অপরাধ

শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাইয়ের ফাঁসি চাইলেন ছাত্রদল নেতা টিপুর স্ত্রী

হোসেন মাঝি সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ 0
শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাইয়ের ফাঁসি চাইলেন ছাত্রদল নেতা টিপুর স্ত্রী
ক্রসফায়ারে দুজনকে

 


বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ক্রসফায়ারে দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চারজনের ফাঁসি দাবি করেছেন ছাত্রদল নেতা টিপু হাওলাদারের স্ত্রী সুমা আক্তার।


মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীরের একক বেঞ্চে জবানবন্দি শেষে তিনি এ বিচার চান। এ মামলায় ২০ নম্বর সাক্ষী হিসেবে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। 

জবানবন্দির একপর্যায়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুমা আক্তার বলেন, আমার দুটি মেয়ে রয়েছে। স্বামী হত্যাকাণ্ডের সময় তারা খুব ছোট ছিল। দেশে যেন এমন কোনো ঘটনা আর না ঘটে, সেজন্য নিজে ও সন্তানদের পক্ষে আমি বরিশাল-১ আসনের সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) একেএম এহসান উল্লাহসহ গ্রেপ্তার যে দুই পুলিশ সদস্য আমার স্বামীকে ক্রসফায়ারে হত্যা হত্যা করেছে, তাদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়ার প্রার্থনা করছি। এসব কথা বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন সাক্ষী। 

টিপু আগৈলঝাড়া উপজেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের শিকার অপরজন হলেন একই উপজেলা জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।


এদিন সকালে এ মামলায় গ্রেপ্তার উজিরপুর থানার সাবেক এএসআই মো. মাহাবুল ইসলাম ও এএসআই জসিম উদ্দিনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তাদের উপস্থিতিতেই জবানবন্দি দেন টিপুর স্ত্রী।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ।

এর আগে, ২০ মে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২ 


প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, টিপু ও কবির ছিলেন আবুল হাসানাতের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। এজন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করেন তিনি। এ কাজ বাস্তবায়ন করতে তৎকালীন এসপি একেএম এহসান উল্লাহকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর মিথ্যা মামলায় ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি দুজনকে গ্রেপ্তার করে উজিরপুর থানা পুলিশ। এরপর মাহাবুল ও জসিমকে দিয়ে গৌরনদী-গোপালগঞ্জ হাইওয়ের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের পাশে টিপু ও কবিরকে ক্রসফায়ারের নাটক সাজিয়ে হত্যা করা হয়।


 

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সম্ভাবনার নতুন শ্রমবাজার সার্বিয়া

মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের প্রত্যাশা, সরকার উদ্যোগী হলে দেশটিতে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি ফোরাম (বিআরএএফ)। সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কাজে লাগাতে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের প্রত্যাশা সার্বিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রত্যাশা, দেশটিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তাঁদের মতে, বিদেশে কাজের সুযোগ যেন স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং চাকরিপ্রত্যাশীরা যেন প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও অনিশ্চয়তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নিয়োগকর্তার পরিচয়, কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন, চাকরির চুক্তি এবং ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সার্বিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করা হবে। এতে বাংলাদেশের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন দেশে কী ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন, কী কী নথি জমা দিতে হবে এবং ছাড়পত্র পেতে কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। তাঁদের প্রত্যাশা, বিএমইটি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা কমবে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত চাকরির শর্ত যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমন্বয়ই পারে বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকে আরও গতিশীল করতে। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার দাবি সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি সার্বীয় দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, শ্রমবাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের সহায়তা এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বাস্তব চাহিদা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ সংশ্লিষ্টদের সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের সম্ভাবনা যাচাই, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেবেন। একই সঙ্গে সার্বিয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন নতুন দেশে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধান, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য শ্রমিকের চাহিদা যাচাই, নিয়োগকর্তার সক্ষমতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি অনুমোদনের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার, বিএমইটি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বশীল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই—এই বিষয়গুলোতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ও জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের। মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক  

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডস হকি ফাইনালে আজ মুখোমুখি

আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত।   আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে।   অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।”   বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।   মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।   বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে।   মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।   বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

অপরাধ

View more
নকশাবহির্ভূত ১০ তলা ভবন নির্মাণ: রাজউকের আশীর্বাদ ও দুর্নীতির নেপথ্যে কারা
নকশাবহির্ভূত ১০ তলা ভবন নির্মাণ: রাজউকের আশীর্বাদ ও দুর্নীতির নেপথ্যে কারা

