নিয়োগবিধি চূড়ান্ত না করেই বাংলাদেশ রেলওয়ের ৮৫ কর্মকর্তাকে নবম গ্রেড থেকে ষষ্ঠ গ্রেডে পদোন্নতি দেওয়ার তোড়জোড় চলছে। আজ রোববার বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির সভায় এ সংক্রান্ত প্রস্তাব উঠতে যাচ্ছে। প্রশাসনিক বিধি-বিধান ও সুশাসন উপেক্ষা করে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ এবং পদোন্নতি প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন কমিটির সদস্যরাও। পর্যাপ্ত আইনি ভিত্তি ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে পদোন্নতি সুপারিশকারী কর্মকর্তারা পরবর্তীতে বড় ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার সম্মুখীন হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সাবেক আমলা ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা। রেলওয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, রোববার বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভা আহ্বান করা হয়েছে। সভায় বিসিএস (রেলওয়ে) ক্যাডারের ৬ষ্ঠ গ্রেডের একাধিক শূন্য পদের বিপরীতে কর্মকর্তা পদোন্নতির প্রস্তাব তোলা হচ্ছে।
এর মধ্যে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৫টি পদের বিপরীতে ৮ জন, পরিবহন ও বাণিজ্যিক বিভাগের ২৭টির বিপরীতে ৭, বৈদ্যুতিক বিভাগের ৯টির বিপরীতে ৩, যান্ত্রিক বিভাগের ১৯টির বিপরীতে ১, সংকেত ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ১০টির বিপরীতে ২ এবং সরঞ্জাম বিভাগের ৫টি শূন্য পদের বিপরীতে ১ জনসহ মোট ৮৫টি পদে পদোন্নতির প্রস্তাব সভার আলোচ্যসূচিতে রয়েছে।
রেলওয়ে সচিবের সভাপতিত্বে পদোন্নতি কমিটিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্তি সচিব, রেলওয়ের মহাপরিচালক, অর্থমন্ত্রণালয় ও জন-প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন করে যুগ্মসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে কমিটির সদস্য করা হয়েছে। তাদের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া হবে।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০২১ সালের বিতর্কিত নিয়োগবিধি বাতিল হওয়ার পর নতুন বিধিমালা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে নতুন বিধিমালার প্রস্তাব পর্যালোচনাধীন থাকলেও তা চূড়ান্ত অনুমোদিত হয়নি। অথচ বিধিমালা ছাড়াই পদোন্নতি প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ নিয়ে বিভাগীয় কমিটির সদস্যরা চাপে রয়েছেন।
নবম থেকে ষষ্ঠ গ্রেডে উন্নীতের প্রস্তাব ডিপিসির সভায় উঠছে আজ
বিধি চূড়ান্ত না হওয়ায় বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন, দ্বিধান্বিত কমিটির সদস্যরা
পরবর্তীতে প্রশ্নবিদ্ধ বা বাতিল হতে পারে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া
বিভাগীয় মামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন সুপারিশকারী কর্মকর্তারা
সুশাসনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলেছেন সাবেক আমলা ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা
এ প্রসঙ্গে রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন আমার দেশকে বলেন, প্রায় ৪৭ হাজার জনবলের খসড়া নিয়োগ বিধিমালার আলোকে রেলে কিছু নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। বর্তমানে ওই খসড়া নিয়োগ বিধিমালার আলোকেই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পদোন্নতি সংক্রান্ত ডিপার্টমেন্টাল প্রমোশন কমিটির সব কার্যক্রম রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারাধীন। এর সবকিছু মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই করবে। তাই এ সংক্রান্ত সব প্রশ্নের জবাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দিতে পারবে বলে জানান রেলওয়ের ডিজি।
আজ রোববার রেলওয়ে বিভাগে কর্মরত অফিসারদের পদোন্নতির সভা অনুষ্ঠানের বিষয়টি স্বীকার করেন রেলওয়ের অতিরিক্ত সচিব ও কমিটির সদস্য রুপম আনোয়ার। তিনি আমার দেশকে বলেন, এ সংক্রান্ত বিষয়ে কিছু জানার দরকার হলে তথ্য অধিকারের বিধান অনুযায়ী আবেদন করার জন্য এ প্রতিবেদককে পরামর্শ দেন।
তবে, অর্থমন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ও পদোন্নতি কমিটির সদস্য মোস্তাক আহমেদ এ প্রসঙ্গে আমার দেশকে বলেন, নিয়োগবিধি আছে কি নেই, এখনও আমি জানি না। যদি না থাকে তাহলে অতীতের রেফারেন্স অনুসরণ করা হবে। কারণ পদোন্নতি একজন চাকরিজীবীর নৈতিক অধিকার। তারপরও বলব আমি একজন চাকরিজীবী এবং আমাকে নৈতিক জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সব কিছু পর্যালোচনার পর যদি মনে হয়, পদোন্নতির সুপারিশ করার সুযোগ রয়েছে তাহলে একরকম। আর যদি না থাকে তাহলে ভিন্নতা।
