জাতীয়

সরকারকে ধোঁকা দিয়ে রিফাইনারি চালুর দৌড়ঝাঁপ, আলোচনায় টিকে গ্রুপ!

হোসেন মাঝি অক্টোবর ২৮, ২০২৬ 0
সরকারকে ধোঁকা দিয়ে রিফাইনারি চালুর দৌড়ঝাঁপ, আলোচনায় টিকে গ্রুপ!
(এসপিএল)

 


সরকারের অনুমোদন ছাড়াই রিফাইনারি বানানোর ক্ষেত্রে কারসাজির আশ্রয় নিয়েছে টিকে গ্রুপের সুপার পেট্রোকেমিক্যাল লিমিটেড (এসপিএল)। অনুমোদন নাকচ করার পরও রিফাইনারি বানানোর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

আগের অনুমোদন নাকচ হলেও সেটি গোপন রেখে আবারও রিফাইনারি বানানোর আবেদন করেছে সুপার পেট্রোকেমিক্যাল। এ ঘটনায় জ্বালানি খাতে তোলপাড় তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তথ্য গোপন এবং সরকারকে ধোঁকা দিয়ে রিফাইনারি বানানোর উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানটির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার ডাঙ্গারচরে সুপার পেট্রোকেমিক্যালের ক্যাটালিস্ট রিফরমিং ইউনিট (সিআরইউ) প্ল্যান্ট আছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অনুমোদন ছাড়াই প্ল্যান্টটি পুরোপুরি রিফাইনারিতে সম্প্রসারণ করছে প্রতিষ্ঠানটি। কয়েক মাসের মধ্যে রিফাইনারিটির উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে।

প্ল্যান্টটিতে বছরে সাড়ে ছয় লাখ টন ন্যাফতা ও কনডেনসেট প্রসেসিং সক্ষমতা আছে। সরকারের অনুমোদন ছাড়াই সেটিকে পৌনে ২৬ লাখ টনের রিফাইনারিতে সম্প্রসারণ করার চেষ্টা করছে পেট্রোকেমিক্যাল।

জানা যায়, সম্প্রসারণ ও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিপণনের জন্য সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসির করা আবেদন প্রায় ৯ মাস আগে নাকচ করে দেয় সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে, অভিভাবক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে সিআরইউ প্ল্যান্টটিকে রিফাইনারিতে সম্প্রসারণের বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।

ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সুপারিশে অনুমোদন পাওয়া কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে জ্বালানি তেল সরবরাহের পাইপলাইনও নির্মাণ সম্পন্ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৩ সালের করা বেসরকারি পর্যায়ে রিফাইনারি স্থাপনের জ্বালানি নীতিমালাটি বাতিল করার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে আলোচনা হয়। কিন্তু পরে নীতিমালাটি বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ২৫ সেপ্টেম্বর বেসরকারি ওই নীতিমালার আলোকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে মজুত, পরিবহন ও প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে উৎপাদিত তেল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিপণনের অনুমতি চেয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে আবেদন করে সুপার পেট্রোকেমিক্যাল।

আবেদনে পুরোনো সিআরইউ প্ল্যান্টের সঙ্গে বছরে সোয়া ১৯ লাখ টন ক্রুড/কনডেনসেট পরিশোধনের রিফাইনারি প্রতিষ্ঠাসহ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল বিপণনের বিষয়ে অনুমতি চাওয়া হয়।

এরপর জ্বালানি বিভাগের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (বণ্টন ও বিপণন) জাহিদ হোসাইনকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করে বিপিসি। ওই কমিটিকে প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানটি সরেজমিনে পরিদর্শনসহ প্রতিষ্ঠানটির (এসপিএল) আবেদন পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পরে কমিটিতে ইস্টার্ন রিফাইনারির একজন ব্যবস্থাপককে কো-অপ্ট করা হয়। ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সাত সদস্যের কমিটি কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে জুলধা ইউনিয়ন এলাকায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির সিআরইউ প্ল্যান্ট এবং প্রস্তাবিত প্রকল্পের স্থান পরিদর্শন করেন। ৮ এপ্রিল বিপিসি চেয়ারম্যানকে প্রতিবেদন জমা দেন সাত সদস্যের সেই কমিটি।

প্রতিবেদনে নীতিমালার আলোকে প্রাথমিক অনুমতি প্রদান ও প্ল্যান্টের নির্মাণকাজ শেষ হলে রিফাইনারির চূড়ান্ত অনুমোদন, অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানি, উৎপাদিত পণ্য সরবরাহ এবং বিপণনে অনুমতি প্রদানের ক্ষেত্রে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ কর্তৃক বিবেচনা করা যেতে পারে, বলে সুপারিশ করে বিপিসির কমিটি।