  রাজধানীর শাহজাহানপুরের আমতলা মসজিদ গলিতে রাজউকের অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে প্রায় ৬ কাঠা জমি ঘিরে ১০ তলা ভবন নির্মাণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে রাজউক ভবন নির্মাণের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। শুধু জমির পরিমাণেই নয়, ভবনের সেটব্যাক, ক্যান্টিলিভার, বারান্দা সম্প্রসারণ এবং নির্মাণবিধি অনুসরণ নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, ভবনমালিকের বক্তব্যসংবলিত একটি তথ্যপত্রে রাজউকের কর্মকর্তাদের পরিদর্শনের সময় টাকা দেওয়ার দাবি উঠে এসেছে। অন্যদিকে, এসব অনিয়মের অভিযোগ রাজউক চেয়ারম্যান বরাবর দাখিলের পর ভবনমালিকের পক্ষ থেকে সাংবাদিক পরিচয়ে অভিযোগকারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—রাজউকের অনুমোদন ও তদারকি ব্যবস্থার আড়ালে কি চলছে অনিয়মের বাণিজ্য? অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত ভবন-সংক্রান্ত তথ্যপত্রে উল্লেখ রয়েছে, শাহজাহানপুর আমতলা মসজিদ গলিতে প্রায় ৬ কাঠা জমির ওপর ১০ তলা ভবনটি নির্মাণাধীন। এতে রাজউকের প্ল্যান অনুমোদনের সাল ২০২৩ উল্লেখ করা হয়েছে। অনুমোদিত নকশায় জমির সীমানা, ভবনের অবস্থান ও আয়তন যেভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, বাস্তব নির্মাণ তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা রাজউকের সরেজমিন পরিমাপের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। ভবন-সংক্রান্ত তথ্যপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভবনটির চারপাশে প্রয়োজনীয় সেটব্যাক বা খালি জায়গা রাখা হয়েছে বলে দেখা গেলেও ওপরের তলাগুলোতে ক্যান্টিলিভার ও বারান্দা বাড়িয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এতে অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবনের সম্প্রসারণ হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তথ্যপত্র অনুযায়ী, ভবনটি দুই ইউনিটবিশিষ্ট। প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন প্রায় ১ হাজার ১০০ বর্গফুট। প্রতি বর্গফুটের বিক্রয়মূল্য ১০ হাজার ৫০০ টাকা উল্লেখ করে প্রতিটি ফ্ল্যাটের আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। ভবনটি কোনো ডেভেলপার কোম্পানির প্রকল্প নয়; মালিক নিজেই ফ্ল্যাট বিক্রি করছেন বলে তথ্যপত্রে উল্লেখ রয়েছে। এ অবস্থায় অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে নির্মাণের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে এর আর্থিক সুবিধাভোগী কে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও তদারকি কতটা যথাযথ ছিল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ভবন নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দাবি করেছেন, অনুমোদিত নকশার বাইরে অতিরিক্ত ক্যান্টিলিভার ও তলা নির্মাণে সহযোগিতা পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তিকে অর্থ প্রদান করা হয়েছে। তাঁর এ বক্তব্যে অবৈধ নির্মাণকাজে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক লেনদেন ও যোগসাজশের অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ভবন ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে ভবনমালিকের নিজের বক্তব্যসংবলিত তথ্যপত্রে উঠে আসা কিছু দাবিকে কেন্দ্র করে। সেখানে ভবনমালিকের বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ রয়েছে, রাজউকের অনুমোদিত প্ল্যান অনুযায়ী হুবহু ভবন নির্মাণ বাস্তবে সম্ভব হয় না, তাই কিছু পরিবর্তন করতে হয়। তাহলে কি রাজউক ভবনমালিকের কাছে বিশেষ সুবিধা ভোগ করে অবৈধ ভবন নির্মাণ করতে সাহায্য করছেন? তথ্যপত্রে আরও উল্লেখ রয়েছে, ভবনমালিকের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁকে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে বসবাস শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভবনে লোকজন বসবাস শুরু করলে সেটি বসবাসরত ভবন হিসেবে বিবেচিত হবে এবং ভেঙে ফেলার ঝুঁকি থাকবে না বলেও তিনি দাবি করেছেন। ভবনমালিকের এমন বক্তব্য অত্যন্ত গুরুতর। কারণ, রাজউকের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী যদি অর্থের বিনিময়ে নকশাবহির্ভূত নির্মাণকাজে ছাড় দেন কিংবা বিধিবহির্ভূত স্থাপনা টিকিয়ে রাখার আশ্বাস দেন, তাহলে সেটি শুধু দায়িত্বে অবহেলা নয়, সম্ভাব্য দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারেরও ইঙ্গিত বহন করে। তবে এসব বক্তব্যের প্রেক্ষাপট, অর্থ লেনদেনের পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরিচয় যাচাই করা প্রয়োজন। রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা এবং ভবনটির অনুমোদনসংক্রান্ত নথি তদন্তের আওতায় আনা জরুরি। ভবনটির নির্মাণসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তুলে ইতোমধ্যে রাজউক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগে ভবনটির অনুমোদিত নকশা, প্রকৃত জমির পরিমাণ, ভবনের উচ্চতা, ফ্লোর এরিয়া রেশিও (FAR), রাস্তার প্রস্থ, সেটব্যাক এবং ক্যান্টিলিভার সম্প্রসারণসহ নির্মাণবিধির বিভিন্ন বিষয় তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়াও, অভিযোগে ভবনটির সামনের রাস্তার প্রস্থ প্রায় ২০ ফুট এবং পাশের রাস্তার প্রস্থ প্রায় ১৫ ফুট উল্লেখ করা হয়েছে। এসব রাস্তার প্রস্থ বিবেচনায় ভবনটির অনুমোদিত উচ্চতা ও নির্মাণের বৈধতা যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে রাজউকের জোন ৬/১-এর ভবন পরিদর্শক সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। তবে অভিযোগের পর সরেজমিন পরিদর্শন, নির্মাণকাজের বৈধতা যাচাই কিংবা কোনো আইনগত পদক্ষেপ এখনো রাজউক কর্তৃপক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি বলে তদন্তে উঠে এসেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, রাজউকের অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং কর্মকর্তাদের টাকা দেওয়ার মতো গুরুতর দাবি সামনে আসার পরও কেন দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা দৃশ্যমান হচ্ছে না? সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কি বিষয়টি জানেন না, নাকি জানার পরও নীরব ভূমিকা পালন করছেন? ভবনটির অনিয়মের অভিযোগ রাজউকে দাখিলের পর নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, অভিযোগকারীদের সঙ্গে ভবনমালিকের পক্ষ থেকে কথিত ফোনালাপকে কেন্দ্র করে। অভিযোগকারীদের দাবি, ভবনটির মালিক সাংবাদিক তোহিদুল। রাজউকে লিখিত অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি জানার পর তিনি ফোন করে অভিযোগকারীদের সঙ্গে আপত্তিকর ভাষায় কথা বলেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। ভাষ্য অনুযায়ী, ফোনালাপে তিনি নিজের ক্ষমতা ও প্রভাবের কথা উল্লেখ করে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। তাঁরা যা-ই করুন না কেন, কোনো ফলাফল হবে না। তাঁর এমন বক্তব্যে অভিযোগকারীরা নিজেদের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ অনুসন্ধানী কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একজন গণমাধ্যমকর্মীর পরিচয় ব্যবহার করে যদি কেউ নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত ঠেকাতে কিংবা অভিযোগকারীদের ভয় দেখাতে চেষ্টা করেন, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাংবাদিকতা কোনো ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তার কিংবা আইনগত জবাবদিহি এড়ানোর হাতিয়ার হতে পারে না। তাঁদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ভবনটির নির্মাণসংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে অনুসন্ধান ও আইনগত পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে শাহজাহানপুরের এই ভবনটি ঘিরে কয়েকটি গুরুতর প্রশ্ন সামনে এসেছে। ৬ কাঠা জমি ঘিরে ১০ তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ কীভাবে বাস্তবায়িত হলো? অনুমোদিত নকশার বাইরে ক্যান্টিলিভার ও বারান্দা সম্প্রসারণের বিষয়টি রাজউক কর্তৃপক্ষ কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না? রাজউক-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো অনৈতিক আর্থিক লেনদেন, রাজউকে অভিযোগ করার পর অভিযোগকারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের প্রতিকার কী? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে ভবনটির অনুমোদিত নকশা, নির্মাণ অনুমোদনের ফাইল, পরিদর্শন প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যক্রম এবং মালিকের অবৈধ ভবন নির্মাণকে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি রাজউকের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অর্থ গ্রহণ বা অনৈতিক সহযোগিতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজউকের অনুমোদনকে ঢাল বানিয়ে নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ, শাহজাহানপুরের এই ১০ তলা ভবনের নেপথ্যে কারা, কার প্রশ্রয়ে চলছে নির্মাণকাজ এবং রাজউকের ভেতরে কোনো অসাধু চক্র সক্রিয় কি না—নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করা অত্যন্ত জরুরি। নগর পরিকল্পনাবিদ-সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, অনুমোদনবিহীন ও নকশাবহির্ভূত ভবন ভূমিকম্পের সময় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ ধরনের ভবন ধসে পড়লে শুধু ভবনের বাসিন্দাই নয়, আশপাশের মানুষের জীবনও হুমকির মুখে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নির্মাণকাজ বন্ধ করে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। এছাড়াও নগর বিশেষজ্ঞ বলছেন, রাজউকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সংস্থাটির বিশ্বাসযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাঁরা দ্রুত স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

