামুল হক, কনস্টেবল রাশেদুল, উম্মে হাবিবা স্বপ্না পুলিশ সদস্যদের অবৈধ কার্যকলাপে সহযোগিতা এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সরাসরি মিথ্যাচার করে অপরাধ করেছেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়ের এবং তদন্তের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা ইয়াবা উদ্ধার, ইয়াবা সরবরাহকারী মোশাররফকে গ্রেপ্তার, তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের সঙ্গে থাকা সাধারণ চেকারদের নাম-ঠিকানা উদ্ঘাটন করতে সুপারিশ করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. ওয়াহিদুল হক চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ইয়াবাসহ পুলিশ সদস্যকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আটজনকে সাময়িক বরখাস্তের সুপারিশ করা হয়েছিল। পরে তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও ফৌজদারি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং নিয়মিত মামলার সুপারিশও করা হয় তদন্ত প্রতিবেদনে। এ ছাড়া বাকলিয়া থানার তৎকালীন ওসি ও পরিদর্শক তদন্তকে সাময়িক বরখাস্তের সুপারিশ করা হয় পুলিশ সদর দপ্তরে। এরপর ৯ জুন বাকলিয়া থানার পরিদর্শক তদন্ত তানভীর আহমেদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এদিকে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাকলিয়া থানার আট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এটির তদন্ত করছেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (পশ্চিম) আবদুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আটজনের বিরুদ্ধে এখনো তদন্ত চলছে।’
উল্লেখ্য, কনস্টেবল থেকে এসআই পর্যন্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের কমিশনার কিংবা পুলিশ সুপার বরখাস্ত করতে পারেন। পরিদর্শককে বরখাস্ত করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি)।
আত্মসাৎ করা এক লাখ ইয়াবা উদ্ধার না হওয়া এবং নিয়মিত মামলা না করার বিষয়ে জানতে চাইলে সদ্য যোগ দেওয়া নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইয়াবা গায়েবে এত দিন কেন নিয়মিত মামলা হয়নি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান জিরো টলারেন্স।’
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের প্রত্যাশা, সরকার উদ্যোগী হলে দেশটিতে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি ফোরাম (বিআরএএফ)। সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কাজে লাগাতে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের প্রত্যাশা সার্বিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রত্যাশা, দেশটিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তাঁদের মতে, বিদেশে কাজের সুযোগ যেন স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং চাকরিপ্রত্যাশীরা যেন প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও অনিশ্চয়তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নিয়োগকর্তার পরিচয়, কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন, চাকরির চুক্তি এবং ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সার্বিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করা হবে। এতে বাংলাদেশের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন দেশে কী ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন, কী কী নথি জমা দিতে হবে এবং ছাড়পত্র পেতে কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। তাঁদের প্রত্যাশা, বিএমইটি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা কমবে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত চাকরির শর্ত যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমন্বয়ই পারে বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকে আরও গতিশীল করতে। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার দাবি সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি সার্বীয় দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, শ্রমবাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের সহায়তা এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বাস্তব চাহিদা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ সংশ্লিষ্টদের সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের সম্ভাবনা যাচাই, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেবেন। একই সঙ্গে সার্বিয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন নতুন দেশে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধান, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য শ্রমিকের চাহিদা যাচাই, নিয়োগকর্তার সক্ষমতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি অনুমোদনের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার, বিএমইটি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বশীল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই—এই বিষয়গুলোতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ও জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের। মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
২০২৭ সালে পবিত্র ঈদুল ফিতরে ৫ দিন এবং ঈদুল আজহায় ৬ দিন সরকারি ছুটি থাকতে পারে। এ ছাড়া শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ছুটি থাকবে ২ দিন। ২০২৭ সালের ছুটির সম্ভাব্য এই খসড়া প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার পরবর্তী বৈঠকে এই ছুটির তালিকা অনুমোদন পেলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে। যেভাবে বিন্যস্ত হচ্ছে প্রধান ছুটির দিনগুলো ঈদুল ফিতর: ঈদুল ফিতরের মূল দিনে থাকবে সাধারণ ছুটি। এ ছাড়া ঈদের আগে ২ দিন এবং পরে ২ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে ঈদুল ফিতরে মোট ছুটি দাঁড়াচ্ছে ৫ দিন। ঈদুল আজহা: ঈদুল আজহার দিনে সাধারণ ছুটির পাশাপাশি ঈদের আগে ২ দিন এবং পরে ৩ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটির পরিকল্পনা করা হয়েছে। ফলে ঈদুল আজহা উপলক্ষে মোট ছুটি থাকবে ৬ দিন। শারদীয় দুর্গাপূজা: বিজয়া দশমীর দিন থাকবে সাধারণ ছুটি এবং মহানবমীর দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। ফলে পূজায় মোট ছুটি মিলবে ২ দিন। ২০২৭ সালের ছুটির মোট হিসাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ সালে সাধারণ ও নির্বাহী আদেশ মিলিয়ে মোট সরকারি ছুটি হতে পারে ২৯ দিন। এর মধ্যে সাধারণ ছুটি ১৫ দিন এবং নির্বাহী আদেশের ছুটি ১৪ দিন। তবে এই ২৯ দিন ছুটির মধ্যে ৭ দিন পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবারে (সাধারণ ছুটির ৪ দিন এবং নির্বাহী আদেশের ৩ দিন সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলে গেছে)
বহিরাগতরা বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার আশুলিয়ার সরকার মার্কেটে নেক্সট কালেকশন লিমিটেড পোশাক কারখানায় হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে।এই হামলার সময় কয়েকজন বহিরাগত মুখোশ ও হেলমেট পরে হাতে লাঠি নিয়ে কারখানার ভেতরে প্রবেশ করে। তারা কারখানার ভাঙচুর চালায় এবং এক নিরাপত্তাকর্মীর মাথায় আঘাত করে।হামলায় আহত নিরাপত্তাকর্মীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। কারখানার নির্বাহী পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন জানান, হামলার পর শ্রমিকরা কারখানা ছুটি ঘোষণার পর বের হয়ে যান।তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।কারখানাটিতে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। সিসি ক্যামেরা ও একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার সকালে সচিবালয়ে তার দপ্তরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে একটি স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেছেন।এই স্মারক ডাকটিকিটের মূল্য ১০ টাকা। এছাড়াও, একটি উদ্বোধনী খামও উন্মোচন করা হয়েছে।অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, ডাক, টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, সচিব মো. কামরুজ্জামান, ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ মেহেদুল ইসলামও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।