প্রতিবেদনটিতে দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, সুপার পেট্রোকেমিক্যালে বর্তমানে ন্যাফথা ও কনডেনসেট প্রসেসিং ইউনিটে দৈনিক ১৬ হাজার ৯০০ ব্যারেল হিসেবে বার্ষিক ছয় লাখ ৫০ হাজার টন উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। পাশাপাশি প্রস্তাবিত ক্রুড/কনডেনসেট অয়েল প্রসেসিং ইউনিটে দৈনিক ৪৫ হাজার ব্যারেল হিসেবে বছরে উৎপাদন সক্ষমতা হবে ১৯ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন। বর্তমান ও প্রস্তাবিত মিলিয়ে বার্ষিক উৎপাদন দাঁড়াবে পৌনে ২৬ লাখ মেট্রিক টন।

বিপিসির প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটিতে কত টাকা বিনিয়োগ হবে, বেসরকারি এ প্রকল্পের যন্ত্রপাতিসহ অন্য প্রযুক্তি কোন দেশ থেকে আনা হবে এবং এজন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা কীভাবে সংস্থান করা হবে- সে বিষয়ে কিছুই উল্লেখ করা হয়নি।

প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কোনো প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ থাকবে কি না, নাকি দেশীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিনিয়োগ হবে- সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রতিবেদনে নেই। অতিগোপনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের রিফাইনারির প্রস্তাবিত প্রকল্পের সুপারিশ করে বিপিসি।

এরপর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর সুপার পেট্রোকেমিক্যালের প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। নাকচের বিষয়টি বিপিসিকেও চিঠি দিয়ে অবগত করা হয়। এরপর প্রায় ১০ মাস অতিবাহিত হলেও বিষয়টি গোপন রাখে বিপিসি। সম্প্রতি রিফাইনারিটি পুরোদমে উৎপাদনে যাচ্ছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলে নড়ে চড়ে বসে সব মহল। তৈরি হয় সমালোচনা। কোনো প্রকার প্রাথমিক অনুমতি ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি নতুন রিফাইনারি নির্মাণ অব্যাহত রাখে বলে সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসে।

আবেদন নাকচের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সুপার পেট্রোকেমিক্যাল লিমিটেডকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিপূর্বক মজুত, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহন ও বিপণনের ক্ষেত্রে ‘বেসরকারি পর্যায়ে রিফাইনারি স্থাপন, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিপূর্বক মজুত, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহন ও বিপণন নীতিমালা-২০২৩’ এর আওতায় এ বিভাগ থেকে কোনো প্রকার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ফলে আবেদনটি বিবেচনা করার সুযোগ নেই। বিষয়টি নির্দেশক্রমে অবহিত করা হলো।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, মন্ত্রণালয় কিংবা বিপিসির অনুমোদন ছাড়া পেট্রোলিয়াম জ্বালানি রিফাইনারির সম্প্রসারণ কিংবা নতুন নির্মাণ সম্পূর্ণ অবৈধ। এ ধরনের রিফাইনারির কাজে জ্বালানি বিভাগ ও বিপিসির প্রাথমিক অনুমতি, চূড়ান্ত অনুমতিসহ কয়েকধাপে অনুমতি নিতে হয়। সরকারের উচিত এখন ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ দ্রুত শুরু করা।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, সুপার পেট্রোকেমিক্যালের আগের সিআরইউ বাদে নতুন রিফাইনারির প্রাথমিক কিংবা চূড়ান্ত কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

তথ্য লুকিয়ে ফের আবেদন, সুপার পেট্রোকেমিক্যালের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে করা আবেদন নাকচের পরেও সুপার পেট্রোকেমিক্যালের রিফাইনারি বানানোর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিপিসি। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। পাশাপাশি নাকচ হওয়া আবেদনের তথ্য গোপন করেই রিফাইনারি পরিচালনায় ফের আবেদন করে সুপার পেট্রোকেমিক্যাল।

বিপিসির গঠিত কমিটিতে ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) এ টি এম সেলিমকে আহ্বায়ক এবং অপারেশন ও বাণিজ্য শাখার উপ-ব্যবস্থাপক তানজিন হোসেনকে সদস্য সচিব করা হয়। কমিটিতে বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মোরশেদ হোসাইন আজাদ, মহাব্যবস্থাপক (বণ্টন ও বিপণন) ফেরদৌসী মাসুম হিমেল, মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন্স) জাহিদ হোসাইন এবং ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির উপমহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মাসুদুল আলমকে সদস্য করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, কমিটি বর্ণিত সংবাদ পর্যালোচনা ও সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসির প্ল্যান্ট পরিদর্শনপূর্বক প্ল্যান্টের প্রসেসিং ক্ষমতা বৃদ্ধি ও অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যসহ আগামী সাতদিনের মধ্যে বিপিসির চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করবে।

বিশেষজ্ঞ মতামত

আবেদন নাকচের পরেও সুপার পেট্রোকেমিক্যালের কারসাজি প্রসঙ্গে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা বিশিষ্ট জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, সরকারের সার্বভৌম ক্ষমতা একটা ব্যাক্তি মালিকানাধীন কোম্পানি কিভাবে উপেক্ষ করতে পারে। এমন দৃষ্টান্ত সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমাকে আতংকিত করে। এমন ক্ষমতা কিভাবে হয় কোনো ব্যক্তি বিশেষের?

