দীর্ঘ কয়েক বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বাইরে থাকার পর এবার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। কিন্তু ভোটের মাঠে নামার আগেই দলটির সামনে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের সাংগঠনিক সংকট। প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই চেয়ারম্যান পদে বিএনপির ৭ থেকে ১২ জন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। ফলে নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর মোকাবিলার আগে নিজেদের ঘরের প্রার্থী সামলানোই বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ইতোমধ্যে স্পষ্ট করে দিয়েছে, এক ইউনিয়নে একাধিক দলীয় প্রার্থীকে মাঠে রাখা হবে না। জনপ্রিয়তা, সততা, দলের প্রতি আনুগত্য, ত্যাগ এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের পাশাপাশি নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার সক্ষমতা বিবেচনা করে একজনকে সমর্থন দেওয়া হবে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ নির্বাচনে গেলে কঠোর সাংগঠনিক শাস্তির মুখে পড়তে হবে বলে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু তৃণমূলে প্রশ্ন উঠেছে, দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা এত নেতার মধ্য থেকে একজনকে বেছে নেওয়ার পর বাকিদের কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে? কারণ সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রায় সবাই নিজেদের দলের দুঃসময়ের ত্যাগী, নির্যাতিত ও পরীক্ষিত নেতা হিসেবে দাবি করছেন।
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ নেয়নি বিএনপি। দীর্ঘ সময় নির্বাচনের বাইরে থাকায় তৃণমূলের বহু নেতাকর্মীর মধ্যে এবার ইউপি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। চেয়ারম্যান-মেম্বার পদে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান জানান দিতে অনেকেই ইতোমধ্যে এলাকায় জনসংযোগ, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন।
দলটির দায়িত্বশীল নেতারা মনে করছেন, একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকলে ভোট ভাগাভাগির সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হলে স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি কোন্দল তৈরি হতে পারে। নির্বাচনের ফলের পাশাপাশি এর প্রভাব পড়তে পারে দলের সাংগঠনিক কাঠামোতেও।
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। বিভিন্ন জেলা ও মহানগর নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একক প্রার্থী নির্ধারণের ওপর জোর দিয়েছেন। নেতাকর্মীদের দল-সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশও দিয়েছেন।
লক্ষ্মীপুরে ৯ ইউনিয়নে ৫৬৭ ফরম
একক প্রার্থী নির্ধারণের কঠিন বাস্তবতার বড় উদাহরণ লক্ষ্মীপুর সদর পশ্চিম থানা বিএনপির অধীন ৯টি ইউনিয়ন। এসব ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে ৫৬৭ জন দলীয় ফরম সংগ্রহ করেছেন।
প্রতিটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৭ থেকে ১২ জন বিএনপি নেতা ফরম নিয়েছেন। ২ নম্বর দক্ষিণ হামছাদি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আটজন এবং ৪ নম্বর চররুহিতা ইউনিয়নে ১২ জন ফরম সংগ্রহ করেছেন। সদস্য পদেও প্রতিটি ওয়ার্ডে ১০-১৫ জন প্রার্থী ফরম নিয়েছেন।
স্থানীয় বিএনপি সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুর-২ সংসদীয় আসনের প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে প্রার্থী বাছাইয়ের লক্ষ্যে দলীয় ফরম বিতরণ করা হয়। ফরম জমা দেওয়ার পর প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক ভূমিকা ও এলাকায় কর্মকাণ্ড যাচাই করা হবে। মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত একজনকে দলীয় সমর্থন দেওয়া হবে।
সদর থানা পশ্চিম বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন বিটু পাটোয়ারী আমার দেশকে বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থীদের বিজয়ী করার লক্ষ্যেই যাচাই-বাছাই চলছে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো হাইকমান্ডের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আসেনি।
তার ভাষায়, লক্ষ্মীপুর বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে এখানে অনেকেই ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং নির্যাতিত হয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে একজনকে বেছে নেওয়া সহজ নয়।
জামালগঞ্জে ছয় ইউনিয়নে মাঠে ১৯ জন
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ছয় ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন ১৯ জন। ভীমখালী ইউনিয়নে রয়েছেনÑউপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শাহিনুর রহমান, বর্তমান চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান তালুকদার এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহজাহান। জামায়াতের ইউনিয়ন সভাপতি হাফিজ সাইফুল ইসলাম জায়গীরদারও সম্ভাব্য প্রার্থী।
ফেনারবাক ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক চেয়ারম্যান আজাদ হোসেন বাবলু, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ফজলুল কাদের চৌধুরী তৌফিক এবং জুলফিকার চৌধুরী রানা মাঠে রয়েছেন।
সদর ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান সাজ্জাদ মাহমুদ তালুকদার, নূরে আলম ফরাজি, নাজিম উদ্দীন ও তৌফিকুর রহমান সম্ভাব্য প্রার্থী। জামায়াতের সদর ইউনিয়ন সভাপতি হাবিবুর রহমানও রয়েছেন প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে।