এর পরও আমাকে যদি নৈতিক সমর্থন পেতে ওপর থেকে কোনো চাপ প্রয়োগ করা হয়, তাহলে নিজের আত্মরক্ষার্থে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিব। বিধি ও রুলস অব প্রসিডিউর-এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।
কমিটির অপর সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি যুগ্মসচিব রায়হান আখতার এ প্রসঙ্গে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। পদোন্নতির সুপারিশ করার ক্ষেত্রে নিয়োগবিধি থাকা জরুরি কী না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা না থাকলে তো বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটি গঠন ও সভা আহ্বান করার কথা না। কমিটির সভায় আলোচনার পর বিষয়টি তার কাছে আরো স্পষ্ট হবে বলে জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিধিবহির্ভূত বা অনুশাসনের ওপর ভিত্তি করে পদোন্নতি দেওয়া হলে পদোন্নতি কমিটির সদস্যদের ওপর আইনি দায়ভার এসে বর্তাবে। জনপ্রশাসন ও সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী, বৈধ পদোন্নতি বিধি ব্যতিরেকে পদোন্নতির অনুমোদন দেওয়া ‘রুলস অব প্রসিডিউর’ এবং সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালার সরাসরি লঙ্ঘন।
সূত্রটি আরো জানায়, পদোন্নতি কমিটির কোনো সদস্য যদি নিয়মবহির্ভূত পদোন্নতির নথিতে স্বাক্ষর করেন, তবে পরবর্তীতে অডিট কিংবা আদালত থেকে এ বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে তা সরাসরি ‘অসদাচরণ’ ও ‘দায়িত্বে অবহেলা’ হিসেবে গণ্য হবে। এমনকি আইনগত বৈধতা না থাকায় উক্ত পদোন্নতি বাতিল হলে পদোন্নতি কমিটির সদস্যরা প্রশাসনিক তদন্ত, বিভাগীয় মামলা কিংবা পদোন্নতি সংক্রান্ত সুবিধা আটকে যাওয়ার মতো গুরুতর পেশাগত ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
এদিকে, নিয়ম বহির্ভূতভাবে পদোন্নতি দেওয়ার এই তোড়জোড়কে সুশাসনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সাবেক আমলারা। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আবদুল আউয়াল মজুমদার আমার দেশকে বলেন, নিয়োগবিধি হচ্ছে যেকোনো পদোন্নতির মূল আইনগত ভিত্তি। বিধিমালা চূড়ান্ত না করে কিংবা বাতিল হওয়া বিধির ওপর নির্ভর করে পদোন্নতি দেওয়া কোনোভাবেই সমীচীন নয়। এটি সরকারি চাকরি বিধিমালা ও প্রশাসনিক নীতিশাস্ত্রের পরিপন্থী।
তিনি বলেন, পদোন্নতি না হলে কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক, তবে এর সমাধান তড়িঘড়ি কোনো বেআইনি পদক্ষেপে হতে পারে না। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর উচিত দ্রুত নতুন বিধিমালা জারি করে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে পদোন্নতি সম্পন্ন করা। অন্যথায় পরবর্তীতে পুরো পদোন্নতি প্রক্রিয়া আইনিভাবে বাতিল হতে পারে এবং কমিটির সদস্যরাও বিপদে পড়তে পারেন।
ক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন পদোন্নতি না হওয়ায় যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি বলেও সাবেক আমলারা মত দিয়েছেন। তাদের মতে, ১৯৮০ সালের পুরোনো বিধিমালা পর্যালোচনা কিংবা চলমান প্রস্তাবিত নতুন বিধিমালার দ্রুত গেজেট প্রকাশ না করে পদোন্নতি ত্বরান্বিত করা হলে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। বিধিমালা চূড়ান্ত করে তবেই পদোন্নতি কমিটি গঠন ও সুপারিশ করার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের প্রত্যাশা, সরকার উদ্যোগী হলে দেশটিতে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি ফোরাম (বিআরএএফ)। সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কাজে লাগাতে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের প্রত্যাশা সার্বিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রত্যাশা, দেশটিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তাঁদের মতে, বিদেশে কাজের সুযোগ যেন স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং চাকরিপ্রত্যাশীরা যেন প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও অনিশ্চয়তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নিয়োগকর্তার পরিচয়, কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন, চাকরির চুক্তি এবং ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সার্বিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করা হবে। এতে বাংলাদেশের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন দেশে কী ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন, কী কী নথি জমা দিতে হবে এবং ছাড়পত্র পেতে কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। তাঁদের প্রত্যাশা, বিএমইটি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা কমবে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত চাকরির শর্ত যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমন্বয়ই পারে বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকে আরও গতিশীল করতে। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার দাবি সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি সার্বীয় দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, শ্রমবাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের সহায়তা এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বাস্তব চাহিদা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ সংশ্লিষ্টদের সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের সম্ভাবনা যাচাই, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেবেন। একই সঙ্গে সার্বিয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন নতুন দেশে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধান, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য শ্রমিকের চাহিদা যাচাই, নিয়োগকর্তার সক্ষমতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি অনুমোদনের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার, বিএমইটি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বশীল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই—এই বিষয়গুলোতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ও জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের। মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
২০২৭ সালে পবিত্র ঈদুল ফিতরে ৫ দিন এবং ঈদুল আজহায় ৬ দিন সরকারি ছুটি থাকতে পারে। এ ছাড়া শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ছুটি থাকবে ২ দিন। ২০২৭ সালের ছুটির সম্ভাব্য এই খসড়া প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার পরবর্তী বৈঠকে এই ছুটির তালিকা অনুমোদন পেলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে। যেভাবে বিন্যস্ত হচ্ছে প্রধান ছুটির দিনগুলো ঈদুল ফিতর: ঈদুল ফিতরের মূল দিনে থাকবে সাধারণ ছুটি। এ ছাড়া ঈদের আগে ২ দিন এবং পরে ২ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে ঈদুল ফিতরে মোট ছুটি দাঁড়াচ্ছে ৫ দিন। ঈদুল আজহা: ঈদুল আজহার দিনে সাধারণ ছুটির পাশাপাশি ঈদের আগে ২ দিন এবং পরে ৩ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটির পরিকল্পনা করা হয়েছে। ফলে ঈদুল আজহা উপলক্ষে মোট ছুটি থাকবে ৬ দিন। শারদীয় দুর্গাপূজা: বিজয়া দশমীর দিন থাকবে সাধারণ ছুটি এবং মহানবমীর দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। ফলে পূজায় মোট ছুটি মিলবে ২ দিন। ২০২৭ সালের ছুটির মোট হিসাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ সালে সাধারণ ও নির্বাহী আদেশ মিলিয়ে মোট সরকারি ছুটি হতে পারে ২৯ দিন। এর মধ্যে সাধারণ ছুটি ১৫ দিন এবং নির্বাহী আদেশের ছুটি ১৪ দিন। তবে এই ২৯ দিন ছুটির মধ্যে ৭ দিন পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবারে (সাধারণ ছুটির ৪ দিন এবং নির্বাহী আদেশের ৩ দিন সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলে গেছে)
বহিরাগতরা বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার আশুলিয়ার সরকার মার্কেটে নেক্সট কালেকশন লিমিটেড পোশাক কারখানায় হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে।এই হামলার সময় কয়েকজন বহিরাগত মুখোশ ও হেলমেট পরে হাতে লাঠি নিয়ে কারখানার ভেতরে প্রবেশ করে। তারা কারখানার ভাঙচুর চালায় এবং এক নিরাপত্তাকর্মীর মাথায় আঘাত করে।হামলায় আহত নিরাপত্তাকর্মীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। কারখানার নির্বাহী পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন জানান, হামলার পর শ্রমিকরা কারখানা ছুটি ঘোষণার পর বের হয়ে যান।তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।কারখানাটিতে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। সিসি ক্যামেরা ও একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার সকালে সচিবালয়ে তার দপ্তরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে একটি স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেছেন।এই স্মারক ডাকটিকিটের মূল্য ১০ টাকা। এছাড়াও, একটি উদ্বোধনী খামও উন্মোচন করা হয়েছে।অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, ডাক, টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, সচিব মো. কামরুজ্জামান, ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ মেহেদুল ইসলামও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।