News নভেম্বর ৫, ২০২৬ 0
উন্নয়নের নামে লুটপাটের মহোৎসব—প্রশ্নের মুখে পিডি ও ঠিকাদার!

উন্নয়নের নামে লুটপাটের মহোৎসব—প্রশ্নের মুখে পিডি ও ঠিকাদার!

শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযানে ৫৬ বোতল নেশাজাতীয় ইস্কাফ সিরাপ আটক

শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযানে ৫৬ বোতল নেশাজাতীয় ইস্কাফ সিরাপ আটক

কেডিএ’র প্রধান প্রকৌশলীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার অনুমোদন

কেডিএ’র প্রধান প্রকৌশলীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার অনুমোদন

বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হুমায়ুন কবীর এখন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব
বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হুমায়ুন কবীর এখন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব

  জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও প্রশাসন থেকে ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী ও বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পুনর্বাসন থামছে না। এর একটি জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছেন মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়ানোর অভিযোগ থাকলেও, পটপরিবর্তনের পর খোলস পাল্টে তিনি এখন বাগিয়ে নিয়েছেন সচিব পদ। সাম্প্রতিক সময়ে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) পদে মাত্র তিন মাসের দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে রেকর্ড পরিমাণ চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। আর সেই অবৈধ অর্থের জোরেই তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিবের পদ বাগিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিতর্কিত অতীত ও ছাত্রলীগী রাজনীতির অনুসারী: চাকরিজীবনের শুরু থেকেই বেপরোয়া দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর। ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে তাঁর ব্যাচমেটদের অনেকেই বারবার বদলি, পদায়ন ও নানা হয়রানির শিকার হয়েছেন। এমনকি সিনিয়র সহকারী সচিব পদেই চাকরি শেষ করতে হয়েছে অনেকের। অথচ আবুল হাছানাতরা কারণে-অকারণে দলবেঁধে টুঙ্গীপাড়ায় গিয়ে শেখ মুজিবের মাজারে হাজিরা দিয়েছেন এবং শেখ হাসিনাকে খুশি রেখে দফায় দফায় পদোন্নতি ও আকর্ষণীয় পদায়ন ভোগ করেছেন। বিরোধীদল দমনের বিভিন্ন কলাকৌশল প্রয়োগ করে ফ্যাসিবাদের শিকড় মজবুত করতে তারা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। খাদ্য অধিদপ্তর ও পরিবহন পুলে হরিলুট: ৫ আগস্টের পর রাতারাতি নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় বদলে নতুন সরকারের প্রভাবশালী মহলে ভিড়ে যান এই কর্মকর্তারা। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আবুল হাছানাত প্রথম পদায়ন পান খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে। সেখানে ১১ মাসের মেয়াদে তিনি প্রায় শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তখনকার সরকারের এক প্রভাবশালী উপদেষ্টার ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে তাকে আখ্যায়িত করা হতো। চার হাজার কোটি টাকার মডার্ন ফুড স্টোরেজ প্রকল্পের লুটপাটেও তার নাম আসে। তদন্তে প্রমাণিত হয় যে, ডিপিপি সংশোধন না করেই মহেশ্বরপাশা সাইলোর ব্যয় ভেরিয়েশনের অবৈধ প্রস্তাব অনুমোদনে তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন। অনিয়ম ফাঁস হওয়ার পর বড় অঙ্কের টাকা খরচ করে তিনি বিএমইটিতে বদলি হন। এর আগে ২০২২ সাল থেকে তিনি সরকারি পরিবহন পুলের কমিশনারের দায়িত্বেও ছিলেন। সেখানেও কেনাকাটার নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।  