সাচনা বাজার ইউনিয়নে উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুক মিয়া, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান তালুকদার, ইউনিয়ন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুন নূর আখুঞ্জি, মিছবাহ উদ্দিন রুমি ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জায়েদ আহমদ প্রার্থী হতে আগ্রহী।
উত্তর ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলী আক্কাস মুরাদ এবং জামায়াতের কর্মী কামাল হোসেন সম্ভাব্য প্রার্থী। বেহেলী ইউনিয়নে রয়েছেন জেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুজ্জামান উকিল, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সামছুজ্জামান ধন মিয়া, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আলম আখুঞ্জি এবং ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নজির আলি।
ফেনীতে এক ইউনিয়নে ১১ চেয়ারম্যান প্রার্থী
ফেনী সদরের মোটবী ইউনিয়নে বিএনপির ১১ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেনÑমীর মোশাররফ হোসেন (মানিক), শাহ আলম, নিজামুদ্দিন, ফখরুল ইসলাম (মাসুক), দেলোয়ার হোসেন, গোলাম মহিউদ্দিন ভূঁইয়া, ইসমাইল হোসেন ও রাকিব উদ্দিন। এছাড়া বিএনপি ঘরানার প্রবাসী রহমান রাজু, নুরুল আমিন ও আবুল কালাম মজুমদারও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান।
এদিকে পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নেও বিএনপি থেকে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী সাতজন। তারা হলেনÑদেলোয়ার হোসেন দেলু, কামাল উদ্দিন আহমেদ, কাবুল হোসেন, নুর নবী, কামাল উদ্দিন মজুমদার, মওদুদ আহমেদ রনি ও ইঞ্জিনিয়ার আলমগীর কবির।
একজনকেই সমর্থন দেবে বিএনপি
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স আমার দেশকে বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তাই এবার অনেকে প্রার্থী হতে চাইবেন, এটাই স্বাভাবিক। তবে ইউপি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী করতে একজনকেই দলীয় সমর্থন দেওয়া হবে।
বিএনপির তৃণমূলের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে একজনকে বেছে নেওয়ার পর বাকিরা কী করবেন? সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রত্যেকেই নিজেদের দুঃসময়ের ত্যাগী হিসেবে তুলে ধরছেন। আবার তৃণমূলের একটি অংশের অভিযোগ, দলের কঠিন সময়ে এলাকায় ছিলেন না, এমন অনেক নেতাও এখন এমপি-মন্ত্রীদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে চেয়ারম্যান হওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের ঠেকাতেও কেউ কেউ প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ কারণে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় সামান্য ভুলও স্থানীয় পর্যায়ে বড় বিরোধ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিএনপির নেতারা।
সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির তৃণমূলেও প্রার্থী বাছাই নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
তফসিল যত এগিয়ে আসছে, বিএনপির সামনে তত স্পষ্ট হচ্ছে তিনদিকের চ্যালেঞ্জ। প্রথমত, নিজ দলের একাধিক প্রার্থীকে একজনের পেছনে ঐক্যবদ্ধ করা। দ্বিতীয়ত, জামায়াত ও এনসিপির প্রার্থীদের মোকাবিলা করা। তৃতীয়ত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচনি মাঠে আসা ঠেকানো বা মোকাবিলার কৌশল ঠিক করা।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ধারণা, আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী বর্তমানে পলাতক থাকলেও তফসিল ঘোষণার পর বিভিন্ন এলাকায় ভেতরে ভেতরে একজন করে প্রার্থী ঠিক করে মাঠে নামার চেষ্টা করতে পারেন। তবে তাদের মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা, নিজেদের ঘরের একাধিক প্রার্থীর প্রতিযোগিতাকে দলীয় ঐক্যে রূপ দেওয়া।
এ পরীক্ষায় হাইকমান্ড সফল না হলে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবিলার আগেই বিএনপির শক্তি ক্ষয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর একক প্রার্থী ঠিক করে বিদ্রোহ ঠেকাতে পারলে দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকারের তৃণমূলের রাজনীতিতে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির বড় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে দলটি।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের প্রত্যাশা, সরকার উদ্যোগী হলে দেশটিতে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি ফোরাম (বিআরএএফ)। সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কাজে লাগাতে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের প্রত্যাশা সার্বিয়ায় কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রত্যাশা, দেশটিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। তাঁদের মতে, বিদেশে কাজের সুযোগ যেন স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং চাকরিপ্রত্যাশীরা যেন প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও অনিশ্চয়তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নিয়োগকর্তার পরিচয়, কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, আবাসন, চাকরির চুক্তি এবং ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সার্বিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করা হবে। এতে বাংলাদেশের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন দেশে কী ধরনের অনুমোদন প্রয়োজন, কী কী নথি জমা দিতে হবে এবং ছাড়পত্র পেতে কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। তাঁদের প্রত্যাশা, বিএমইটি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারবে এবং বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা কমবে। তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত চাকরির শর্ত যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমন্বয়ই পারে বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকে আরও গতিশীল করতে। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার দাবি সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি সার্বীয় দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠিত হলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, শ্রমবাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের সহায়তা এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আলোচনা এবং বাস্তব চাহিদা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ সংশ্লিষ্টদের সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সার্বিয়ার শ্রমবাজারের সম্ভাবনা যাচাই, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেবেন। একই সঙ্গে সার্বিয়ায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন নতুন দেশে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ অনুসন্ধান, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিয়ার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য শ্রমিকের চাহিদা যাচাই, নিয়োগকর্তার সক্ষমতা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি অনুমোদনের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার, বিএমইটি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং দায়িত্বশীল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে সার্বিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। সার্বিয়ার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে সার্বিয়ার দূতাবাস প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা যাচাই—এই বিষয়গুলোতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সার্বিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মী ও জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের। মোঃ সোহেল রানা বিশেষ প্রতিবেদক
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৫ আন্তর্জাতিক হকি বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ ফুটবল প্রেমীদের মতো হকি প্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনাল ম্যাচে উভয় দল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত। আর্জেন্টিনা দল এই টুর্নামেন্টে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অধিনায়ক লুকাস মার্টিনেজ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলের সবাই একসঙ্গে কাজ করে ফাইনালে পৌঁছেছি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট — বিশ্বকাপ জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ বজায় রেখেছি এবং আগামী ম্যাচেও তা বজায় রাখব।” আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার জানান, দল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ অনুশীলন চালাচ্ছে যাতে ফাইনালে তারা চাপ সামলাতে পারে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কোচ মাইকেল ডি ইয়ং ফাইনালের আগের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল গত কয়েক মাস ধরে কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়েছে। খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা চাই এই বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস গড়ে একটি শক্তিশালী ছাপ রেখে যেতে।” কোচ আরো বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ফাইনালে উঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়। আমরা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।” বিশ্বের হকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ফাইনাল ম্যাচটি গত দশকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা হতে চলেছে। উভয় দলের কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির খেলায় যে মেধা প্রদর্শিত হয়েছে, তা ফুটবলের মতো অন্য কোনো খেলার ক্ষেত্রে বিরল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফাইনালে দলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা বিজয় নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করবে। মাঠে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুতগতির পাস, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং আক্রমণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মাঠ মাতানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকারের গতিবেগ এবং নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারদের কৌশলগত দক্ষতা ম্যাচে প্রধান আকর্ষণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও গোলরক্ষকদের প্রতিটি সেভ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়াও ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশ্বজুড়ে লাখো হকি ভক্ত এই ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ম্যাচের লাইভ স্ট্রিমিং অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক দেশের টেলিভিশনও সরাসরি সম্প্রচার করবে। হকি প্রেমীরা এই ম্যাচ থেকে দারুণ উত্তেজনা, দক্ষতা এবং খেলা উপভোগ করার আশা করছে। মাঠের বাইরেও ভক্তদের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যান জোন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকরা একত্রে সময় কাটিয়ে খেলার আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। এছাড়াও টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে এবং খেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী দিনে বিশ্ব হকির নতুন ধারার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। এই ম্যাচের ফলাফল আগামী দশক ধরে হকির কৌশলগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিযোগিতা বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের হকি টুর্নামেন্ট হওয়ায় এর প্রতি ভক্তদের আগ্রহ ও উন্মাদনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সবাই আশা করছেন, আগামীকালের ফাইনাল হবে একটি স্মরণীয় খেলা, যেখানে স্পোর্টসম্যানশিপ, দক্ষতা ও উত্তেজনা থাকবে সর্বোচ্চ মাত্রায়।