তিনি আরও বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত উপেক্ষে করে দেশের মাটিতে নিজেদের স্বার্থে কোনো কোম্পানি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কিভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে? এটা একটা অবিশ্বাস্য ঘটনা, আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। এটা যদি সত্যি হয় তাহলে দেশের সরকার বলেতো কিছু থাকে না। আমরা যে বলেছি, দেশ অস্বাধু ব্যাবসায়ীর হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে, সেই দৃষ্টান্ত উল্লেখ করতে এ ঘটনাই যথেষ্ট।

এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ও ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, সরকার যদি অনুমোদন না দেয় তাহলে বাংলাদেশে তারা কোনো পণ্য বিক্রি করতে পারবে না। বর্তমান আইনে বেসরকারি কোনো কোম্পানি এ জাতীয় পন্য মার্কেটিংয়ের এখতিয়ার নেই। বর্তমান আইনে কোনো কোম্পানি বা রিফাইনারির সরকারের অনুমতি ছাড়া উৎপাদন ও বিপণন করতে পারে না। যে কোনো শিল্প গড়ে তুলতেই সরকারের অনুমোদন লাগে। অনুমোদন ছাড়া তারা এটা কিভাবে করে, সেটা আমার জানা নেই।

সরকারের অনুমোদন ছাড়াই বিশাল এক ক্রুড অয়েল রিফাইনারি বানানোর ঘটনায় এই খাতে সুপার পেট্রোকেমিক্যালের বিরুদ্ধে নানা সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, এটি করা হলে রাষ্ট্রীয় ইস্টার্ন রিফাইনারির ৩০ লাখ টন সক্ষমতার নতুন রিফাইনারির বিনিয়োগ হুমকির মুখে পড়বে।

সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটের সময় টিকে গ্রুপের কাছে অক্টেনের মজুদ থাকার পরেও দাম বাড়ার আশায় বাজারে ছাড়ে নাই বলে অভিযোগ আছে। সেই টিকে গ্রুপ এখন নাফথা ও কনডেনসেট প্রসেস করে অক্টেন উৎপাদনের ছোট আকারের ক্যাটালাইটিক রিফর্মিং ইউনিটকে (সিআরইউ) ক্রুড অয়েল প্রেসেস করার বৃহৎ রিফাইনারিতে পরিণত করতে যাচ্ছে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সম্ভাবনার নতুন শ্রমবাজার সার্বিয়া

মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের প্রত্যাশা, সরকার উদ্যোগী হলে দেশটিতে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি ফোরাম (বিআরএএফ)। সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কাজে লাগাতে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের প্রত্যাশা সার্বিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রত্যাশা, দেশটিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তাঁদের মতে, বিদেশে কাজের সুযোগ যেন স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং চাকরিপ্রত্যাশীরা যেন প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও অনিশ্চয়তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নিয়োগকর্তার পরিচয়, কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন, চাকরির চুক্তি এবং ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সার্বিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করা হবে। এতে বাংলাদেশের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন দেশে কী ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন, কী কী নথি জমা দিতে হবে এবং ছাড়পত্র পেতে কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। তাঁদের প্রত্যাশা, বিএমইটি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা কমবে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত চাকরির শর্ত যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমন্বয়ই পারে বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকে আরও গতিশীল করতে। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার দাবি সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি সার্বীয় দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, শ্রমবাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের সহায়তা এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বাস্তব চাহিদা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ সংশ্লিষ্টদের সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের সম্ভাবনা যাচাই, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেবেন। একই সঙ্গে সার্বিয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন নতুন দেশে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধান, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য শ্রমিকের চাহিদা যাচাই, নিয়োগকর্তার সক্ষমতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি অনুমোদনের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার, বিএমইটি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বশীল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই—এই বিষয়গুলোতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ও জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের। মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক  

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আর্জেন্টিনা বনাম নেদারল্যান্ডস হকি ফাইনালে আজ মুখোমুখি

আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত।   আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে।   অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।”   বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে।   মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।   বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে।   মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।   বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জাতীয়