ভূমি রেকর্ড ও জরিপে তিন মাসের বেপরোয়া চাঁদাবাজি: খাদ্য অধিদপ্তর ও বিএমইটির পর গত ১৬ জুলাই মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে যোগ দেন। সেখানে মাত্র তিন মাস দায়িত্ব পালনকালেই তিনি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যান। অধিদপ্তরে গুঞ্জন ছিল, ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ হুমায়ুন কবীর অচিরেই সচিব হবেন। এই লক্ষ্য পূরণে তিনি দেশজুড়ে বিশ্বস্ত দালাল চক্র গড়ে তোলেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় পদায়নের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি দেওয়া হতো যে, চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলে শাস্তিমূলক বদলি করা হবে এবং বেনামী অভিযোগ তৈরি করে দুদকে মামলা দেওয়া হবে। এই চাঁদাবাজির অর্জিত অর্থ দিয়েই সচিব পদটি তিনি ‘কিনে নিয়েছেন’ বলে প্রশাসনের অন্দরে তীব্র আলোচনা চলছে। বঞ্চিতদের দীর্ঘশ্বাস ও প্রশাসনের অভ্যন্তরে ক্ষোভ: ১৫তম ব্যাচের এই কর্মকর্তাকে সচিব করার মতো স্বাভাবিক যোগ্যতা বা জ্যেষ্ঠতা কোনোটিই এখন ছিল না, যেখানে ১৮তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের তালিকাও শেষের পথে। অতীতে তার গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগের কারণে সচিব পদের প্রস্তাব বারবার ফেরত এলেও শেষ পর্যন্ত সবাইকে অবাক করে দিয়ে তিনি পদটি দখল করেছেন। এদিকে ১৭ বছর ধরে বঞ্চিত, নির্যাতিত এবং জিয়া-খালেদা জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তারা যখন এই দৃশ্য দেখছেন, তখন তারা কেবল দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে প্রশাসনকে বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হতে হবে। নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি: অভিজ্ঞমহলের মতে, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীরসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অতীত কর্মজীবন ও রাজনৈতিক পরিচয়ের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন জরুরি। পরিবহন কমিশনারের কেনাকাটা, খাদ্য অধিদপ্তর, বিএমইটি এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরে তাঁর তিন মাসের কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়া। কিন্তু পুরোনো ব্যবস্থার সুবিধাভোগীরা যদি নতুন পরিচয়ে অর্থের বিনিময়ে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে প্রভাব ধরে রাখেন, তবে পরিবর্তনের প্রত্যাশা ব্যর্থ হতে বাধ্য। তাই অবিলম্বে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জোর দাবি উঠেছে।  

News নভেম্বর ৪, ২০২৬ 0
মাসুদ এর দুর্নীতির বহু অভিযোগ, তবু ২১ কোটির প্রকল্প পেল ।

মাসুদ এর দুর্নীতির বহু অভিযোগ, তবু ২১ কোটির প্রকল্প পেল ।

রাজউক নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণে সুযোগ দিয়ে পরিচালক রাজিয়া সুলতানার রমরমা ঘুষ বাণিজ্য

রাজউক নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণে সুযোগ দিয়ে পরিচালক রাজিয়া সুলতানার রমরমা ঘুষ বাণিজ্য

দেশে-বিদেশে সম্পদ পাহাড় প্রকৌশলী রফিকুজ্জামানের

দেশে-বিদেশে সম্পদ পাহাড় প্রকৌশলী রফিকুজ্জামানের

সুবিধার বিনিময়ে পণ্য খালাসের অভিযোগ সহকারী কমিশনার সাকিবের বিরুদ্ধে
সুবিধার বিনিময়ে পণ্য খালাসের অভিযোগ সহকারী কমিশনার সাকিবের বিরুদ্ধে