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে। পোশাকশ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে যত বিলম্ব হবে, শিল্প খাতের ক্ষতি ততই বৃদ্ধি পাবে। আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় জামায়াত আমির এসব কথা বলেন। ভিডিও বার্তায় জামায়াতের আমির বলেন, গত কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধিসহ নানা দাবিতে আন্দোলন করছেন। এই আন্দোলনের কারণে বহু কারখানা বন্ধ রয়েছে এবং দু-এক জায়গায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। গাজীপুরের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গতকাল গাজীপুরের শ্রীপুরে গাইবান্ধার তৌফিক নামে এক পোশাকশ্রমিককে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে অতিদ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি। তৈরি পোশাক খাতকে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, এই খাতে বড় কোনো বিপর্যয় ঘটলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকার দ্রুত এই সমস্যার যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছাবে বলে তারা প্রত্যাশা করেছিলেন। জামায়াত আমির বলেন, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে স্বল্প বেতনে জীবনধারণ করা শ্রমিকদের জন্য অসম্ভব। তাদের দাবি বিবেচনা করে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন ছিল, যা সরকার এখনো করতে পারেনি। শিল্প বাঁচলে দেশ বাঁচবে কথাটি যেমন সত্য, তেমনি শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে—এই বাস্তবতাও মনে রাখতে হবে। জামায়াতের আমির বলেন, এই শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকার যেন দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া যত বিলম্বিত হবে, এই খাতের ক্ষতি ততই বৃদ্ধি পাবে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে সুযোগসন্ধানী অনেকে বিভিন্ন ধরনের সুযোগের অপব্যবহার করার চেষ্টা করে। এ ব্যাপারে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা ও সতর্কতার পরিচয় দিতে হবে। আন্দোলনরত শ্রমিকদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, আপনারা নিজেদের প্রতিষ্ঠান বাঁচিয়ে রাখুন। আমরা আপনাদের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে আছি। শিল্প বেঁচে থাকলেই আপনারা বেঁচে থাকবেন। একই সঙ্গে মালিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকদের নিজেদের পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করুন। তাহলে সিদ্ধান্ত গ্রহণটা সহজ হয়ে যাবে। বক্তব্যের শেষে নিহত শ্রমিক তৌফিকের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সবাই ভালো থাকবেন। তৌফিকের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে আজকের মতো এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আরও কথা হবে, আরও দেখা হবে।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ঢাকা সফররত চীনের আন্তর্জাতিক মন্ত্রী। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরস্থ সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিষয়ক মন্ত্রী লিউ হাই সিং। এর আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল, চীনের আন্তর্জাতিক মন্ত্রীকে স্বাগত জানান। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন চীনা মন্ত্রী। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন লিউ হাই সিং। এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব,বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও কূটনৈতিক সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ এবং ঢাকায় চীনা দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সদস্য বলে দাবি পুলিশের। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে মেট্রোস্টেশনের আশপাশে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পোশাক শ্রমিক কি না, জানতে চাইলে আন্দোলনরত শ্রমিকরা বলেন, সংঘর্ষে তারা জড়িত ছিলেন না। তাদের দাবি, অন্যকোনো পক্ষ শ্রমিকদের মধ্যে ঢুকে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে। তারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলেন। এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা পুলিশের ওপর হামলা চালাচ্ছিলেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পোশাক শ্রমিক নন। প্রাথমিকভাবে তাদের আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের থানায় নেওয়া হয়েছে। ওসি আরও বলেন, আন্দোলনকারীদের প্রধান সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যান চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রমিকেরা মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের নিচে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের সরিয়ে দিতে গেলে বিভিন্ন দিক থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা সড়কে বেঞ্চ ও কাঠ জড়ো করে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।