View more
২০২৭ সালে ঈদুল ফিতর ও আজহায় কত দিন ছুটি, জানা গেল
২০২৭ সালে ঈদুল ফিতর ও আজহায় কত দিন ছুটি, জানা গেল

  ২০২৭ সালে পবিত্র ঈদুল ফিতরে ৫ দিন এবং ঈদুল আজহায় ৬ দিন সরকারি ছুটি থাকতে পারে। এ ছাড়া শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ছুটি থাকবে ২ দিন। ২০২৭ সালের ছুটির সম্ভাব্য এই খসড়া প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার পরবর্তী বৈঠকে এই ছুটির তালিকা অনুমোদন পেলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে। যেভাবে বিন্যস্ত হচ্ছে প্রধান ছুটির দিনগুলো ঈদুল ফিতর: ঈদুল ফিতরের মূল দিনে থাকবে সাধারণ ছুটি। এ ছাড়া ঈদের আগে ২ দিন এবং পরে ২ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে ঈদুল ফিতরে মোট ছুটি দাঁড়াচ্ছে ৫ দিন। ঈদুল আজহা: ঈদুল আজহার দিনে সাধারণ ছুটির পাশাপাশি ঈদের আগে ২ দিন এবং পরে ৩ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটির পরিকল্পনা করা হয়েছে। ফলে ঈদুল আজহা উপলক্ষে মোট ছুটি থাকবে ৬ দিন। শারদীয় দুর্গাপূজা: বিজয়া দশমীর দিন থাকবে সাধারণ ছুটি এবং মহানবমীর দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। ফলে পূজায় মোট ছুটি মিলবে ২ দিন। ২০২৭ সালের ছুটির মোট হিসাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ সালে সাধারণ ও নির্বাহী আদেশ মিলিয়ে মোট সরকারি ছুটি হতে পারে ২৯ দিন। এর মধ্যে সাধারণ ছুটি ১৫ দিন এবং নির্বাহী আদেশের ছুটি ১৪ দিন। তবে এই ২৯ দিন ছুটির মধ্যে ৭ দিন পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবারে (সাধারণ ছুটির ৪ দিন এবং নির্বাহী আদেশের ৩ দিন সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলে গেছে)

News নভেম্বর ৪, ২০২৬ 0
ডিসেম্বরেই পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো, জানুয়ারিতে বর্ধিত বেতন

ডিসেম্বরেই পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো, জানুয়ারিতে বর্ধিত বেতন

পোশাক শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা চলছে

পোশাক শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা চলছে

আধুনিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আধুনিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকার আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ঢাকার আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় হামলা, নিরাপত্তাকর্মী আহত

বহিরাগতরা বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার আশুলিয়ার সরকার মার্কেটে নেক্সট কালেকশন লিমিটেড পোশাক কারখানায় হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে।এই হামলার সময় কয়েকজন বহিরাগত মুখোশ ও হেলমেট পরে হাতে লাঠি নিয়ে কারখানার ভেতরে প্রবেশ করে। তারা কারখানার ভাঙচুর চালায় এবং এক নিরাপত্তাকর্মীর মাথায় আঘাত করে।হামলায় আহত নিরাপত্তাকর্মীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। কারখানার নির্বাহী পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন জানান, হামলার পর শ্রমিকরা কারখানা ছুটি ঘোষণার পর বের হয়ে যান।তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।কারখানাটিতে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। সিসি ক্যামেরা ও একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।

Desk Reporter নভেম্বর ৪, ২০২৬ 0
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাক টিকেট অবমুক্ত

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাক টিকেট অবমুক্ত

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী মন্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা।

ট্রাম্প রিপাবলিকানদের পরাজয়ের জন্য ফক্স নিউজ ও সদস্যদের দায়ী করেছেন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেছেন।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার সকালে সচিবালয়ে তার দপ্তরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে একটি স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেছেন।এই স্মারক ডাকটিকিটের মূল্য ১০ টাকা। এছাড়াও, একটি উদ্বোধনী খামও উন্মোচন করা হয়েছে।অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, ডাক, টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, সচিব মো. কামরুজ্জামান, ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ মেহেদুল ইসলামও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Desk Reporter নভেম্বর ৪, ২০২৬ 0
ভৈরবে বিদ্যুতিক ফাঁদে জড়িয়ে সায়দুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে।

ভৈরবে বিদ্যুতিক ফাঁদে জড়িয়ে ৬৫ বছরের ব্যক্তির মৃত্যু

কল্যাণপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

কল্যাণপুরে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে চারজনের মৃত্যু

বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার প্রতিবেদন সম্পর্কিত তথ্যের চিত্র।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার প্রতিবেদন: অক্টোবর ২০২৬

0 Comments