  ৩৫ হাজার টাকা শুল্ক-কর নির্ধারণে খালাস, পরে ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদ্‌ঘাটন **শ্রমিকের এনআইডি ব্যবহার করে পাঁচ দিনে ৪০টি বিল অব এন্ট্রি খালাসের অভিযোগ কাস্টম হাউস ঢাকার কুরিয়ার ইউনিটে দায়িত্ব পালনকালে সুবিধা নিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য চালান খালাস করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সহকারী কমিশনার সাকিব আনাম খানের বিরুদ্ধে। বিসিএস ৪০তম ব্যাচের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যাচাই-বাছাই ছাড়াই পণ্য চালান খালাস, সরকারের রাজস্ব ক্ষতি এবং ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে পণ্য ছাড়ের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ একটি চালানে মাত্র ৩৫ হাজার টাকা শুল্ক-কর নির্ধারণ করে পণ্য খালাসের পর কাস্টম হাউসের তদন্তে প্রায় ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি উঠে এসেছে। এ ছাড়া একজন শ্রমিকের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে পাঁচ দিনে প্রায় ৪০টি বিল অব এন্ট্রির পণ্য খালাসের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ঢাকা কাস্টম হাউস ও তাঁর সাবেক কর্মস্থল রাজশাহী ভ্যাট কমিশনারেটের বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে এসব অভিযোগের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। সূত্র জানায়, গত ২৩ আগস্ট ঢাকা কাস্টম হাউসের কুরিয়ার ইউনিট দিয়ে ফুলএভার বিডি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান পণ্য চালান আমদানি করে। চালানটির বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-৯৯২৬২৩। প্রতিষ্ঠানটি কাগজ ঘোষণা দিয়ে আরএফ লেভেল খালাস করে নিয়ে যায়। এ চালানে মাত্র ৩৫ হাজার টাকা শুল্ক-কর নির্ধারণ করে পণ্য খালাসের অনুমতি দেন কুরিয়ার ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার সাকিব আনাম খান। বিষয়টি কাস্টম হাউসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে এলে তাঁরা তদন্ত শুরু করেন। তদন্তে বেরিয়ে আসে, প্রতিষ্ঠানটি কাগজের আড়ালে আরএফ লেভেল নিয়ে গেছে। এতে সরকারের প্রায় ৭৬ লাখ টাকার শুল্ক-কর ফাঁকি হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করেছে ঢাকা কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ। তবে পণ্য চালানটি সাকিব আনাম খান খালাস করে দেওয়ার পর মামলা হওয়ায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে কোনো শুল্ক-কর আদায় করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া কুরিয়ারের আরও ৩১টি চালানে লক দিয়েছে প্রিভেন্টিভ টিম। সার্বিক অনিয়মের বিষয়ে কাস্টম হাউস ঢাকা অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে। কাস্টম হাউসের কুরিয়ার ইউনিট মূলত নমুনা পণ্য আমদানির জন্য নির্ধারিত। অর্থাৎ ঋণপত্র (এলসি) ছাড়া যেসব নমুনা পণ্য আমদানি করা হয়, সেগুলো কুরিয়ারের মাধ্যমে খালাস করার নিয়ম রয়েছে। এ ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি বছরে প্রায় পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করতে পারেন। কিন্তু সাকিব আনাম খান দায়িত্ব নেওয়ার পর কুরিয়ার ইউনিট বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের পণ্য খালাসের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে ফ্রেইটের তুলনায় কুরিয়ার ইউনিটে বেশি বিল অব এন্ট্রি দাখিল হচ্ছে। অথচ বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের পণ্য সাধারণত ফ্রেইটের মাধ্যমে আমদানির কথা। সুবিধার বিনিময়ে পণ্য চালান খালাসের সুযোগ থাকায় বিভিন্ন ধরনের পণ্য কুরিয়ার দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কাস্টম হাউসের কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাস্টম হাউস ঢাকার কমিশনার রইচ উদ্দিন খান কালবেলাকে বলেন, কুরিয়ার ইউনিটে একজন আমদানিকারক মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য চালান খালাস করেছেন। পরে কাস্টম হাউসের তদন্তে সেখানে আরএফ লেভেল পাওয়া গেছে। এতে সরকারের প্রায় ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পরবর্তী পণ্য চালান পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সূত্র আরও জানায়, শুধু ফুলএভার বিডির চালান নয়, সাকিব আনাম খানের বিরুদ্ধে কুরিয়ার ইউনিটে দায়িত্ব পালনকালে নিয়মিত এ ধরনের পণ্য চালান খালাসের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে পাঁচ দিনে প্রায় ৪০টি পণ্য চালান খালাসের অভিযোগ উঠেছে। ডেল্টা কার্গো মিডিয়ার নামে এসব পণ্য চালান খালাস করা হয়। ভুয়া এনআইডি ব্যবহারের অভিযোগ ওঠা চালানগুলোর বিল অব এন্ট্রি নম্বর হলো—১০৯৯৬৯৫, ১০৯৯৭৫৬, ১০৯৯৭৪৫, ১০৮৮৭৩০, ১০৮৮৭৩০, ১০৮৮৭০২, ১০৮৮৭১২, ১০৮৪৬৪২, ১০৮৪৫৪৮, ১০৮৩৩৪৫, ১০৮৩৩৩৯, ১০৮৩৩৫৪, ১০৮৩৩৫১, ১০৭৯৬৯২, ১০৮০৯৩৭, ১০৭৮৭১৮, ১০৮০৯৮২ ও ১০৭৯৪৭৮সহ প্রায় ৪০টি বিল অব এন্ট্রি। এসব অনিয়মের অভিযোগের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার সাকিব আনাম খানকে ঢাকা কাস্টম হাউসের অন্য একটি শাখায় বদলি করা হয়েছে। সূত্রের দাবি, তিনি কুরিয়ার ইউনিটে দায়িত্ব নেওয়ার পর সেখানে দুটি সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে। এসব সিন্ডিকেট বিভিন্ন সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স ভাড়া নিয়ে তাঁর মাধ্যমে পণ্য চালান খালাস করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বন্ডের ফেব্রিকস থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক পণ্য পর্যন্ত মিথ্যা ঘোষণায় কুরিয়ার ইউনিট দিয়ে খালাসের বিষয়টি ঢাকা কাস্টম হাউসে ওপেন সিক্রেট বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। কুরিয়ার ইউনিটে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে পণ্য খালাসের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। এর আগে এক প্রতিষ্ঠানমালিকের নামে কুরিয়ারের মাধ্যমে নকল সিগারেটের ব্যান্ডরোল আমদানি করা হয়। ব্যান্ডরোল আটকের পর পরিচয়পত্রের তথ্যের ভিত্তিতে শুল্ক ফাঁকির মামলা করে কাস্টম হাউস। পরে দেখা যায়, যাঁর নামে ব্যান্ডরোল আমদানি করা হয়েছে, তিনি প্রকৃতপক্ষে পণ্যটি আমদানি করেননি। তাঁর পরিচয়পত্র ব্যবহার করে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। পরে নিজের পরিচয় ব্যবহার করে অনিয়মের ঘটনায় ওই প্রতিষ্ঠানমালিক থানায় মামলাও করেন। এ ছাড়া কুরিয়ার ইউনিটের আগে অ্যাসেসমেন্ট গ্রুপে দায়িত্ব পালনকালে সুবিধা না পেলে প্রতিষ্ঠানের ফাইল আটকে রেখে হয়রানি করার অভিযোগও রয়েছে সাকিব আনাম খানের বিরুদ্ধে। এর আগে রাজশাহী ভ্যাট কমিশনারেটে দায়িত্ব পালনকালে তাঁকে ঈশ্বরদী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) পদায়ন করা হয়েছিল। সেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে হয়রানি করে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর দুই মাসের মাথায় তৎকালীন রাজশাহী ভ্যাট কমিশনার তাঁকে ওই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন বলে সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার সাকিব আনাম খান ফুলএভার বিডিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি কালবেলাকে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি কম মূল্য ঘোষণা দিয়েছে। এ কারণে শুল্ক ফাঁকির মামলা হয়েছে। তবে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, পণ্য চালানে এত টাকা শুল্ক-কর আদায়যোগ্য হওয়ার পরও কীভাবে মাত্র ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করে খালাস দেওয়া হলো? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

News নভেম্বর ৪, ২০২৬ 0
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনাস্থল ও পুলিশ তদন্তের প্রতীকী ছবি।

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে গৃহবধূর মৃত্যু: যুবনেতা রাশেলের বিরুদ্ধে মামলা

লক্ষ্মীপুরে মা ও তিন বোন হত্যাকাণ্ডের তদন্তের প্রতীকী চিত্র

লক্ষ্মীপুরে মা ও তিন বোন হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে

পাবনার চাঁদের আলো হোটেলের একটি কক্ষ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশ উদ্ধার

পাবনার হোটেল থেকে ১৮ বছরের ছাত্রী সাইদা আক্তার রিলার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

0 Comments